বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়নে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দিতে আগ্রহী নিউজিল্যান্ড। তবে এজন্য বাংলাদেশকে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উত্তরার বিজিএমইএ দপ্তরে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার ৯৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। এই বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান হাইকমিশনারের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে নিউজিল্যান্ডের মতো নতুন ও সম্ভাবনাময় বাজারগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, বর্তমান বোর্ড পোশাক শিল্পের পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের পাশাপাশি তৈরি পোশাকের বাইরে টেক্সটাইল ফুটওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ফার্নিচার শিল্পের বহুমুখীকরণে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। হাইকমিশনার এতে একমত পোষণ করেন।
বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তরের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের উন্নত কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন বিজিএমইএ সভাপতি।
আলোচনায় বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। হাইকমিশনার এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকার এই লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এফটিএ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নিউজিল্যান্ড সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়েছেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ ও নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার ডেভিড পাইন নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এক্সপো ও ট্রেড ফেয়ারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিউজিল্যান্ডে প্রেরণ করা হলে হাইকমিশন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রমোট করার প্রস্তাবেও তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ-র ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ এবং নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও শিল্প উন্নয়নে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতা দিতে আগ্রহী নিউজিল্যান্ড। তবে এজন্য বাংলাদেশকে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে উত্তরার বিজিএমইএ দপ্তরে সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার ৯৪ শতাংশই তৈরি পোশাক। এই বাণিজ্য ব্যবধান কমিয়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান হাইকমিশনারের সহযোগিতার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বিজিএমইএ ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে নিউজিল্যান্ডের মতো নতুন ও সম্ভাবনাময় বাজারগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিজিএমইএ সভাপতি জানান, বর্তমান বোর্ড পোশাক শিল্পের পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের পাশাপাশি তৈরি পোশাকের বাইরে টেক্সটাইল ফুটওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ফার্নিচার শিল্পের বহুমুখীকরণে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। হাইকমিশনার এতে একমত পোষণ করেন।
বৈঠকে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই রূপান্তরের অংশ হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের উন্নত কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেন বিজিএমইএ সভাপতি।
আলোচনায় বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। হাইকমিশনার এ ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রস্তুতি জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমান ব্যবসাবান্ধব সরকার এই লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এফটিএ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য নিউজিল্যান্ড সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা ও সমর্থন চেয়েছেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ ও নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
হাইকমিশনার ডেভিড পাইন নিউজিল্যান্ডে আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এক্সপো ও ট্রেড ফেয়ারে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল নিউজিল্যান্ডে প্রেরণ করা হলে হাইকমিশন সব ধরনের সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রমোট করার প্রস্তাবেও তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেন।
বৈঠকে বিজিএমইএ-র ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ এবং নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন