সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা তীব্র জনবল সংকটে পর্যুদস্ত। জেলার সদর হাসপাতালসহ ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টের চরম অভাব দেখা দিয়েছে। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্য বিভাগে মঞ্জুরীকৃত ৮০৯টি পদের মধ্যে ৪৩৬টিই শূন্য। মাত্র ৩৭৩ জন কর্মী নিয়ে কোনোমতে জোড়াতালি দিয়ে চলছে পুরো জেলার চিকিৎসাসেবা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিত্র আরও ভয়াবহ। দিরাই উপজেলায় চিকিৎসকের ৪৯টি পদের মধ্যে ৩৯টিই শূন্য। কর্মরত আছেন মাত্র ১০ জন। শাল্লা উপজেলায় ২৫ জন চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন মাত্র ৫ জন। ভারত সীমান্তবর্তী ধর্মপাশা উপজেলায় ৫১টি পদের ৩৭টিই শূন্য। এ ছাড়া ছাতক উপজেলায় ৪৭টি পদের মধ্যে ২৮টি এবং জগন্নাথপুরে ৪২টি পদের মধ্যে ২৬টি চিকিৎসকের পদ খালি পড়ে আছে।
প্রায় একই চিত্র অন্যান্য উপজেলায়। বিশ্বম্ভরপুরে চিকিৎসকের ৩০টি পদের ১৯টি, জামালগঞ্জে ২৫টি পদের ১৫টি, দোয়ারাবাজারে ৩২টি পদের ১৮টি, শান্তিগঞ্জে ৩৪টি পদের ১৯টি এবং তাহিরপুরে ৩০টি পদের মধ্যে ২১টি পদই শূন্য। জেলা সদরের ১১টি পদের ৬টিই খালি। শুধু চিকিৎসক নয়, হাসপাতালগুলোতে নার্স, ফার্মাসিস্ট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টের পদেও রয়েছে চরম ঘাটতি।
হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
দিরাইয়ের বাসিন্দা সামিয়া বেগম বলেন, `হাসপাতালে গেলে শুধু 'নাই' শব্দটা শুনতে হয়। ডাক্তার নাই, নার্স নাই, এমনকি সরকারি ওষুধও পাওয়া যায় না।'
তাহিরপুরের জয়নব বিবির অভিযোগ, ডাক্তার ও নার্স না থাকায় গরিব রোগীদের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কোনো উপায় নেই।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খলিল রহমান বলেন, `সুনামগঞ্জের মতো দুর্গম এলাকায় চিকিৎসকেরা থাকতে চান না। এখানে জনবল সংকট এখন স্থায়ী রোগে পরিণত হয়েছে। শুধু নিয়োগ দিলেই হবে না, নিয়োগপ্রাপ্তদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।'
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, `সীমিত জনবল নিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের তাগিদ দিচ্ছি।'
আপনার মতামত লিখুন