সংবাদ

ব্যাংকে না গিয়েই মিলবে ৫০ হাজার টাকা ঋণ: ‘ই-লোন’ চালুর নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

ব্যাংকে না গিয়েই মিলবে ৫০ হাজার টাকা ঋণ: ‘ই-লোন’ চালুর নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে ‘ই-লোন’ (e-Loan) বা ইলেকট্রনিক ঋণ সেবা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা সশরীরে ব্যাংকে না গিয়েই ঘরে বসে মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন থেকে শুরু করে অর্থ গ্রহণ—সব প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করতে পারবেন।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ই-লোনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • ঋণের পরিমাণ: একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন নিতে পারবেন।
  • ঋণের মেয়াদ: এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস।
  • সুদের হার: ঋণের সুদ হার ব্যাংক বাজারভিত্তিক নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ।
  • সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়া: ঋণ বিতরণ থেকে শুরু করে কিস্তি পরিশোধ সবকিছুই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

ই-লোন পেতে গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ে ব্যাংকগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), বায়োমেট্রিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। এছাড়া ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (CIB) প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। তবে কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা এই সুবিধা পাবেন না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে:

স্বচ্ছতা: সুদ, ফি, চার্জ বা বিলম্ব মাশুল সম্পর্কে গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

নিরাপত্তা: সাইবার ঝুঁকি এড়াতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) এবং ওটিপি (OTP) ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ই-লোন কার্যক্রম চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করেই কেবল এই সেবা চালু করা যাবে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই আর্থিক সেবা প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


ব্যাংকে না গিয়েই মিলবে ৫০ হাজার টাকা ঋণ: ‘ই-লোন’ চালুর নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

দেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে ‘ই-লোন’ (e-Loan) বা ইলেকট্রনিক ঋণ সেবা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা সশরীরে ব্যাংকে না গিয়েই ঘরে বসে মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ঋণের আবেদন থেকে শুরু করে অর্থ গ্রহণ—সব প্রক্রিয়াই সম্পন্ন করতে পারবেন।

সোমবার (১১ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ই-লোনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • ঋণের পরিমাণ: একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ই-লোন নিতে পারবেন।
  • ঋণের মেয়াদ: এই ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস।
  • সুদের হার: ঋণের সুদ হার ব্যাংক বাজারভিত্তিক নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃ অর্থায়ন সুবিধার আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৯ শতাংশ।
  • সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়া: ঋণ বিতরণ থেকে শুরু করে কিস্তি পরিশোধ সবকিছুই হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে।

ই-লোন পেতে গ্রাহকের আবেদন যাচাইয়ে ব্যাংকগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), বায়োমেট্রিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করবে। এছাড়া ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের ঋণ তথ্য ব্যুরো (CIB) প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে। তবে কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা এই সুবিধা পাবেন না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে:

স্বচ্ছতা: সুদ, ফি, চার্জ বা বিলম্ব মাশুল সম্পর্কে গ্রাহককে আগেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়া কোনো অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করা যাবে না।

নিরাপত্তা: সাইবার ঝুঁকি এড়াতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA), মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) এবং ওটিপি (OTP) ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ই-লোন কার্যক্রম চালুর আগে প্রতিটি ব্যাংককে নিজস্ব নীতিমালা প্রণয়ন করে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা নিশ্চিত করেই কেবল এই সেবা চালু করা যাবে।

প্রযুক্তিনির্ভর এই আর্থিক সেবা প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত