দিন-মাস-ঘণ্টা পেরিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের মহারণ। এ বছর প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে মঞ্চস্থ হতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপ।এর মধ্যেই চলছে শত জল্পনা-কল্পনা, কার হাতে উঠবে সোনার মুকুট? ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের এক বৈশ্বিক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স পরিচালিত ১৬০ জন অর্থনীতিবিদের জরিপে ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ফ্রান্সকে ফেভারিট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
থেমে নেই অন্যরাও। কে হতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশ্বের নানা প্রান্তে চলছে ভবিষ্যৎ ঘণনার কাজ। অবশ্য, এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই। বিশ্বের ছয়টি শীর্ষ এআই মডেলের কাছে রাখা হয়েছিল একই প্রশ্ন।তাদের মধ্যে পাঁচটিরই উত্তর প্রায় এক। ট্রফি যাবে ফ্রান্সের হাতে। চলুন দেখা যাক কী বলছে মডেলগুলো:
ডিপসিক (DeepSeek)
বিশ্লেষণে ফ্রান্স সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। চীনা এই এআই মডেলটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ফ্রান্সের ‘ব্যালেন্সড স্কোয়াড’ তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ফাইনালে ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে নেবে ফ্রান্স।
চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)
ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি-ই একমাত্র ভিন্নমতের বড় কণ্ঠস্বর। তাদের হিসাবে স্পেনের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে তা ২০ শতাংশ। ফ্রান্স রয়েছে ১৮ শতাংশে, ইংল্যান্ড ১৫ এবং ব্রাজিল ১৩ শতাংশে। চ্যাটজিপিটি-এর মতে, লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের গতিময় আক্রমণ এবং ইউরো ২০২৪ জয়ের আত্মবিশ্বাস স্পেনকে ফেভারিটের আসনে বসায়। তারা পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোকে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
জেমিনিএআই (Gemini AI)
গুগল-এর জেমিনিএআই ফ্রান্সের পক্ষে রায় দিয়েছে ভিন্ন যুক্তিতে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে শারীরিক ক্লান্তি ও ইনজুরি সামলানোর সক্ষমতাই ফ্রান্সকে আলাদা করে রাখে। সাত ম্যাচের মহাম্যারাথনে ফ্রান্সের বেঞ্চ অন্য যেকোনো দলের প্রথম একাদশের সমতুল্য আর এই যুক্তিটাই জেমিনি-এর মূল ভিত্তি।
কোপাইলট এআই (Copilot AI)
মাইক্রোসফট-এর কোপাইলট এআই সবচেয়ে চমকের পূর্বাভাস দিয়েছে। জার্মান গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট-এর পরিসংখ্যান মডেলের ওপর ভিত্তি করে কোপাইলট বলছে, নেদারল্যান্ডস সেমিফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে ফাইনালে পর্তুগালকে হারাবে এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতবে। তাদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ দলগঠন ও নিখুঁত পরিসংখ্যান এই পূর্বাভাসের ভিত্তি।
কুয়েনএআই (Qwen AI)
চীনের কুয়েনএআই আবার ফ্রান্সকেই এগিয়ে রেখেছে। তাদের বিশ্লেষণে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ফ্রান্সের ‘স্কোয়াড ডেপথ’— অর্থাৎ প্রথম একাদশের বাইরেও মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের প্রাচুর্য। ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস-রদ্রিগো-এন্দ্রিক ত্রিভুজ আক্রমণকে বিপজ্জনক বললেও, পর্তুগাল ও জার্মানিকে ডার্ক হর্স মেনে কুয়েন শেষমেশ ফ্রান্সের দিকেই আঙুল তুলেছে।
ক্লড এআই (Claude AI)
ক্লড এআই মডেলটি ৪৮টি দলের শক্তিমত্তা, কোচিং কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তাদের পূর্বাভাস হচ্ছে, সেমিফাইনালে ফ্রান্স ব্রাজিলকে ২-১ এবং স্পেন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাবে। ফাইনালে ফ্রান্স স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতবে।
শীর্ষ দলগুলোর কে কোথায় দাঁড়িয়ে
ফ্রান্সকে নিয়ে এআই মডেলগুলোর এই একমত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে এখন রিয়েল মাদ্রিদে বিশ্বের সেরা ক্লাবের হয়ে খেলছেন। সঙ্গে রয়েছেন গ্রিজমান, ডেম্বেলে, থুরাম। মিডফিল্ডে কামাভিঙ্গা ও চুয়ামেনি, ডিফেন্সে সালিবা ও কোনাতে। কোচ দিদিয়ের দেশম কঠিন পরিস্থিতিতে কৌশল বদলানোর যে দক্ষতা দেখিয়েছেন, তাতে ফ্রান্স শুধু স্কোয়াডে নয়, মাথায়ও এগিয়ে।
স্পেন আসছে ইউরো ২০২৪ শিরোপা হাতে নিয়ে। লামিন ইয়ামাল এই বিশ্বকাপে তার প্রথম মঞ্চে নামবেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে। ইতিমধ্যেই যিনি ইউরোপীয় ফুটবলে আলোড়ন তুলেছেন। পেদ্রি-গাভি-ফাবিয়ান রুইজের মিডফিল্ড বিশ্বের যেকোনো দলকে চাপে ফেলতে সক্ষম। একটাই প্রশ্ন বড় ম্যাচে গোল করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে কি না।
ব্রাজিলের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। ২০০২-এর পর ২ যুগের বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপ থেকে দূরে সেলেসাওরা। ভিনিসিয়াস জুনিয়র এখন পৃথিবীর সেরা ফুটবলারদের একজন। সঙ্গে রাফিনা, নেইমার, এন্দ্রিক ও ব্রুনো গিমারাইস এর অংশগ্রহণে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ বেশ ভয়ংকর। তবু ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা বারবার ওঠে তা হলো নকআউট মঞ্চে মানসিক দৃঢ়তার অভাব।
আর্জেন্টিনার প্রসঙ্গ আসছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। লিওনেল মেসির বয়স এবং ফিটনেস নিয়ে যতই প্রশ্ন উঠুক, তিনি মাঠে থাকলে দলের চরিত্র বদলে যায়। মেসি ছাড়াও এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, লাউতারো ও আলভারেজ এমন একটি দল তৈরি করেছেন যা বিশ্বের যেকোনো দলের জন্য বিপজ্জনক। ২০২২ বিশ্বকাপ জেতার পর ‘জয়ী মানসিকতা’ এখন দলটির রক্তে মিশে গেছে।ইংল্যান্ড ও তাদের ইতিহাসের সেরা দল নিয়ে এবারের এই আসরে জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকার এই প্রজন্ম এখন পরিপক্বতার শীর্ষে। হ্যারি কেন গোলমুখে যেমন নির্ভরযোগ্য, তেমনই নেতৃত্বে পরিচ্ছন্ন। ইউরো ২০২৪ ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা এবার তাদের ধৈর্য ও পরিপক্বতা বাড়িয়েছে। তবু ‘নকআউটে ইংল্যান্ড’ এই দুটি শব্দ একসঙ্গে লিখতে গেলে এখনো সংশয় আসে।
প্রেডিকশনও বদলাতে পারে যে দলগুলো
জার্মানি এই বিশ্বকাপে অবমূল্যায়িত হলেই বিপদ। ফ্লোরিয়ান ভিরৎস ও জামাল মুসিয়ালার সমন্বয় দেখলে মনে হয় একটি নতুন যুগের শুরু হচ্ছে। টুর্নামেন্ট ফুটবলে জার্মানির ঐতিহ্য বহু প্রবল দলকে নাস্তানাবুদ করেছে। পর্তুগালের কথা বলতে হলে বলতে হবে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা ও রাফায়েল লেও-এর নাম আক্রমণে তারা যে কাউকে বিপাকে ফেলতে পারেন।
নেদারল্যান্ডসের নাম নেওয়া দরকার আলাদাভাবে। কারণ কোপাইলট তাদের চ্যাম্পিয়ন বলছে। কোডি গাকপো ও ফ্রেনকি ডি ইয়ংয়ের নেতৃত্বে ডাচ দলটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সংগঠিত। মরক্কো ২০২২ সেমিফাইনালের অভিজ্ঞতা থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরেছে। তাদের ডিফেন্স ও কাউন্টার-অ্যাটাক যেকোনো দলের জন্য মাথাব্যথার কারণ।
এশিয়া থেকে জাপানকে হালকা করে দেখার উপায় নেই। তাদের ওয়ার্ক রেট ও সংগঠিত ফুটবল অনেক বড় দলকেই বিব্রত করেছে। আর আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মাটিতে দর্শকের উন্মাদনায় ভেসে তারা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এআই যতই বলুক, মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন
সার্বিক মূল্যায়নে এআই-এর পূর্বাভাস হচ্ছে-
চ্যাম্পিয়ন: ফ্রান্স
রানার্স-আপ: স্পেন
তৃতীয়: ব্রাজিল
তবে শেষ কথা মাঠে লেখা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদম যতই নিখুঁত হোক, ফুটবল মানেই অনিশ্চয়তা। একটি পেনাল্টি মিস, একটি রেড কার্ড, বৃষ্টির রাতে একটি আচমকা গোল সব হিসাব উল্টে দিতে পারে মুহূর্তের মধ্যে। ৪৮ দলের এই নতুন ফরম্যাটে অঘটনের সম্ভাবনা আগের যেকোনো আসরের চেয়ে বেশি। সেজন্যই কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী প্রতিটি ম্যাচে চোখ রাখবেন। এআই কী বলল তা নয়, বরং মাঠে কী হচ্ছে সেটাই আসল।
লেখক: ভিডিও বিভাগ প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬
দিন-মাস-ঘণ্টা পেরিয়ে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের মহারণ। এ বছর প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে মঞ্চস্থ হতে চলেছে ফিফা বিশ্বকাপ।এর মধ্যেই চলছে শত জল্পনা-কল্পনা, কার হাতে উঠবে সোনার মুকুট? ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদদের এক বৈশ্বিক জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স পরিচালিত ১৬০ জন অর্থনীতিবিদের জরিপে ৩৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ফ্রান্সকে ফেভারিট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
থেমে নেই অন্যরাও। কে হতে যাচ্ছে চ্যাম্পিয়ন? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিশ্বের নানা প্রান্তে চলছে ভবিষ্যৎ ঘণনার কাজ। অবশ্য, এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই। বিশ্বের ছয়টি শীর্ষ এআই মডেলের কাছে রাখা হয়েছিল একই প্রশ্ন।তাদের মধ্যে পাঁচটিরই উত্তর প্রায় এক। ট্রফি যাবে ফ্রান্সের হাতে। চলুন দেখা যাক কী বলছে মডেলগুলো:
ডিপসিক (DeepSeek)
বিশ্লেষণে ফ্রান্স সেমিফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে। চীনা এই এআই মডেলটি স্পষ্ট জানিয়েছে, ফ্রান্সের ‘ব্যালেন্সড স্কোয়াড’ তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। ফাইনালে ২-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে নেবে ফ্রান্স।
চ্যাটজিপিটি (ChatGPT)
ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটি-ই একমাত্র ভিন্নমতের বড় কণ্ঠস্বর। তাদের হিসাবে স্পেনের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে তা ২০ শতাংশ। ফ্রান্স রয়েছে ১৮ শতাংশে, ইংল্যান্ড ১৫ এবং ব্রাজিল ১৩ শতাংশে। চ্যাটজিপিটি-এর মতে, লামিন ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের গতিময় আক্রমণ এবং ইউরো ২০২৪ জয়ের আত্মবিশ্বাস স্পেনকে ফেভারিটের আসনে বসায়। তারা পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোকে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
জেমিনিএআই (Gemini AI)
গুগল-এর জেমিনিএআই ফ্রান্সের পক্ষে রায় দিয়েছে ভিন্ন যুক্তিতে। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ টুর্নামেন্টে শারীরিক ক্লান্তি ও ইনজুরি সামলানোর সক্ষমতাই ফ্রান্সকে আলাদা করে রাখে। সাত ম্যাচের মহাম্যারাথনে ফ্রান্সের বেঞ্চ অন্য যেকোনো দলের প্রথম একাদশের সমতুল্য আর এই যুক্তিটাই জেমিনি-এর মূল ভিত্তি।
কোপাইলট এআই (Copilot AI)
মাইক্রোসফট-এর কোপাইলট এআই সবচেয়ে চমকের পূর্বাভাস দিয়েছে। জার্মান গণিতবিদ জোয়াকিম ক্লেমেন্ট-এর পরিসংখ্যান মডেলের ওপর ভিত্তি করে কোপাইলট বলছে, নেদারল্যান্ডস সেমিফাইনালে স্পেনকে হারিয়ে ফাইনালে পর্তুগালকে হারাবে এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতবে। তাদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ দলগঠন ও নিখুঁত পরিসংখ্যান এই পূর্বাভাসের ভিত্তি।
কুয়েনএআই (Qwen AI)
চীনের কুয়েনএআই আবার ফ্রান্সকেই এগিয়ে রেখেছে। তাদের বিশ্লেষণে বিশেষভাবে উঠে এসেছে ফ্রান্সের ‘স্কোয়াড ডেপথ’— অর্থাৎ প্রথম একাদশের বাইরেও মানসম্পন্ন খেলোয়াড়ের প্রাচুর্য। ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস-রদ্রিগো-এন্দ্রিক ত্রিভুজ আক্রমণকে বিপজ্জনক বললেও, পর্তুগাল ও জার্মানিকে ডার্ক হর্স মেনে কুয়েন শেষমেশ ফ্রান্সের দিকেই আঙুল তুলেছে।
ক্লড এআই (Claude AI)
ক্লড এআই মডেলটি ৪৮টি দলের শক্তিমত্তা, কোচিং কৌশল, মানসিক দৃঢ়তা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তাদের পূর্বাভাস হচ্ছে, সেমিফাইনালে ফ্রান্স ব্রাজিলকে ২-১ এবং স্পেন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাবে। ফাইনালে ফ্রান্স স্পেনকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতবে।
শীর্ষ দলগুলোর কে কোথায় দাঁড়িয়ে
ফ্রান্সকে নিয়ে এআই মডেলগুলোর এই একমত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ আছে। কিলিয়ান এমবাপ্পে এখন রিয়েল মাদ্রিদে বিশ্বের সেরা ক্লাবের হয়ে খেলছেন। সঙ্গে রয়েছেন গ্রিজমান, ডেম্বেলে, থুরাম। মিডফিল্ডে কামাভিঙ্গা ও চুয়ামেনি, ডিফেন্সে সালিবা ও কোনাতে। কোচ দিদিয়ের দেশম কঠিন পরিস্থিতিতে কৌশল বদলানোর যে দক্ষতা দেখিয়েছেন, তাতে ফ্রান্স শুধু স্কোয়াডে নয়, মাথায়ও এগিয়ে।
স্পেন আসছে ইউরো ২০২৪ শিরোপা হাতে নিয়ে। লামিন ইয়ামাল এই বিশ্বকাপে তার প্রথম মঞ্চে নামবেন মাত্র ১৮ বছর বয়সে। ইতিমধ্যেই যিনি ইউরোপীয় ফুটবলে আলোড়ন তুলেছেন। পেদ্রি-গাভি-ফাবিয়ান রুইজের মিডফিল্ড বিশ্বের যেকোনো দলকে চাপে ফেলতে সক্ষম। একটাই প্রশ্ন বড় ম্যাচে গোল করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে কি না।
ব্রাজিলের জন্য এটি একটি বিশেষ মুহূর্ত। ২০০২-এর পর ২ যুগের বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপ থেকে দূরে সেলেসাওরা। ভিনিসিয়াস জুনিয়র এখন পৃথিবীর সেরা ফুটবলারদের একজন। সঙ্গে রাফিনা, নেইমার, এন্দ্রিক ও ব্রুনো গিমারাইস এর অংশগ্রহণে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ বেশ ভয়ংকর। তবু ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা বারবার ওঠে তা হলো নকআউট মঞ্চে মানসিক দৃঢ়তার অভাব।
আর্জেন্টিনার প্রসঙ্গ আসছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। লিওনেল মেসির বয়স এবং ফিটনেস নিয়ে যতই প্রশ্ন উঠুক, তিনি মাঠে থাকলে দলের চরিত্র বদলে যায়। মেসি ছাড়াও এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, লাউতারো ও আলভারেজ এমন একটি দল তৈরি করেছেন যা বিশ্বের যেকোনো দলের জন্য বিপজ্জনক। ২০২২ বিশ্বকাপ জেতার পর ‘জয়ী মানসিকতা’ এখন দলটির রক্তে মিশে গেছে।ইংল্যান্ড ও তাদের ইতিহাসের সেরা দল নিয়ে এবারের এই আসরে জুড বেলিংহাম, হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকার এই প্রজন্ম এখন পরিপক্বতার শীর্ষে। হ্যারি কেন গোলমুখে যেমন নির্ভরযোগ্য, তেমনই নেতৃত্বে পরিচ্ছন্ন। ইউরো ২০২৪ ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা এবার তাদের ধৈর্য ও পরিপক্বতা বাড়িয়েছে। তবু ‘নকআউটে ইংল্যান্ড’ এই দুটি শব্দ একসঙ্গে লিখতে গেলে এখনো সংশয় আসে।
প্রেডিকশনও বদলাতে পারে যে দলগুলো
জার্মানি এই বিশ্বকাপে অবমূল্যায়িত হলেই বিপদ। ফ্লোরিয়ান ভিরৎস ও জামাল মুসিয়ালার সমন্বয় দেখলে মনে হয় একটি নতুন যুগের শুরু হচ্ছে। টুর্নামেন্ট ফুটবলে জার্মানির ঐতিহ্য বহু প্রবল দলকে নাস্তানাবুদ করেছে। পর্তুগালের কথা বলতে হলে বলতে হবে ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্নার্দো সিলভা ও রাফায়েল লেও-এর নাম আক্রমণে তারা যে কাউকে বিপাকে ফেলতে পারেন।
নেদারল্যান্ডসের নাম নেওয়া দরকার আলাদাভাবে। কারণ কোপাইলট তাদের চ্যাম্পিয়ন বলছে। কোডি গাকপো ও ফ্রেনকি ডি ইয়ংয়ের নেতৃত্বে ডাচ দলটি ভারসাম্যপূর্ণ ও সংগঠিত। মরক্কো ২০২২ সেমিফাইনালের অভিজ্ঞতা থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরেছে। তাদের ডিফেন্স ও কাউন্টার-অ্যাটাক যেকোনো দলের জন্য মাথাব্যথার কারণ।
এশিয়া থেকে জাপানকে হালকা করে দেখার উপায় নেই। তাদের ওয়ার্ক রেট ও সংগঠিত ফুটবল অনেক বড় দলকেই বিব্রত করেছে। আর আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মাটিতে দর্শকের উন্মাদনায় ভেসে তারা যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
এআই যতই বলুক, মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন
সার্বিক মূল্যায়নে এআই-এর পূর্বাভাস হচ্ছে-
চ্যাম্পিয়ন: ফ্রান্স
রানার্স-আপ: স্পেন
তৃতীয়: ব্রাজিল
তবে শেষ কথা মাঠে লেখা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অ্যালগরিদম যতই নিখুঁত হোক, ফুটবল মানেই অনিশ্চয়তা। একটি পেনাল্টি মিস, একটি রেড কার্ড, বৃষ্টির রাতে একটি আচমকা গোল সব হিসাব উল্টে দিতে পারে মুহূর্তের মধ্যে। ৪৮ দলের এই নতুন ফরম্যাটে অঘটনের সম্ভাবনা আগের যেকোনো আসরের চেয়ে বেশি। সেজন্যই কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী প্রতিটি ম্যাচে চোখ রাখবেন। এআই কী বলল তা নয়, বরং মাঠে কী হচ্ছে সেটাই আসল।
লেখক: ভিডিও বিভাগ প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল

আপনার মতামত লিখুন