নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও দমকা হাওয়ায় বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে পাকা ও আধাপাকা ধানখেত মাটিতে নুইয়ে পড়ায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি, এটি বড় কোনো ক্ষতি নয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আত্রাইয়ে ১৮ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছে ১৮ হাজার ৬১০ হেক্টরে। এর মধ্যে কালবৈশাখী ঝড়ে প্রায় ২ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমির ধান মাটিতে নুইয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত মাঠে মাত্র ১০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন মাঠে বোরো ধান মাটির সঙ্গে লেপ্টে আছে। কৃষকেরা জানান, নুইয়ে পড়া ধান কাটতে শ্রমিক খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি ধান পচে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। ঝড়ে বহু গাছপালা ও ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলার গুড়নই গ্রামের কৃষক বাবু বলেন, আমার ৬ বিঘা জমির ধান এখন মাটিতে শুয়ে আছে। ঋণ করে চাষ করেছি, ফলন না হলে ঋণ শোধ করব কীভাবে?
একই গ্রামের কৃষক মুজাম ও আশাদুর জানান, যেসব ধান পুরোপুরি পাকেনি, সেগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদি এখন বৃষ্টি হয় তবে ধান দ্রুত পচে যাবে।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, ‘এটি আসলে কোনো ক্ষতি নয়, প্রাকৃতিক কারণে এমনটা হতেই পারে। তবে যদি আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে ভারী বর্ষণ হয় অথবা রোদ না ওঠে, সে ক্ষেত্রে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে।’
সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আপনার মতামত লিখুন