সংবাদ

রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হবে: আইনমন্ত্রী


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হবে: আইনমন্ত্রী

রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার একমাত্র জবাব হবে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, "আজ অফিসে এসেই আমি প্রথমেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছি এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছি। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।"

ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভ ও হতাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "রামিসার বাবা যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন, তার একমাত্র উত্তর হবে যদি আমরা এই বিচার প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাশিতভাবে অতি দ্রুত করতে পারি। আমরা যদি তা না করতে পারি, তবেই উনার কথা সত্য প্রমাণিত হবে। এর বাইরে আমাদের আর কোনো রিয়াকশন দেওয়ার কিছু নেই।"

সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচিত ‘আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার’ রায় এখনো কার্যকর না হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন—বিচারপ্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা নতুন অপরাধকে উৎসাহিত করছে কি না? জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, "রামিসার বাবার হতাশা তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে এসেছে, যা অমূলক নয়। তবে সরকার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আছিয়ার ঘটনায় মাত্র সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল এবং এক মাসের মধ্যে বিচারও শেষ হয়েছিল। এর চেয়ে দ্রুত বিচার করতে গেলে সেটি আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।"

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা ও বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, "মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আগে ডেথ রেফারেন্স সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগে পেপার বুক প্রস্তুতের একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা রয়েছে, যা অনেক সময় বিলম্বের কারণ হয়।"

তবে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বিশেষ ব্যতিক্রমের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মেজর সিনহা হত্যা মামলা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দ্রুত পেপার বুক করা হয়েছিল। রামিসা ও আছিয়ার মামলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

আইনমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেন, আছিয়া মামলাটি সরকারের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ। ওই উদাহরণ ধরে রেখেই দ্রুততম সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেই রামিসা হত্যার বিচার হবে।

রায় কতদিনের মধ্যে কার্যকর হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কার্যকরের বিষয়টা সরকারের হাতে নয়, এটি সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার। সুপ্রিম কোর্টের বিচার প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবে ট্রায়াল কোর্টে দ্রুত শুনানির জন্য আমি আমাদের পাবলিক প্রসিকিউটরদের (পিপি) ফাস্টট্র্যাকে মামলাটি পরিচালনার নির্দেশনা দিতে পারি, বাকিটা জজ সাহেব দেখবেন।"

দেশে চলমান বিচারজটের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ মামলা রাতারাতি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়, তবে সরকার এটি নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "ধর্ষণ বা এই জাতীয় গুরুতর কোনো মামলাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক মামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না এবং তা প্রত্যাহারের তালিকায় রাখার তো প্রশ্নই আসে না।"

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


রামিসা হত্যার বিচার দ্রুত হবে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের হতাশার একমাত্র জবাব হবে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, "আজ অফিসে এসেই আমি প্রথমেই পুলিশ কমিশনারকে ফোন করেছি এবং এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলেছি। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।"

ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভ ও হতাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "রামিসার বাবা যে হতাশা ব্যক্ত করেছেন, তার একমাত্র উত্তর হবে যদি আমরা এই বিচার প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাশিতভাবে অতি দ্রুত করতে পারি। আমরা যদি তা না করতে পারি, তবেই উনার কথা সত্য প্রমাণিত হবে। এর বাইরে আমাদের আর কোনো রিয়াকশন দেওয়ার কিছু নেই।"

সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচিত ‘আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার’ রায় এখনো কার্যকর না হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেন—বিচারপ্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা নতুন অপরাধকে উৎসাহিত করছে কি না? জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, "রামিসার বাবার হতাশা তাঁর ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে এসেছে, যা অমূলক নয়। তবে সরকার বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আছিয়ার ঘটনায় মাত্র সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল এবং এক মাসের মধ্যে বিচারও শেষ হয়েছিল। এর চেয়ে দ্রুত বিচার করতে গেলে সেটি আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।"

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা ও বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, "মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আগে ডেথ রেফারেন্স সুপ্রিম কোর্টে অনুমোদনের জন্য পাঠাতে হয়। হাইকোর্ট বিভাগে পেপার বুক প্রস্তুতের একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা রয়েছে, যা অনেক সময় বিলম্বের কারণ হয়।"

তবে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বিশেষ ব্যতিক্রমের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মেজর সিনহা হত্যা মামলা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি নিয়ে দ্রুত পেপার বুক করা হয়েছিল। রামিসা ও আছিয়ার মামলাতেও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।"

আইনমন্ত্রী পরিষ্কার করে বলেন, আছিয়া মামলাটি সরকারের কাছে একটি অনন্য উদাহরণ। ওই উদাহরণ ধরে রেখেই দ্রুততম সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালেই রামিসা হত্যার বিচার হবে।

রায় কতদিনের মধ্যে কার্যকর হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "কার্যকরের বিষয়টা সরকারের হাতে নয়, এটি সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ার। সুপ্রিম কোর্টের বিচার প্রক্রিয়ায় কোনোভাবেই আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি না। তবে ট্রায়াল কোর্টে দ্রুত শুনানির জন্য আমি আমাদের পাবলিক প্রসিকিউটরদের (পিপি) ফাস্টট্র্যাকে মামলাটি পরিচালনার নির্দেশনা দিতে পারি, বাকিটা জজ সাহেব দেখবেন।"

দেশে চলমান বিচারজটের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এত বিপুল পরিমাণ মামলা রাতারাতি নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়, তবে সরকার এটি নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "ধর্ষণ বা এই জাতীয় গুরুতর কোনো মামলাকে কোনোভাবেই রাজনৈতিক মামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে না এবং তা প্রত্যাহারের তালিকায় রাখার তো প্রশ্নই আসে না।"

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত