সংবাদ

২৫০০ বছর আগে গরু থেকে আসা হাম, কীভাবে ছড়ালো বিশ্বময়?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

২৫০০ বছর আগে গরু থেকে আসা হাম, কীভাবে ছড়ালো বিশ্বময়?
হামে আক্রান্ত শিশুর শরীর। ছবি: প্রতীকী

হাম এখন শুধু একটি অসুখ নয়, বর্তমানে দেশে আতঙ্কের নাম। চলমান প্রাদুর্ভাবে সর্বশেষ হিসাবে ৪২৪ শিশু মারা গেছে। প্রশ্ন হলো- এই ভাইরাসটি আসলে কোথা থেকে এলো? কখন প্রথম মানুষের দেহে বাসা বাঁধল? আর কীভাবে ছড়িয়ে পড়লো বিশ্বময়?

বিজ্ঞানের চোখে ঘাঁটলে দেখা যায়, হামের এই যাত্রা শুরু হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। তখন পৃথিবীতে তেমনি ঘনবসতিপূর্ণ শহর গড়ে ওঠেনি। গবাদি পশু আর মানুষের ছিল নিবিড় সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের ফাঁকেই লুকিয়ে ছিল রোগের বীজ।

পশু থেকে মানুষে: হামের ভাইরাসটি মানুষের ‘আত্মীয়’ ছিল আরেকটি ভাইরাস— যা আক্রমণ করত গবাদি পশুকে। এর নাম রিন্ডারপেস্ট। বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই সন্দেহ করতেন, এই ভাইরাসই এক সময় লাফ দিয়ে মানুষের দেহে প্রবেশ করে।

অবশ্য ঠিক কবে এই লাফটি ঘটেছে, তা নিয়ে মতানৈক্য ছিল। কেউ বলতেন ঘটনাটি বেশ সাম্প্রতিক (১১০০-১২০০)। কেউ আবার টেনে আনতেন সুদূর অতীত।

শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হামে

শেষ পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন করল বিজ্ঞান: বিজ্ঞানীরা ১৯১২ সালে মারা যাওয়া এক শিশুর ফুসফুসের টিস্যু থেকে ভাইরাসটির জিন উদ্ধার করেন। তারপর বায়েশিয়ান মলিকুলার ক্লক মডেল বা বিবর্তনীয় ঘড়ি পদ্ধতিতে হিসেব করে দেখেন, কখন এই দুটি ভাইরাস (গরুর রিন্ডারপেস্ট ও মানুষের হাম) পূর্বপুরুষের দিক থেকে আলাদা হয়েছে।

প্রাপ্ত ফলাফল চমকে দেওয়ার মতো। হিসেব বলছে, খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীর দিকে, আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই দুটি ভাইরাসের পথ আলাদা হয়ে গেছে।

প্রথম মহামারি: শুধু জিন বিশ্লেষণই প্রমাণ নয়। ইতিহাসের পাতায়ও চিহ্ন রেখে গেছে হাম। যাত্রা শুরুর পর প্রথম কয়েক শতক কোথায় সেটি লুকিয়ে ছিল, স্পষ্ট নয়। তবে ৯ম ও ১০ম শতকের দিকে ইতিহাসের পাতা থেকে তার প্রথম দেখা মেলে।

নবম শতকের দিকে আরব চিকিৎসকদের কাছে এটি পরিচিত ছিল। তবে তারা গুটি বসন্তের সঙ্গেই গুলিয়ে ফেলতেন। এরই মধ্যে দশম শতকে এসে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী চিকিৎসা গ্রন্থগুলোর অন্যতম ‘আল-জুদারি ওয়া আল-হাসবাহ’ (গুটি বসন্ত ও হাম বিষয়ক গ্রন্থ) এর লেখক আর-রাজি (রাজেস) প্রথম হাম ও গুটি বসন্তের পার্থক্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘হাম গুটিবসন্তের চেয়ে কম নয়, বরং আরও বেশি ভয়ঙ্কর।

কয়েক হাজার বছর আগে হামের মহামারিতে গণমৃত্যু ঘটেছিল।

বিশ্বজয়ের গল্প: ইউরোপ যখন রেনেসাঁর দিকে এগোচ্ছে, হামও তখন যাত্রা শুরু করেছে বিশ্বজয়ের পথে। পনেরো-ষোলো শতকের দিকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের সঙ্গে আমেরিকা মহাদেশে পৌঁছে যায় এই ভাইরাস।

স্থানীয় উপজাতিরা যাদের হামের কোনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল না, তারা গণমৃত্যুর মুখে পড়ে।ইতিহাস বলে, কিউবায় ১৫২৯ সালে মহামারিতে মৃত্যু হয় দুই-তৃতীয়াংশ বাসিন্দার। আর হন্ডুরাসে মৃত্যু হয় অর্ধেক জনসংখ্যার।

দ্বীপ মহামারির বীজ: ইউরোপ ও এশিয়ায় হাম যখন অবিরাম জ্বলন্ত আগুনের মতো দাউদাউ করেই যাচ্ছিল, তখনও কিন্তু বিশ্বের কিছু প্রত্যন্ত দ্বীপ ছিল নিরাপদ। দীর্ঘ সমুদ্রপথ তাদের রক্ষা করছিল। কিন্তু উনিশ শতকে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত বাড়তেই শুরু হলো বিপত্তি

হামে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা

সে সময়ের সবচেয়ে বড় ‘প্রাকৃতিক ল্যাবরেটরি’ তৈরি হলো ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জে। হামমুক্ত দ্বীপ ছিল সেটি। ১৮৪৬ সালে একদিন এক কামারের হাত ধরে ঢুকল সেই অজানা ভাইরাস। দ্বীপের মানুষজন অজানা রোগের কবলে পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

সেই সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে আসেন তরুণ চিকিৎসক পিটার লুডভিগ পানাম। তিনি মহামারিটিকে ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক পরীক্ষাগার’ হিসেবে দেখলেন। দ্বীপটির বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর ভর করে তিনি প্রথমবারের মতো বুঝতে পারেন হামের ইনকিউবেশন পিরিয়ড (সংক্রমণ থেকে প্রথম লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময়সীমা) কত। তার হিসেব চমৎকার মিলে গেল- প্রায় ১৪ দিন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে তার আবিষ্কার এখনও মৌলিক তথ্য।

টিকার যুদ্ধ: ২০ শতকে হাম ছিল শিশুহত্যার অন্যতম অস্ত্র। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য বলছে, টিকা আসার আগের দশকটিতে (১৯৫০) প্রায় সবারই না হোক, বেশিরভাগ শিশুই একবার না একবার হামে আক্রান্ত হতো। পরিসংখ্যানে ভয়াবহতা দেখা গেল।আমেরিকায় একাই বাৎসরিক হামে আক্রান্ত হত ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন মানুষ। যার মধ্যে প্রায় ৪০০-৫০০ জনের মৃত্যু হতো।

এদিকে, ১৯৫৪ সালে বিজ্ঞানী টমাস পিবলস ও জন এন্ডার্স এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন। তারা সফলভাবে হামের ভাইরাসকে কোষের ভেতরে বাড়িয়ে তোলেন। ১৯৬৩ সালে তৈরি হয় সেই ইতিহাসের প্রথম লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড টিকা। ১৯৭১ সালে এলো ‘এমএমআর’ (হাম-মাম্পস-রুবেলা) টিকা।

 প্রাচীন চিত্রে উঠে এসেছে হামের বিষয়

এরপর গণটিকাদান শুরু হলে বিশ্বব্যাপী হামের প্রকোপ ও মৃত্যু বহুগুণে কমে যায়। তবে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল করা এখনো সম্ভব হয়নি। পুষ্টিহীনতা, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও টিকা কাভারেজের অভাব আজও আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে এ রোগটিকে প্রাণঘাতী করে রেখেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে সেই সঙ্কটেরই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

হামের সঙ্গে মানুষের যুদ্ধ আজও থামেনি। যে কাহিনি বুঝিয়ে দেয়, সুদূর ইতিহাসের একটি গবাদিপশুর রোগ কীভাবে ঘুরেফিরে প্রতিটি প্রজন্মের কাছে নতুন করে চ্যালেঞ্জ হয়ে ধরা দেয়। আর তাই নিজেকে ও পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচানোর একমাত্র পথ হতে পারে বিজ্ঞানের সুদূরপ্রসারী আবিষ্কার- টিকা।  সূত্র: সিডিসি পিংকবুক, সায়েন্স জার্নাল, হিস্ট্রি অব মিজলস ও দ্য অরিজিন অব মিজলস।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬


২৫০০ বছর আগে গরু থেকে আসা হাম, কীভাবে ছড়ালো বিশ্বময়?

প্রকাশের তারিখ : ১২ মে ২০২৬

featured Image

হাম এখন শুধু একটি অসুখ নয়, বর্তমানে দেশে আতঙ্কের নাম। চলমান প্রাদুর্ভাবে সর্বশেষ হিসাবে ৪২৪ শিশু মারা গেছে। প্রশ্ন হলো- এই ভাইরাসটি আসলে কোথা থেকে এলো? কখন প্রথম মানুষের দেহে বাসা বাঁধল? আর কীভাবে ছড়িয়ে পড়লো বিশ্বময়?

বিজ্ঞানের চোখে ঘাঁটলে দেখা যায়, হামের এই যাত্রা শুরু হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। তখন পৃথিবীতে তেমনি ঘনবসতিপূর্ণ শহর গড়ে ওঠেনি। গবাদি পশু আর মানুষের ছিল নিবিড় সম্পর্ক। সেই সম্পর্কের ফাঁকেই লুকিয়ে ছিল রোগের বীজ।

পশু থেকে মানুষে: হামের ভাইরাসটি মানুষের ‘আত্মীয়’ ছিল আরেকটি ভাইরাস— যা আক্রমণ করত গবাদি পশুকে। এর নাম রিন্ডারপেস্ট। বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই সন্দেহ করতেন, এই ভাইরাসই এক সময় লাফ দিয়ে মানুষের দেহে প্রবেশ করে।

অবশ্য ঠিক কবে এই লাফটি ঘটেছে, তা নিয়ে মতানৈক্য ছিল। কেউ বলতেন ঘটনাটি বেশ সাম্প্রতিক (১১০০-১২০০)। কেউ আবার টেনে আনতেন সুদূর অতীত।

শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হামে

শেষ পর্যন্ত রহস্য উদঘাটন করল বিজ্ঞান: বিজ্ঞানীরা ১৯১২ সালে মারা যাওয়া এক শিশুর ফুসফুসের টিস্যু থেকে ভাইরাসটির জিন উদ্ধার করেন। তারপর বায়েশিয়ান মলিকুলার ক্লক মডেল বা বিবর্তনীয় ঘড়ি পদ্ধতিতে হিসেব করে দেখেন, কখন এই দুটি ভাইরাস (গরুর রিন্ডারপেস্ট ও মানুষের হাম) পূর্বপুরুষের দিক থেকে আলাদা হয়েছে।

প্রাপ্ত ফলাফল চমকে দেওয়ার মতো। হিসেব বলছে, খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীর দিকে, আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে এই দুটি ভাইরাসের পথ আলাদা হয়ে গেছে।

প্রথম মহামারি: শুধু জিন বিশ্লেষণই প্রমাণ নয়। ইতিহাসের পাতায়ও চিহ্ন রেখে গেছে হাম। যাত্রা শুরুর পর প্রথম কয়েক শতক কোথায় সেটি লুকিয়ে ছিল, স্পষ্ট নয়। তবে ৯ম ও ১০ম শতকের দিকে ইতিহাসের পাতা থেকে তার প্রথম দেখা মেলে।

নবম শতকের দিকে আরব চিকিৎসকদের কাছে এটি পরিচিত ছিল। তবে তারা গুটি বসন্তের সঙ্গেই গুলিয়ে ফেলতেন। এরই মধ্যে দশম শতকে এসে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী চিকিৎসা গ্রন্থগুলোর অন্যতম ‘আল-জুদারি ওয়া আল-হাসবাহ’ (গুটি বসন্ত ও হাম বিষয়ক গ্রন্থ) এর লেখক আর-রাজি (রাজেস) প্রথম হাম ও গুটি বসন্তের পার্থক্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘হাম গুটিবসন্তের চেয়ে কম নয়, বরং আরও বেশি ভয়ঙ্কর।

কয়েক হাজার বছর আগে হামের মহামারিতে গণমৃত্যু ঘটেছিল।

বিশ্বজয়ের গল্প: ইউরোপ যখন রেনেসাঁর দিকে এগোচ্ছে, হামও তখন যাত্রা শুরু করেছে বিশ্বজয়ের পথে। পনেরো-ষোলো শতকের দিকে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের সঙ্গে আমেরিকা মহাদেশে পৌঁছে যায় এই ভাইরাস।

স্থানীয় উপজাতিরা যাদের হামের কোনো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল না, তারা গণমৃত্যুর মুখে পড়ে।ইতিহাস বলে, কিউবায় ১৫২৯ সালে মহামারিতে মৃত্যু হয় দুই-তৃতীয়াংশ বাসিন্দার। আর হন্ডুরাসে মৃত্যু হয় অর্ধেক জনসংখ্যার।

দ্বীপ মহামারির বীজ: ইউরোপ ও এশিয়ায় হাম যখন অবিরাম জ্বলন্ত আগুনের মতো দাউদাউ করেই যাচ্ছিল, তখনও কিন্তু বিশ্বের কিছু প্রত্যন্ত দ্বীপ ছিল নিরাপদ। দীর্ঘ সমুদ্রপথ তাদের রক্ষা করছিল। কিন্তু উনিশ শতকে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত বাড়তেই শুরু হলো বিপত্তি

হামে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা

সে সময়ের সবচেয়ে বড় ‘প্রাকৃতিক ল্যাবরেটরি’ তৈরি হলো ফ্যারো দ্বীপপুঞ্জে। হামমুক্ত দ্বীপ ছিল সেটি। ১৮৪৬ সালে একদিন এক কামারের হাত ধরে ঢুকল সেই অজানা ভাইরাস। দ্বীপের মানুষজন অজানা রোগের কবলে পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

সেই সংকটময় মুহূর্তে এগিয়ে আসেন তরুণ চিকিৎসক পিটার লুডভিগ পানাম। তিনি মহামারিটিকে ‘পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাকৃতিক পরীক্ষাগার’ হিসেবে দেখলেন। দ্বীপটির বিচ্ছিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর ভর করে তিনি প্রথমবারের মতো বুঝতে পারেন হামের ইনকিউবেশন পিরিয়ড (সংক্রমণ থেকে প্রথম লক্ষণ দেখা দেওয়ার সময়সীমা) কত। তার হিসেব চমৎকার মিলে গেল- প্রায় ১৪ দিন। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে তার আবিষ্কার এখনও মৌলিক তথ্য।

টিকার যুদ্ধ: ২০ শতকে হাম ছিল শিশুহত্যার অন্যতম অস্ত্র। যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য বলছে, টিকা আসার আগের দশকটিতে (১৯৫০) প্রায় সবারই না হোক, বেশিরভাগ শিশুই একবার না একবার হামে আক্রান্ত হতো। পরিসংখ্যানে ভয়াবহতা দেখা গেল।আমেরিকায় একাই বাৎসরিক হামে আক্রান্ত হত ৩ থেকে ৪ মিলিয়ন মানুষ। যার মধ্যে প্রায় ৪০০-৫০০ জনের মৃত্যু হতো।

এদিকে, ১৯৫৪ সালে বিজ্ঞানী টমাস পিবলস ও জন এন্ডার্স এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন। তারা সফলভাবে হামের ভাইরাসকে কোষের ভেতরে বাড়িয়ে তোলেন। ১৯৬৩ সালে তৈরি হয় সেই ইতিহাসের প্রথম লাইভ অ্যাটেনুয়েটেড টিকা। ১৯৭১ সালে এলো ‘এমএমআর’ (হাম-মাম্পস-রুবেলা) টিকা।

 প্রাচীন চিত্রে উঠে এসেছে হামের বিষয়

এরপর গণটিকাদান শুরু হলে বিশ্বব্যাপী হামের প্রকোপ ও মৃত্যু বহুগুণে কমে যায়। তবে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল করা এখনো সম্ভব হয়নি। পুষ্টিহীনতা, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও টিকা কাভারেজের অভাব আজও আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলোতে এ রোগটিকে প্রাণঘাতী করে রেখেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে সেই সঙ্কটেরই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

হামের সঙ্গে মানুষের যুদ্ধ আজও থামেনি। যে কাহিনি বুঝিয়ে দেয়, সুদূর ইতিহাসের একটি গবাদিপশুর রোগ কীভাবে ঘুরেফিরে প্রতিটি প্রজন্মের কাছে নতুন করে চ্যালেঞ্জ হয়ে ধরা দেয়। আর তাই নিজেকে ও পরবর্তী প্রজন্মকে বাঁচানোর একমাত্র পথ হতে পারে বিজ্ঞানের সুদূরপ্রসারী আবিষ্কার- টিকা।  সূত্র: সিডিসি পিংকবুক, সায়েন্স জার্নাল, হিস্ট্রি অব মিজলস ও দ্য অরিজিন অব মিজলস।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত