সংবাদ

বিয়ের পিঁড়িতে ৩০ এসএসসি পরীক্ষার্থী


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

বিয়ের পিঁড়িতে ৩০ এসএসসি পরীক্ষার্থী
ছবি : সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৪১ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনই ছাত্রী, যাদের সবারই বাল্যবিবাহ হয়ে গেছে। অন্যদিকে অনুপস্থিত ১১ জন ছাত্রের মধ্যে ছয়জন প্রবাসী এবং দুজন চাকরিতে যোগ দিয়েছে। বাকি তিনজনের হদিস পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার ২৪টি বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ১ হাজার ৬৭৫ জন এবং ১৯টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৮৭৩ জন শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। অনুপস্থিত ৩০ ছাত্রীর মধ্যে ১৫ জন মাধ্যমিক ও ১৫ জন দাখিল পরীক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, এই ছাত্রীদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

সোনাগাজী বালিকা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তাদের প্রত্যেকের বাল্যবিবাহ হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেও তা ঠেকাতে পারিনি। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে গোপনে বিয়ে দিয়ে দেন।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক ছাত্রী পরীক্ষায় বসার জন্য গত নভেম্বরে ফরম পূরণ করেছিল। কিন্তু এর মধ্যে অনেকের বিয়ে হয়ে যায়।

এক পরীক্ষার্থীর বাবা জানান, তার মেয়ে মেধাবী হলেও কাতারপ্রবাসী পাত্র পাওয়ায় মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। মেয়েটি পরীক্ষা দিতে কান্নাকাটি করলেও শ্বশুরবাড়ির আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক ছাত্রকে পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশের পথে পাড়ি দিতে হয়েছে।

সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, তার বিদ্যালয়ের দুই পরীক্ষার্থীর বিয়ের কথা তারা পরে জেনেছেন। শ্বশুরবাড়ির বাধার কারণেই তারা আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। তবে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েও অন্তত শতাধিক বিবাহিত ছাত্রী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসন বাল্যবিবাহ বন্ধের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে বা গোপনে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। সচেতনতার অভাবেই গ্রামাঞ্চলে এ প্রবণতা বেশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা বলেন, ‘৩০ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনের তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্মসনদে বয়স না বাড়াতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


বিয়ের পিঁড়িতে ৩০ এসএসসি পরীক্ষার্থী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৪১ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ জনই ছাত্রী, যাদের সবারই বাল্যবিবাহ হয়ে গেছে। অন্যদিকে অনুপস্থিত ১১ জন ছাত্রের মধ্যে ছয়জন প্রবাসী এবং দুজন চাকরিতে যোগ দিয়েছে। বাকি তিনজনের হদিস পাওয়া যায়নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার ২৪টি বিদ্যালয় থেকে নিয়মিত ১ হাজার ৬৭৫ জন এবং ১৯টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় ৮৭৩ জন শিক্ষার্থীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল। অনুপস্থিত ৩০ ছাত্রীর মধ্যে ১৫ জন মাধ্যমিক ও ১৫ জন দাখিল পরীক্ষার্থী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, এই ছাত্রীদের বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।

সোনাগাজী বালিকা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। তাদের প্রত্যেকের বাল্যবিবাহ হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেও তা ঠেকাতে পারিনি। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে গোপনে বিয়ে দিয়ে দেন।’

অনুসন্ধানে জানা যায়, অনেক ছাত্রী পরীক্ষায় বসার জন্য গত নভেম্বরে ফরম পূরণ করেছিল। কিন্তু এর মধ্যে অনেকের বিয়ে হয়ে যায়।

এক পরীক্ষার্থীর বাবা জানান, তার মেয়ে মেধাবী হলেও কাতারপ্রবাসী পাত্র পাওয়ায় মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। মেয়েটি পরীক্ষা দিতে কান্নাকাটি করলেও শ্বশুরবাড়ির আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক ছাত্রকে পড়াশোনা ছেড়ে বিদেশের পথে পাড়ি দিতে হয়েছে।

সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি মডেল পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জয়নুল আবেদীন বলেন, তার বিদ্যালয়ের দুই পরীক্ষার্থীর বিয়ের কথা তারা পরে জেনেছেন। শ্বশুরবাড়ির বাধার কারণেই তারা আর পরীক্ষা দিতে পারেনি। তবে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েও অন্তত শতাধিক বিবাহিত ছাত্রী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই প্রশাসন বাল্যবিবাহ বন্ধের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রাতের আঁধারে বা গোপনে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। সচেতনতার অভাবেই গ্রামাঞ্চলে এ প্রবণতা বেশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিগ্যান চাকমা বলেন, ‘৩০ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রশাসনের তৎপরতার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন। জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্মসনদে বয়স না বাড়াতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত