রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক ২১৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্পগোষ্ঠীর সম্পদ নিলামে তুলেছে। নিলামে ওঠা সম্পদের মধ্যে ১৫ তলা ‘জনকণ্ঠ ভবন’ও রয়েছে। জনতা ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নিলামে আগ্রহীদের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী দরদাতাদের ২৮ মে দুপুর ২টার মধ্যে আদালতে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে । আবেদনের সঙ্গে সংরক্ষিত মূল্যের (রিজার্ভ প্রাইস) ১০ শতাংশ পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে জমা দিতে হবে।
নিলামের সময় এই সংরক্ষিত মূল্য ঘোষণা করা হবে এবং আদালতের নিয়ম মেনেই দর উঠবে। তবে সম্পদ বিক্রির পর কোনো ধরনের বিরোধ দেখা দিলে ব্যাংক বা আদালত এর দায়ভার নেবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সুপারিশে ২০২১ সালে এই ঋণ দেওয়া হয়। জনতা ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে ঋণ ছাড় করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেন সালমান এফ রহমান। চিঠিতে গ্লোব জনকণ্ঠের জন্য ২৫০ কোটি টাকার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণ মঞ্জুরের সুপারিশ করেন তিনি। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোম্পানিটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জনতা ব্যাংকের পর্ষদ গ্লোব জনকণ্ঠের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২২৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণের অনুমোদন দেয়। এর দুই মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংকও এই ঋণের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দেয়।
গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের অধীনে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো- গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স, গ্লোব ইনসেক্টিসাইডস, গ্লোব কেবলস, গ্লোব প্রিন্টার্স, জনকণ্ঠ, গ্লোব কনস্ট্রাকশন, গ্লোব খামার প্রকল্প এবং গ্লোব টেকনোলজিস।
এর মধ্যে বর্তমানে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই নিষ্ক্রিয়। গত মার্চ মাসে বাংলা দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ তাদের ছাপা কাগজ ও অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। অবশ্য পত্রিকাটি কর্তৃপক্ষ পরে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য অস্বীকার করে জানিয়েছে, ২০ এপ্রিলের মধ্যে কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
এ বিষয়ে গ্লোব জনকণ্ঠের প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হাফিজুর রহমান জানান, এই শিল্পগোষ্ঠীর ঘাড়ে এখন বিশাল দেনার বোঝা। গত বছর পদত্যাগ করা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তাদের পাওনাদারের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন। সব সম্পত্তিই ব্যাংকে বন্ধক রাখা আছে। দীর্ঘদিন ধরে আয়কর দেওয়া হচ্ছে না। এর ওপর রয়েছে বিশাল ব্যাংকঋণ। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকা খুবই কঠিন।’

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক ২১৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আদায়ে গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্পগোষ্ঠীর সম্পদ নিলামে তুলেছে। নিলামে ওঠা সম্পদের মধ্যে ১৫ তলা ‘জনকণ্ঠ ভবন’ও রয়েছে। জনতা ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি নিলাম বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নিলামে আগ্রহীদের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। আগ্রহী দরদাতাদের ২৮ মে দুপুর ২টার মধ্যে আদালতে আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে । আবেদনের সঙ্গে সংরক্ষিত মূল্যের (রিজার্ভ প্রাইস) ১০ শতাংশ পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে জমা দিতে হবে।
নিলামের সময় এই সংরক্ষিত মূল্য ঘোষণা করা হবে এবং আদালতের নিয়ম মেনেই দর উঠবে। তবে সম্পদ বিক্রির পর কোনো ধরনের বিরোধ দেখা দিলে ব্যাংক বা আদালত এর দায়ভার নেবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সুপারিশে ২০২১ সালে এই ঋণ দেওয়া হয়। জনতা ব্যাংকের দিলকুশা করপোরেট শাখা থেকে ঋণ ছাড় করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের আগস্টে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দেন সালমান এফ রহমান। চিঠিতে গ্লোব জনকণ্ঠের জন্য ২৫০ কোটি টাকার চলতি মূলধন (ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল) ঋণ মঞ্জুরের সুপারিশ করেন তিনি। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে কোম্পানিটি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জনতা ব্যাংকের পর্ষদ গ্লোব জনকণ্ঠের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ২২৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণের অনুমোদন দেয়। এর দুই মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংকও এই ঋণের অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দেয়।
গ্লোব জনকণ্ঠ শিল্প পরিবারের অধীনে মোট আটটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো- গ্লোব মেটাল কমপ্লেক্স, গ্লোব ইনসেক্টিসাইডস, গ্লোব কেবলস, গ্লোব প্রিন্টার্স, জনকণ্ঠ, গ্লোব কনস্ট্রাকশন, গ্লোব খামার প্রকল্প এবং গ্লোব টেকনোলজিস।
এর মধ্যে বর্তমানে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই নিষ্ক্রিয়। গত মার্চ মাসে বাংলা দৈনিক ‘জনকণ্ঠ’ তাদের ছাপা কাগজ ও অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। অবশ্য পত্রিকাটি কর্তৃপক্ষ পরে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য অস্বীকার করে জানিয়েছে, ২০ এপ্রিলের মধ্যে কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।
এ বিষয়ে গ্লোব জনকণ্ঠের প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) হাফিজুর রহমান জানান, এই শিল্পগোষ্ঠীর ঘাড়ে এখন বিশাল দেনার বোঝা। গত বছর পদত্যাগ করা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘তাদের পাওনাদারের সংখ্যা প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ জন। সব সম্পত্তিই ব্যাংকে বন্ধক রাখা আছে। দীর্ঘদিন ধরে আয়কর দেওয়া হচ্ছে না। এর ওপর রয়েছে বিশাল ব্যাংকঋণ। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের টিকে থাকা খুবই কঠিন।’

আপনার মতামত লিখুন