সংবাদ

অসংক্রামক রোগে মৃত্যু ঝুঁকি 'বাড়ছে', প্রতিরোধে দ্রুত এফওপিএল বাস্তবায়নের তাগিদ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম

অসংক্রামক রোগে মৃত্যু ঝুঁকি 'বাড়ছে', প্রতিরোধে দ্রুত এফওপিএল বাস্তবায়নের তাগিদ

  • গবেষণা বলছে, অতি প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবারকে নিরাপদ বা স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
  • বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোররাই বেশি ক্ষতির শিকার।
  • ভোক্তাকে সচেতন করতে ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশ এফওপিএল ব্যবস্থা চালু করেছে।
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এফওপিএল-কে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে সুপারিশ করেছে।
  • ভোক্তাকে সচেতন করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এফওপিএল চালুর খসড়া প্রবিধান প্রণয়ন করেছে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় '৫ লাখ ৭০ হাজার' মানুষ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে মারা যায়, যা মোট মৃত্যুর প্রায় '৭১ শতাংশ'। এর মধ্যে '১৯ শতাংশই' অকাল মৃত্যু।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এই ব্যাপক মৃত্যুর অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অতিরিক্ত চিনি, লবণ, ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেট বা মোড়কের পেছনে যেভাবে পুষ্টিমান মুদ্রিত থাকে তা অধিকাংশ ভোক্তাই বুঝতে পারেন না।

'ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল)' হলো অতি অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্টভাবে ক্ষতিকারক বিভিন্ন উপাদানের আনুপাতিক হার বা পরিমাণ উল্লেখ করা।

এফওপিএল বাধ্যতামূলক করা হলে ভোক্তারা সচেতন হবেন, সতর্ক হবেন; নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নেওয়া সুযোগ পাবেন। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশে ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে এক কর্মশালায় এ খাতের বিশ্লেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আলোচক এবং অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যে এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটেরর (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) দুই দিনব্যাপী (১৮-১৯ মে) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

“বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং: প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়” শীর্ষক এই কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত ২৭ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার এবং পানীয় অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ। বক্তারা বলেন, সাধারণভাবে প্যাকেটজাত খাবারকে নিরাপদ বা স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আলোচনা ও বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে আসে, বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোররাই অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষতির শিকার বেশি হচ্ছে। 

জরিপ ও গবেষণা

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ৯৭৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক, কিশোর-কিশোরী ও  মধ্যে বহুল ব্যবহৃত প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার শনাক্ত করতে দেশব্যাপী একটি ক্রস-সেকশনাল জরিপ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় ৯৭ শতাংশ উত্তরদাতা সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে থাকেন।

গবেষণায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৪টি খাদ্য ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্লেষণ করা ১০৫টি প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ৬৩ শতাংশে উচ্চমাত্রায় লবণের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

২০২৩ সালের আরেকটি গবেষণায় দেশে প্রচলিত ২৪টি ব্র্যান্ডের ৯ ধরনের প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার পরীক্ষা করে বেশিরভাগ খাবারেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পরিমাণ চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া গেছে। অনেক পণ্যের প্যাকেটে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এফওপিএল-কে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে সুপারিশ করেছে।

ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশ এফওপিএল ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মধ্যে ১০ টিতে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল বাধ্যতামূলক। এফওপিএল বাস্তবায়নের ফলে এসব দেশে ভোক্তা সচেতনতা বেড়েছে এবং উৎপাদকরাও পণ্যের মান উন্নত করেছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কী বলছে

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বি সম্পর্কে ভোক্তাকে সচেতন করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর খসড়া প্রবিধান প্রণয়ন করেছে। প্যাকেট বা মোড়কের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তার মাধ্যমে অসংক্রামক রোগ (যেমন: ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার) প্রতিরোধই এর মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভোক্তা সচেতনতা তৈরি করতে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা প্রচলনের কাজ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, দেশে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে।”

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের (জেপিজিএসপিএইচ) সেন্টার ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ এন্ড নিউট্রিশনের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, “এফওপিএল ভোক্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে থাকা অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং ক্ষতিকর চর্বি শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সহায়তা করে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত বলেন, “ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালু করা খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-সুপারিশকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়-সাশ্রয়ী উদ্যোগ, যা জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে ভূমিকা রাখবে।”

জিএইচএআই'র বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল ব্যবস্থা দেশের ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

কর্মশালায় আলোচনায় অংশ নেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬


অসংক্রামক রোগে মৃত্যু ঝুঁকি 'বাড়ছে', প্রতিরোধে দ্রুত এফওপিএল বাস্তবায়নের তাগিদ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

  • গবেষণা বলছে, অতি প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবারকে নিরাপদ বা স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন।
  • বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোররাই বেশি ক্ষতির শিকার।
  • ভোক্তাকে সচেতন করতে ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশ এফওপিএল ব্যবস্থা চালু করেছে।
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এফওপিএল-কে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে সুপারিশ করেছে।
  • ভোক্তাকে সচেতন করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) এফওপিএল চালুর খসড়া প্রবিধান প্রণয়ন করেছে।

বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় '৫ লাখ ৭০ হাজার' মানুষ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে মারা যায়, যা মোট মৃত্যুর প্রায় '৭১ শতাংশ'। এর মধ্যে '১৯ শতাংশই' অকাল মৃত্যু।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এই ব্যাপক মৃত্যুর অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

অতিরিক্ত চিনি, লবণ, ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত প্যাকেটজাত খাবার হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেট বা মোড়কের পেছনে যেভাবে পুষ্টিমান মুদ্রিত থাকে তা অধিকাংশ ভোক্তাই বুঝতে পারেন না।

'ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল)' হলো অতি অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্যাকেটের সামনের অংশে সহজ ও স্পষ্টভাবে ক্ষতিকারক বিভিন্ন উপাদানের আনুপাতিক হার বা পরিমাণ উল্লেখ করা।

এফওপিএল বাধ্যতামূলক করা হলে ভোক্তারা সচেতন হবেন, সতর্ক হবেন; নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার বেছে নেওয়া সুযোগ পাবেন। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশে ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনে এক কর্মশালায় এ খাতের বিশ্লেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আলোচক এবং অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যে এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটেরর (জিএইচএআই) সহযোগিতায় প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) দুই দিনব্যাপী (১৮-১৯ মে) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

“বাংলাদেশে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং: প্রয়োজনীয়তা, অগ্রগতি ও করণীয়” শীর্ষক এই কর্মশালায় প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত ২৭ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় জানানো হয়, অতি-প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার এবং পানীয় অসংক্রামক রোগের অন্যতম কারণ। বক্তারা বলেন, সাধারণভাবে প্যাকেটজাত খাবারকে নিরাপদ বা স্বাস্থ্যকর মনে করা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আলোচনা ও বিভিন্ন পরিসংখ্যানে উঠে আসে, বিশ্বব্যাপী শিশু-কিশোররাই অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ক্ষতির শিকার বেশি হচ্ছে। 

জরিপ ও গবেষণা

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৫ সালে ৯৭৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক, কিশোর-কিশোরী ও  মধ্যে বহুল ব্যবহৃত প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার শনাক্ত করতে দেশব্যাপী একটি ক্রস-সেকশনাল জরিপ করা হয়। এতে দেখা যায়, প্রায় ৯৭ শতাংশ উত্তরদাতা সপ্তাহে অন্তত একবার প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে থাকেন।

গবেষণায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ১৪টি খাদ্য ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্লেষণ করা ১০৫টি প্রক্রিয়াজাত ও অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের ৬৩ শতাংশে উচ্চমাত্রায় লবণের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

২০২৩ সালের আরেকটি গবেষণায় দেশে প্রচলিত ২৪টি ব্র্যান্ডের ৯ ধরনের প্রক্রিয়াজাত প্যাকেট খাবার পরীক্ষা করে বেশিরভাগ খাবারেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পরিমাণ চিনি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া গেছে। অনেক পণ্যের প্যাকেটে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট, চিনি ও লবণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য অস্পষ্ট বা অনুপস্থিত।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এফওপিএল-কে একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী জনস্বাস্থ্য উদ্যোগ হিসেবে সুপারিশ করেছে।

ইতোমধ্যে বিশ্বের ৪৪টি দেশ এফওপিএল ব্যবস্থা চালু করেছে, যার মধ্যে ১০ টিতে সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল বাধ্যতামূলক। এফওপিএল বাস্তবায়নের ফলে এসব দেশে ভোক্তা সচেতনতা বেড়েছে এবং উৎপাদকরাও পণ্যের মান উন্নত করেছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কী বলছে

অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বি সম্পর্কে ভোক্তাকে সচেতন করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর খসড়া প্রবিধান প্রণয়ন করেছে। প্যাকেট বা মোড়কের সম্মুখভাগে সতর্কবার্তার মাধ্যমে অসংক্রামক রোগ (যেমন: ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যান্সার) প্রতিরোধই এর মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার সম্পর্কে ভোক্তা সচেতনতা তৈরি করতে ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং ব্যবস্থা প্রচলনের কাজ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, দেশে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমবে।”

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের (জেপিজিএসপিএইচ) সেন্টার ফর নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ এন্ড নিউট্রিশনের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, “এফওপিএল ভোক্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে থাকা অতিরিক্ত লবণ, চিনি এবং ক্ষতিকর চর্বি শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য বেছে নিতে সহায়তা করে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার (ডায়েট রিলেটেড রিস্ক ফ্যাক্টর) সামিনা ইসরাত বলেন, “ফ্রন্ট-অব-প্যাক লেবেলিং (এফওপিএল) চালু করা খাদ্যজনিত অসংক্রামক রোগের (এনসিডি) ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-সুপারিশকৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়-সাশ্রয়ী উদ্যোগ, যা জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠনে ভূমিকা রাখবে।”

জিএইচএআই'র বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস বলেন, “বাধ্যতামূলক সতর্কীকরণভিত্তিক এফওপিএল ব্যবস্থা দেশের ক্রমবর্ধমান অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

কর্মশালায় আলোচনায় অংশ নেন অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স-আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন, কো-কনভেনর নাদিরা কিরণ এবং প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র প্রোগ্রাম অফিসার শবনম মোস্তফা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত