সংবাদ

হটস্পটের ৩০ উপজেলায় কমছে হামের সংক্রমণ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১২:১২ পিএম

হটস্পটের ৩০ উপজেলায় কমছে হামের সংক্রমণ

সরকারের দ্রুত ও বিশেষ হামের টিকাদান কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশজুড়ে। দেশের ১৮টি জেলার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত ৩০টি উপজেলায় ইতিমধ্যেই হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে অধিকাংশ উপজেলায় প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা দুই অঙ্কের নিচে নেমে এসেছে। জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর এক প্রতিবেদনে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়। এই দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

হামের টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "৫ এপ্রিল হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এ ছাড়া সারা দেশেই এখন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে কমেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস এই সাফল্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "ভ্যাকসিন বা টিকা শরীরে কার্যকারিতা দেখাতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় নেয়। আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫ এপ্রিল টিকাদান চালুর পর ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ওইসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। একই ইতিবাচক প্রবণতা দেশের ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে, যা টিকাদানের কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ।"

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, দেশে বর্তমানে হামে শিশু মৃত্যুর হার সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরে পুরোপুরি অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৭ মে ২০২৬


হটস্পটের ৩০ উপজেলায় কমছে হামের সংক্রমণ

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

সরকারের দ্রুত ও বিশেষ হামের টিকাদান কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশজুড়ে। দেশের ১৮টি জেলার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত ৩০টি উপজেলায় ইতিমধ্যেই হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে অধিকাংশ উপজেলায় প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা দুই অঙ্কের নিচে নেমে এসেছে। জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর এক প্রতিবেদনে এই স্বস্তিদায়ক তথ্য উঠে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়। এই দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

হামের টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "৫ এপ্রিল হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এ ছাড়া সারা দেশেই এখন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।"

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসও নিশ্চিত করেছেন যে, প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে কমেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস এই সাফল্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, "ভ্যাকসিন বা টিকা শরীরে কার্যকারিতা দেখাতে সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় নেয়। আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫ এপ্রিল টিকাদান চালুর পর ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ওইসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। একই ইতিবাচক প্রবণতা দেশের ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে, যা টিকাদানের কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ।"

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, দেশে বর্তমানে হামে শিশু মৃত্যুর হার সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরে পুরোপুরি অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত