ইট-পাথরের দালানকোঠা আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় নরসিংদী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাঁশ ও মুলিবাঁশের শৈল্পিক ব্যবহার। একসময় গ্রামীণ ঘরবাড়ির বেড়া কিংবা সিলিং তৈরিতে বাঁশের নকশার ব্যাপক চাহিদা থাকলেও এখন তা বিলুপ্তির পথে। ফলে এই শিল্পের কারিগর বা ‘ছৈয়াল’রা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর, দিলারপুর, রায়পুরা ও শিবপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ ও মুলিবাঁশের তৈরি কারুকাজ করা বেড়া আর সিলিংয়ের (কার) স্থান দখল করে নিয়েছে টিন, প্লাস্টিক ও রাবারের শিট। অতীতে এই কারিগরদের ডাক পড়ত প্রতিনিয়ত। নতুন ঘর মানেই ছিল মুলিবাঁশের শৈল্পিক কারুকাজ। কিন্তু এখন আর তাদের ডাক পড়ে না বললেই চলে।
কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবেশবান্ধব মুলিবাঁশ ব্যবহারের পরিবর্তে এখন ঘর তৈরিতে প্লাস্টিক ও রাবারের শিট ব্যবহার বাড়ছে। অথচ এসব সামগ্রী পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
এই শিল্পের কারিগরদের অনেকেই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হয়েছেন। তবে যাদের বয়স বেড়েছে বা অন্য কোনো কাজ জানা নেই, তারা পেটের তাগিদে ধুঁকে ধুঁকে এই পেশাই ধরে রেখেছেন।
শিবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার মুলিবাঁশের কারিগর আলী প্রায় ৫০ বছর ধরে এই পেশায় আছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আগে মানুষ নতুন ঘর বানাতে চাইলে ডিজাইন নিয়ে পরামর্শ করতে আমাদের কাছে আসত। এখন সব দালানকোঠা হয়ে যাচ্ছে। আমরা এখন খেয়ে না-খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। অন্য কাজও জানি না, আবার মজুরি করার বয়সও নেই।’
কারিগরদের মতে, এই শৈল্পিক পেশা ও শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি প্রণোদনা, প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পরিবেশ রক্ষায় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে বাঁশজাতীয় পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহারে মানুষকে সচেতন করার ওপরও জোর দেন তারা
আপনার মতামত লিখুন