সংবাদ

হাওরে সোনালি ধানে ভরপুর, কৃষকের চোখে লোকসানের ভয়


প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

হাওরে সোনালি ধানে ভরপুর, কৃষকের চোখে লোকসানের ভয়
কিশোরগঞ্জের নিকলীতে হাওরে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষি শ্রমিকেরা। ছবি : সংবাদ

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসব। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণি ও কৃষি শ্রমিকেরা।

তবে ফলন ভালো হলেও ধানের বাজারদর নিয়ে হতাশ হাওরের কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, সার, তেল ও বীজের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে সেই তুলনায় দাম মিলছে না।

কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী—এই চারটি উপজেলা পুরোপুরি হাওরবেষ্টিত। এ ছাড়া করিমগঞ্জ, তাড়াইল, বাজিতপুর ও ভৈরবের কিছু অংশ হাওরের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা মূলত একটি মাত্র ফসল বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া হাওরের মাঠ এখন সোনালি ধানে ভরে আছে। দ্রুত ধান কাটতে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অন্তত ২৫ হাজার শ্রমিক।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই তা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধান কাটার গতি বাড়াতে এবার হাওরে ৫৪৭টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন কাজ করছে।

তবে এই কর্মযজ্ঞের মধ্যেও কৃষকদের মনে স্বস্তি নেই। কৃষকেরা জানান, প্রতি মণ ধান উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

নিকলী বড় হাওরের কৃষক রাজন মিয়া বলেন, ‘এবার শিলাবৃষ্টিতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এরপর সার ও তেলের দাম বাড়ায় খরচ অনেক বেশি পড়েছে। বাজারে যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচও উঠছে না।’

করিমগঞ্জের খয়রত গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন ৪ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘৯০ হাজার টাকা খরচ করে আবাদ করেছি, কিন্তু বর্তমান বাজারে ৮০ হাজার টাকার ধানও বিক্রি করতে পারব কি না সন্দেহ।’

একই সুর নিকলীর মজলিসপুর গ্রামের হালিমা আক্তারের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘বাজারে ধানের দাম নাই। আমরা খুব বিপাকে আছি। সরকারকে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার অনুরোধ জানাই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরেই রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে জেলায় প্রায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘ফলন এবার বাম্পার হয়েছে। হাওরের ৪৫ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কাটা শেষ। সরকার নির্ধারিত প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা। কৃষকেরা যাতে এই ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬


হাওরে সোনালি ধানে ভরপুর, কৃষকের চোখে লোকসানের ভয়

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পুরোদমে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের উৎসব। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণি ও কৃষি শ্রমিকেরা।

তবে ফলন ভালো হলেও ধানের বাজারদর নিয়ে হতাশ হাওরের কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, সার, তেল ও বীজের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে সেই তুলনায় দাম মিলছে না।

কিশোরগঞ্জের ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী—এই চারটি উপজেলা পুরোপুরি হাওরবেষ্টিত। এ ছাড়া করিমগঞ্জ, তাড়াইল, বাজিতপুর ও ভৈরবের কিছু অংশ হাওরের অন্তর্ভুক্ত। এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা মূলত একটি মাত্র ফসল বোরো ধানের ওপর নির্ভরশীল।

সরেজমিনে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া হাওরের মাঠ এখন সোনালি ধানে ভরে আছে। দ্রুত ধান কাটতে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা অন্তত ২৫ হাজার শ্রমিক।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই তা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধান কাটার গতি বাড়াতে এবার হাওরে ৫৪৭টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন কাজ করছে।

তবে এই কর্মযজ্ঞের মধ্যেও কৃষকদের মনে স্বস্তি নেই। কৃষকেরা জানান, প্রতি মণ ধান উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

নিকলী বড় হাওরের কৃষক রাজন মিয়া বলেন, ‘এবার শিলাবৃষ্টিতে ধানের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এরপর সার ও তেলের দাম বাড়ায় খরচ অনেক বেশি পড়েছে। বাজারে যে দাম, তাতে উৎপাদন খরচও উঠছে না।’

করিমগঞ্জের খয়রত গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন ৪ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, ‘৯০ হাজার টাকা খরচ করে আবাদ করেছি, কিন্তু বর্তমান বাজারে ৮০ হাজার টাকার ধানও বিক্রি করতে পারব কি না সন্দেহ।’

একই সুর নিকলীর মজলিসপুর গ্রামের হালিমা আক্তারের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘বাজারে ধানের দাম নাই। আমরা খুব বিপাকে আছি। সরকারকে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার অনুরোধ জানাই।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবার কিশোরগঞ্জে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরেই রয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে জেলায় প্রায় ৭ লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘ফলন এবার বাম্পার হয়েছে। হাওরের ৪৫ শতাংশ ধান ইতিমধ্যে কাটা শেষ। সরকার নির্ধারিত প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা। কৃষকেরা যাতে এই ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত