জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রুলস অফ প্রসিডিউর অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় জামিনের দাবি জানিয়েছেন তৌফিক-ই-ইলাহীর আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন।
আসামিপক্ষের এ দাবির মুখে, রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে ট্রাইব্যুনাল আগামি ২৬ জুলাই তদন্তের ‘অগ্রগতি প্রতিবেদন’ দাখিলের নির্দেশ দেয়। জামিনের বিষয়েও সেদিন শুনানি ও সিদ্ধান্ত হবে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়। আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। এদিন শুনানিতে সাবেক এই উপদেষ্টাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রুলস অফ প্রসিডিউর অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় জামিনের দাবি জানিয়েছেন তৌফিক-ই-ইলাহীর আইনজীবী । শুনানিতে তৌফিক-ই-ইলাহীর পক্ষে আইনি যুক্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ গঠনের নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তদন্তকাজ শেষ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।’
তার আইনজীবী বলেন, ‘এই মামলার সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর ওপর বর্তায় না। তিনি শুধু একজন উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি অভিযোগের ক্রাইটেরিয়ার মধ্যেও পড়েন না। দীর্ঘদিনেও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। বয়স ও অসুস্থতার বিবেচনায় তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হোক।’
আইনি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, ১৯৯৭ সালের ওয়ার্ক ক্যাম্প আইন বা এই সংক্রান্ত যে আইনের কথা বলা হচ্ছে, তার আওতাভুক্ত কোনো সংগঠনের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি কোনো ডিসিপ্লিন ফোর্স, ইন্টেলিজেন্স ফোর্স বা কোনো রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী পদের সাথে যুক্ত ছিলেন না।’ তাই এই মামলার অভিযোগ তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল রুলস অফ প্রসিডিউর ২০১০-এর ৯(৫) ধারার উল্লেখ করে এই আইনজীবী যুক্তি তুলে ধরে জানান, ‘আইন অনুযায়ী আসামিকে গ্রেফতারের পর থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। কিন্তু এই মামলায় ইতোমধ্যে এক বছর সাত থেকে আট মাস পার হয়ে গেছে।’ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় আসামি আইন অনুযায়ী জামিন পাওয়ার অধিকারী বলে তারা যুক্তি দেন।
আসামিপক্ষের এই যুক্তির বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সময় প্রার্থনা করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শিগগির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে, আমরা আরও সময় চাই।’ তার দাবি, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তারা একটি ‘প্রোগ্রেসিভ রিপোর্ট’ (অগ্রগতি প্রতিবেদন) তৈরি করছেন, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী, রাষ্ট্রপক্ষের দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে জানান, আইনের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করাটা গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ৮ মে তার জামিন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ২২ এপ্রিল তার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তার বয়স ৮৪ বছর। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার প্রাক্কালে মেহেরপুরে মহকুমা প্রশাসক হিসেবে মুজিবনগর সরকার গঠন ও মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ-এ তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং সেক্টর ৪-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার সাহসিকতার জন্য তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করা হয়। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। তিনি সচিব, রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের জামাতা।
এর আগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, শাহাজান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, দীপু মনি, গোলাম দস্তগীর গাজী প্রমুখ।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসাথে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রুলস অফ প্রসিডিউর অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় জামিনের দাবি জানিয়েছেন তৌফিক-ই-ইলাহীর আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন।
আসামিপক্ষের এ দাবির মুখে, রাষ্ট্রপক্ষের সময়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে ট্রাইব্যুনাল আগামি ২৬ জুলাই তদন্তের ‘অগ্রগতি প্রতিবেদন’ দাখিলের নির্দেশ দেয়। জামিনের বিষয়েও সেদিন শুনানি ও সিদ্ধান্ত হবে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আদেশ দেয়। আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। এদিন শুনানিতে সাবেক এই উপদেষ্টাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রুলস অফ প্রসিডিউর অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় জামিনের দাবি জানিয়েছেন তৌফিক-ই-ইলাহীর আইনজীবী । শুনানিতে তৌফিক-ই-ইলাহীর পক্ষে আইনি যুক্ত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘অভিযোগ গঠনের নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলেও তদন্তকাজ শেষ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ।’
তার আইনজীবী বলেন, ‘এই মামলার সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর ওপর বর্তায় না। তিনি শুধু একজন উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি অভিযোগের ক্রাইটেরিয়ার মধ্যেও পড়েন না। দীর্ঘদিনেও মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। বয়স ও অসুস্থতার বিবেচনায় তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করা হোক।’
আইনি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন, ১৯৯৭ সালের ওয়ার্ক ক্যাম্প আইন বা এই সংক্রান্ত যে আইনের কথা বলা হচ্ছে, তার আওতাভুক্ত কোনো সংগঠনের সাথে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি কোনো ডিসিপ্লিন ফোর্স, ইন্টেলিজেন্স ফোর্স বা কোনো রাজনৈতিক নীতিনির্ধারণী পদের সাথে যুক্ত ছিলেন না।’ তাই এই মামলার অভিযোগ তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল রুলস অফ প্রসিডিউর ২০১০-এর ৯(৫) ধারার উল্লেখ করে এই আইনজীবী যুক্তি তুলে ধরে জানান, ‘আইন অনুযায়ী আসামিকে গ্রেফতারের পর থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। কিন্তু এই মামলায় ইতোমধ্যে এক বছর সাত থেকে আট মাস পার হয়ে গেছে।’ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় আসামি আইন অনুযায়ী জামিন পাওয়ার অধিকারী বলে তারা যুক্তি দেন।
আসামিপক্ষের এই যুক্তির বিপরীতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে সময় প্রার্থনা করেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শিগগির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে, আমরা আরও সময় চাই।’ তার দাবি, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং তারা একটি ‘প্রোগ্রেসিভ রিপোর্ট’ (অগ্রগতি প্রতিবেদন) তৈরি করছেন, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে দাখিল করা হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী, রাষ্ট্রপক্ষের দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করে জানান, আইনের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করাটা গ্রহণযোগ্য নয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ৮ মে তার জামিন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে গত ২২ এপ্রিল তার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন।
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তার বয়স ৮৪ বছর। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার প্রাক্কালে মেহেরপুরে মহকুমা প্রশাসক হিসেবে মুজিবনগর সরকার গঠন ও মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ-এ তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং সেক্টর ৪-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার সাহসিকতার জন্য তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করা হয়। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। তিনি সচিব, রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের জামাতা।
এর আগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এ মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আব্দুর রাজ্জাক, শাহাজান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, দীপু মনি, গোলাম দস্তগীর গাজী প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন