সংবাদ

বরিশালে হকার পুনর্বাসনে নতুন উদ্যোগ


প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ৫ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

বরিশালে হকার পুনর্বাসনে নতুন উদ্যোগ
নগর ভবনের পেছনে নির্মাণাধীন হকার মার্কেট। ছবি : সংবাদ

বরিশাল নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যানজট নিরসনে বিভিন্ন সময় ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হলেও পুনর্বাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত ছিল। তবে এবার সেই প্রথা ভেঙে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। নগরের জেলা পরিষদ পুকুরপাড় এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অস্থায়ী বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।

নগর ভবনের ঠিক পেছনে সিটির নিজস্ব জায়গায় ৮৮টি অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। ৫ ফুট বাই ৩ ফুট আয়তনের এসব দোকানে পুনর্বাসিত হকাররা নিয়মিত ব্যবসা করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নির্মাণাধীন এসব দোকানের কাজ পরিদর্শন করেন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে প্রশাসক বলেন, “নগরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। জেলা পরিষদ পুকুরপাড়ের হকারদের জন্য অস্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বেলস পার্ক, ত্রিশ গোডাউন ও চৌমাথা লেকসহ অন্যান্য এলাকার হকারদেরও পুনর্বাসন করা হবে। প্রকৃত ভাসমান হকাররা যেন এই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।”

সিটির এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা। তবে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকৃত হকারদের বঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্কও রয়েছে। তাদের দাবি, অতীতের মতো রাজনৈতিক নেতারা বা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা যেন এসব দোকান দখল না করেন। প্রশাসক যেন ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদারকি করেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন সমান গুরুত্বপূর্ণ। নগর চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, “হকারদের জন্য অস্থায়ী দোকান তৈরি করে দেওয়া প্রশংসনীয় কাজ। তবে এটি যেন রাজনৈতিক কারণে বিতর্কিত না হয়। পাশাপাশি নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল স্থানান্তর এখন সময়ের দাবি। সিলেটের আধুনিক বাস টার্মিনালের আদলে বরিশালেও ১২ একর জমিতে দৃষ্টিনন্দন টার্মিনাল নির্মাণ সম্ভব।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা, অবৈধ দখলমুক্তকরণ ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধিতে বিসিসি প্রশাসকের নানা উদ্যোগ ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে। সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, হকার পুনর্বাসনের পাশাপাশি আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল, জেব্রা ক্রসিং ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বরিশাল একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬


বরিশালে হকার পুনর্বাসনে নতুন উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬

featured Image

বরিশাল নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যানজট নিরসনে বিভিন্ন সময় ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করা হলেও পুনর্বাসনের বিষয়টি দীর্ঘদিন উপেক্ষিত ছিল। তবে এবার সেই প্রথা ভেঙে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। নগরের জেলা পরিষদ পুকুরপাড় এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য অস্থায়ী বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন বিসিসি প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন।

নগর ভবনের ঠিক পেছনে সিটির নিজস্ব জায়গায় ৮৮টি অস্থায়ী দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। ৫ ফুট বাই ৩ ফুট আয়তনের এসব দোকানে পুনর্বাসিত হকাররা নিয়মিত ব্যবসা করতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নির্মাণাধীন এসব দোকানের কাজ পরিদর্শন করেন প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে প্রশাসক বলেন, “নগরের সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টিও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে। জেলা পরিষদ পুকুরপাড়ের হকারদের জন্য অস্থায়ী দোকানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বেলস পার্ক, ত্রিশ গোডাউন ও চৌমাথা লেকসহ অন্যান্য এলাকার হকারদেরও পুনর্বাসন করা হবে। প্রকৃত ভাসমান হকাররা যেন এই সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা হবে।”

সিটির এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা। তবে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবে প্রকৃত হকারদের বঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে তাদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্কও রয়েছে। তাদের দাবি, অতীতের মতো রাজনৈতিক নেতারা বা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা যেন এসব দোকান দখল না করেন। প্রশাসক যেন ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি তদারকি করেন।

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনায় উচ্ছেদ ও পুনর্বাসন সমান গুরুত্বপূর্ণ। নগর চিন্তাবিদ কাজী মিজানুর রহমান বলেন, “হকারদের জন্য অস্থায়ী দোকান তৈরি করে দেওয়া প্রশংসনীয় কাজ। তবে এটি যেন রাজনৈতিক কারণে বিতর্কিত না হয়। পাশাপাশি নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল স্থানান্তর এখন সময়ের দাবি। সিলেটের আধুনিক বাস টার্মিনালের আদলে বরিশালেও ১২ একর জমিতে দৃষ্টিনন্দন টার্মিনাল নির্মাণ সম্ভব।”

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা, অবৈধ দখলমুক্তকরণ ও নাগরিক সেবা বৃদ্ধিতে বিসিসি প্রশাসকের নানা উদ্যোগ ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে। সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, হকার পুনর্বাসনের পাশাপাশি আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল, জেব্রা ক্রসিং ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে বরিশাল একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত