মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা এলাকায় ইছামতী নদীর ওপর নির্মিত ১৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সেতুটি অব্যবস্থাপনার অনন্য নিদর্শনে পরিণত হয়েছে। দেড় বছর আগে সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কোনো কাজে আসছে না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে নড়বড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরনো সেতু দিয়েই পারাপার হচ্ছেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঝিটকা বাজারের কাছে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ‘ধ্রুব কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। শর্ত অনুযায়ী এক বছরের মধ্যে সংযোগ সড়কসহ সেতুর কাজ শেষ করার কথা ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সেতুর মূল অবকাঠামো শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ে সওজ। ঝিটকা বাজারের ব্যবসায়ীরা জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ চেয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়কের কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে দুই বছর আগে কিছু বালু ফেলা হয়েছিল। নতুন সেতুর পাশেই রয়েছে একটি পুরনো ও ভাঙাচোরা সরু সেতু। ঝুঁকি নিয়ে ট্রাক, অটোরিকশাসহ সব ধরনের যানবাহন ওই নড়বড়ে সেতু দিয়েই চলাচল করছে। এতে ঝিটকা বাজারে দীর্ঘ সময় যানজট লেগে থাকে।
ঝিটকা এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষি কাজ করি। আমাদের পণ্য বাজারে নিতে অনেক সমস্যা হয়। বড় সেতুটি পড়ে আছে, আর আমরা ছোট ও ভাঙা সেতু দিয়ে কষ্টে যাতায়াত করছি।’
স্থানীয় অটোরিকশাচালক রাসেল মিয়া বলেন, ‘ভাঙা সেতু দিয়ে গাড়ি চালানো তো দূরের কথা, হেঁটে চলাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।’
দোকানমালিকদের দাবি, প্রতিটি দোকানের অবস্থান বা পজিশন কেনা। সরকার নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ পেলে তারা দোকান সরিয়ে নেবেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ধ্রুব কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী সাগর আহমেদ বলেন, ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও অবৈধ দখলের জটিলতায় আমরা সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে পারিনি। জায়গা দখলমুক্ত হলে কয়েক দিনের মধ্যেই কাজ শুরু করা সম্ভব।’
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল কাদের জিলানী বলেন, ‘ঝিটকা বাজারের অনেকগুলো দোকান উচ্ছেদ না করায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা যাচ্ছে না। ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আশা করি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে এবং কাজ শুরু করা যাবে।’
আপনার মতামত লিখুন