কোনো এক আবহ পাখির প্রতি
আবদুর রাজ্জাক
সহসা মেঘ থেকে লাফিয়ে পড়ে স্থাপত্য বৃষ্টি, তুমিও
শাদা বর্ষাতি পরা,
শীতের লংকোট পরে অতীতেও বৃষ্টি নেমেছিলো,
বর্ষাতি ছাড়া পৃথিবীতে কখনো কোনো বৃষ্টি নামেনি|
গোপনে তোমার পিঠে হাত রেখেছি, তোমার গাল বেয়ে
ফোঁটা ফোঁটা সমুদ্র ঝরেছে আর আগুনের লাল শিখা
হৃৎপিণ্ডে হাহাকার করেছে|
ঘামে ভিজে যাওয়া শাড়ির ভেতরে এমন এক অমৃতকে
দেখতে চাইনি, কী অদ্ভুত! দেখতেই হলো!
তুমি ঈষৎ কুঁজো হয়ে হাঁটো, ছিপিছপ শব্দে পা দুটো
মাটি ছুঁয়ে যায়, শাদা দুধের মতো সিন্ড্রোম থেকে বেরিয়ে
আসা চাঁদে পাওয়া মানুষ আমি—
তোমার পৃথিবীতে এসে হাওয়া দিই পালে|
মধু রং বাতাস, আকাশ কাঁপছে, না আসাই ভালো ছিলো,
শরীরে ভয়ানক জ্বর, কুঞ্চিত ভ্রু দুটির কী গঠনশৈলী,
বদমাশ! তোমার সলিল সমাধি হোক|
এ অবস্থায় জ্বর না উঠে পারে? ঈশ্বর আমাকে রক্ষা করুন|
বুকের আরেকটি পাতলা আবরণ আমার দৃষ্টিউদযাপনে
প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে|
আমি তোমার সৌন্দর্যের সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েছি,
আমাকে কেউ বাঁচাতে আসেনি|
আছি তোমার প্রতীক্ষায়
খালেদ হোসাইন
মনে আছে? তুমি এলে না বলে
ফুল ফুটলো না মহুয়া গাছে,
গতবার?
তোমাকে ডেকেছি কতবার!
এবারও তুমি আসোনি
ভালোবাসোনি
তবুও এসেছে কুঁড়ি
মনে হয় যেন সর্ব অঙ্গে
মনে হয় যেন মূলেও
কতকিছু ঘটে—
কিছু বুঝেশুনে
কিছু তো মনের ভুলেও!
কী আশ্চর্য, মহুয়া ফুটেছে
অন্য অন্য গাছেও
দূরে তো বটেই, কাছেও|
মহুয়া-কুঁড়ির গন্ধে মাতাল
শাল-সেগুনের ভূমি
কথা দিয়েছিলে,
তবু আসবে না?
তবু আসবে না তুমি?
ফুল ফোটার শব্দ
মাহফুজ আল-হোসেন
কবিতার ফুল ফোটার শব্দ শুনেছো কী কখনো !
আমি শুনেছি—
সংরক্ত হৃদয় গভীরে|
শব্দ-বীজেরা সাংসারিক কথকতার আড়মোড়া ভেঙে
আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করে—
মুক্তির মিছিলে শামিল হয় আগুনপাটের
শাড়ি পরে |
মুগ্ধতার মৃদুমন্দ বাতাসও যেন
সম্মোহিতের মতো
প্রকৃতিমুগ্ধ চিত্রকল্পের পাল্কি বয়ে নিয়ে যায়
নিটোল ছন্দের গীতসুধায়;
আর অস্থির অনুপ্রাসের মোহনীয় নূপুর- নিক্বণে
নৈঃশব্দ্যের লোকলজ্জা ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে মেশক অম্বরের সৌগন্ধ দশ দিগন্তে|
নির্ঘুম প্রতীক্ষার ঘর্মাক্ত প্রহর যেন শেষ হতে চায় না—
অথচ অপেক্ষার অপ্রস্তুত এক শুভক্ষণে গগণবিদারী সুতীব্র চিৎকারে উৎপ্রেক্ষার উরুসন্ধিতে প্রস্ফুটিত হয় কবিতার ভাটফুল|
ধবল পালের উপহাস
দিলারা মেসবাহ
ভেঙে ফেলি মাস্তুল, ধবল পালের উপহাস|
ছাইভস্ম লিখেছি যা বেহুদা, শিরপীড়াসমূহ
এই চৈত্রে সাজানো পিলসুজে রক্তজবা উদ্বাহু
প্রতাপে নাচে দেখ| নিশি ঘন অগ্নুৎসব দেখ|
আমারি হীরামন কণ্ঠে তুলেছে শুনি বজ্রের বাহানা!
চতুর সভার বাতি নিভে যাক, সাজানো বন্দিশ সহসা
তামাদি ধারাপাত ঘরগেরস্তি, হামানদিস্তা বাতিল,
যখন ছিলাম আকণ্ঠ বিভ্রমে, বেমক্কা আশালতা বুনে
হে আমার ত্রস্ত হরিণী, বিভোল মন| দেখ নাই চর্মচক্ষে
টেরিকাটা থাবা,উলুঝুলু বাবরি বাহার? সরে পড়ি
লুকিয়ে রাখি ভাঙাচোরা বিহবল প্রাণ, ভ্রুকুটি সমূহ,
বনবকুলের হাতছানি, প্রেমময় জলের বিজন উৎসব|
আমার আমিকে পাই নরম আলোয় আকাশ বিহার||
নিরন্ন জোনাকি
শফিক ইমতিয়াজ
পুলিপিঠা বানানোর সামান্য গুড়ের আয়োজন
চারপাশে ভনভন বেহায়া মাছি
হাতপাখা নিয়ে বসে থাকা ক্লান্তিহীন শাশ্বতী মা
তার আঁচল-ছায়ায় নিবুজ্বলা নিরন্ন জোনাকি|
মাতৃমুখি জীবনের এক সুবিস্তৃত পাঠ
কারা যেন দল বেঁধে তীক্ষ্ম নখে ছিঁড়েফেড়ে যায়!
পোলট্রি-কলরব
ন্যাড়াবৃক্ষ; পতিত পাতার স্তূপে মরভাঁপ
খরবায়ু; মনীষা গভীর মর্মাহত
একারাতে ভিজে ওঠা বুকের একান্ত গিরিমাটি|
প্রকৃতি টালমাটাল, পথে যৌনগিঁট কুকুরপ্রবাহ
সেসব ঘিরেই বোধহীন রিরংসার ভ্রষ্ট করতালি|
অন্য জীবনের স্তব্ধতার ভেতরে চাঁদ ওঠে
কামরুল ইসলাম
এতোদিনে কিছুই হয়নি, জেনে গেছে স্বয়ং ঈশ্বর; শান্ত
শিশুর মতন ক্ষুধা নিয়ে ঘুমোতে যাই, মায়ের
আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকি, স্বপে¦ দেখি— অসম্ভব বীভৎস এক
মেষপালকের চোখ দিয়ে আগুন বেরুচ্ছে, আর আমি
পিপড়ার সারিতে ঢুকে পড়ি চিত্তের ভয়াল বিপর্যয়ে—
চলতে চলতে পিঁপড়াদের ভাষাটাও শিখে ফেলি
অতঃপর গোধূলি পার হয়ে এলে ওরা বলে, এবার হবে, দেখো|
এই তল্লাটে পিপড়ারা খাদ্যের খোঁজে আসে
গোধূলি পার হলেই পাবে তারে—
এপারে শিশির নয় রক্ত ঝরে ভোরে, পিঁপড়ারা সেই রক্ত পান করে
সেই রক্ত পান করে আমি গভীর জঙ্গলে ঢুকি,
কড়া নাড়ি নিস্তব্ধ প্রাচীন এক দালানের—
পিপড়ার দল শস্যদানা নিয়ে ফিরে গেছে পাহাড়ের দিকে
আমি নিস্তব্ধ দালানের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি,
ভুলে গেছি মানুষের ভাষা, পিঁপড়াদের ভাষায় ডাকাডাকি করি
বাতাসে শূন্য এঁকে ধ্বনিগণ মহাশূন্যের ভাঁজ খুলে ঘুমুতে যায়
আমি দাঁড়িয়ে থাকি নির্ভার,
বর্ণালী স্বপ্নের স্রোতে ভেসে যায় আমার না-ফেরার গল্প
দূরে জঙ্গলের ওপারে ছাতিম ফুলের গন্ধ হয়ে
বাতাসে উড়ে বেড়ায় আমার হারানো ভাষা, আর পিঁপড়ে-মানুষ আমি
ভিজতে থাকি ঝুম বৃষ্টিতে, এই নিপাট অবেলায়—
অন্য জীবনের স্তব্ধতার ভেতরে চাঁদ ওঠে পাহাড় ডিঙিয়ে
ঢাকা আছে বয়ামে
প্রণব মজুমদার
যা বলি তা কী করি উদযাপন;
যা করি তা কী সত্যি মনের পণ?
বিচার মানি তবে ওটা যে আমার তালগাছ
ঘরে বাইরে দেখ ভয়ঙ্কর শোল মাছ!
শোরগোল, অশান্ত সময় আর সর্বনাশ
দুঃচিন্তায় তোমার আমার হাসফাঁস!
একদা কবি বলেছেন উদ্ভট উটে...
বিষয়টি নয় মোটেও বিদখুটে!
অটুট অনিয়ম, বিনিময় হয় খামে
আদর্শ তুলে রাখ কাচের বয়ামে!
রৌদ্রের পালক
মোহাম্মদ হোসাইন
আমাদের এখানে কয়েকজন উকিল আছেন| কিন্তু, একজনও উকিল মুনশি নেই, তাদের ভিতর কারো কোনো অলক্ত চুম্বন নেই মায়াবী বেহাগ নেই!
পৃথিবীতে বহু বহু জালাল উদ্দিন বাস করেন কিন্তু, একজনও রুমি বাস করেন না| একজনও ফানা ফিল্লায় অলৌকিক প্রেমিক দেখি না!
আমার ভেতরে একজন নিস্ব নিশাত
যার কান্না আমি টের পাই
আর জিকিরে জিকিরে থাকি যেন অলৌকিক ঝরনা নির্জন পাহাড়ের শূন্যতা...
ভোরের যে রাগ ও রক্তিমাভা
ধ্যানরত মাঠের বর্ণমালা আর নিবিড় রেখা ও রঙের অমল উচ্চারণ কিংবা
পঙক্তির বিনীত প্রকাশ যা
চিরদিন আমাকে ফকিরি শিখিয়েছে
আমি তা পাঁজরে লুকিয়ে রাখি যেন রক্তেলেখা সুগন্ধি রুমাল
আমি ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা হাতে তুলে নিই আর গায়ে মাখি জাফরি কাটা জ্যোৎস্নার গরিমা|
দেখি শীত শেষে রুদ্র নয় রৌদ্রের পালক
ফাল্গুনের বাজি ফোটাচ্ছে...
মস্তানির ফিরিস্তি
রাহেল রাজিব
শহর জুড়ে নতুন মস্তানি চলে, মস্তানদের চারপাশেই বসবাস— এ শহরে পুরনো কিছু মস্তান ঘোরাফেরা করে বীরদর্পে| তাদের হাতে পিস্তল কিংবা লাঠি নেই, ঝোলাভর্তি বই এবং জীবনের সময়ভর্তি জ্ঞানচর্চায় তাঁরা হেঁটে বেড়ায় শহরের প্রান্তজুড়ে| তাঁদের চিনতে হলে যেতে হবে ফরাসি রেস্তোরাঁয় কিংবা যশুরে চুঁইঝালে; কখনো কখনো তাঁদের খুঁজে পাবে প্যাস্ট্রিশপের কোনায়- কফিতে চুমুক দিয়ে লাস্কি-নেহরুরা সরব থাকে, অমলেশ ত্রিপাঠী, অম্লান দত্ত, রোমিলা থাপার, ইরফান হাবিব ও তপন রায়চৌধুরীরা এদের আলাপে রাজধানীকে সরগরম রাখে— এসো এইসব মস্তানদের সাথে হেঁটে যাই ইতিহাসের পথে, মহেঞ্জোদারো থেকে ভ্যাটিকানের পথে কিংবা কথাপ্রেমে জেগে থাকি কায়রোয় গিজার সামনে সুন্দরী সমাজবিজ্ঞানীর সাথে...
ছাতা
রহমান মুজিব
ভাসছে জ্যৈষ্ঠের মেঘপিওন
রিমঝিম পুঁথিপাঠে আজ কাকভেজা গ্রাম
আমরাও শৈশবের নাম বৃষ্টির রেখাচিত্র
ভিজে ভিজে কখন যে এসে পরলাম কাক-সন্ধ্যায়
অথচ সন্ধ্যা এক প্রতীক্ষাপত্র, পড়তে পড়তে
অশ্রুধারায় ভিজে গেছে মায়েরও সারাটা জীবন
মা এবং আমি-উভয়ই বৃষ্টির সতীর্থ চেরাপুঞ্জি
যদিও আমাদের কারোরই ছাতা নাই
মা বিধবা, ছাতা নামক তার স্বামী নাই
পিতৃহীন আমি, উত্তরাধিকার সূত্রে তাই আমারও
কোন ছাতা নাই
ডিলেরিয়াম
পারভেজ আহসান
দাঁত কটমটে আকাশ—
ঝরছে বিদ্যুৎ
শিশুরা খেলছে মাঠে
হঠাৎ চোখে ঘুম
শরীরে লিচুর বাকল|
মানুষের মাথায় মহিষের শিং
‘হাট্টিমাটিম টিম’
তাদের রক্তাক্ত পা
ডিম থেকে বেরুচ্ছে অজগর|
নার্স ইনজেক্ট করছে হেলোপেড়িডল|
বদলা নয়, বদলটা কাম্য
তোফায়েল তফাজ্জল
নোংরা-কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি উভয়ের লাগে গায়,
জায়গা-বেজায়গায়|
গন্ধও ছড়ায় চতুর্দিকে|
স্বার্থ রক্ষা হয় হাতেগোনা ক’জনের|
স্থিরতার দৈন্য দেখা দেয় ঘরে ঘরে|
মাথাচাড়া দেয় সোডা-সাবানের ব্যয়|
এইসব হুল বিঁধানো বা দংশনের দুঃসংবাদ
উঠে এসে কানকে যন্ত্রণা দেয় যখন-তখন
বা রক্তের হিসাব-নিকাশ রাখতে গিয়ে
সর্ষেফুল দেখে বা টেবিলে মূর্ছা খায়
সংশ্লিষ্ট সকলে;
আরামের স্থলে খরা বা মঙ্গায় ভুগে থাকে জাতি|
তাই, কোনো বদলা নয়, বদলটা কাম্য হওয়া চাই|
তাহলেই মাতৃভূমি দেখে একদিন
সটান দাঁড়িয়ে যাবে অনেকের চোখ|
সীমা অতিক্রম করে বাইরে থেকেও তুমুল বেগে উঠে আসবে
বুক চওড়া হয়ে যাওয়ার সহস্র গল্প-কাহিনী বা মূল্যায়ন|
সুঁইভাঙা স্মৃতি
সুমন ইসলাম
প্রিয়তমাসু
তোমার রেখে যাওয়া নকশিকাঁথার সুবাসিত ঘাসফুলগুলো আমার শরীরে জড়িয়ে রাখে—
তবু যেনো রঙবেরঙ সুতার সুঁই ভেঙে যায় নকশার উপমা থেকে
যখন নিজের মনন উদ্বাস্তু হয়ে উঠে|
মুছে যাচ্ছে মুখাবয়ব- জলে আঁকা সর্পিল চলন|
তার চোখের অতলে ভেসে ওঠা রূপালি মাছগুলোর ছায়াও মুছে যায়|
ধানসিঁড়ি ভোরে,
মানসপটে আঁকা নারকেল গাছটি দুলে ওঠে—
এক ধ্যানমগ্ন আত্মার প্রার্থনায়|
প্রিয়তমাসু,
তোমার রেখে যাওয়া নকশিকাঁথার উঞ্চতায়
আর লক্ষীপেঁচার নেই প্রাণসঞ্চার—
ভয়ঙ্কর সিঁধেল চোর মুখগুজে আছে অন্ধকোণে!
তারা আঁচলের সীমান্ত জুড়ে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিঃশব্দ বিভ্রম লেপে দেয়-
যেমন পিঁপড়ার গণহিংসা,
ছিড়ে ফেলে কাপড়ের বুননচিত্র|
পোষা পাখিগুলো উড়ে গেছে—
রেখে গেছে তার দুই-একটি শৈল্পিক কল্পনার পালক,
লতাপাতা ছড়িয়ে যা ছিলো তাও নিশ্চুপ—
আর শিকড়ের সন্ধানে এগুতে পারেনি|
কী আশ্চর্য! মলিন হলে নিঃসরণ ছড়ায়—
তা তোমার রেখে যাওয়া নকশিকাঁথার ভাঁজ খুললে বুঝতে পারি|
ভাঙনের সুর
মোর্শেদা মৌ
ভাঙনের সুরে বুক কাঁপে থরথর
দুরন্ত হাওয়া আর ভারী কালো মেঘ,
লড়াই চলে আত্মাবন্দী পাখির মতো
ছটফট করে হাওয়ার ঘূর্ণিপাকে|
ভীতিবিহ্বল অনুচ্চারিত শব্দপুঞ্জ-
সীমাহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত|
ক্রমশ জটিলতায় অদৃশ্য হয়ে যাই
আতঙ্ক আর শিহরনে অস্তিত্ব সংকট,
তীব্র দহনেও অন্তর্ময় তীক্ষ্ণ সংরাগ
তবু বাকরুদ্ধ কণ্ঠ, ছাইচাপা আর্তনাদ|
শুক্রবার
এহসানুল ইয়াসিন
দীর্ঘ খরায় তীব্র চাওয়ার মতো
আমি কেবল অপেক্ষা করি
দূরগ্রাম থেকে ভেসে আসে
ভরাট কণ্ঠে অমোঘ ঘোষণা!
কার ঘর পড়ে গেল ঝড়ে
কে আহত ডানা ঝাপটায়
কে গেল চিরদিনের পথে?
আমি তোমার জন্য দাঁড়িয়ে
বুকের ভেতর নদীর কলতান
এত শূন্যতায় অপেক্ষা যে
সবুজ ছড়ায় বুঝিনি আগে|
পৃথিবীর পথে পথে
পায়ের ধুলো—ছাপচিত্র
তালপাতায় লেখা ইতিহাস
আমাদের উত্থান পতন|
রাত জাগে নিশাচর পাখি
কত বেদনা তোমার হয়ে
নিঃশব্দে ডেকে আনে ভোর|
কে রাখে কার খবর?
সময় বড় নিষ্ঠুর—আগুনের দাহ
নিজে পুড়ে বাতাসে ছড়ায় প্রবাহ
যদি কোনদিন উত্তাপ আসে
বুঝবে কি আজ ছিল হাটবার?
সন্ধ্যা নামে গভীর অন্ধকার
কোলাহল শেষে তোমার হয়ে
পরে থাকে শুক্রবার|
আহা আমার শুক্রবার!
খরস্রোতা চোখ
সাইয়্যিদ মঞ্জু
বিদায় দিও না, তুমিও নিও না...
জানি—
অনুভবের তীব্রতা একান্ত আমার নয়!
বুকজুড়ে হাহাকার, খরস্রোতা আমাজন চোখে
বেশিদিন কাঁদবো না, তুমিও না...
সচরাচর নেপথ্যে এই অনুভব, কেন
গভীর যে প্রেম আগায় না অনাগত জীবনের দিকে|
তোমার মতোন এতটা ভালোবাসবে বল কেউ!
বিদায় দিও না, তুমিও নিও না
ঋতু ভেঙে—
জলের চরিত্র হবো, ব্যথাশূন্য কোনো নদী...
নৈর্ব্যক্তিক
তাহিতি ফারজানা
তুমি যখন একটা মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকো
অথচ বুঝতে পারো না সে সুখী না দুঃখী
উদাসীনতা তাকে ঢেকে রাখে আপাদমস্তক|
তুমি যখন তাকে চাও আযানের আহ্বান এর ভেতর
অথচ জানো না সে কী চায়, আদৌ চায় কিনা|
তোমার ভালোবাসা তার ঔদাসীন্যকে গাঢ় করে তোলে
তুমি শিখে নাও ক্ষত ও ক্ষতি, ভালোবাসাহীনতা!
আজন্ম কলি সে, আলো-হাওয়ায় আদরে ফোটার আগেই
অধৈর্য তুমি হারাও তাকে আত্মা ও শরীরে মিশিয়ে|
মুছে যায় সে সমর্পণের আগে, প্রার্থনায় ধরো আবার|
তুমি যখন তাকে চাও, নিজেকে হারাতে থাকো—
যখন নিজেকে চাও, তখন কিছুই চাও না আসলে||
কলাতীর্থ
শাহান সাহাবুদ্দিন
জ্যামিতিক সজ্জা ও পুষ্পিত ˆশলী
বোঝা ভাস্করের কাজ—
অপ্সরা, সুরসুন্দরীর সংজ্ঞাও
জানা হয়নি আমার|
খাজুরাহো মন্দিরের দেয়ালে উৎকীর্ণ
অনুপম ভঙ্গিমার শ্রীমন্ত রমণীদের বিভব,
নানা ভঙ্গির বাঁকুভাঁজ,
সুন্দরের লীলায়িত মানবী-কান্তির
সূক্ষ্ম কারুকাজ—
যুগপৎ তুমি একাই ধারণ করে আছো
জেনে গৌরব ও স্পর্ধায়
তোমার ভাস্করকে জানাই
স্যালুট, নমস্কার|
সারল্য, আবেগ, যৌনতা
ও সুন্দরের আদি নিবাস তুমি|
শ্লীলুঅশ্লীল নিয়ে
বাদানুবাদ চলুক পণ্ডিত ও যাজকে|
আমি তার্কিক নই, যাজকও নই—
আমি সুন্দরের পূজারি|
তুমিই আমার কলাতীর্থ,
দুরূহ শিল্পুভাস্কর্যভাণ্ডার|
ব্ল্যাক ম্যাটার
শেখর দেব
পড়ার টেবিলে বসে ঘুম চলে আসে
বিছানায় গিয়ে দেখি কোথায় হারালো নিদ্রা দেবী
অথবা ঘুমের মাঝে স্লিপ খেয়ে পড়ে যেতে যেতে
যে কবিতাটা মাথায় এসেছিল
ঘুম থেকে উঠে তার বাক্য শব্দ আর অবশিষ্ট নাই|
জেগে জেগে যে স্বপ্নগুলো দেখেছি
তারা প্রলম্বিত কোন দিগন্ত রেখায় উঁকি দিয়ে আছে|
আমাদের দিন রাতকে প্রার্থনা করতে চায় না
অথবা রাতেরা ভোর, চায় শুধু এক রৈখিক যাপন!
অথচ আমারা চাই শীতকাল চলে যাক
গ্রীষ্মকালও, বসন্ত শুধু থেকে যাক|
ঋতুরা সমুদ্রের সন্তান, আমরা জানি না
প্রশান্তের জল কখনো কি আটলান্টিকে পড়েছে?
অথবা চাঁদ ও সূর্য কি ব্ল্যাক ম্যাটার চুষে নিয়ে
নিজের মৃত্যুর পথ তৈরি করছে নিয়ত!
মানুষ যেভাবে ধীরে এগিয়ে যাবার নামে
একদিন সব ছেড়ে-ছুঁড়ে ঢুকে পড়ে গোরে!
বসন্তের নিয়তি
আদ্যনাথ ঘোষ
আঁধারে চাদর ঢেকে ফেটে পড়ে বসন্ত মাঠ|
যে মাঠ দিনের শরীরখুঁড়ে আগুনের নিঃশ্বাস খুঁজে
চোখের কোণে ঝুলে থাকে নিয়তির খোলা খাম হয়ে|
অচেনা গাছেও কি তারা বসন্ত চাঁদের মতন!
নাকি গোপন হাওয়ার একগুচ্ছ আকাশ নিয়ে
বসে থাকে চাবি নিয়ে অপেক্ষার নিশ্বাস জুড়ে|
যে চাবি দিনরাত আলাপ ছাড়াই
মানুষের মহল্লা খোঁজে, কপালের তিলকের মতোন|
আরে ও বসন্ত বাউল! কতটুকু দূরত্ব হলে
আঁধারেও আলো ফোটে নিয়তির বিপরীত পাড়ায়|
ধোঁকার মাটিখুঁড়ে উঠে আসে কোনো এক গোপন নকশায়|
নতুন গন্ধ নিয়ে চোখের কোণেও ঢলে পড়ে বসন্ত কাজল|
শেষ অন্ত্যমিল
মেহনাজ মুস্তারিন
এইতো তোমার চিন্তার পাশে ষোড়শী বালিকার মতো সারাদিন
স্থির চোখে দেখছো সারস পাখির ঠোঁটে উষ্ণ আর্তি
তীব্র আবেগ নেমে গেলে ঝুরো বৃষ্টি নিরবতা ভেঙে এন্ট্রিনার সংকেতের অপেক্ষায় বসে থাকে
ছোট্ট নদী পশ্চিম দিকে যেতেই বেলা পড়ে
বুকের বাঁকে আচ্ছন্ন হয় ঐকান্তিক প্রেম
কোমল হাসির বর্ণময় সুখচ্ছবি
ফুটন্ত জলে তখন একরাশ বিস্ময়
সূর্যাস্তের শেষ অন্ত্যমিল ধরে রাখার প্রবল ইচ্ছে যদি ছুঁয়ে যায় পৃষ্ঠার শেষ অংশ
তবে নির্জনতা ভেঙে একবার সেতু হীন নদী হেঁটে যাব
মানবিক দহন
মাসুমুর রহমান মাসুদ
প্রজ্বলিত অনলের দহনে পোড়াও এমন ভাবে
যেন শিরা-উপশিরায় রুধিরধারা প্রবাহিত না হয়
একবিন্দু শোণিত জ্যান্ত থাকলে তার অনন্ত গহিনে
উঁকিঝুঁকি মারবে ‘‘ভালোবাসি’’ অমোঘ শব্দ
অন্যথায় অপঘাতে মৃত্যুর স্বাদ দিও, যাতে
দেহকায়ার একটা কোষও বেঁচে না থাকে
মাইটোকন্ড্রিয়ায় গ্লুকোজ অক্সিজেন সরবরাহ
বন্ধ করে দিও, না যেন হয় শক্তি উৎপাদন!
একক কোষ জীবিত থাকলেও সে বলে উঠবে
আমি মানবের একান্ত ভালোবাসা চাই
মানবিকতা আমার সাধারণ ধর্মগুণ
তোমাদের অনর্গল বারুদ আর বোমা ঝড়ে
এত যে নিষ্পাপ শিশু স্বর্গে করুণ আর্তনাদ করে
আমি তাদের ভালোবাসি সীমাহীন মায়ার চাদরে
প্রতিটি মৃত্যু একেকটি নক্ষত্রের পতনসম
ছায়াপথ আলোশূন্য করে তোমরা যে পাপে মত্ত
তার নির্মম প্রতিশোধ নিতে না পারলে
ধরায় অহেতুক হবে আমার আগমন|
দিনাজপুর
উম্মে হাবীবা
ব্যাগ ভর্তি চিঠি নিয়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে প্রতিটি মানুষের মুখই দিনাজপুর|
শীতকাল যেখানে আগেভাগে চলে আসে| পিঁয়াজ কলি ছিঁড়ে বাসিভাত মাখানো সকালে কারো কারো জুতো হারিয়ে যায়| খালি পা নিয়ে লোকেদের সামনে গেলে এমন করে কথা বলে| যেনো প্রত্যেক শব্দের শেষে একটা ছিঃ জুড়ে দেয়া| বুঝে নিতে হয় সংখ্যালঘু মানে যার পায়ে আজীবন কোনো জুতো মানায় না|

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
কোনো এক আবহ পাখির প্রতি
আবদুর রাজ্জাক
সহসা মেঘ থেকে লাফিয়ে পড়ে স্থাপত্য বৃষ্টি, তুমিও
শাদা বর্ষাতি পরা,
শীতের লংকোট পরে অতীতেও বৃষ্টি নেমেছিলো,
বর্ষাতি ছাড়া পৃথিবীতে কখনো কোনো বৃষ্টি নামেনি|
গোপনে তোমার পিঠে হাত রেখেছি, তোমার গাল বেয়ে
ফোঁটা ফোঁটা সমুদ্র ঝরেছে আর আগুনের লাল শিখা
হৃৎপিণ্ডে হাহাকার করেছে|
ঘামে ভিজে যাওয়া শাড়ির ভেতরে এমন এক অমৃতকে
দেখতে চাইনি, কী অদ্ভুত! দেখতেই হলো!
তুমি ঈষৎ কুঁজো হয়ে হাঁটো, ছিপিছপ শব্দে পা দুটো
মাটি ছুঁয়ে যায়, শাদা দুধের মতো সিন্ড্রোম থেকে বেরিয়ে
আসা চাঁদে পাওয়া মানুষ আমি—
তোমার পৃথিবীতে এসে হাওয়া দিই পালে|
মধু রং বাতাস, আকাশ কাঁপছে, না আসাই ভালো ছিলো,
শরীরে ভয়ানক জ্বর, কুঞ্চিত ভ্রু দুটির কী গঠনশৈলী,
বদমাশ! তোমার সলিল সমাধি হোক|
এ অবস্থায় জ্বর না উঠে পারে? ঈশ্বর আমাকে রক্ষা করুন|
বুকের আরেকটি পাতলা আবরণ আমার দৃষ্টিউদযাপনে
প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে|
আমি তোমার সৌন্দর্যের সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়েছি,
আমাকে কেউ বাঁচাতে আসেনি|
আছি তোমার প্রতীক্ষায়
খালেদ হোসাইন
মনে আছে? তুমি এলে না বলে
ফুল ফুটলো না মহুয়া গাছে,
গতবার?
তোমাকে ডেকেছি কতবার!
এবারও তুমি আসোনি
ভালোবাসোনি
তবুও এসেছে কুঁড়ি
মনে হয় যেন সর্ব অঙ্গে
মনে হয় যেন মূলেও
কতকিছু ঘটে—
কিছু বুঝেশুনে
কিছু তো মনের ভুলেও!
কী আশ্চর্য, মহুয়া ফুটেছে
অন্য অন্য গাছেও
দূরে তো বটেই, কাছেও|
মহুয়া-কুঁড়ির গন্ধে মাতাল
শাল-সেগুনের ভূমি
কথা দিয়েছিলে,
তবু আসবে না?
তবু আসবে না তুমি?
ফুল ফোটার শব্দ
মাহফুজ আল-হোসেন
কবিতার ফুল ফোটার শব্দ শুনেছো কী কখনো !
আমি শুনেছি—
সংরক্ত হৃদয় গভীরে|
শব্দ-বীজেরা সাংসারিক কথকতার আড়মোড়া ভেঙে
আকাশ বাতাস বিদীর্ণ করে—
মুক্তির মিছিলে শামিল হয় আগুনপাটের
শাড়ি পরে |
মুগ্ধতার মৃদুমন্দ বাতাসও যেন
সম্মোহিতের মতো
প্রকৃতিমুগ্ধ চিত্রকল্পের পাল্কি বয়ে নিয়ে যায়
নিটোল ছন্দের গীতসুধায়;
আর অস্থির অনুপ্রাসের মোহনীয় নূপুর- নিক্বণে
নৈঃশব্দ্যের লোকলজ্জা ভেঙে ছড়িয়ে পড়ে মেশক অম্বরের সৌগন্ধ দশ দিগন্তে|
নির্ঘুম প্রতীক্ষার ঘর্মাক্ত প্রহর যেন শেষ হতে চায় না—
অথচ অপেক্ষার অপ্রস্তুত এক শুভক্ষণে গগণবিদারী সুতীব্র চিৎকারে উৎপ্রেক্ষার উরুসন্ধিতে প্রস্ফুটিত হয় কবিতার ভাটফুল|
ধবল পালের উপহাস
দিলারা মেসবাহ
ভেঙে ফেলি মাস্তুল, ধবল পালের উপহাস|
ছাইভস্ম লিখেছি যা বেহুদা, শিরপীড়াসমূহ
এই চৈত্রে সাজানো পিলসুজে রক্তজবা উদ্বাহু
প্রতাপে নাচে দেখ| নিশি ঘন অগ্নুৎসব দেখ|
আমারি হীরামন কণ্ঠে তুলেছে শুনি বজ্রের বাহানা!
চতুর সভার বাতি নিভে যাক, সাজানো বন্দিশ সহসা
তামাদি ধারাপাত ঘরগেরস্তি, হামানদিস্তা বাতিল,
যখন ছিলাম আকণ্ঠ বিভ্রমে, বেমক্কা আশালতা বুনে
হে আমার ত্রস্ত হরিণী, বিভোল মন| দেখ নাই চর্মচক্ষে
টেরিকাটা থাবা,উলুঝুলু বাবরি বাহার? সরে পড়ি
লুকিয়ে রাখি ভাঙাচোরা বিহবল প্রাণ, ভ্রুকুটি সমূহ,
বনবকুলের হাতছানি, প্রেমময় জলের বিজন উৎসব|
আমার আমিকে পাই নরম আলোয় আকাশ বিহার||
নিরন্ন জোনাকি
শফিক ইমতিয়াজ
পুলিপিঠা বানানোর সামান্য গুড়ের আয়োজন
চারপাশে ভনভন বেহায়া মাছি
হাতপাখা নিয়ে বসে থাকা ক্লান্তিহীন শাশ্বতী মা
তার আঁচল-ছায়ায় নিবুজ্বলা নিরন্ন জোনাকি|
মাতৃমুখি জীবনের এক সুবিস্তৃত পাঠ
কারা যেন দল বেঁধে তীক্ষ্ম নখে ছিঁড়েফেড়ে যায়!
পোলট্রি-কলরব
ন্যাড়াবৃক্ষ; পতিত পাতার স্তূপে মরভাঁপ
খরবায়ু; মনীষা গভীর মর্মাহত
একারাতে ভিজে ওঠা বুকের একান্ত গিরিমাটি|
প্রকৃতি টালমাটাল, পথে যৌনগিঁট কুকুরপ্রবাহ
সেসব ঘিরেই বোধহীন রিরংসার ভ্রষ্ট করতালি|
অন্য জীবনের স্তব্ধতার ভেতরে চাঁদ ওঠে
কামরুল ইসলাম
এতোদিনে কিছুই হয়নি, জেনে গেছে স্বয়ং ঈশ্বর; শান্ত
শিশুর মতন ক্ষুধা নিয়ে ঘুমোতে যাই, মায়ের
আঁচল দিয়ে মুখ ঢাকি, স্বপে¦ দেখি— অসম্ভব বীভৎস এক
মেষপালকের চোখ দিয়ে আগুন বেরুচ্ছে, আর আমি
পিপড়ার সারিতে ঢুকে পড়ি চিত্তের ভয়াল বিপর্যয়ে—
চলতে চলতে পিঁপড়াদের ভাষাটাও শিখে ফেলি
অতঃপর গোধূলি পার হয়ে এলে ওরা বলে, এবার হবে, দেখো|
এই তল্লাটে পিপড়ারা খাদ্যের খোঁজে আসে
গোধূলি পার হলেই পাবে তারে—
এপারে শিশির নয় রক্ত ঝরে ভোরে, পিঁপড়ারা সেই রক্ত পান করে
সেই রক্ত পান করে আমি গভীর জঙ্গলে ঢুকি,
কড়া নাড়ি নিস্তব্ধ প্রাচীন এক দালানের—
পিপড়ার দল শস্যদানা নিয়ে ফিরে গেছে পাহাড়ের দিকে
আমি নিস্তব্ধ দালানের দরজায় দাঁড়িয়ে আছি,
ভুলে গেছি মানুষের ভাষা, পিঁপড়াদের ভাষায় ডাকাডাকি করি
বাতাসে শূন্য এঁকে ধ্বনিগণ মহাশূন্যের ভাঁজ খুলে ঘুমুতে যায়
আমি দাঁড়িয়ে থাকি নির্ভার,
বর্ণালী স্বপ্নের স্রোতে ভেসে যায় আমার না-ফেরার গল্প
দূরে জঙ্গলের ওপারে ছাতিম ফুলের গন্ধ হয়ে
বাতাসে উড়ে বেড়ায় আমার হারানো ভাষা, আর পিঁপড়ে-মানুষ আমি
ভিজতে থাকি ঝুম বৃষ্টিতে, এই নিপাট অবেলায়—
অন্য জীবনের স্তব্ধতার ভেতরে চাঁদ ওঠে পাহাড় ডিঙিয়ে
ঢাকা আছে বয়ামে
প্রণব মজুমদার
যা বলি তা কী করি উদযাপন;
যা করি তা কী সত্যি মনের পণ?
বিচার মানি তবে ওটা যে আমার তালগাছ
ঘরে বাইরে দেখ ভয়ঙ্কর শোল মাছ!
শোরগোল, অশান্ত সময় আর সর্বনাশ
দুঃচিন্তায় তোমার আমার হাসফাঁস!
একদা কবি বলেছেন উদ্ভট উটে...
বিষয়টি নয় মোটেও বিদখুটে!
অটুট অনিয়ম, বিনিময় হয় খামে
আদর্শ তুলে রাখ কাচের বয়ামে!
রৌদ্রের পালক
মোহাম্মদ হোসাইন
আমাদের এখানে কয়েকজন উকিল আছেন| কিন্তু, একজনও উকিল মুনশি নেই, তাদের ভিতর কারো কোনো অলক্ত চুম্বন নেই মায়াবী বেহাগ নেই!
পৃথিবীতে বহু বহু জালাল উদ্দিন বাস করেন কিন্তু, একজনও রুমি বাস করেন না| একজনও ফানা ফিল্লায় অলৌকিক প্রেমিক দেখি না!
আমার ভেতরে একজন নিস্ব নিশাত
যার কান্না আমি টের পাই
আর জিকিরে জিকিরে থাকি যেন অলৌকিক ঝরনা নির্জন পাহাড়ের শূন্যতা...
ভোরের যে রাগ ও রক্তিমাভা
ধ্যানরত মাঠের বর্ণমালা আর নিবিড় রেখা ও রঙের অমল উচ্চারণ কিংবা
পঙক্তির বিনীত প্রকাশ যা
চিরদিন আমাকে ফকিরি শিখিয়েছে
আমি তা পাঁজরে লুকিয়ে রাখি যেন রক্তেলেখা সুগন্ধি রুমাল
আমি ঝিরিঝিরি বৃষ্টির ফোঁটা হাতে তুলে নিই আর গায়ে মাখি জাফরি কাটা জ্যোৎস্নার গরিমা|
দেখি শীত শেষে রুদ্র নয় রৌদ্রের পালক
ফাল্গুনের বাজি ফোটাচ্ছে...
মস্তানির ফিরিস্তি
রাহেল রাজিব
শহর জুড়ে নতুন মস্তানি চলে, মস্তানদের চারপাশেই বসবাস— এ শহরে পুরনো কিছু মস্তান ঘোরাফেরা করে বীরদর্পে| তাদের হাতে পিস্তল কিংবা লাঠি নেই, ঝোলাভর্তি বই এবং জীবনের সময়ভর্তি জ্ঞানচর্চায় তাঁরা হেঁটে বেড়ায় শহরের প্রান্তজুড়ে| তাঁদের চিনতে হলে যেতে হবে ফরাসি রেস্তোরাঁয় কিংবা যশুরে চুঁইঝালে; কখনো কখনো তাঁদের খুঁজে পাবে প্যাস্ট্রিশপের কোনায়- কফিতে চুমুক দিয়ে লাস্কি-নেহরুরা সরব থাকে, অমলেশ ত্রিপাঠী, অম্লান দত্ত, রোমিলা থাপার, ইরফান হাবিব ও তপন রায়চৌধুরীরা এদের আলাপে রাজধানীকে সরগরম রাখে— এসো এইসব মস্তানদের সাথে হেঁটে যাই ইতিহাসের পথে, মহেঞ্জোদারো থেকে ভ্যাটিকানের পথে কিংবা কথাপ্রেমে জেগে থাকি কায়রোয় গিজার সামনে সুন্দরী সমাজবিজ্ঞানীর সাথে...
ছাতা
রহমান মুজিব
ভাসছে জ্যৈষ্ঠের মেঘপিওন
রিমঝিম পুঁথিপাঠে আজ কাকভেজা গ্রাম
আমরাও শৈশবের নাম বৃষ্টির রেখাচিত্র
ভিজে ভিজে কখন যে এসে পরলাম কাক-সন্ধ্যায়
অথচ সন্ধ্যা এক প্রতীক্ষাপত্র, পড়তে পড়তে
অশ্রুধারায় ভিজে গেছে মায়েরও সারাটা জীবন
মা এবং আমি-উভয়ই বৃষ্টির সতীর্থ চেরাপুঞ্জি
যদিও আমাদের কারোরই ছাতা নাই
মা বিধবা, ছাতা নামক তার স্বামী নাই
পিতৃহীন আমি, উত্তরাধিকার সূত্রে তাই আমারও
কোন ছাতা নাই
ডিলেরিয়াম
পারভেজ আহসান
দাঁত কটমটে আকাশ—
ঝরছে বিদ্যুৎ
শিশুরা খেলছে মাঠে
হঠাৎ চোখে ঘুম
শরীরে লিচুর বাকল|
মানুষের মাথায় মহিষের শিং
‘হাট্টিমাটিম টিম’
তাদের রক্তাক্ত পা
ডিম থেকে বেরুচ্ছে অজগর|
নার্স ইনজেক্ট করছে হেলোপেড়িডল|
বদলা নয়, বদলটা কাম্য
তোফায়েল তফাজ্জল
নোংরা-কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি উভয়ের লাগে গায়,
জায়গা-বেজায়গায়|
গন্ধও ছড়ায় চতুর্দিকে|
স্বার্থ রক্ষা হয় হাতেগোনা ক’জনের|
স্থিরতার দৈন্য দেখা দেয় ঘরে ঘরে|
মাথাচাড়া দেয় সোডা-সাবানের ব্যয়|
এইসব হুল বিঁধানো বা দংশনের দুঃসংবাদ
উঠে এসে কানকে যন্ত্রণা দেয় যখন-তখন
বা রক্তের হিসাব-নিকাশ রাখতে গিয়ে
সর্ষেফুল দেখে বা টেবিলে মূর্ছা খায়
সংশ্লিষ্ট সকলে;
আরামের স্থলে খরা বা মঙ্গায় ভুগে থাকে জাতি|
তাই, কোনো বদলা নয়, বদলটা কাম্য হওয়া চাই|
তাহলেই মাতৃভূমি দেখে একদিন
সটান দাঁড়িয়ে যাবে অনেকের চোখ|
সীমা অতিক্রম করে বাইরে থেকেও তুমুল বেগে উঠে আসবে
বুক চওড়া হয়ে যাওয়ার সহস্র গল্প-কাহিনী বা মূল্যায়ন|
সুঁইভাঙা স্মৃতি
সুমন ইসলাম
প্রিয়তমাসু
তোমার রেখে যাওয়া নকশিকাঁথার সুবাসিত ঘাসফুলগুলো আমার শরীরে জড়িয়ে রাখে—
তবু যেনো রঙবেরঙ সুতার সুঁই ভেঙে যায় নকশার উপমা থেকে
যখন নিজের মনন উদ্বাস্তু হয়ে উঠে|
মুছে যাচ্ছে মুখাবয়ব- জলে আঁকা সর্পিল চলন|
তার চোখের অতলে ভেসে ওঠা রূপালি মাছগুলোর ছায়াও মুছে যায়|
ধানসিঁড়ি ভোরে,
মানসপটে আঁকা নারকেল গাছটি দুলে ওঠে—
এক ধ্যানমগ্ন আত্মার প্রার্থনায়|
প্রিয়তমাসু,
তোমার রেখে যাওয়া নকশিকাঁথার উঞ্চতায়
আর লক্ষীপেঁচার নেই প্রাণসঞ্চার—
ভয়ঙ্কর সিঁধেল চোর মুখগুজে আছে অন্ধকোণে!
তারা আঁচলের সীমান্ত জুড়ে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিঃশব্দ বিভ্রম লেপে দেয়-
যেমন পিঁপড়ার গণহিংসা,
ছিড়ে ফেলে কাপড়ের বুননচিত্র|
পোষা পাখিগুলো উড়ে গেছে—
রেখে গেছে তার দুই-একটি শৈল্পিক কল্পনার পালক,
লতাপাতা ছড়িয়ে যা ছিলো তাও নিশ্চুপ—
আর শিকড়ের সন্ধানে এগুতে পারেনি|
কী আশ্চর্য! মলিন হলে নিঃসরণ ছড়ায়—
তা তোমার রেখে যাওয়া নকশিকাঁথার ভাঁজ খুললে বুঝতে পারি|
ভাঙনের সুর
মোর্শেদা মৌ
ভাঙনের সুরে বুক কাঁপে থরথর
দুরন্ত হাওয়া আর ভারী কালো মেঘ,
লড়াই চলে আত্মাবন্দী পাখির মতো
ছটফট করে হাওয়ার ঘূর্ণিপাকে|
ভীতিবিহ্বল অনুচ্চারিত শব্দপুঞ্জ-
সীমাহীন অন্ধকারে নিমজ্জিত|
ক্রমশ জটিলতায় অদৃশ্য হয়ে যাই
আতঙ্ক আর শিহরনে অস্তিত্ব সংকট,
তীব্র দহনেও অন্তর্ময় তীক্ষ্ণ সংরাগ
তবু বাকরুদ্ধ কণ্ঠ, ছাইচাপা আর্তনাদ|
শুক্রবার
এহসানুল ইয়াসিন
দীর্ঘ খরায় তীব্র চাওয়ার মতো
আমি কেবল অপেক্ষা করি
দূরগ্রাম থেকে ভেসে আসে
ভরাট কণ্ঠে অমোঘ ঘোষণা!
কার ঘর পড়ে গেল ঝড়ে
কে আহত ডানা ঝাপটায়
কে গেল চিরদিনের পথে?
আমি তোমার জন্য দাঁড়িয়ে
বুকের ভেতর নদীর কলতান
এত শূন্যতায় অপেক্ষা যে
সবুজ ছড়ায় বুঝিনি আগে|
পৃথিবীর পথে পথে
পায়ের ধুলো—ছাপচিত্র
তালপাতায় লেখা ইতিহাস
আমাদের উত্থান পতন|
রাত জাগে নিশাচর পাখি
কত বেদনা তোমার হয়ে
নিঃশব্দে ডেকে আনে ভোর|
কে রাখে কার খবর?
সময় বড় নিষ্ঠুর—আগুনের দাহ
নিজে পুড়ে বাতাসে ছড়ায় প্রবাহ
যদি কোনদিন উত্তাপ আসে
বুঝবে কি আজ ছিল হাটবার?
সন্ধ্যা নামে গভীর অন্ধকার
কোলাহল শেষে তোমার হয়ে
পরে থাকে শুক্রবার|
আহা আমার শুক্রবার!
খরস্রোতা চোখ
সাইয়্যিদ মঞ্জু
বিদায় দিও না, তুমিও নিও না...
জানি—
অনুভবের তীব্রতা একান্ত আমার নয়!
বুকজুড়ে হাহাকার, খরস্রোতা আমাজন চোখে
বেশিদিন কাঁদবো না, তুমিও না...
সচরাচর নেপথ্যে এই অনুভব, কেন
গভীর যে প্রেম আগায় না অনাগত জীবনের দিকে|
তোমার মতোন এতটা ভালোবাসবে বল কেউ!
বিদায় দিও না, তুমিও নিও না
ঋতু ভেঙে—
জলের চরিত্র হবো, ব্যথাশূন্য কোনো নদী...
নৈর্ব্যক্তিক
তাহিতি ফারজানা
তুমি যখন একটা মানুষের দিকে তাকিয়ে থাকো
অথচ বুঝতে পারো না সে সুখী না দুঃখী
উদাসীনতা তাকে ঢেকে রাখে আপাদমস্তক|
তুমি যখন তাকে চাও আযানের আহ্বান এর ভেতর
অথচ জানো না সে কী চায়, আদৌ চায় কিনা|
তোমার ভালোবাসা তার ঔদাসীন্যকে গাঢ় করে তোলে
তুমি শিখে নাও ক্ষত ও ক্ষতি, ভালোবাসাহীনতা!
আজন্ম কলি সে, আলো-হাওয়ায় আদরে ফোটার আগেই
অধৈর্য তুমি হারাও তাকে আত্মা ও শরীরে মিশিয়ে|
মুছে যায় সে সমর্পণের আগে, প্রার্থনায় ধরো আবার|
তুমি যখন তাকে চাও, নিজেকে হারাতে থাকো—
যখন নিজেকে চাও, তখন কিছুই চাও না আসলে||
কলাতীর্থ
শাহান সাহাবুদ্দিন
জ্যামিতিক সজ্জা ও পুষ্পিত ˆশলী
বোঝা ভাস্করের কাজ—
অপ্সরা, সুরসুন্দরীর সংজ্ঞাও
জানা হয়নি আমার|
খাজুরাহো মন্দিরের দেয়ালে উৎকীর্ণ
অনুপম ভঙ্গিমার শ্রীমন্ত রমণীদের বিভব,
নানা ভঙ্গির বাঁকুভাঁজ,
সুন্দরের লীলায়িত মানবী-কান্তির
সূক্ষ্ম কারুকাজ—
যুগপৎ তুমি একাই ধারণ করে আছো
জেনে গৌরব ও স্পর্ধায়
তোমার ভাস্করকে জানাই
স্যালুট, নমস্কার|
সারল্য, আবেগ, যৌনতা
ও সুন্দরের আদি নিবাস তুমি|
শ্লীলুঅশ্লীল নিয়ে
বাদানুবাদ চলুক পণ্ডিত ও যাজকে|
আমি তার্কিক নই, যাজকও নই—
আমি সুন্দরের পূজারি|
তুমিই আমার কলাতীর্থ,
দুরূহ শিল্পুভাস্কর্যভাণ্ডার|
ব্ল্যাক ম্যাটার
শেখর দেব
পড়ার টেবিলে বসে ঘুম চলে আসে
বিছানায় গিয়ে দেখি কোথায় হারালো নিদ্রা দেবী
অথবা ঘুমের মাঝে স্লিপ খেয়ে পড়ে যেতে যেতে
যে কবিতাটা মাথায় এসেছিল
ঘুম থেকে উঠে তার বাক্য শব্দ আর অবশিষ্ট নাই|
জেগে জেগে যে স্বপ্নগুলো দেখেছি
তারা প্রলম্বিত কোন দিগন্ত রেখায় উঁকি দিয়ে আছে|
আমাদের দিন রাতকে প্রার্থনা করতে চায় না
অথবা রাতেরা ভোর, চায় শুধু এক রৈখিক যাপন!
অথচ আমারা চাই শীতকাল চলে যাক
গ্রীষ্মকালও, বসন্ত শুধু থেকে যাক|
ঋতুরা সমুদ্রের সন্তান, আমরা জানি না
প্রশান্তের জল কখনো কি আটলান্টিকে পড়েছে?
অথবা চাঁদ ও সূর্য কি ব্ল্যাক ম্যাটার চুষে নিয়ে
নিজের মৃত্যুর পথ তৈরি করছে নিয়ত!
মানুষ যেভাবে ধীরে এগিয়ে যাবার নামে
একদিন সব ছেড়ে-ছুঁড়ে ঢুকে পড়ে গোরে!
বসন্তের নিয়তি
আদ্যনাথ ঘোষ
আঁধারে চাদর ঢেকে ফেটে পড়ে বসন্ত মাঠ|
যে মাঠ দিনের শরীরখুঁড়ে আগুনের নিঃশ্বাস খুঁজে
চোখের কোণে ঝুলে থাকে নিয়তির খোলা খাম হয়ে|
অচেনা গাছেও কি তারা বসন্ত চাঁদের মতন!
নাকি গোপন হাওয়ার একগুচ্ছ আকাশ নিয়ে
বসে থাকে চাবি নিয়ে অপেক্ষার নিশ্বাস জুড়ে|
যে চাবি দিনরাত আলাপ ছাড়াই
মানুষের মহল্লা খোঁজে, কপালের তিলকের মতোন|
আরে ও বসন্ত বাউল! কতটুকু দূরত্ব হলে
আঁধারেও আলো ফোটে নিয়তির বিপরীত পাড়ায়|
ধোঁকার মাটিখুঁড়ে উঠে আসে কোনো এক গোপন নকশায়|
নতুন গন্ধ নিয়ে চোখের কোণেও ঢলে পড়ে বসন্ত কাজল|
শেষ অন্ত্যমিল
মেহনাজ মুস্তারিন
এইতো তোমার চিন্তার পাশে ষোড়শী বালিকার মতো সারাদিন
স্থির চোখে দেখছো সারস পাখির ঠোঁটে উষ্ণ আর্তি
তীব্র আবেগ নেমে গেলে ঝুরো বৃষ্টি নিরবতা ভেঙে এন্ট্রিনার সংকেতের অপেক্ষায় বসে থাকে
ছোট্ট নদী পশ্চিম দিকে যেতেই বেলা পড়ে
বুকের বাঁকে আচ্ছন্ন হয় ঐকান্তিক প্রেম
কোমল হাসির বর্ণময় সুখচ্ছবি
ফুটন্ত জলে তখন একরাশ বিস্ময়
সূর্যাস্তের শেষ অন্ত্যমিল ধরে রাখার প্রবল ইচ্ছে যদি ছুঁয়ে যায় পৃষ্ঠার শেষ অংশ
তবে নির্জনতা ভেঙে একবার সেতু হীন নদী হেঁটে যাব
মানবিক দহন
মাসুমুর রহমান মাসুদ
প্রজ্বলিত অনলের দহনে পোড়াও এমন ভাবে
যেন শিরা-উপশিরায় রুধিরধারা প্রবাহিত না হয়
একবিন্দু শোণিত জ্যান্ত থাকলে তার অনন্ত গহিনে
উঁকিঝুঁকি মারবে ‘‘ভালোবাসি’’ অমোঘ শব্দ
অন্যথায় অপঘাতে মৃত্যুর স্বাদ দিও, যাতে
দেহকায়ার একটা কোষও বেঁচে না থাকে
মাইটোকন্ড্রিয়ায় গ্লুকোজ অক্সিজেন সরবরাহ
বন্ধ করে দিও, না যেন হয় শক্তি উৎপাদন!
একক কোষ জীবিত থাকলেও সে বলে উঠবে
আমি মানবের একান্ত ভালোবাসা চাই
মানবিকতা আমার সাধারণ ধর্মগুণ
তোমাদের অনর্গল বারুদ আর বোমা ঝড়ে
এত যে নিষ্পাপ শিশু স্বর্গে করুণ আর্তনাদ করে
আমি তাদের ভালোবাসি সীমাহীন মায়ার চাদরে
প্রতিটি মৃত্যু একেকটি নক্ষত্রের পতনসম
ছায়াপথ আলোশূন্য করে তোমরা যে পাপে মত্ত
তার নির্মম প্রতিশোধ নিতে না পারলে
ধরায় অহেতুক হবে আমার আগমন|
দিনাজপুর
উম্মে হাবীবা
ব্যাগ ভর্তি চিঠি নিয়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়া ট্রেনে প্রতিটি মানুষের মুখই দিনাজপুর|
শীতকাল যেখানে আগেভাগে চলে আসে| পিঁয়াজ কলি ছিঁড়ে বাসিভাত মাখানো সকালে কারো কারো জুতো হারিয়ে যায়| খালি পা নিয়ে লোকেদের সামনে গেলে এমন করে কথা বলে| যেনো প্রত্যেক শব্দের শেষে একটা ছিঃ জুড়ে দেয়া| বুঝে নিতে হয় সংখ্যালঘু মানে যার পায়ে আজীবন কোনো জুতো মানায় না|

আপনার মতামত লিখুন