সংবাদ

কোন দিবসে রেস্টুরেন্টে সবচেয়ে বেশি ভিড়?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম

কোন দিবসে রেস্টুরেন্টে সবচেয়ে বেশি ভিড়?
যে দিবসে পরিবারের সবাই মিলে ছুটে আসেন রেস্টুরেন্টে।

ভোজনরসিকদের জন্য রেস্টুরেন্টে গিয়ে পছন্দের খাবার খাওয়া যেন এক আয়োজন। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে কোনো কোনো দিনে রেস্টুরেন্টগুলোতে তিল ধারণের জায়গাই থাকে না। সেটা হতে পারে ভালোবাসা দিবস, কিংবা ইংরেজি নববর্ষের দিন অথবা বিশেষ কোনো ‍উপলক্ষের দিনে।

তবে এই প্রশ্নের উত্তরটি মোটেও আপনার ধারণার সঙ্গে মিলবে না। আমেরিকান ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কয়েক দশকের পরিসংখ্যান বলছে, পুরো বছরের মধ্যে ‘বিশ্ব মা দিবস’ই সেই দিন, যেদিন মানুষ সবচেয়ে বেশি রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। ভালোবাসা দিবস থকে যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এমনটা ঘটে? আসল কথা, ভালোবাসা দিবসে সাধারণত যুগলরা বাইরে খেতে যান। কিন্তু মা দিবসে পুরো পরিবার একসঙ্গে বের হয়। মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং অন্তত বছরের এই একটি দিন তাকে রান্নাঘর থেকে ছুটি দিতে সন্তানরা বেছে নেন রেস্টুরেন্টের ডাইনিং টেবিল।

পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এই দিনে বাইরে খাওয়ার পরিকল্পনা করেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়; যুক্তরাজ্যে ‘মাদারিং সানডে’ উপলক্ষে সপ্তাহখানেক আগে থেকেই রেস্টুরেন্টে বুকিং দেওয়া শুরু হয়ে যায়। জাপানে মা দিবসে লাল কার্নেশন ফুলের পাশাপাশি সুশি রেস্টুরেন্টগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।

বাংলাদেশে কেমন

বাংলাদেশেও গত কয়েক বছরে মা দিবসের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। ঢাকার নামি রেস্টুরেন্টগুলোতে মা দিবস উপলক্ষে আগেভাগে টেবিল বুকিং দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরার কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও বনানীর অভিজাত খাবারের আড্ডাগুলোতে এই দিনে বসার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। অনেকে আবার বুকিং না পাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ধরে মায়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতেও রাজি থাকেন।

তবে রেস্টুরেন্ট মালিকদের জন্য মা দিবস যতটা আনন্দের, শেফ ও পরিবেশকদের জন্য ততটাই চাপের। কারণ এই দিনটিতে অর্ডারের চাপ অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি থাকে। যুক্তরাজ্যের এক জরিপে দেখা গেছে, মা দিবসের সকালের নাশতা থেকে শুরু করে রাতের ডিনার পর্যন্ত রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের প্রায় দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়।

এ ছাড়া চমকপ্রদ আরেক তথ্য হলো, মা দিবসে সবচেয়ে বেশি অর্ডার দেওয়া খাবারটি হলো ডেজার্ট। বিশেষ করে চকলেট, কেক, বাসকেট চিজকেক এবং ফ্রুট প্ল্যাটারগুলো এই দিনে রেকর্ড বিক্রি করে।

ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, মা দিবসের পরেই বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত দিনগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ভ্যালেন্টাইনস ডে।প্রেমিক-প্রেমিকাদের জোড়া ভিড় রেস্টুরেন্টগুলোতে জমায় উপচেপড়া আমেজ। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা ফাদার্স ডে-তে বাবাদের জন্যও উপহার আসে স্পেশাল ব্রেকফাস্ট বা ডিনারের। তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা ইংরেজি নববর্ষের দিনে আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে ভিড় জমান অনেকে।

আজ ১০ মে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মা দিবস চলছে। এই দিবস শুধু একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়; এটি মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর। আর সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের অন্যতম মাধ্যম যেন এই রেস্টুরেন্টে বসে কাটানো সময়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১০ মে ২০২৬


কোন দিবসে রেস্টুরেন্টে সবচেয়ে বেশি ভিড়?

প্রকাশের তারিখ : ১০ মে ২০২৬

featured Image

ভোজনরসিকদের জন্য রেস্টুরেন্টে গিয়ে পছন্দের খাবার খাওয়া যেন এক আয়োজন। বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে কোনো কোনো দিনে রেস্টুরেন্টগুলোতে তিল ধারণের জায়গাই থাকে না। সেটা হতে পারে ভালোবাসা দিবস, কিংবা ইংরেজি নববর্ষের দিন অথবা বিশেষ কোনো ‍উপলক্ষের দিনে।

তবে এই প্রশ্নের উত্তরটি মোটেও আপনার ধারণার সঙ্গে মিলবে না। আমেরিকান ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কয়েক দশকের পরিসংখ্যান বলছে, পুরো বছরের মধ্যে ‘বিশ্ব মা দিবস’ই সেই দিন, যেদিন মানুষ সবচেয়ে বেশি রেস্টুরেন্টে খেতে যায়। ভালোবাসা দিবস থকে যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এমনটা ঘটে? আসল কথা, ভালোবাসা দিবসে সাধারণত যুগলরা বাইরে খেতে যান। কিন্তু মা দিবসে পুরো পরিবার একসঙ্গে বের হয়। মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং অন্তত বছরের এই একটি দিন তাকে রান্নাঘর থেকে ছুটি দিতে সন্তানরা বেছে নেন রেস্টুরেন্টের ডাইনিং টেবিল।

পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ এই দিনে বাইরে খাওয়ার পরিকল্পনা করেন। শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়; যুক্তরাজ্যে ‘মাদারিং সানডে’ উপলক্ষে সপ্তাহখানেক আগে থেকেই রেস্টুরেন্টে বুকিং দেওয়া শুরু হয়ে যায়। জাপানে মা দিবসে লাল কার্নেশন ফুলের পাশাপাশি সুশি রেস্টুরেন্টগুলোতে মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।

বাংলাদেশে কেমন

বাংলাদেশেও গত কয়েক বছরে মা দিবসের প্রভাব স্পষ্ট হয়েছে। ঢাকার নামি রেস্টুরেন্টগুলোতে মা দিবস উপলক্ষে আগেভাগে টেবিল বুকিং দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে উত্তরার কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও বনানীর অভিজাত খাবারের আড্ডাগুলোতে এই দিনে বসার জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। অনেকে আবার বুকিং না পাওয়ায় দীর্ঘক্ষণ ধরে মায়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতেও রাজি থাকেন।

তবে রেস্টুরেন্ট মালিকদের জন্য মা দিবস যতটা আনন্দের, শেফ ও পরিবেশকদের জন্য ততটাই চাপের। কারণ এই দিনটিতে অর্ডারের চাপ অন্য যেকোনো দিনের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি থাকে। যুক্তরাজ্যের এক জরিপে দেখা গেছে, মা দিবসের সকালের নাশতা থেকে শুরু করে রাতের ডিনার পর্যন্ত রেস্টুরেন্টের কর্মচারীদের প্রায় দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়।

এ ছাড়া চমকপ্রদ আরেক তথ্য হলো, মা দিবসে সবচেয়ে বেশি অর্ডার দেওয়া খাবারটি হলো ডেজার্ট। বিশেষ করে চকলেট, কেক, বাসকেট চিজকেক এবং ফ্রুট প্ল্যাটারগুলো এই দিনে রেকর্ড বিক্রি করে।

ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, মা দিবসের পরেই বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত দিনগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় ভ্যালেন্টাইনস ডে।প্রেমিক-প্রেমিকাদের জোড়া ভিড় রেস্টুরেন্টগুলোতে জমায় উপচেপড়া আমেজ। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা ফাদার্স ডে-তে বাবাদের জন্যও উপহার আসে স্পেশাল ব্রেকফাস্ট বা ডিনারের। তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা ইংরেজি নববর্ষের দিনে আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে ভিড় জমান অনেকে।

আজ ১০ মে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মা দিবস চলছে। এই দিবস শুধু একটি ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়; এটি মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর। আর সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশের অন্যতম মাধ্যম যেন এই রেস্টুরেন্টে বসে কাটানো সময়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত