পীরগাছায় একটি কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে আগেও জেল খাটা সাগর নামের ওই শিক্ষক এখন এলাকায় শিক্ষার আড়ালে পার করছিল অপরাধের কালো অধ্যায়। বুধবার রাতে মামলাটি দায়েরের পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন সাগর (৩৩) পীরগাছার মফিজুল ইসলামের ছেলে। তার স্ত্রী রমজান মাসে বাবার বাড়ি গেলে সে সুযোগ নিয়ে টার্গেট করে নবম শ্রেণির সেই ছাত্রীকে নয়, বরং ৯ বছরের এক শিশুকে- যে কোচিংয়ে পড়তে আসত। কোচিং ছুটির পর শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে আটকে রাখা হতো। গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতন চলতো দিনের পর দিন।
গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে কোচিং ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেন ওই শিক্ষক। সেখানে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টাকালে তার আর্তনাদ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত শিক্ষক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশুটির মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন সাগর পেশাদার অপরাধী। ২০২২ সালে রংপুরের কোতোয়ালি এলাকার কোনাবাড়িতে ‘মা শিক্ষা নিকেতন কোচিং সেন্টার’ পরিচালনার সময় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেছিলেন। ৬ মাস পর জামিনে বেরিয়ে ২০২৩ সালে পীরগাছায় ফিরে এসে পুনরায় কোচিং সেন্টার খুলে আবারও নিপীড়নব শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে এলাকায় আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু কোনও ভুক্তভোগী পরিবার কথা বলেনি শঙ্কায়।
এবারের ঘটনা জানাজানি হলে চরম ক্ষুব্ধ হন এলাকাবাসী। কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষক এখন পলাতক। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেছেন, ‘দেলোয়ার এই এলাকায় শিক্ষার আড়ালে বিষ ছড়াচ্ছিল। আমরা তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করেছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, তদন্তে কোনো ফাঁক রাখা যাবে না যেন সে জেল থেকে ফিরে আরেকবার নির্যাতন করতে না পারে।’
স্থানীয় শিক্ষকরাও ওই কোচিং শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, এটা কোনো কোচিং সেন্টার নয়, নিপীড়ন ও অত্যাচারের আস্তানা।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম জানান, মামলাটি তদন্ত হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তারা ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্যেরও খোঁজ-খবর রাখছেন।
একটি কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন নিপীড়নের ঘটনা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক অভিভাবক তাদের মেয়েদের কোচিংয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রতিবেশীরা বলেন, সাগরের মতো শিক্ষক বহুদিন এলাকায় নিপীড়ন চালিয়েছে, ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি।

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
পীরগাছায় একটি কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। নবম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের দায়ে আগেও জেল খাটা সাগর নামের ওই শিক্ষক এখন এলাকায় শিক্ষার আড়ালে পার করছিল অপরাধের কালো অধ্যায়। বুধবার রাতে মামলাটি দায়েরের পর এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন সাগর (৩৩) পীরগাছার মফিজুল ইসলামের ছেলে। তার স্ত্রী রমজান মাসে বাবার বাড়ি গেলে সে সুযোগ নিয়ে টার্গেট করে নবম শ্রেণির সেই ছাত্রীকে নয়, বরং ৯ বছরের এক শিশুকে- যে কোচিংয়ে পড়তে আসত। কোচিং ছুটির পর শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে আটকে রাখা হতো। গলায় ছুরি ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে চোখ বেঁধে নির্যাতন চলতো দিনের পর দিন।
গত রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে কোচিং ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেন ওই শিক্ষক। সেখানে পুনরায় ধর্ষণের চেষ্টাকালে তার আর্তনাদ শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান অভিযুক্ত শিক্ষক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশুটির মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন সাগর পেশাদার অপরাধী। ২০২২ সালে রংপুরের কোতোয়ালি এলাকার কোনাবাড়িতে ‘মা শিক্ষা নিকেতন কোচিং সেন্টার’ পরিচালনার সময় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেছিলেন। ৬ মাস পর জামিনে বেরিয়ে ২০২৩ সালে পীরগাছায় ফিরে এসে পুনরায় কোচিং সেন্টার খুলে আবারও নিপীড়নব শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে এলাকায় আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়েছেন। কিন্তু কোনও ভুক্তভোগী পরিবার কথা বলেনি শঙ্কায়।
এবারের ঘটনা জানাজানি হলে চরম ক্ষুব্ধ হন এলাকাবাসী। কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষক এখন পলাতক। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেছেন, ‘দেলোয়ার এই এলাকায় শিক্ষার আড়ালে বিষ ছড়াচ্ছিল। আমরা তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করেছি। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, তদন্তে কোনো ফাঁক রাখা যাবে না যেন সে জেল থেকে ফিরে আরেকবার নির্যাতন করতে না পারে।’
স্থানীয় শিক্ষকরাও ওই কোচিং শিক্ষকের বিরুদ্ধে ফৌজদারী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেছেন, এটা কোনো কোচিং সেন্টার নয়, নিপীড়ন ও অত্যাচারের আস্তানা।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম জানান, মামলাটি তদন্ত হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তারা ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্যেরও খোঁজ-খবর রাখছেন।
একটি কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন নিপীড়নের ঘটনা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। অনেক অভিভাবক তাদের মেয়েদের কোচিংয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রতিবেশীরা বলেন, সাগরের মতো শিক্ষক বহুদিন এলাকায় নিপীড়ন চালিয়েছে, ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি।

আপনার মতামত লিখুন