আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রংপুর বিভাগের আট জেলায় এবার ২০ লাখ ২৩ হাজারের বেশি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই সংখ্যা বিভাগের নিজস্ব চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও প্রায় ৫ লাখ ৬৬ হাজার পশু ঢাকা ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের আট জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১৪ লাখ ৬৬ হাজার। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ২০ লাখ ২৩ হাজার ১৪৬টি পশু। এক সময় কোরবানির পশুর জন্য এই অঞ্চল ভারতীয় গরুর ওপর নির্ভরশীল থাকলেও গত এক দশকে চিত্র পুরোপুরি বদলে গেছে। বর্তমানে এই বিভাগে ২০ হাজারের বেশি পশুর খামার গড়ে উঠেছে, যেখানে কর্মসংস্থান হয়েছে অন্তত এক লাখ মানুষের।
খামারি ও সাধারণ গৃহস্থরা জানান, বর্তমানে তারা পশু উৎপাদনে স্বাবলম্বী। তবে চোরাই পথে ভারতীয় গরু আসার আশঙ্কায় তারা কিছুটা উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, দেশি খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে গরু আসা ঠেকাতে সরকারকে কঠোর নজরদারি করতে হবে। পাশাপাশি গোখাদ্য ও ওষুধের চড়া দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকার খামারি আসলাম মিয়া জানান, তার খামারে এবার ১৮০টি গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, ‘এখন মানুষ দুই থেকে আড়াই মণ ওজনের দেশি পশুর দিকেই বেশি ঝুঁকছে। আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছি। কিন্তু গোখাদ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় ন্যায্য মূল্য না পেলে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।’
একই আশঙ্কার কথা জানালেন মিঠাপুকুর উপজেলার খামারি মোসলেমা খাতুন। তার খামারে ১৩০টি মাঝারি আকারের গরু রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি গোখাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখত এবং খামারিদের প্রণোদনা দিত, তবে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশ বিদেশেও মাংস রপ্তানি করতে পারত।’
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. আব্দুল হাই সরকার বলেন, ‘রংপুর বিভাগ এখন কোরবানির পশুতে পুরোপুরি স্বাবলম্বী। আমাদের উদ্বৃত্ত সাড়ে ৫ লাখের বেশি পশু দেশের অন্যান্য জেলার চাহিদা মেটাবে। পশু উৎপাদনে খামারিদের এই সাফল্য দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক।’
আপনার মতামত লিখুন