বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে দেখছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন নতুন খাত ও সুযোগ খতিয়ে দেখতে খুব শিগগিরই একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠাতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
সোমবার
সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ
চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্রাজিলের এই আগ্রহ ও
পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকায়
নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে বাংলাদেশ
ও ব্রাজিলের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের নানাদিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা
হয়।
গুরুত্বপূর্ণ
এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্রমাগত সম্প্রসারণ ও অগ্রগতি নিয়ে
গভীর সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। উভয়
পক্ষই উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ
ও ব্রাজিলের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন মার্কিন
ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এই ধারাকে আরও
বেগবান করতে বাণিজ্য ও
বিনিয়োগসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা
আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ
গুরুত্বারোপ করা হয়। সাক্ষাৎকালে
রাষ্ট্রদূত দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশ
একটি আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা রাখে।’
বিনিয়োগের
নতুন সুযোগ অনুসন্ধানে ব্রাজিলের প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। বৈঠকে বিশেষ করে গবাদিপশু পালন
ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং যৌথ উদ্যোগে
আধুনিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সম্ভাবনা
নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে
বাংলাদেশ পক্ষ থেকে স্পষ্ট
করা হয় যে, স্থানীয়
খামারিদের স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষণ করে আধুনিক প্রাণিসম্পদ
ও খামার ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং এই খাতে
সরাসরি বিনিয়োগে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহ রয়েছে।
এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে
গরুর মাংস ও পোলট্রি
খাতে দ্বিপাক্ষিক বিনিময় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা এবং স্যানিটারি ও
ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) সনদসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়েও টেবিলে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই
একমত হন যে, দুই
দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির
একটি বিশাল ও যথেষ্ট সম্ভাবনা
এখনো অপূর্ণ রয়েছে, যা কাজে লাগানো
প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের
বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে
অর্থনীতি ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে
বড় অগ্রগতি হয়েছে। বৈঠকে স্বাস্থ্য, কৃষি ও ক্রীড়া
খাতে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে
সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত হওয়ায় দুই পক্ষই গভীর
সন্তোষ প্রকাশ করেন। ঢাকা ও ব্রাসিলিয়ার
নীতিনির্ধারকরা আশা প্রকাশ করেন
যে, আগামী তৃতীয় দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ সভায় এই ঐতিহাসিক
চুক্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে, যা
দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায়
নিয়ে যাবে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬
বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় এবং শক্তিশালী আঞ্চলিক ব্যবসাকেন্দ্র হিসেবে দেখছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন নতুন খাত ও সুযোগ খতিয়ে দেখতে খুব শিগগিরই একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠাতেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
সোমবার
সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ
চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ব্রাজিলের এই আগ্রহ ও
পরিকল্পনার কথা জানান ঢাকায়
নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস। দ্বিপাক্ষিক এই বৈঠকে বাংলাদেশ
ও ব্রাজিলের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কের নানাদিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা
হয়।
গুরুত্বপূর্ণ
এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্রমাগত সম্প্রসারণ ও অগ্রগতি নিয়ে
গভীর সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। উভয়
পক্ষই উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ
ও ব্রাজিলের মধ্যকার বাণিজ্যের পরিমাণ ইতোমধ্যে ৩ বিলিয়ন মার্কিন
ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। এই ধারাকে আরও
বেগবান করতে বাণিজ্য ও
বিনিয়োগসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা
আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ
গুরুত্বারোপ করা হয়। সাক্ষাৎকালে
রাষ্ট্রদূত দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব
তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশ
একটি আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা রাখে।’
বিনিয়োগের
নতুন সুযোগ অনুসন্ধানে ব্রাজিলের প্রতিনিধিদল পাঠানোর আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। বৈঠকে বিশেষ করে গবাদিপশু পালন
ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে
দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং যৌথ উদ্যোগে
আধুনিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সম্ভাবনা
নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ প্রসঙ্গে
বাংলাদেশ পক্ষ থেকে স্পষ্ট
করা হয় যে, স্থানীয়
খামারিদের স্বার্থ পুরোপুরি সংরক্ষণ করে আধুনিক প্রাণিসম্পদ
ও খামার ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং এই খাতে
সরাসরি বিনিয়োগে বাংলাদেশের গভীর আগ্রহ রয়েছে।
এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে
গরুর মাংস ও পোলট্রি
খাতে দ্বিপাক্ষিক বিনিময় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা এবং স্যানিটারি ও
ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) সনদসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়েও টেবিলে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই
একমত হন যে, দুই
দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির
একটি বিশাল ও যথেষ্ট সম্ভাবনা
এখনো অপূর্ণ রয়েছে, যা কাজে লাগানো
প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের
বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে
অর্থনীতি ছাড়াও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে
বড় অগ্রগতি হয়েছে। বৈঠকে স্বাস্থ্য, কৃষি ও ক্রীড়া
খাতে বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যে
সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত হওয়ায় দুই পক্ষই গভীর
সন্তোষ প্রকাশ করেন। ঢাকা ও ব্রাসিলিয়ার
নীতিনির্ধারকরা আশা প্রকাশ করেন
যে, আগামী তৃতীয় দ্বিপাক্ষিক পরামর্শ সভায় এই ঐতিহাসিক
চুক্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে, যা
দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায়
নিয়ে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন