নরসিংদীর মাধবদীতে সাবেক এক ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে একটি নির্মাণাধীন পোশাক কারখানায় হামলা, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নরসিংদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে কারখানা কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ করেন। হামলা ও মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযুক্ত কামরুল হক রোমান মাধবদী থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। তার নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল গত ১৪ এপ্রিল উপজেলার কান্দাপাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন ‘ওয়াকফি নিট ফেব্রিকস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের রপ্তানিমুখী কারখানাটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, স্থানীয় ওই পক্ষটি বেশ কয়েক দিন ধরে কারখানার কাজ চালাতে হলে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা না পেয়ে গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে কামরুল হকের নেতৃত্বে একদল লোক কারখানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাধা দিলে কারখানার প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার ও নিরাপত্তাকর্মীসহ বেশ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা সাইড অফিস থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা ও মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।
জাকির হোসেন আরও জানান, এ ঘটনায় মাধবদী থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমানে কারখানার কর্মকর্তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তাঁরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুল হক রোমান বলেন, ‘চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ঘটনার দিন কারখানায় অবৈধ তেল মজুদের খবর পেয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে গোলমাল সৃষ্টি হয়। আমি খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করেছি। কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে, কেন তারা এই অভিযোগ করছেন তা বুঝতে পারছি না।’
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কারখানার উপব্যবস্থাপক (প্রশাসন) খোরশেদ আলম সিদ্দিকীসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন