ড. ইফতেখারুজ্জামান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক। দীর্ঘদিন থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন এবং মানুষকে সজাগ করার জন্য কাজ করছে। গত সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন যেটি করা হয়েছিল তার সভাপতিও ছিলেন তিনি। একটি রিপোর্টও দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্টটি নিয়েই ও তার বাস্তবায়নে কোথায় বাধা ছিলো এবং বাংলাদেশের দুর্নীতির সামগ্রিক চিত্র এখন কেমন? এসব বিষয়ে সংবাদের ডিজিটাল সংস্করণের বার্তা প্রধান তার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই আলাপচারিতা পুরোটাই তুলে ধরা হলো।
রাশেদ আহমেদ: বাংলাদেশে দুর্নীতি আসলে কমছে না কেন? এই যে মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ দুর্নীতিপরায়ণ এটি কি কোনো মনস্তাত্ত্বিক বিষয় আছে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: মনস্তাত্ত্বিক আছে, একেবারে নেই সেটা বলব না। কিন্তু যেটি যে কারণে এটি কমছে না বা কার্যকর প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না, সেটির অন্যতম দিক হলো যারা দুর্নীতি করে তারা বিচারহীনতা ভোগ করে। আমাদের দেশে আইন আছে, প্রতিষ্ঠান আছে, যথাযথ প্রক্রিয়া নির্ধারিত আছে এবং সরকার বা যাদের উপরে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব, তাদের অঙ্গীকারও আছে অন্তত মুখে বলা হয়। কিন্তু দুর্নীতি যে একটা অপরাধ, দুর্নীতি যে একটা শাস্তিযোগ্য বিষয় এই বার্তাটা সমাজে পৌঁছানো যায় নাই। বরং যেটা হয়েছে যে দুর্নীতিকে সুরক্ষা দেয়ার মাধ্যমে, বিচারহীনতার মাধ্যমে এটা এক ধরণের স্বাভাবিকতায় রূপান্তর করা হয়েছে। এটা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। হ্যাঁ অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ আছে এবং আমি বুঝছি যে প্রতিরোধ হচ্ছে না সেই কারণে অনেকটা মেনে নিচ্ছে যে এটাই বাস্তবতা। যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, যারা অবৈধ অর্থের মালিক তাদেরকে সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্মান করা হয় রীতিমতো। একসময় যেটা আমরা ভেবেছিলাম এটা তাদেরকে অগ্রহণযোগ্য করা হবে। সেই জায়গায় এই যে সম্মান করা হয় এবং এই বাস্তবতার কারণে অনেকেই আমরা মনে করি যে সাধারণ মানুষ এটাকে মেনেও নিচ্ছে। মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। আমি চট করে এখনই একটা দৃষ্টান্ত দিয়ে দেই। আমাদের তরুণদের সাথে আমি কাজ করি আমাদের অভিজ্ঞতায় যেটা দেখি। আমাকে অনেক সময় তরুণরা বলে যে ‘স্যার আপনি যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন এটা তো বাস্তবে আপনি আইনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন’। কেমন? তখন ওরা বলে যে বাংলাদেশে প্রতিবছর কালো টাকাকে বৈধ করার জন্য আইন করা হয় অর্থাৎ বাজেট। শিক্ষার্থীরা তো জানে বাজেট অর্থ যে বাজেট যখন অনুমোদিত হয় এটা কিন্তু আইন হয়ে যায়। অর্থাৎ বাজেটে কালো টাকা বৈধতার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে অর্থাৎ আইনসিদ্ধ হয়ে গেছে। কালো টাকা যারা অবৈধ অর্থের মালিক তাদেরকে আইনসিদ্ধ মানে বৈধ করে দিচ্ছে। আর আপনি বলছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে। কারণ যখন কালো টাকা বৈধ করা হয় তখন মানুষকে বার্তাটা কী দেয়? সরকার বা রাষ্ট্র মানুষকে বার্তাটা দিচ্ছে তুমি সারা বছর দুর্নীতি করো, অনিয়ম করো, আমার কাছে এলে বছরে শেষ ওই কালো টাকাকে বৈধ করে দেবো। এই যে স্বাভাবিকতায় রূপান্তর করা হয়েছে এই কারণে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না আর একটা হচ্ছে আপনার এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় আছে, অনেকে মনে করে আমাদের কালচারাল ইস্যু। আমি বিশ্বাস করি না। কোনো জাতি যে জাতিগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত এটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না। কোনো মানুষ জন্ম হয়েই দুর্নীতিগ্রস্ত এটা বিশ্বাস করতে চাই না। এটা তার পরিবেশ তাকে বাধ্য করে।
রাশেদ আহমেদ: পরিবেশের কথা বললেন, দুর্নীতির এই পরিবেশটা তৈরি হলো কেন আমাদের এই দেশে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: তৈরি হচ্ছে এই কারণে যে দুর্নীতি করলে পুরস্কৃত হয়। দুর্নীতি করলে তিরস্কৃত হয় না, শাস্তি পেতে হয় না। দুর্নীতিকে যখন সুরক্ষা দেওয়া হয় যখন একজন মন্ত্রী বলে ফেলেন যে চাঁদাবাজিকে দুর্নীতি বলা যাবে না এটা হচ্ছে সমঝোতার লেনদেন, যখন এটা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো প্রতিবাদ করা হয় না বা কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান নেওয়া হয় না তখন কিন্তু মানুষকে বলা হচ্ছে যে আসলে ওই মন্ত্রীই ঠিক। এর ফলেই আসলে এই ধরণের স্বাভাবিকতা রূপান্তর হয়েছে, মানুষ মেনে নিচ্ছে। অন্য দিক থেকে যে প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা আমাদের গবেষণায় যেটা দেখা যায় যে মূলত চারটা উপাদান লাগে আপনি যে জিনিসটা জানতে চাচ্ছেন যে কেন দুর্নীতি প্রতিরোধ হচ্ছে না, এটাকে স্বাভাবিক করা হচ্ছে। এটার জন্য কোন একটা পার্টিকুলার ম্যাজিক বুলেট কিন্তু নাই আছে মূলত চারটা উপাদান লাগে। একটা হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। যার কারণ ক্ষমতা যাদের হাতে থাকে তারা তো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের সদিচ্ছা তাদের সদিচ্ছাটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন। ব্যক্তির পরিচয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে দুর্নীতি অগ্রহণযোগ্য এই কমিটমেন্টটা থাকতে হবে এবং এটাকে প্রয়োগ করতে হবে নিজের ঘর থেকে। দ্বিতীয় যে বিষয়টি হচ্ছে যারা দুর্নীতি করে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এর কোনো বিকল্প নাই। যেই হোক না কেন পরিচয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে সেটা রাজনৈতিক পরিচয় হোক, ব্যবসায়িক পরিচয় হোক, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় হোক অবস্থানের সামাজিক পরিচয় হোক অবস্থান নির্বিশেষে সবাইকে আইনের চোখে সমান এই বিবেচনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয় হচ্ছে যে এই কাজটা কে করবে? প্রতিষ্ঠানগুলো করবে। আমাদের দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে সেটা কতটুকু কার্যকর সেটা নিয়ে পরে আলোচনা হতে পারে কিন্তু দুদক একা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এর পাশাপাশি আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংসদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে জাতীয় সংসদে। এই ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলো সমষ্টিগতভাবে যে সক্ষমতা তৈরি করতে যদি পারা যেতো যে অপরাধ বা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রিত হবে তাদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব সেটা যথাযথ পালন করতে পারবে তাহলে দেখতাম প্রাতিষ্ঠানিক আইনের কাঠামো তৈরি হত। কিন্তু এই তিনটার পাশাপাশি যেটা দরকার আপনি শুরুতে যে প্রশ্নটা করেছেন সেটা হল মানুষের মধ্যে সচেতনতা। সাধারণ মানুষকেই চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের ভোট দেয়া যাবে না। অন্যদিক এই জনগণই চাইবে যারা দুর্নীতি করে তাদেরকে বিচার করতে হবে। জনগণই চাইবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে এবং জনগণকেই নিজেরা দুর্নীতি থেকে দূরে থাকবে। এই চারটা উপাদান ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় না, আমাদের দেশেও হবে না। বাংলাদেশের সামাজিক পর্যায়ে বা এমনকি বলতে দ্বিধা নেই যে মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান আমরা জেনে শুনে নির্বাচন করি এমন ব্যক্তি যার অর্থের মূল উৎস হচ্ছে অবৈধ লেনদেন বা অবৈধ সূত্র। আমরা জানি এবং তিনি আবার ইমাম সাহেবের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন আমরাও শুনছি। এই যে গ্রহণযোগ্যতা করে ফেলা হয়েছে এটি হচ্ছে অন্যতম কারণ।
রাশেদ আহমেদ: দুর্নীতি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আপনারা কাজ করেছেন। এমন কি কোনো সেক্টর পেয়েছেন, জন গোষ্ঠী পেয়েছেন তারা দুর্নীতি করেনা দুর্নীতির মানসিকতা তাদের মধ্যে নেই?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: বাংলাদেশে এমন কোনো খাত নেই যেটা দুর্নীতিগ্রস্ত না। তবে কম বেশি হেরফের আছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট গবেষণায় দেখা গেছে যে যে প্রতিষ্ঠান বা যে ক্ষেত্রগুলোর উপরে খাতের উপরে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেমন বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে বলা যায় বা গবেষণানির্ভর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরণের প্রতিষ্ঠান প্রশাসন এই ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কিন্তু দুর্নীতির ব্যাপকতা বেশি। দুর্নীতি দমন কমিশনের উপর অর্পিত দায়িত্ব দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে আইনগতভাবে তার স্পেসিফিক ম্যান্ডেট। অথচ এর মধ্যেই কর্মকর্তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ যেটা দুদক আগে স্বীকার করত না এখন স্বীকার করে উল্লেখযোগ্য অংশ তারা নিজেরা দুর্নীতিগ্রস্ত। আমরা ২০২৩ এ যে গবেষণাটা প্রকাশ করেছি এই বিষয়ে সেখানে মানুষের কাছে প্রশ্ন ছিল অভিজ্ঞতানির্ভর যে আপনি যে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন কেন ঘুষ দিয়েছেন? ৭৯ শতাংশ মানুষ বলেছে আমি তো জানি ঘুষ না দিলে সেবাটা পাবো না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার যে সমস্ত ক্ষেত্রগুলো আছে আইন প্রয়োগ আইনের প্রয়োগ বিচার। আমি সেবা না দিতে ঘুষ না দিলে সেবা পাবো না। অর্থাৎ এই মানুষ কিন্তু ইচ্ছা করে দুর্নীতি করছে না। বা আমি এনবিআর এর একজন কর্মকর্তা হয়ে হাজার কোটি টাকার মালিক হব ১০০র ঊর্ধ্বে অ্যাপ্যার্টমেন্টের মালিক হব এই যে প্রবণতা এটা তো কোনো ক্যালকুলেশনে মিলে না যে আমার আয় সীমাবদ্ধ তাই দুর্নীতি করতে হবে। এই হিসাবে মিলবে না। যেটা শুরু হয় বাস্তবে বাধ্যবাধকতার কারণে সেটা কিন্তু একসময় লোভের মধ্যে চলে যায় এমন একটা পর্যায়ে যেটা গান্ধীজি একটা কথা বলেছিলেন যে পৃথিবীতে সব মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ আছে। কিন্তু একজন মানুষের লোভ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এই বিষয়টা হচ্ছে বাস্তবতা।
রাশেদ আহমেদ: কালো টাকা সাদা করা নিশ্চয়ই এটি একটি অন্যায় কাজ, অবৈধ কাজ। সরকার সেটিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বছর বছর। আপনারাও বলছেন কিন্তু এই যে কালো টাকা সাদা করার আমি তর্কের খাতিরে আপনাকে বলছি এই সুযোগটা যদি না দেওয়া হয় এই টাকাটা পাচার হয়ে যাবে। এমনিই টাকা পাচার হচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: কালো টাকা সাদা করে কি পাচার বন্ধ করা গিয়েছে কখনো? এটা বন্ধ করা যাবে কখনো? আমরা যে কারণে এটা অগ্রহণযোগ্য বলি, তিনটা যুক্তি আছে। প্রথম কথা হচ্ছে যে আমাদের সংবিধান যেটা অত্যন্ত একটা মূল্যবান দলিল যতই এটা নিয়ে টানাহেঁচড়া হোক না কেন এটার ২০ এর ২ অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে আছে রাষ্ট্র এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করবে যে অবৈধ আয় অগ্রহণযোগ্য হবে। অর্থাৎ কালো টাকাকে বৈধতার সুযোগ নাই আমাদের সংবিধান অনুযায়ী। দ্বিতীয় হচ্ছে যে এটি কিন্তু বাস্তবে যেটা আমি আগে বললাম বাস্তবে কিন্তু জনগণকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে তুমি দুর্নীতি করো দুর্নীতি করলে সেটাকে কোনো অপরাধ না আমি সেটাকে মেনে নিব। অর্থাৎ দুর্নীতি সহায়ক এইটা। সংবিধান পরিপন্থী দুর্নীতির সহায়ক। তৃতীয় হচ্ছে এটা বৈষম্যমূলক। যেভাবে করা হয় সেটা হচ্ছে যারা দুর্নীতি করছেন তাদের যেখানে শাস্তি দেওয়ার কথা সেটা না দিয়ে আপনি বৈধ প্রক্রিয়ায় উপার্জন করছেন আপনাকে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কোনো কোনো বছর কর দিতে হয় আর আমি অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছি কালো টাকার মালিক আমাকে ১০ শতাংশ কি ১৫ শতাংশ জরিমানা দিতে হয়। এটা কোন দেশের আইন অনুযায়ী বা নৈতিকতা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে পারে এটা তো যে অপরাধ করেছে তাকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে আর যে সততার সাথে কাজ করছে তাকে তিরস্কৃত করা হচ্ছে। কাজেই এটা বৈষম্যমূলক। এটা একটা বিশেষ শ্রেণী এক বা একাধিক বিশেষ শ্রেণী যাদের লবি পাওয়ার খুব স্ট্রং তাদের চাপে সরকারের একাংশ অনেক সময় নতি স্বীকার করে আমলাতন্ত্রের সাথে যোগসাজশ এবং এটার বাজেট ওই সময় এটা করে ফেলা হয়। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ আছে বড় বড় ব্যবসায়ী যারা আছে বাংলাদেশে। বড় বড় ব্যবসায়ী বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো এত প্রভাবশালী যে তাদের এই চাপটাকে সরকার মেনে নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক চাপে শেষ পর্যন্ত তারা সরে এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে আবার সেটি করা হচ্ছে। আমরা আশা করব যে বর্তমান সরকার সেটা করবে না কারণ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো কথা আছে অঙ্গীকার আছে। তাদের ৩১ দফাতে ছিল জুলাই সনদে আছে যেটা তারা বলছে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে তাহলে কেন দুর্নীতি সহায়ক এরকম একটা ধারা তারা রাখবেন ?
রাশেদ আহমেদ: না হলে উপায় কি?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: আমি আগে বললাম যে যারা যেটা করে যাদের উপরে ওভারসাইট। আমি একজন কর্মচারী বা কর্মকর্তা আমি অবৈধ লেনদেন করছি। আমার নজরদারি করার কথা আপনার। আপনি যেটা জেনে শুনেও যদি আমাকে নিয়ন্ত্রণে না আনেন আমাকে জবাবদিহি না করেন বরং আপনি যদি সেটার অংশীদার হন তাহলে তো এখানে একটা সিন্ডিকেট হয়ে গেল। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করল এটা একটা অন্যতম কারণ। তবে এটা প্রতিরোধ এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে অর্থাৎ যারা অনিয়ম করছে দুর্নীতি করছে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দ্বিতীয় যে বিষয়টা সেটা হচ্ছে আপনি যে সেবার খাতগুলো যেমন কাস্টমসের কথা বলছেন, রাজস্বের কথা বলি,স্বাস্থ্য সেবা খাত, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, দলিল করতে গেলে একটা বাড়তি টাকা দিতে হয়, পুরোপুরিভাবে ভূমি খাত বা শিক্ষা স্বাস্থ্য যেগুলোতে যেমন হাসপাতালে স্ট্রেচার বয়কে ঘুষ না দিলে সে স্ট্রেচার চালাবে না এই যে ধরণের বিষয়গুলো সামগ্রিকভাবে যে সেবা খাত যেটা আছে সেটা আপনি শুরুতে দুদক সংস্কার কমিশনের কথা বলেছিলেন সেখানে একটা অত্যন্ত মানে আমাদের গবেষণালব্ধ এই কমিশনের কাজের অংশ হিসেবে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী খুব একটা বিশাল ব্যয়বহুল না একটা খুবই কংক্রিট স্পেসিফিক রিকমেন্ডেশন আছে পুরো সেবার খাতগুলোকে ডিজিটালাইজ করতে হবে। যে সেবার খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিপ্রবণ সেখানে কিন্তু যেটা অভিজ্ঞতায় দেখা যায় সার্ভিস প্রোভাইডার যিনি তার সাথে যখন সেবাগ্রহীতার ডাইরেক্ট ইন্টারেকশন এর সুযোগ থাকে তখনই কিন্তু লেনদেনের সুযোগটা হয়। আপনি দেখেন ভূমি খাতে যে সেবাগুলো পার্শিয়ালি হলেও ডিজিটালাইজ হয়েছে সেখানে কিন্তু দুর্নীতিটা কমেছে একটুখানি হলেও কমেছে কিন্তু সেটার সামগ্রিক প্রভাবটা হয়নি তার কারণ হচ্ছে চূড়ান্ত বিবেচনায় আবার সেখানে ফাঁক রেখেই দেওয়া হয়েছে আপনার ডকুমেন্টটা প্রিন্ট করার জন্য আপনার সেই অফিসে যেতেই হবে তখনই আপনাকে ঘুষ দিতে হবে। এই যে আংশিক যতটুকু হোক আংশিকভাবে করা হয়েছে রোবাস্টলি পর্যাপ্তভাবে করা হয়নি এজন্য অন্যতম মাধ্যম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় ডিজিটালাইজেশন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাশেদ আহমেদ: প্রতিকার এবং প্রতিরোধের জন্য দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আপনারা সেই সংস্কারের জন্য কিছু সুপারিশ করেছিলেন ৪৭ টি সুপারিশ সম্ভবত দিয়েছিলেন সেটি আটকে গেল কেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: দুর্ভাগ্যের বিষয় অনেক ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে তো বিশাল রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগটা সৃষ্টি হয়েছিল জুলাই আন্দোলনের যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মত্যাগ যারা আহত হয়েছেন সেটার মধ্যে তিনটা জিনিস তো ছিল বিচার রাষ্ট্র সংস্কার নির্বাচন। প্রথমটি বিচারের ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে যে সেখানে অনেক প্রশ্ন আছে কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিচারের নামে কিছুটা বলব যে প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম হচ্ছে সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করছি না অন্য সময় আলোচনা করা যাবে। নির্বাচন হয়েছে সুষ্ঠুভাবে এবং নতুন সরকার হয়েছে মাঝখানে যেটা মূল বিষয়টা রাষ্ট্র সংস্কার যেটি আন্দোলনের একটা বিশাল স্লোগান ছিল। তার মধ্যে অন্যতম একটা ছিল যে অ্যাকাউন্টাবল গভর্ন্যান্স বা জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা এবং সেটার অন্যতম হাতিয়ার ছিল দুদক সংস্কার কমিশন করা হয়েছিল অন্যান্য কমিশনগুলো একই মেইন থিমটা কিন্তু একই অ্যাকাউন্টাবল গভর্ন্যান্স। দুদক একটা স্পেসিফিক রিলেটেড দুর্নীতি রিলেটেড। এখন যে প্রতিবেদনগুলো আটকে গেল কেন? আটকে গেল প্রথম কথা হচ্ছে যে ভিত্তিটা তৈরি করল খুঁটিটা রেখে গেল অন্তর্বর্তী সরকার সেটাকে দুর্বল করে রেখে গিয়েছে। যদিও আমরা ইন্ডিপেন্ডেন্টলি কমিশন হিসেবে কাজ করেছি যে কমিশনগুলো হয়েছিল ১১টা কমিশন প্রত্যেকটা কমিশনের কাছ থেকেই সরকারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা কিন্তু আশু করণীয় কতগুলো সুপারিশমালা দিয়েছিলাম যেগুলো অন্তর্বর্তী সরকার সরকারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করার মতো সক্ষমতা ছিল সুযোগ ছিল এবং সময়ও ছিল। সেটি আসলে বাস্তবে এমন কোনো দৃষ্টান্ত উল্লেখযোগ্য নাই দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ সহ যেগুলো তারা করতে পেরেছে করে নাই করতে পারে নাই কেন করতে পারে নাই সেটা আমরা পরে আলোচনা করব একটুখানি। আর দ্বিতীয় হচ্ছে যে এটা হচ্ছে আশু করণীয় এরপর সংস্কার আইনের সংস্কার জনিত যে বিষয়গুলো সেগুলো দেখা গেল যে ওই সময় কি মনে যে গুলো তড়িঘড়ি করে কিছু অধ্যাদেশ হয়েছে দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দুদক আইন যেটা ছিল ২০০৪ সেটাকে সংশোধন করে অধ্যাদেশ করেছে। নামমাত্র সংস্কার করেছে অধ্যাদেশটায়। সুপারিশের যে মৌলিক কৌশলগত বিষয়গুলো ছিল সেগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমি বলব বাইপাস করে বাদ দিয়ে একটা অধ্যাদেশ করেছে। আমি বিস্তারিত যেতে পারব না সময়ের ঘাটতির কারণে আমি শুধু এইটুকু বলব বাইপাস করা হলো মানে ষড়যন্ত্র কোথায় হলো সেটি আমি একটা দৃষ্টান্ত আপনাকে দেই যেমন আমরা চাই দুদক সর্বোচ্চ সম্ভব স্বাধীনতা পাবে কিন্তু স্বাধীনতার পাশাপাশি কোনো স্বাধীনতা জবাবদিহি না এই বিষয়ট কিন্তু দুদক আইনে নাই দুদক প্রতিষ্ঠানের জন্য নাই যে কারণে দুদককে ব্যবহার করা হয়েছে নিজেদের সুরক্ষা যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের সুরক্ষার জন্য আর যারা বাইরে থাকে ক্ষমতার বাইরে তাদেরকে হ্যারাস করার জন্য নাজেহাল করার জন্য। এই যে সুরক্ষা নাজেহাল করা হচ্ছে কেন করা হচ্ছে, সেই জবাবদিহিতা তো আমার দরকার এটা কিন্তু নেই। আমরা যেটা সংস্কার কমিশনে দিতে চেয়েছি একদিকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা চাই ম্যানেজমেন্ট অপারেশনাল ইন্ডিপেনডেন্স প্লাস ফিন্যান্সিয়াল ইন্ডিপেনডেন্স কিন্তু তাকে একটা জবাবদিহির ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে একটা সিম্পল ফর্মুলা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা দিয়েছিলাম যে এটার জন্য একটা পর্যালোচনা কমিটি স্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি আইনগতভাবে তৈরি করা হবে যেটি দুদকের কার্যক্রম ছয় মাস পরপর পর্যালোচনা করে একধারে একটা বিশ্লেষণ করে দুদকের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দুদকের একটা ফরম্যাটের ওপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণ করে গণশুনানি করবে। যাতে করে মানুষ মানুষ আপনারা আমরা সাধারণ মানুষ জিজ্ঞেস করতে পারে যে ভাই এই অভিযোগগুলো কোন বিবেচনায় আপনি আমলে নিয়েছেন আর এগুলো কোন বিবেচনায় ফেলে রেখেছেন? সিম্পল আমি উদাহরণ হিসেবে বলছি। তো এই জিনিসটা কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের সুপারিশের মধ্যে ছিল। আইনের খসড়া হয়েছে আমাদেরকে কমিশনকে কমিশনের কাউকে ইনভল্ব করায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। একটা পর্যায়ে যে আমরা জোর করে দরজা ধাক্কা দিয়ে ঢুকে সেখানে দেখলাম যখন দেখলাম যে এই মূল জিনিসগুলো বাদ তখন আমরা তৎকালীন উপদেষ্টা সহ যারা ইনভলভ ছিল তাদের সাথে আমি সেশনের পর সেশন করেছি, রাজিও হলো। বিলিভ মি মানে যারা ইনভলভ ছিল আমলাতন্ত্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা সহ উপদেষ্টা সহ এবং দুদকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা সহ হ্যাঁ ঠিক আছে কনভিন্সড হলো যে ঠিক আছে কি ভাষাটা হবে সেটাও মেনে নেওয়া হলো। খুশি মনে একটা সন্তুষ্টি হয়ে ফিরলাম দুদিন পরে জানা গেল সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে রাখা হয়নি বাতিল করা হয়েছে। জানতে চাইলাম যে কেন তখন যেটা বলা হল যে শুধু আমলাতন্ত্র না এটার মানে বিরোধিতা করেছে আমাদের সাত জন উপদেষ্টা। অর্থাৎ আমলাতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এখন আমলাতন্ত্র কেন আমি বললাম যে সাত জন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা সহ আমাকে প্রধান উপদেষ্টার কথাটা বলা হয়নি সাত জন উপদেষ্টা বলেছেন একই সাথে একমত করে মানে এটা বিরোধিতা করেছে। এখন যেটা হচ্ছে যে কেন হলো না ওই যে আশু করণীয় যে কারণে হয়নি আইনগত বিষয়গুলো যেটা আসলে আরও সাস্টেইনেবল আরও লং টার্ম সলিউশন দেওয়ার মতো সেই একই জিনিসটা কিন্তু রেজিস্ট্যান্সটা বা ঝুঁকিটা এসেছে এবং ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে রেজিস্ট্যান্স এসেছে আমলাতন্ত্র থেকে। আমলাতন্ত্রের চরিত্রটা বুঝতে হবে এবং সেটা কিন্তু শুধু দুদক সংস্কারে ক্ষেত্রে না আমি সুযোগ আমি যেহেতু আপনার সাথে আলোচনা করছি আমি বলে নেই অন্য যে অধ্যাদেশগুলো যেগুলোর মধ্যে সম্ভাবনা ছিল যে ওই যে বললাম যে অ্যাকাউন্টাবল গভর্ন্যান্স জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ সেখানে আসছে যেখানে রেজিস্ট করতে পারেনি বাধ্য হয়ে অধ্যাদেশ সেই বিধানগুলো রেখে যেমন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে। সৌভাগ্যজনকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশটি স্বাধীন সচিবালয়ের যে অধ্যাদেশটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশগুলো এগুলোর সাথে আমরা সম্পৃক্ত ছিলাম ঠিক একরকমভাবে যেটাকে পুশ করা হয়েছে অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ভালো যদি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ভালো দৃষ্টান্ত থাকে তাহলে হচ্ছে এগুলো। দেখা গেল যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটা হলো যে এই বিষয়গুলো কিন্তু রহিত করা হলো। এই আইনগুলোই যেগুলো আসলে সুযোগটা দেওয়া হয়েছিল যে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে সেটার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা আইনগত প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হবে। স্বাধীন বিচার সচিবালয় বিচার বিভাগের সচিবালয় বিচার বিভাগের নিয়োগের বিচার নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা এগুলোর প্রতিরোধটা আসে কোথা থেকে আমলাতন্ত্র থেকে। একই প্রক্রিয়া কিন্তু তারা রহিত করতে পারল এখন যেটা দেখা যাচ্ছে সরকার বলছে যে আমরা এটাকে আরও উন্নত জায়গায় নিয়ে যাব অথচ গত দুই দিন আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে একটা আলোচনা যেটা হয়েছে পর্যালোচনার নামে বা অংশগ্রহণমূলক মতবিনিময়ের নামে সেখানে কিন্তু দেখা গেছে পরিষ্কারভাবেই ওই আগের যে ভূত যারা চায় না জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকর হোক যারা চায় না বাংলাদেশের জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক তারাই প্রিভেইল করছে দুর্ভাগ্যজনক।
রাশেদ আহমেদ: আপনি বললেন আমলাতন্ত্র শক্তিশালী এবং তাদের কারণে এটা হয়েছে। উপদেষ্টারাও তো তাদের দ্বারা কনভিন্স হলো তাহলে দায় তো উপদেষ্টাদেরই।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: আমি যে কথাটা তখন বলেছি এখন রিপিট করছি সেটা হচ্ছে আমার জানামতে আমার পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে সরকার হিসেবে সবচেয়ে পাওয়ারফুল বডি তো হচ্ছে মন্ত্রীপরিষদ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা পরিষদ কিন্তু আমি কনভেন্সড যে উপদেষ্টা পরিষদ তখন আর মন্ত্রীপরিষদ এখন বা আগে যে সিদ্ধান্তগুলো নিত সেটা তারা নিজেরা করত না। যে সচিব কমিটি নামে একটা বিশাল পাওয়ারফুল কমিটি আছে বা সচিব পাওয়ারফুল সচিবরা আছেন যারা আমলাতন্ত্রের শীর্ষ অবস্থানে তারাই কিন্তু বাস্তবে সিদ্ধান্তটা প্রিভেইল করে তাদের সিদ্ধান্ত তারা যেটা চায় যতটুকু চায় ততটুকুই সরকার করতে বাধ্য হয়। কেন? আনফরচুনেটলি। এটা হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এবং এটার পিছনে কোনো কারণ নিশ্চয়ই এর পিছনে কারণটা বহুমুখী হতে পারে তবে আমার পর্যবেক্ষণে যেটা হচ্ছে যে যখন সরকার যারা দায়িত্বে থাকেন যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন তাদের যদি রাজনৈতিক ভিত্তিটা যদি দুর্বল হয় তাদের নৈতিকতার ভিত্তি যদি দুর্বল হয় তারা যদি এই যে অনিয়ম দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে নিজেদেরকে লাভবান হওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখেন ক্ষমতার অবস্থানটাকে যদি নিজেদের স্বার্থ অর্জনের জন্য উপায় হিসেবে দেখেন তখন কিন্তু তারা তাদের কোটারি বা তাদের সহযোগী তাদেরকে খুঁজতে হয় এবং সেই সহযোগীতা প্রথম স্টেপটা হচ্ছে আমলাতন্ত্র। তাদের কাছে অনেক সময় যখন নির্ভরশীলতা হয় তখন জিম্মি হয়ে যায়। এভাবেই কিন্তু আমাদের দেশে কর্তৃত্ববাদের বিকাশ হয়েছে। বিকাশ হয়েছে কেন আপনি একটু চিন্তা করলে আমরা বুঝতে পারব যে ক্ষমতার অপব্যবহারকে চিরস্থায়ী করার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগটাকে নিজেদের স্বার্থে কোটারি স্বার্থে নিজের স্বার্থে নিজের পরিবারের স্বার্থে নিজের দলের স্বার্থে নিজের চারপাশে যারা আছেন তাদের স্বার্থে বিজনেস গ্রুপের স্বার্থে আমাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগটাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তর মতো করতে হবে। সেই কারণে আমার কি করতে হবে আইন করতে হবে এমন ভাবে যাতে এটা সহায়ক হয় এবং কি করতে হবে আমার প্রতিষ্ঠানগুলো এমন ভাবে দুর্বল করতে হবে দলীয়করণের মাধ্যমে পেশাগত দেউলিয়াপনা সৃষ্টির মাধ্যমে যাতে করে আমি আমার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করতে পারি। ব্যাংক যখন ক্যাপচার করতে হবে তখন ডিটিএফআইকে এনে নিয়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংক ক্যাপচার করতে পারি। এই যে দৃষ্টান্তগুলো এটা তো চোরতন্ত্র। সেখানে কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনি দেখবেন যে আমলাতন্ত্রের একটা পাওয়ারফুল রোল থাকে। তার কারণ হচ্ছে যে নির্ভরশীলতা। আপনি বলতে চাচ্ছেন আমলাতন্ত্রের কাছে সবাই ধরা? বিষয় টা অনেকটা মানে আমি বলব না এটা জেনারালাইজ করা কঠিন। এত কিছু বলছি আমি তা সত্ত্বেও আমি জানি যে আমলাতন্ত্রের মতো ভিতরও অনেক সৎ এবং কি বলব যে অনেস্টলি কাজ করার মতো ইচ্ছা আছে কাজ করে চেষ্টা করছে কণ্ঠাশা হচ্ছে। কণ্ঠাশা হচ্ছে ওরা এক্সটিং প্রজাতির মতো হচ্ছেন তারা বলছেন যে আমার তো আসলে সেই স্পেসটা নাই সাহসও নাই তার কারণ করতে গেলে আমি যেটা হয় নীরবে আমার থাকতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনার যে কমিশনের রিপোর্ট দিয়েছিলেন তাতে ন্যায়পালের কথা বলেছিলেন আপনারা দুদকে যে কমিশনের যারা আছেন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা বলেছিলেন এবং কমিশন গঠনের একটি প্রক্রিয়ার কথাও বলেছিলেন। এগুলোতে বাধা কোথায় ছিল বাস্তবায়নে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: বাধা কোথায় ছিল এটা অন্তত আমার কাছে খুব একটা বোধগম্য নয় একসেপ্ট একসেপ্ট যে একটা অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেও পর্যাপ্ত সদিচ্ছা ছিল না রিফর্ম করতেই হবে রিফর্মের এজেন্ডা সরকারের হাতে এসেছে মানে জনগণ রায় দিয়েছে আন্দোলনের মাধ্যমে। সে কারণে প্রথমে ছয়টা পরবর্তীতে আরও পাঁচটা ১১টা কমিশন করলাম এটাই যেন যথেষ্ট। এটা একটা পর্যায়ে আমি যেহেতু বলছেন আমি একটা অনেস্টলি বলি একটা পর্যায়ে যখন প্রধান উপদেষ্টার সাথে আমাদের একটা বৈঠক হচ্ছিল তখন আমি একটা কোশ্চেন করেছিলাম যে আমরা তো সবাই সংস্কার চাই যখন জাতীয় ঐক্যবদ্ধ কমিশনের আলোচনা চলছে আমরা সবাই সংস্কার চাই এবং সবাই দেশবাসী রক্ত দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদ হিসেবে আপনারা সপরিষদ সংস্কার চাই কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখেছি সংস্কারের আমরা যে চাই প্রতিকূলতা কোত্থেকে আসতে পারে প্রতিবন্ধকতা বা ঝুঁকি কোত্থেকে আসতে পারে। এই বিষয়টা কেন জিজ্ঞাসা করেছিলাম সেটার কারণ হচ্ছে যে যেকোনো কাজ করতে গেলে যে অপরচুনিটি যেরকম দেখতে হয় বিশ্লেষণ করতে হয় সুযোগ নিতে হয় একইভাবে প্রতিকূলতা কোত্থেকে আসবে সেটাকেও ম্যাপিং করতে হয় তারপর বিশ্লেষণ করে আমাকে পদক্ষেপ নিতে হয় যথাযথভাবে। কিন্তু এই প্রশ্নটা সম্পূর্ণ অবান্তর মনে করেছে সবাই। হেসে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে না না সময় পরিবর্তন হয়েছে এখন জিজ্ঞেস করা হচ্ছে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে কোত্থেকে আসবে। আমি আমলাতন্ত্র থেকে আসতে পারে উদাহরণস্বরূপ আমাদের নিজেদের ভিতর থেকে আসতে পারে মিনিং যারা যাদের হাতে ক্ষমতা তাদের ভিতর থেকে আসতে পারে। হেসে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এটার কোনো গুরুত্বই ছিল না। কাজেই আমি মনে করি যে এখানে গোড়াতেই গলদ ছিল এক ধরণের সদিচ্ছার কাছে এক ধরণের এমন একটা ভাব ছিল যে আমাদের আমরা যে অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের ওপর যে রাষ্ট্র যে জনগণ যে দায়িত্বটা দিয়েছে এটিই যেন যথেষ্ট। আমরা যে ডেলিভার করতে হবে ডেলিভার করে এবং ইফেক্টিভলি ডেলিভার করে দেখাতে হবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে ভিত্তিটা তৈরি করতে হবে পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের জন্য সেই সুযোগটা যে ছিল সেটার যথাযথ প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি আনফরচুনেটলি। আপনাদের সময় দুইটি তো অর্ডিন্যান্স হয়েছিল আপনাদের আমাদের মানে আপনাদের যেটি রিপোর্ট দুর্নীতি দমন সংস্কার রিলেটেড একটি একটি হয়েছে। সেটি কি অবস্থা? ওটা তো হয় নাই ওটা আইন হিসেবে পরিণত হয়নি। এটা এক অর্থে সাবেকি কারণ ওটা কিন্তু যথেষ্ট ছিল না যেটা আমি আগে বললাম। দুর্বলতা অনেক আছে এখন হয়তো এটাকে আমরা চেষ্টা করব সরকারের সাথে কাজ করে যথাকানি সম্ভব এটাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আপনি কি নতুন নির্বাচিত সরকার যেহেতু নির্বাচিত এদের কথাই বলছি তাদের সঙ্গে কি আলোচনায় যাবেন? আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে আমরা নতুন সরকারের কাছে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫ ই মার্চ আমরা আমাদের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছি সেটা শুধু দুদক সংস্কার নিয়ে নয় সামগ্রিকভাবে সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার তার আগে যে ৩১ দফা এবং জুলাই সনদ এই তিনটা বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে আমরা দেখেছি যে যেহেতু দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সুশাসন সরকারের অন্যতম প্রধান্যর জায়গা এই বিবেচনায় কি ধরনের কৌশল অবলম্বন করা দরকার কি ধরনের ঝুঁকি অ্যানালাইসিস এর দরকার এগুলো বিষয়ে নিয়ে সামগ্রিকভাবে আমরা সুপারিশ মালা সরকারের হাতে দিয়েছি। এবং আপনারা সংবাদ মাধ্যমে দেখবেন ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার বৈঠকের সুযোগ হয়েছে বিষয়গুলি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়েছে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং আমি যে বার্তাটা পেয়েছি যে তার দিক থেকে সরকারের পক্ষ যেটা অবস্থানটা তিনি বলেছেন যে ইচ্ছা আছে এবং তারা উপলব্ধি করছেন আমাকে বলেছেন যে এই কথাগুলো আপনি বলছেন সেগুলোর সাথে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নাই আমরা চেষ্টা করছি চট করে পারব না আমি অবশ্যই বলেছি যে জঞ্জালের ওপর বর্তমান সরকার দাঁড়িয়ে আছে এটা চট করে অপসারণ করা সম্ভব নয় আমরা জানি কিন্তু কৌশলটা যদি নির্ধারণ করা না হয় এবং প্রতিটা পদে যদি বার্তাটা না নেওয়া হয় যে দুর্নীতি যখন সরকার যখন বিশেষ করে আমলাতন্ত্র এবং তাদের দল ক্ষমতাসীন দলকে যখন হ্যান্ডেল করবেন তখন যদি এই দুর্নীতি বিরোধী বার্তাটা যদি পরিষ্কারভাবে প্রচার না হয় তাহলে ঝুঁকিটা কিন্তু অনেক বৃদ্ধি পাবে এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে সরকার প্রধান একমত হয়েছেন আমরা আশা করব যে ধারাবাহিকতায় কিছু ভালো কাজ হয়তো হবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনার কমিশনের যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন সেই রিপোর্টটি কি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেননি। দেবেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: দুদক সংস্কার রিলেটেড রিপোর্ট না এটা হস্তান্তর করা হয় নাই। ভালো হলো আপনি কোশ্চেনটা করেছেন। কারণ হচ্ছে যে দুদক সংস্কার কমিশনে যে ৪৭ টা সুপারিশ প্রায় শতভাগ সুপারিশ কিন্তু বিএনপি সহ সকল রাজনৈতিক দল মেনে নিয়েছে। খুব দুই একটা জায়গায় বিএনপির তো রিজার্ভেশন নেই বললেই চলে দুই একটা জায়গায় ছিল শুধু একটা বিষয় ছিল যে নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার এটা সিদ্ধান্ত নিবে। উইচ ইজ দ্য টাইম নাউ। বাকি কোনো ক্ষেত্রে কিন্তু বিএনপির সেটা ও রকম নোট অব ডিসেন্ট বলা হয় সেটা ছিল না জামায়াতের ছিল একটা দুইটার বিষয়ে স্পেশালি ওজিপি নামে একটা সুপারিশ আছে ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ সেটার ক্ষেত্রে জামায়াতের অযৌক্তিকভাবেই ইয়ে ছিল নোট অব ডিসেন্ট আছে কিন্তু সেটাকে যদি আমি ফর এ মোমেন্ট ধরে নেই যে যেহেতু সরকার দলের সরকারের দুই তৃতীয়াংশ রায় আছে কাজেই তারা চাইলে জামায়াত না চাইলেও বা বিরোধী দল না চাইলেও সেটাকে যদি সদিচ্ছা থাকে পুশ করতে পারে কাজেই এই বিষয়গুলো তো বিএনপি ওই যে একটু ডিটেইল এ আসা যাক জামায়াতের ওই অংশটুকু যারা বিরোধিতা করল ডিটেইল এ ওরা বিরোধিতা করেছে ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ নামে একটা বৈশ্বিক প্লাটফর্ম আছে সেটাতে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করতে পারছে না অংশগ্রহণ করে নাই। তো আমরা চাই ওইটাতে হলে যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ গভর্নেন্স মানে উন্মুক্ত শাসন পদ্ধতি নিশ্চিত করা যেটা দুর্নীতি প্রতিরোধের অন্যতম একটা মাধ্যম সেটিতে যে প্লাটফর্মে গ্লোবাল অভিজ্ঞতা আছে সেই অভিজ্ঞতার বিনিময় এবং তাদের পরামর্শ সাপেক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার এবং পরিবর্তনের সুযোগ নেয়া। এটা গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল একটা গুড প্র্যাকটিসের অংশ হিসেবে ওইটাতে আমরা সুপারিশ করেছি যে বাংলাদেশ অনতিবিলম্বে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। তো এই জায়গাটা জামায়াতের আপত্তি ছিল আমি জানতে চাইলাম যখন বাইলেটারাল আলোচনা করলাম কমিশনে বসে জামায়াতের সাথে তখন ওনারা বলেন যে না আমাদের তো দেশীয় সংস্কৃতি আছে দেশীয় কি বলব যে ধর্মীয় অনুভূতি আছে ইত্যাদি। তো আমি বললাম যে এটার সাথে ধর্মীয় অনুভূতি বা দেশীয় সংস্কৃতির সম্পর্কটা কোথায়? তো ওনারা জামায়াতের একটা জিনিস হচ্ছে জামায়াত খুব পড়াশুনা করে। তাদের ইনডকট্রিনেশন টা খুব স্ট্রং তো ওরা বলল যে না এখানে ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপে গেলে বাংলাদেশে যে যারা বিভিন্ন লিঙ্গের মানুষ আছে বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ তাদের অধিকার সমঅধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে। তো আই ওয়াজ ইনিশিয়ালি শকড মানে এরকম একটা জিনিস তারা কিভাবে এটাকে এতটা গুরুত্ব মানে এটা তো বরং আরও স্বাগত জানানোর কথা মানুষের লিঙ্গীয় পরিচয় যাই থাকুক না কেন বা তার তার যে সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার যে ধরনেরই হোক না কেন সে তো মানুষ। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি তারা তো জামায়াত তো বলছে যে সকল মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি তো সেই জায়গায় একটা বিহেভিয়ারাল কারণে সে মানুষ হিসেবে গণ্য করা যাবে না সম অধিকার গণ্য করা যাবে এটা আমার কাছে বোধগম্য হচ্ছিল না তারা তারা বারে বারে বলছে না এটা আমাদের কি বলবো যে পার্টি পজিশনের বিরুদ্ধে কাজেই আমরা এটাকে একমত হতে পারছি না। ইট ওয়াজ ডিসাপয়েন্টিং কিন্তু আমি সেটাকে সেজন্য তারা নোট অফ ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছে আর কি। সম্পূর্ণভাবে অবান্তর।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তো কবেকার কথা বলছেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: এটা যখন কনসেনসাস কমিশনে ঐক্যমত কমিশনের কাজ হচ্ছিল তখন। মানে এটা কি জামায়াতের আমীর সহ তারা ছিলেন সবাই? আমীর ছিলেন না তবে তাদের পক্ষের তাদের পক্ষের যারা নেগোসিয়েশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা সবাই ছিল।
রাশেদ আহমেদ: আপনি যেটি বললেন আমার কাছে অবাক লেগেছে যে ছয়জন উপদেষ্টা আপনাদের যে সংস্কার রিপোর্ট সেই রিপোর্ট বাস্তবায়নে তারা বিরোধিতা করেছিলেন। তো সেই সঙ্গে যদি আমি একটি বিষয় সেটির সঙ্গে যদি হিসেব মেলাতে যাই যে ১৮ মাসে ১৮ মাসে আমি কিন্তু নানা দিক থেকে দুর্নীতির খবর বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন জায়গায় পত্রপত্রিকায় মিডিয়ায় যে দুর্নীতি হয়েছে অনেকের নামও শোনা গেছে উপদেষ্টাদের । দুর্নীতি তো তাদের সময়েও হয়েছে তাহলে সংস্কার এবং জনগণের এই যে একটা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি সরকার হলো তাদেরও তো একটা বদনাম হলো।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: ডেফিনেটলি এটা এটা শুনেছেন এবং তখনো শুনেছি এবং আমরা আমাদের কাছে তথ্য এসেছে আমরা দুদকের কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছি দুদক বলেছে হ্যাঁ আমাদের কাছে ওদের কাছে ইনফরমেশন এসেছে আমরা ইনভেস্টিগেট করছি আমরা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছি কিন্তু খুব একটা মানে কোনো সবসময় যে উত্তরটি আসে হ্যাঁ আমরা দেখছি খতিয়ে দেখছি এই পর্যন্তই কার্যকর কিছু হয় নাই দু একটা ক্ষেত্রে বোধহয় কিছু প্রাথমিক অনুসন্ধান হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থবির থেকেছে। এটাও কিন্তু দৃষ্টান্ত যে আসলে ক্ষমতায় থাকাটা যে প্রেক্ষিতেই হোক যার হাতে ক্ষমতা যখন যায় তখন মানুষ কিন্তু ওই একটা অপব্যবহারের সুযোগটা মানে খুব সহজেই নিতে চায় একটা প্রবণতা আছে। আর আপনি যে ধরনের দুর্নীতির কথা বলেছেন তার চেয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হয়েছে দুর্নীতিটাকে শুধু আর্থিক লেনদেন অবৈধ ঘুষ লেনদেন এর মধ্যে কিন্তু সীমাবদ্ধ নয়। যে ক্ষমতার অপব্যবহার স্বার্থের দ্বন্দ্ব পুষ্ট এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এটাও দুর্নীতি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থে সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশী বিদেশী চুক্তি হয়েছে ইনভেস্টমেন্ট কি বলে যে পোর্টের ইয়ে সহ ইনভেস্টমেন্ট সহ বিভিন্ন ধরণের বড় ধরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে যেগুলো কোনো প্রকার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া যথাযথ ক্রয় প্রক্রিয়া বা যথাযথ আইনগত প্রসেস মেইনটেইন না করে সেটা করা হয়েছে। স্বার্থের দ্বন্দ্বের অনেকটি সিদ্ধান্ত ছিল অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে যেটি যে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ তাদের নিজেদের স্বার্থের কারণে সিদ্ধান্ত হয়েছে এরকম সিদ্ধান্ত হয়েছে এগুলো তো দুর্নীতি।
রাশেদ আহমেদ: এটা কি আপনি প্রধান উপদেষ্টার কথা বলছেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: ডেফিনেটলি কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে যেগুলো ওই সরকারের সময়ে এভাবে যে প্রক্রিয়া হয়েছে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।
রাশেদ আহমেদ: সেটা কি আপনি ট্যাক্স মওকুফের কথা বলছেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: এ ধরণের আছে তারপরে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন হয়েছে যেগুলো প্রশ্নবিদ্ধ।
রাশেদ আহমেদ: গ্রামীণ বিশ্ববদ্যালয়ের কথা যেটা বলা হচ্ছে অনুমোদন নেয়া হয়েছে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: হ্যাঁ ডেফিনেটলি যদি ন্যায্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয় তাহলে হতেই পারে। কিন্তু যেভাবে হয়েছে তার সেটার সম্পর্কে প্রশ্নবিদ্ধ। এটা একজন যখন আমি শীর্ষ পদে থাকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকি তখন আমার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্ট স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে আমাকে বিরত থাকার কথা এই প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে থাকার কথা। আমরা আমাদের তো প্রত্যাশা হচ্ছে যে এই বিষয়গুলো তড়িঘড়ি করে ওই সরকারের আমলে না করাটাই যৌক্তিক ছিল বলে আমরা মনে করি। সেগুলো হয়েছে।
রাশেদ আহমেদ: আরেকটি যেমন চুক্তির কথা বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেটি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরে চুক্তি হয়েছে এই বিষয়গুলো অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ কারণ চুক্তির যে শর্তাবলী সেগুলো কিন্তু তখন প্রকাশ করা হয়নি বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের। কিন্তু আপনারা তো তখন তাদের কাছে এক্সেস ছিল আপনাদের। আমাদের এক্সেস ছিল আমরা বলেছিলাম যে তিন দিন আগে এই চুক্তিটা করা ঠিক না। হ্যাঁ আমি বলেছি পাবলিকলি বলেছি পাবলিকলি বলেছি কিন্তু সেটার কোনো মানে সঠিক সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তো আমরা পাইনি। ওটা তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে সেই সিদ্ধান্ত হয়েছে আমরা তো আর সরকারের ভিতরে ছিলাম না আমি তো সরকারের অংশ ছিলাম না। এবং সেটা তো আমার সুযোগও ছিল না। ওই চুক্তির প্রভাব কী পড়তে পারে? প্রভাব কী হবে সেটা তো পরের আলোচনার বিষয়। আমার কথা হচ্ছে যে আমি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এমন প্রক্রিয়ায় নিব যেটি হচ্ছে স্বচ্ছ যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এবং জন এটা জনস্বার্থে। আমরা কি যে যাদের সাথে চুক্তি করছি তারা কি সুবিধা পাচ্ছে তার বিনিময়ে আমরা কি করছি এটা জনগণের জানার অধিকার আছে। ওপেন করবেন না কেন? আমি যে বন্দরের সংশ্লিষ্ট যে চুক্তির কথা বলছি সেখানে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি। আমরা বলেছি যে তোমার এই এই কোম্পানির সাথে তোমার আমাদের এই সরকার চুক্তি করল সেই কোম্পানি দু বছর আগেও মাত্র দু বছর আগে ৪.৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিয়েছে। দুর্নীতির দায়ে। তাদের সাথে তুমি চুক্তিতে ফ্যাসিলিটেট করেছ সো ইউ হ্যাভ দ্য রেসপন্সিবিলিটি তোমারও দায়িত্ব আছে এটা প্রকাশ করা কি শর্তে যাতে করে আমরা সেই একই ধরণের ঝুঁকিতে না পড়ে যাই।
রাশেদ আহমেদ: চট্টগ্রাম বন্দরে যেটি করা হয়েছে? কেনো করলো কি মনে হয় আপনার কাছে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: কেন করল সেই প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট তৎকালীন সরকারি নীতি নির্ধারক বা সরকারে যারা ছিল একজন উপদেষ্টা তৎকালীন উপদেষ্টা এখন বর্তমান সরকারে ও আছে। সেটা ওদের ব্যাখ্যা করার বিষয়। আমার কাছে ফান্ডামেন্টাল কোশ্চেন হলো আমি একজন দুর্নীতি বিরোধী কর্মী হিসেবে সুশাসনের কর্মী হিসেবে বেসিক জিনিসটা হচ্ছে ঠিক আছে আমরা এই চুক্তি করলাম এটা জন সাধারণ জনগণকে জানাব। এই জায়গাটা জনগণের জানার অধিকার আছে বিকজ ইট ইজ ইন পাবলিক ইন্টারেস্ট। না কিন্তু নির্বাচিত সরকার আসলো তারাও তো এটি পাবলিকলি ফ্ল্যাশ করল না তারা পার্লামেন্টে আলোচনা হলো না। করে নাই এখনো পর্যন্ত আমরা আশা করব যে বিষয়গুলো তারা উপলব্ধি করে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় একজন বোধ হয় মন্ত্রী বলেছেন সংসদ মন্ত্রী যে এটা প্রয়োজনে পর্যালোচনা করা যাবে এরকম একটা কিছু যদিও খুব ভ্যাগ। সংসদ সদস্যরাও কেউ কেউ কিন্তু পার্লামেন্টে এটি ওপেনে আলোচনা করতে বলেছেন। এটি প্রকাশের হ্যাঁ সংসদে আলোচনা কিছু টা এসেছে। কিন্তু আমরা আমরা মনে করি যে বর্তমান সরকার যেহেতু স্বচ্ছতার অঙ্গীকার আছে। এবং যে জন রায় টা হয়েছে সেই বলে কিন্তু এই বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে তারা আশা করব যে তারা সেগুলোকে খতিয়ে দেখবেন এবং বিফোর ইট ইজ টু লেট তারা এগুলো পর্যালোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সরকার চাইলে সেটা পরিবর্তন সম্ভব যেমন একইভাবে সংশোধন সম্ভব এবং প্রয়োজনে এটা থেকে অনেক দেশ কিন্তু একই সময়ে মোর অর লেস সেইম টাইমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই যে ট্যারিফ নিয়ে যে চুক্তিগুলো হয়েছে মালয়েশিয়া ফর এক্সাম্পল ওরা কিন্তু উইথড্র করেছে। আমাদেরকেও ওই শক্তি আছে ওটাই ত আমার প্রশ্ন কেন থাকবে না। কেন থাকবে না আমরা নিজেদেরকে কেন ছোট ভাবব আমাদের কেন এটা আমাদের স্বার্থ ফরেইন পলিসি বা ফরেইন রিলেশন টা হচ্ছে যে আমার নিজের স্বার্থ প্রমোট করার জন্য দেশীয় স্বার্থটাকে প্রমোট করার জন্য সেটাকে আমি নিজেদের অন আওয়ার পার্টনারের স্বার্থে আমি নিজেদের স্বার্থটাকে কেন কম্প্রোমাইজ করতে যাব। এটা উইন উইন গেম হতে হবে। বর্তমান যে সরকার ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস হলো মানে তাদের ই টা কেমন দেখছেন আপনার অবজারভেশন টা কি তারা যে পথে চলছে? ইট টু আরলি সাড়ে ৩ মাস। তারপরও আমি যেটা মনে করি যে একটা জিনিস অন্তত খুব পরিষ্কার সেটা হচ্ছে দুইটা জিনিস পরিষ্কার একটা হচ্ছে যে সংসদ হয়েছে সেটা কিন্তু আগের তুলনায় যদিও একটা দুই তৃতীয়াংশ হুইচ ইজ এ ভেরি রিস্ক ফর বাংলাদেশের পলিটিক্স বাংলাদেশের পলিটিক্সে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদে এটার ইতিহাস প্রমাণ করেছে এটা ঝুঁকিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও যেটা হচ্ছে যে অপজিশন বলতে এর আগে যখন দুই তৃতীয়াংশ বা এরকম বিশাল মনোপলিস্টিক পার্লামেন্ট ছিল তখন কিন্তু অপজিশন বলতে যা বুঝে সেটা কিন্তু ছিল না। এই অর্থে এটা কিন্তু একটুখানি বেশ ব্যতিক্রমী। আমরা দেখছি যে অপজিশন যে কয়জন আছে যে দলগুলো আছে যদিও সেখানে অন্য আলোচনার বিষয় আছে যে জামায়াতের উত্থান এত ৩২ শতাংশ ভোট সেগুলো নিয়ে আমাদের শঙ্কার জায়গা তো অবশ্যই আছে। কিন্তু যেটা হচ্ছে যে তুলনামূলকভাবে প্রাণবন্ত আলোচনা বিতর্ক ইত্যাদি হচ্ছে। যেটি অন্তত সরকারকে একটা চাপের মধ্যে রাখার বা সরকার দলকে চাপের মধ্যে রাখার একটা পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এটা দেখার বিষয় যে এটা কতদিন কিভাবে স্থায়ী হয় আর কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যেটি এর আগে আমরা কখনো দেখি নাই। এটা দেশবাসী আপনার শ্রোতারা জানেন দর্শকরা জানেন যেমন শুল্কমুক্ত গাড়ি। এটা অনেকে বলবে ছোট একটা দৃষ্টান্ত একটা সুবিধা পেয়েছিল সেগুলো বাতিল করা হয়েছে এটার কি সো হোয়াট। বাট ইট ইস এন ইমপর্ট্যান্ট থিং এটা যদি না হতো তাহলে তো আমরা ঠিকই আক্ষেপ করতাম যে কেন একটা অযৌক্তিকভাবে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত মানে সুবিধা তারা কেন পাবেন। এটা ভালো দৃষ্টান্ত হয়েছে এবং পরবর্তীতে এটা আইন করে সংসদে এটা বাতিল করা হয়েছে ভবিষ্যতের জন্য। একইভাবে আরো কিছু যেমন পপুলার মানে সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ করে যারা সামাজিকভাবে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ফার্মারস কার্ড এ ধরণের কিছু বলবো যে কার্যক্রম গৃহীত হচ্ছে। খাল খনন এর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুরু হয়েছে এই ধরণের বিষয়গুলো সরকার সরকার প্রধান হিসেবে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন তিনি একটা মানে যেটা অফিস করছেন সচিবালয়ে এবং তার পিছনে যুক্তিটা যেটা বলল এটা আমি যদি এখানে অফিস করি তাহলে আমার মন্ত্রীদের এবং সচিবদের যাতায়াতে যে সময় টা যে পেট্রোল খরচ সেটা বাঁচবে। ইট মিন সামথিং এটা কিছু একটা দৃষ্টান্ত মূলক হতে পারে। অন্য দিক থেকে আশা যাওয়ার পাশাপাশি উদ্বেগের জায়গা যেমন আগে একটু যেটা বললাম একজন মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে দুর্নীতি বলা যাবে না বলছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলো যার একমাত্র ক্রেডেনশিয়াল ফর দ্য ইন ব্যাংকিং সেক্টর হিসেবে যে তিনি ঋণ খেলাপি এবং ঋণ কীভাবে রিসিডিউল করতে হয় সেটা তিনি খুব ভালো করে জানেন। অথবা সবচেয়ে বড় দেশের যেটা পাচারকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠান তার একটা অঙ্গের তিনি কর্ণধার ছিলেন। এই হচ্ছে তার ক্রেডেনশিয়াল। সেই ব্যক্তি ব্যাংকিং সেক্টরের প্রধান হয়ে মানে গভর্নর হওয়া টা ভালো বার্তা ছিল না। দুদকের কমিশনের যে পদত্যাগ এটাও ভালো বার্তা ছিল না। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢালাও ভাবে দলীয় ভাবে ভিসি নিয়োগ বা সিটি কর্পোরেশন গুলোকে চট করে প্রশাসক দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ। স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ এর কার্যালয়ে এমপিদের বসার অফিস তৈরি করে দেওয়া। যেটা লোকাল গভর্নমেন্ট কে ক্ষমতাহীন করার ইচ্ছা এর চেয়ে বেশি আর মানে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত কি হতে পারে। এগুলো সরকার করছে।
রাশেদ আহমেদ: টিআইবি এই মুহূর্তে কোন কাজটি করছে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: আমাদের হাতে একটা বড় গবেষণা শেষ হচ্ছে যেটা হচ্ছে জাতীয় খানা জরিপ দুর্নীতির বিষয়ে যেটা অভিজ্ঞতানির্ভর সেটি আমাদের ২০২৩ এ সর্বশেষ হয়েছিল ২০২৫ এর টা এবার প্রকাশ হচ্ছে এ ধরনের সেবা কাজগুলো আছে। আর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কার কমিশনগুলো সেগুলো গভর্নেন্স এন্টি করাপশন এর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা ট্র্যাকিং করছি মানে পর্যবেক্ষণ করছি কিভাবে হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট এর ওপর একটা গবেষণা করেছি আমরা আবাসন খাতে সেটা আসবে শীঘ্রই আশা করছি। এই ধরনের কাজগুলো আছে আর কি।
রাশেদ আহমেদ: ইফতেখারুজ্জামান আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুন ২০২৬
ড. ইফতেখারুজ্জামান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক। দীর্ঘদিন থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন এবং মানুষকে সজাগ করার জন্য কাজ করছে। গত সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন যেটি করা হয়েছিল তার সভাপতিও ছিলেন তিনি। একটি রিপোর্টও দিয়েছিলেন। সেই রিপোর্টটি নিয়েই ও তার বাস্তবায়নে কোথায় বাধা ছিলো এবং বাংলাদেশের দুর্নীতির সামগ্রিক চিত্র এখন কেমন? এসব বিষয়ে সংবাদের ডিজিটাল সংস্করণের বার্তা প্রধান তার মুখোমুখি হয়েছেন। সেই আলাপচারিতা পুরোটাই তুলে ধরা হলো।
রাশেদ আহমেদ: বাংলাদেশে দুর্নীতি আসলে কমছে না কেন? এই যে মানুষের মধ্যে একটি বড় অংশ দুর্নীতিপরায়ণ এটি কি কোনো মনস্তাত্ত্বিক বিষয় আছে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: মনস্তাত্ত্বিক আছে, একেবারে নেই সেটা বলব না। কিন্তু যেটি যে কারণে এটি কমছে না বা কার্যকর প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না, সেটির অন্যতম দিক হলো যারা দুর্নীতি করে তারা বিচারহীনতা ভোগ করে। আমাদের দেশে আইন আছে, প্রতিষ্ঠান আছে, যথাযথ প্রক্রিয়া নির্ধারিত আছে এবং সরকার বা যাদের উপরে দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব, তাদের অঙ্গীকারও আছে অন্তত মুখে বলা হয়। কিন্তু দুর্নীতি যে একটা অপরাধ, দুর্নীতি যে একটা শাস্তিযোগ্য বিষয় এই বার্তাটা সমাজে পৌঁছানো যায় নাই। বরং যেটা হয়েছে যে দুর্নীতিকে সুরক্ষা দেয়ার মাধ্যমে, বিচারহীনতার মাধ্যমে এটা এক ধরণের স্বাভাবিকতায় রূপান্তর করা হয়েছে। এটা ধারাবাহিকভাবে চলে আসছে। হ্যাঁ অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ আছে এবং আমি বুঝছি যে প্রতিরোধ হচ্ছে না সেই কারণে অনেকটা মেনে নিচ্ছে যে এটাই বাস্তবতা। যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, যারা অবৈধ অর্থের মালিক তাদেরকে সামাজিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্মান করা হয় রীতিমতো। একসময় যেটা আমরা ভেবেছিলাম এটা তাদেরকে অগ্রহণযোগ্য করা হবে। সেই জায়গায় এই যে সম্মান করা হয় এবং এই বাস্তবতার কারণে অনেকেই আমরা মনে করি যে সাধারণ মানুষ এটাকে মেনেও নিচ্ছে। মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। আমি চট করে এখনই একটা দৃষ্টান্ত দিয়ে দেই। আমাদের তরুণদের সাথে আমি কাজ করি আমাদের অভিজ্ঞতায় যেটা দেখি। আমাকে অনেক সময় তরুণরা বলে যে ‘স্যার আপনি যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলছেন এটা তো বাস্তবে আপনি আইনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন’। কেমন? তখন ওরা বলে যে বাংলাদেশে প্রতিবছর কালো টাকাকে বৈধ করার জন্য আইন করা হয় অর্থাৎ বাজেট। শিক্ষার্থীরা তো জানে বাজেট অর্থ যে বাজেট যখন অনুমোদিত হয় এটা কিন্তু আইন হয়ে যায়। অর্থাৎ বাজেটে কালো টাকা বৈধতার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে অর্থাৎ আইনসিদ্ধ হয়ে গেছে। কালো টাকা যারা অবৈধ অর্থের মালিক তাদেরকে আইনসিদ্ধ মানে বৈধ করে দিচ্ছে। আর আপনি বলছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে। কারণ যখন কালো টাকা বৈধ করা হয় তখন মানুষকে বার্তাটা কী দেয়? সরকার বা রাষ্ট্র মানুষকে বার্তাটা দিচ্ছে তুমি সারা বছর দুর্নীতি করো, অনিয়ম করো, আমার কাছে এলে বছরে শেষ ওই কালো টাকাকে বৈধ করে দেবো। এই যে স্বাভাবিকতায় রূপান্তর করা হয়েছে এই কারণে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে না আর একটা হচ্ছে আপনার এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক বিষয় আছে, অনেকে মনে করে আমাদের কালচারাল ইস্যু। আমি বিশ্বাস করি না। কোনো জাতি যে জাতিগতভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত এটা আমি বিশ্বাস করতে চাই না। কোনো মানুষ জন্ম হয়েই দুর্নীতিগ্রস্ত এটা বিশ্বাস করতে চাই না। এটা তার পরিবেশ তাকে বাধ্য করে।
রাশেদ আহমেদ: পরিবেশের কথা বললেন, দুর্নীতির এই পরিবেশটা তৈরি হলো কেন আমাদের এই দেশে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: তৈরি হচ্ছে এই কারণে যে দুর্নীতি করলে পুরস্কৃত হয়। দুর্নীতি করলে তিরস্কৃত হয় না, শাস্তি পেতে হয় না। দুর্নীতিকে যখন সুরক্ষা দেওয়া হয় যখন একজন মন্ত্রী বলে ফেলেন যে চাঁদাবাজিকে দুর্নীতি বলা যাবে না এটা হচ্ছে সমঝোতার লেনদেন, যখন এটা সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কোনো প্রতিবাদ করা হয় না বা কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান নেওয়া হয় না তখন কিন্তু মানুষকে বলা হচ্ছে যে আসলে ওই মন্ত্রীই ঠিক। এর ফলেই আসলে এই ধরণের স্বাভাবিকতা রূপান্তর হয়েছে, মানুষ মেনে নিচ্ছে। অন্য দিক থেকে যে প্রতিষ্ঠানগুলোর উপরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা আমাদের গবেষণায় যেটা দেখা যায় যে মূলত চারটা উপাদান লাগে আপনি যে জিনিসটা জানতে চাচ্ছেন যে কেন দুর্নীতি প্রতিরোধ হচ্ছে না, এটাকে স্বাভাবিক করা হচ্ছে। এটার জন্য কোন একটা পার্টিকুলার ম্যাজিক বুলেট কিন্তু নাই আছে মূলত চারটা উপাদান লাগে। একটা হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা। যার কারণ ক্ষমতা যাদের হাতে থাকে তারা তো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তাদের সদিচ্ছা তাদের সদিচ্ছাটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন। ব্যক্তির পরিচয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে দুর্নীতি অগ্রহণযোগ্য এই কমিটমেন্টটা থাকতে হবে এবং এটাকে প্রয়োগ করতে হবে নিজের ঘর থেকে। দ্বিতীয় যে বিষয়টি হচ্ছে যারা দুর্নীতি করে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এর কোনো বিকল্প নাই। যেই হোক না কেন পরিচয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে থেকে সেটা রাজনৈতিক পরিচয় হোক, ব্যবসায়িক পরিচয় হোক, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় হোক অবস্থানের সামাজিক পরিচয় হোক অবস্থান নির্বিশেষে সবাইকে আইনের চোখে সমান এই বিবেচনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয় হচ্ছে যে এই কাজটা কে করবে? প্রতিষ্ঠানগুলো করবে। আমাদের দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে সেটা কতটুকু কার্যকর সেটা নিয়ে পরে আলোচনা হতে পারে কিন্তু দুদক একা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এর পাশাপাশি আরো অনেক প্রতিষ্ঠান আছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, সংসদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে জাতীয় সংসদে। এই ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলো সমষ্টিগতভাবে যে সক্ষমতা তৈরি করতে যদি পারা যেতো যে অপরাধ বা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রিত হবে তাদের উপরে অর্পিত দায়িত্ব সেটা যথাযথ পালন করতে পারবে তাহলে দেখতাম প্রাতিষ্ঠানিক আইনের কাঠামো তৈরি হত। কিন্তু এই তিনটার পাশাপাশি যেটা দরকার আপনি শুরুতে যে প্রশ্নটা করেছেন সেটা হল মানুষের মধ্যে সচেতনতা। সাধারণ মানুষকেই চাহিদা সৃষ্টি করতে হবে, দুর্নীতিবাজদের ভোট দেয়া যাবে না। অন্যদিক এই জনগণই চাইবে যারা দুর্নীতি করে তাদেরকে বিচার করতে হবে। জনগণই চাইবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে এবং জনগণকেই নিজেরা দুর্নীতি থেকে দূরে থাকবে। এই চারটা উপাদান ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রিত হয় না, আমাদের দেশেও হবে না। বাংলাদেশের সামাজিক পর্যায়ে বা এমনকি বলতে দ্বিধা নেই যে মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান আমরা জেনে শুনে নির্বাচন করি এমন ব্যক্তি যার অর্থের মূল উৎস হচ্ছে অবৈধ লেনদেন বা অবৈধ সূত্র। আমরা জানি এবং তিনি আবার ইমাম সাহেবের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন আমরাও শুনছি। এই যে গ্রহণযোগ্যতা করে ফেলা হয়েছে এটি হচ্ছে অন্যতম কারণ।
রাশেদ আহমেদ: দুর্নীতি বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আপনারা কাজ করেছেন। এমন কি কোনো সেক্টর পেয়েছেন, জন গোষ্ঠী পেয়েছেন তারা দুর্নীতি করেনা দুর্নীতির মানসিকতা তাদের মধ্যে নেই?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: বাংলাদেশে এমন কোনো খাত নেই যেটা দুর্নীতিগ্রস্ত না। তবে কম বেশি হেরফের আছে। আমাদের সুনির্দিষ্ট গবেষণায় দেখা গেছে যে যে প্রতিষ্ঠান বা যে ক্ষেত্রগুলোর উপরে খাতের উপরে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেমন বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে বলা যায় বা গবেষণানির্ভর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই ধরণের প্রতিষ্ঠান প্রশাসন এই ধরণের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কিন্তু দুর্নীতির ব্যাপকতা বেশি। দুর্নীতি দমন কমিশনের উপর অর্পিত দায়িত্ব দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে আইনগতভাবে তার স্পেসিফিক ম্যান্ডেট। অথচ এর মধ্যেই কর্মকর্তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ যেটা দুদক আগে স্বীকার করত না এখন স্বীকার করে উল্লেখযোগ্য অংশ তারা নিজেরা দুর্নীতিগ্রস্ত। আমরা ২০২৩ এ যে গবেষণাটা প্রকাশ করেছি এই বিষয়ে সেখানে মানুষের কাছে প্রশ্ন ছিল অভিজ্ঞতানির্ভর যে আপনি যে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন কেন ঘুষ দিয়েছেন? ৭৯ শতাংশ মানুষ বলেছে আমি তো জানি ঘুষ না দিলে সেবাটা পাবো না। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার যে সমস্ত ক্ষেত্রগুলো আছে আইন প্রয়োগ আইনের প্রয়োগ বিচার। আমি সেবা না দিতে ঘুষ না দিলে সেবা পাবো না। অর্থাৎ এই মানুষ কিন্তু ইচ্ছা করে দুর্নীতি করছে না। বা আমি এনবিআর এর একজন কর্মকর্তা হয়ে হাজার কোটি টাকার মালিক হব ১০০র ঊর্ধ্বে অ্যাপ্যার্টমেন্টের মালিক হব এই যে প্রবণতা এটা তো কোনো ক্যালকুলেশনে মিলে না যে আমার আয় সীমাবদ্ধ তাই দুর্নীতি করতে হবে। এই হিসাবে মিলবে না। যেটা শুরু হয় বাস্তবে বাধ্যবাধকতার কারণে সেটা কিন্তু একসময় লোভের মধ্যে চলে যায় এমন একটা পর্যায়ে যেটা গান্ধীজি একটা কথা বলেছিলেন যে পৃথিবীতে সব মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য বা প্রয়োজন মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ আছে। কিন্তু একজন মানুষের লোভ মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এই বিষয়টা হচ্ছে বাস্তবতা।
রাশেদ আহমেদ: কালো টাকা সাদা করা নিশ্চয়ই এটি একটি অন্যায় কাজ, অবৈধ কাজ। সরকার সেটিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বছর বছর। আপনারাও বলছেন কিন্তু এই যে কালো টাকা সাদা করার আমি তর্কের খাতিরে আপনাকে বলছি এই সুযোগটা যদি না দেওয়া হয় এই টাকাটা পাচার হয়ে যাবে। এমনিই টাকা পাচার হচ্ছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: কালো টাকা সাদা করে কি পাচার বন্ধ করা গিয়েছে কখনো? এটা বন্ধ করা যাবে কখনো? আমরা যে কারণে এটা অগ্রহণযোগ্য বলি, তিনটা যুক্তি আছে। প্রথম কথা হচ্ছে যে আমাদের সংবিধান যেটা অত্যন্ত একটা মূল্যবান দলিল যতই এটা নিয়ে টানাহেঁচড়া হোক না কেন এটার ২০ এর ২ অনুচ্ছেদে পরিষ্কারভাবে আছে রাষ্ট্র এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করবে যে অবৈধ আয় অগ্রহণযোগ্য হবে। অর্থাৎ কালো টাকাকে বৈধতার সুযোগ নাই আমাদের সংবিধান অনুযায়ী। দ্বিতীয় হচ্ছে যে এটি কিন্তু বাস্তবে যেটা আমি আগে বললাম বাস্তবে কিন্তু জনগণকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে যে তুমি দুর্নীতি করো দুর্নীতি করলে সেটাকে কোনো অপরাধ না আমি সেটাকে মেনে নিব। অর্থাৎ দুর্নীতি সহায়ক এইটা। সংবিধান পরিপন্থী দুর্নীতির সহায়ক। তৃতীয় হচ্ছে এটা বৈষম্যমূলক। যেভাবে করা হয় সেটা হচ্ছে যারা দুর্নীতি করছেন তাদের যেখানে শাস্তি দেওয়ার কথা সেটা না দিয়ে আপনি বৈধ প্রক্রিয়ায় উপার্জন করছেন আপনাকে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কোনো কোনো বছর কর দিতে হয় আর আমি অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছি কালো টাকার মালিক আমাকে ১০ শতাংশ কি ১৫ শতাংশ জরিমানা দিতে হয়। এটা কোন দেশের আইন অনুযায়ী বা নৈতিকতা অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য হতে পারে এটা তো যে অপরাধ করেছে তাকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে আর যে সততার সাথে কাজ করছে তাকে তিরস্কৃত করা হচ্ছে। কাজেই এটা বৈষম্যমূলক। এটা একটা বিশেষ শ্রেণী এক বা একাধিক বিশেষ শ্রেণী যাদের লবি পাওয়ার খুব স্ট্রং তাদের চাপে সরকারের একাংশ অনেক সময় নতি স্বীকার করে আমলাতন্ত্রের সাথে যোগসাজশ এবং এটার বাজেট ওই সময় এটা করে ফেলা হয়। এদের মধ্যে বড় একটি অংশ আছে বড় বড় ব্যবসায়ী যারা আছে বাংলাদেশে। বড় বড় ব্যবসায়ী বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো এত প্রভাবশালী যে তাদের এই চাপটাকে সরকার মেনে নিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক চাপে শেষ পর্যন্ত তারা সরে এসেছিল। কিন্তু বর্তমানে আবার সেটি করা হচ্ছে। আমরা আশা করব যে বর্তমান সরকার সেটা করবে না কারণ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো কথা আছে অঙ্গীকার আছে। তাদের ৩১ দফাতে ছিল জুলাই সনদে আছে যেটা তারা বলছে অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে তাহলে কেন দুর্নীতি সহায়ক এরকম একটা ধারা তারা রাখবেন ?
রাশেদ আহমেদ: না হলে উপায় কি?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: আমি আগে বললাম যে যারা যেটা করে যাদের উপরে ওভারসাইট। আমি একজন কর্মচারী বা কর্মকর্তা আমি অবৈধ লেনদেন করছি। আমার নজরদারি করার কথা আপনার। আপনি যেটা জেনে শুনেও যদি আমাকে নিয়ন্ত্রণে না আনেন আমাকে জবাবদিহি না করেন বরং আপনি যদি সেটার অংশীদার হন তাহলে তো এখানে একটা সিন্ডিকেট হয়ে গেল। প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করল এটা একটা অন্যতম কারণ। তবে এটা প্রতিরোধ এটাকে প্রতিরোধ করতে হবে অর্থাৎ যারা অনিয়ম করছে দুর্নীতি করছে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দ্বিতীয় যে বিষয়টা সেটা হচ্ছে আপনি যে সেবার খাতগুলো যেমন কাস্টমসের কথা বলছেন, রাজস্বের কথা বলি,স্বাস্থ্য সেবা খাত, সাব রেজিস্ট্রি অফিস, দলিল করতে গেলে একটা বাড়তি টাকা দিতে হয়, পুরোপুরিভাবে ভূমি খাত বা শিক্ষা স্বাস্থ্য যেগুলোতে যেমন হাসপাতালে স্ট্রেচার বয়কে ঘুষ না দিলে সে স্ট্রেচার চালাবে না এই যে ধরণের বিষয়গুলো সামগ্রিকভাবে যে সেবা খাত যেটা আছে সেটা আপনি শুরুতে দুদক সংস্কার কমিশনের কথা বলেছিলেন সেখানে একটা অত্যন্ত মানে আমাদের গবেষণালব্ধ এই কমিশনের কাজের অংশ হিসেবে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী খুব একটা বিশাল ব্যয়বহুল না একটা খুবই কংক্রিট স্পেসিফিক রিকমেন্ডেশন আছে পুরো সেবার খাতগুলোকে ডিজিটালাইজ করতে হবে। যে সেবার খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিপ্রবণ সেখানে কিন্তু যেটা অভিজ্ঞতায় দেখা যায় সার্ভিস প্রোভাইডার যিনি তার সাথে যখন সেবাগ্রহীতার ডাইরেক্ট ইন্টারেকশন এর সুযোগ থাকে তখনই কিন্তু লেনদেনের সুযোগটা হয়। আপনি দেখেন ভূমি খাতে যে সেবাগুলো পার্শিয়ালি হলেও ডিজিটালাইজ হয়েছে সেখানে কিন্তু দুর্নীতিটা কমেছে একটুখানি হলেও কমেছে কিন্তু সেটার সামগ্রিক প্রভাবটা হয়নি তার কারণ হচ্ছে চূড়ান্ত বিবেচনায় আবার সেখানে ফাঁক রেখেই দেওয়া হয়েছে আপনার ডকুমেন্টটা প্রিন্ট করার জন্য আপনার সেই অফিসে যেতেই হবে তখনই আপনাকে ঘুষ দিতে হবে। এই যে আংশিক যতটুকু হোক আংশিকভাবে করা হয়েছে রোবাস্টলি পর্যাপ্তভাবে করা হয়নি এজন্য অন্যতম মাধ্যম পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় ডিজিটালাইজেশন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
রাশেদ আহমেদ: প্রতিকার এবং প্রতিরোধের জন্য দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আপনারা সেই সংস্কারের জন্য কিছু সুপারিশ করেছিলেন ৪৭ টি সুপারিশ সম্ভবত দিয়েছিলেন সেটি আটকে গেল কেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: দুর্ভাগ্যের বিষয় অনেক ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে তো বিশাল রক্তের বিনিময়ে যে সুযোগটা সৃষ্টি হয়েছিল জুলাই আন্দোলনের যারা শহীদ হয়েছেন তাদের আত্মত্যাগ যারা আহত হয়েছেন সেটার মধ্যে তিনটা জিনিস তো ছিল বিচার রাষ্ট্র সংস্কার নির্বাচন। প্রথমটি বিচারের ক্ষেত্রে যেটা হচ্ছে যে সেখানে অনেক প্রশ্ন আছে কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিচারের নামে কিছুটা বলব যে প্রতিশোধমূলক কার্যক্রম হচ্ছে সেগুলো নিয়ে আমরা আলোচনা করছি না অন্য সময় আলোচনা করা যাবে। নির্বাচন হয়েছে সুষ্ঠুভাবে এবং নতুন সরকার হয়েছে মাঝখানে যেটা মূল বিষয়টা রাষ্ট্র সংস্কার যেটি আন্দোলনের একটা বিশাল স্লোগান ছিল। তার মধ্যে অন্যতম একটা ছিল যে অ্যাকাউন্টাবল গভর্ন্যান্স বা জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা এবং সেটার অন্যতম হাতিয়ার ছিল দুদক সংস্কার কমিশন করা হয়েছিল অন্যান্য কমিশনগুলো একই মেইন থিমটা কিন্তু একই অ্যাকাউন্টাবল গভর্ন্যান্স। দুদক একটা স্পেসিফিক রিলেটেড দুর্নীতি রিলেটেড। এখন যে প্রতিবেদনগুলো আটকে গেল কেন? আটকে গেল প্রথম কথা হচ্ছে যে ভিত্তিটা তৈরি করল খুঁটিটা রেখে গেল অন্তর্বর্তী সরকার সেটাকে দুর্বল করে রেখে গিয়েছে। যদিও আমরা ইন্ডিপেন্ডেন্টলি কমিশন হিসেবে কাজ করেছি যে কমিশনগুলো হয়েছিল ১১টা কমিশন প্রত্যেকটা কমিশনের কাছ থেকেই সরকারের চাহিদা অনুযায়ী আমরা কিন্তু আশু করণীয় কতগুলো সুপারিশমালা দিয়েছিলাম যেগুলো অন্তর্বর্তী সরকার সরকারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করার মতো সক্ষমতা ছিল সুযোগ ছিল এবং সময়ও ছিল। সেটি আসলে বাস্তবে এমন কোনো দৃষ্টান্ত উল্লেখযোগ্য নাই দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ সহ যেগুলো তারা করতে পেরেছে করে নাই করতে পারে নাই কেন করতে পারে নাই সেটা আমরা পরে আলোচনা করব একটুখানি। আর দ্বিতীয় হচ্ছে যে এটা হচ্ছে আশু করণীয় এরপর সংস্কার আইনের সংস্কার জনিত যে বিষয়গুলো সেগুলো দেখা গেল যে ওই সময় কি মনে যে গুলো তড়িঘড়ি করে কিছু অধ্যাদেশ হয়েছে দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দুদক আইন যেটা ছিল ২০০৪ সেটাকে সংশোধন করে অধ্যাদেশ করেছে। নামমাত্র সংস্কার করেছে অধ্যাদেশটায়। সুপারিশের যে মৌলিক কৌশলগত বিষয়গুলো ছিল সেগুলো উদ্দেশ্যমূলকভাবে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমি বলব বাইপাস করে বাদ দিয়ে একটা অধ্যাদেশ করেছে। আমি বিস্তারিত যেতে পারব না সময়ের ঘাটতির কারণে আমি শুধু এইটুকু বলব বাইপাস করা হলো মানে ষড়যন্ত্র কোথায় হলো সেটি আমি একটা দৃষ্টান্ত আপনাকে দেই যেমন আমরা চাই দুদক সর্বোচ্চ সম্ভব স্বাধীনতা পাবে কিন্তু স্বাধীনতার পাশাপাশি কোনো স্বাধীনতা জবাবদিহি না এই বিষয়ট কিন্তু দুদক আইনে নাই দুদক প্রতিষ্ঠানের জন্য নাই যে কারণে দুদককে ব্যবহার করা হয়েছে নিজেদের সুরক্ষা যারা ক্ষমতায় থাকে তাদের সুরক্ষার জন্য আর যারা বাইরে থাকে ক্ষমতার বাইরে তাদেরকে হ্যারাস করার জন্য নাজেহাল করার জন্য। এই যে সুরক্ষা নাজেহাল করা হচ্ছে কেন করা হচ্ছে, সেই জবাবদিহিতা তো আমার দরকার এটা কিন্তু নেই। আমরা যেটা সংস্কার কমিশনে দিতে চেয়েছি একদিকে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা চাই ম্যানেজমেন্ট অপারেশনাল ইন্ডিপেনডেন্স প্লাস ফিন্যান্সিয়াল ইন্ডিপেনডেন্স কিন্তু তাকে একটা জবাবদিহির ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে একটা সিম্পল ফর্মুলা বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা দিয়েছিলাম যে এটার জন্য একটা পর্যালোচনা কমিটি স্বাধীন পর্যালোচনা কমিটি আইনগতভাবে তৈরি করা হবে যেটি দুদকের কার্যক্রম ছয় মাস পরপর পর্যালোচনা করে একধারে একটা বিশ্লেষণ করে দুদকের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে দুদকের একটা ফরম্যাটের ওপর ভিত্তি করে বিশ্লেষণ করে গণশুনানি করবে। যাতে করে মানুষ মানুষ আপনারা আমরা সাধারণ মানুষ জিজ্ঞেস করতে পারে যে ভাই এই অভিযোগগুলো কোন বিবেচনায় আপনি আমলে নিয়েছেন আর এগুলো কোন বিবেচনায় ফেলে রেখেছেন? সিম্পল আমি উদাহরণ হিসেবে বলছি। তো এই জিনিসটা কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের সুপারিশের মধ্যে ছিল। আইনের খসড়া হয়েছে আমাদেরকে কমিশনকে কমিশনের কাউকে ইনভল্ব করায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। একটা পর্যায়ে যে আমরা জোর করে দরজা ধাক্কা দিয়ে ঢুকে সেখানে দেখলাম যখন দেখলাম যে এই মূল জিনিসগুলো বাদ তখন আমরা তৎকালীন উপদেষ্টা সহ যারা ইনভলভ ছিল তাদের সাথে আমি সেশনের পর সেশন করেছি, রাজিও হলো। বিলিভ মি মানে যারা ইনভলভ ছিল আমলাতন্ত্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা সহ উপদেষ্টা সহ এবং দুদকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা সহ হ্যাঁ ঠিক আছে কনভিন্সড হলো যে ঠিক আছে কি ভাষাটা হবে সেটাও মেনে নেওয়া হলো। খুশি মনে একটা সন্তুষ্টি হয়ে ফিরলাম দুদিন পরে জানা গেল সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে রাখা হয়নি বাতিল করা হয়েছে। জানতে চাইলাম যে কেন তখন যেটা বলা হল যে শুধু আমলাতন্ত্র না এটার মানে বিরোধিতা করেছে আমাদের সাত জন উপদেষ্টা। অর্থাৎ আমলাতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এখন আমলাতন্ত্র কেন আমি বললাম যে সাত জন উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টা সহ আমাকে প্রধান উপদেষ্টার কথাটা বলা হয়নি সাত জন উপদেষ্টা বলেছেন একই সাথে একমত করে মানে এটা বিরোধিতা করেছে। এখন যেটা হচ্ছে যে কেন হলো না ওই যে আশু করণীয় যে কারণে হয়নি আইনগত বিষয়গুলো যেটা আসলে আরও সাস্টেইনেবল আরও লং টার্ম সলিউশন দেওয়ার মতো সেই একই জিনিসটা কিন্তু রেজিস্ট্যান্সটা বা ঝুঁকিটা এসেছে এবং ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে রেজিস্ট্যান্স এসেছে আমলাতন্ত্র থেকে। আমলাতন্ত্রের চরিত্রটা বুঝতে হবে এবং সেটা কিন্তু শুধু দুদক সংস্কারে ক্ষেত্রে না আমি সুযোগ আমি যেহেতু আপনার সাথে আলোচনা করছি আমি বলে নেই অন্য যে অধ্যাদেশগুলো যেগুলোর মধ্যে সম্ভাবনা ছিল যে ওই যে বললাম যে অ্যাকাউন্টাবল গভর্ন্যান্স জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ সেখানে আসছে যেখানে রেজিস্ট করতে পারেনি বাধ্য হয়ে অধ্যাদেশ সেই বিধানগুলো রেখে যেমন বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে। সৌভাগ্যজনকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশটি স্বাধীন সচিবালয়ের যে অধ্যাদেশটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যে অধ্যাদেশগুলো এগুলোর সাথে আমরা সম্পৃক্ত ছিলাম ঠিক একরকমভাবে যেটাকে পুশ করা হয়েছে অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ভালো যদি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কিছু ভালো দৃষ্টান্ত থাকে তাহলে হচ্ছে এগুলো। দেখা গেল যে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটা হলো যে এই বিষয়গুলো কিন্তু রহিত করা হলো। এই আইনগুলোই যেগুলো আসলে সুযোগটা দেওয়া হয়েছিল যে সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে সেটার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা আইনগত প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হবে। স্বাধীন বিচার সচিবালয় বিচার বিভাগের সচিবালয় বিচার বিভাগের নিয়োগের বিচার নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ স্বাধীনতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা এগুলোর প্রতিরোধটা আসে কোথা থেকে আমলাতন্ত্র থেকে। একই প্রক্রিয়া কিন্তু তারা রহিত করতে পারল এখন যেটা দেখা যাচ্ছে সরকার বলছে যে আমরা এটাকে আরও উন্নত জায়গায় নিয়ে যাব অথচ গত দুই দিন আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে একটা আলোচনা যেটা হয়েছে পর্যালোচনার নামে বা অংশগ্রহণমূলক মতবিনিময়ের নামে সেখানে কিন্তু দেখা গেছে পরিষ্কারভাবেই ওই আগের যে ভূত যারা চায় না জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কার্যকর হোক যারা চায় না বাংলাদেশের জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হোক তারাই প্রিভেইল করছে দুর্ভাগ্যজনক।
রাশেদ আহমেদ: আপনি বললেন আমলাতন্ত্র শক্তিশালী এবং তাদের কারণে এটা হয়েছে। উপদেষ্টারাও তো তাদের দ্বারা কনভিন্স হলো তাহলে দায় তো উপদেষ্টাদেরই।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: আমি যে কথাটা তখন বলেছি এখন রিপিট করছি সেটা হচ্ছে আমার জানামতে আমার পর্যবেক্ষণে বাংলাদেশে সরকার হিসেবে সবচেয়ে পাওয়ারফুল বডি তো হচ্ছে মন্ত্রীপরিষদ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় উপদেষ্টা পরিষদ কিন্তু আমি কনভেন্সড যে উপদেষ্টা পরিষদ তখন আর মন্ত্রীপরিষদ এখন বা আগে যে সিদ্ধান্তগুলো নিত সেটা তারা নিজেরা করত না। যে সচিব কমিটি নামে একটা বিশাল পাওয়ারফুল কমিটি আছে বা সচিব পাওয়ারফুল সচিবরা আছেন যারা আমলাতন্ত্রের শীর্ষ অবস্থানে তারাই কিন্তু বাস্তবে সিদ্ধান্তটা প্রিভেইল করে তাদের সিদ্ধান্ত তারা যেটা চায় যতটুকু চায় ততটুকুই সরকার করতে বাধ্য হয়। কেন? আনফরচুনেটলি। এটা হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এবং এটার পিছনে কোনো কারণ নিশ্চয়ই এর পিছনে কারণটা বহুমুখী হতে পারে তবে আমার পর্যবেক্ষণে যেটা হচ্ছে যে যখন সরকার যারা দায়িত্বে থাকেন যারা সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকেন তাদের যদি রাজনৈতিক ভিত্তিটা যদি দুর্বল হয় তাদের নৈতিকতার ভিত্তি যদি দুর্বল হয় তারা যদি এই যে অনিয়ম দুর্নীতি ক্ষমতার অপব্যবহারের ফলে নিজেদেরকে লাভবান হওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখেন ক্ষমতার অবস্থানটাকে যদি নিজেদের স্বার্থ অর্জনের জন্য উপায় হিসেবে দেখেন তখন কিন্তু তারা তাদের কোটারি বা তাদের সহযোগী তাদেরকে খুঁজতে হয় এবং সেই সহযোগীতা প্রথম স্টেপটা হচ্ছে আমলাতন্ত্র। তাদের কাছে অনেক সময় যখন নির্ভরশীলতা হয় তখন জিম্মি হয়ে যায়। এভাবেই কিন্তু আমাদের দেশে কর্তৃত্ববাদের বিকাশ হয়েছে। বিকাশ হয়েছে কেন আপনি একটু চিন্তা করলে আমরা বুঝতে পারব যে ক্ষমতার অপব্যবহারকে চিরস্থায়ী করার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগটাকে নিজেদের স্বার্থে কোটারি স্বার্থে নিজের স্বার্থে নিজের পরিবারের স্বার্থে নিজের দলের স্বার্থে নিজের চারপাশে যারা আছেন তাদের স্বার্থে বিজনেস গ্রুপের স্বার্থে আমাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগটাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তর মতো করতে হবে। সেই কারণে আমার কি করতে হবে আইন করতে হবে এমন ভাবে যাতে এটা সহায়ক হয় এবং কি করতে হবে আমার প্রতিষ্ঠানগুলো এমন ভাবে দুর্বল করতে হবে দলীয়করণের মাধ্যমে পেশাগত দেউলিয়াপনা সৃষ্টির মাধ্যমে যাতে করে আমি আমার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করতে পারি। ব্যাংক যখন ক্যাপচার করতে হবে তখন ডিটিএফআইকে এনে নিয়ে এসে বাংলাদেশ ব্যাংককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংক ক্যাপচার করতে পারি। এই যে দৃষ্টান্তগুলো এটা তো চোরতন্ত্র। সেখানে কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনি দেখবেন যে আমলাতন্ত্রের একটা পাওয়ারফুল রোল থাকে। তার কারণ হচ্ছে যে নির্ভরশীলতা। আপনি বলতে চাচ্ছেন আমলাতন্ত্রের কাছে সবাই ধরা? বিষয় টা অনেকটা মানে আমি বলব না এটা জেনারালাইজ করা কঠিন। এত কিছু বলছি আমি তা সত্ত্বেও আমি জানি যে আমলাতন্ত্রের মতো ভিতরও অনেক সৎ এবং কি বলব যে অনেস্টলি কাজ করার মতো ইচ্ছা আছে কাজ করে চেষ্টা করছে কণ্ঠাশা হচ্ছে। কণ্ঠাশা হচ্ছে ওরা এক্সটিং প্রজাতির মতো হচ্ছেন তারা বলছেন যে আমার তো আসলে সেই স্পেসটা নাই সাহসও নাই তার কারণ করতে গেলে আমি যেটা হয় নীরবে আমার থাকতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনার যে কমিশনের রিপোর্ট দিয়েছিলেন তাতে ন্যায়পালের কথা বলেছিলেন আপনারা দুদকে যে কমিশনের যারা আছেন তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথা বলেছিলেন এবং কমিশন গঠনের একটি প্রক্রিয়ার কথাও বলেছিলেন। এগুলোতে বাধা কোথায় ছিল বাস্তবায়নে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: বাধা কোথায় ছিল এটা অন্তত আমার কাছে খুব একটা বোধগম্য নয় একসেপ্ট একসেপ্ট যে একটা অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেও পর্যাপ্ত সদিচ্ছা ছিল না রিফর্ম করতেই হবে রিফর্মের এজেন্ডা সরকারের হাতে এসেছে মানে জনগণ রায় দিয়েছে আন্দোলনের মাধ্যমে। সে কারণে প্রথমে ছয়টা পরবর্তীতে আরও পাঁচটা ১১টা কমিশন করলাম এটাই যেন যথেষ্ট। এটা একটা পর্যায়ে আমি যেহেতু বলছেন আমি একটা অনেস্টলি বলি একটা পর্যায়ে যখন প্রধান উপদেষ্টার সাথে আমাদের একটা বৈঠক হচ্ছিল তখন আমি একটা কোশ্চেন করেছিলাম যে আমরা তো সবাই সংস্কার চাই যখন জাতীয় ঐক্যবদ্ধ কমিশনের আলোচনা চলছে আমরা সবাই সংস্কার চাই এবং সবাই দেশবাসী রক্ত দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদ হিসেবে আপনারা সপরিষদ সংস্কার চাই কিন্তু আমরা কি ভেবে দেখেছি সংস্কারের আমরা যে চাই প্রতিকূলতা কোত্থেকে আসতে পারে প্রতিবন্ধকতা বা ঝুঁকি কোত্থেকে আসতে পারে। এই বিষয়টা কেন জিজ্ঞাসা করেছিলাম সেটার কারণ হচ্ছে যে যেকোনো কাজ করতে গেলে যে অপরচুনিটি যেরকম দেখতে হয় বিশ্লেষণ করতে হয় সুযোগ নিতে হয় একইভাবে প্রতিকূলতা কোত্থেকে আসবে সেটাকেও ম্যাপিং করতে হয় তারপর বিশ্লেষণ করে আমাকে পদক্ষেপ নিতে হয় যথাযথভাবে। কিন্তু এই প্রশ্নটা সম্পূর্ণ অবান্তর মনে করেছে সবাই। হেসে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে না না সময় পরিবর্তন হয়েছে এখন জিজ্ঞেস করা হচ্ছে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে কোত্থেকে আসবে। আমি আমলাতন্ত্র থেকে আসতে পারে উদাহরণস্বরূপ আমাদের নিজেদের ভিতর থেকে আসতে পারে মিনিং যারা যাদের হাতে ক্ষমতা তাদের ভিতর থেকে আসতে পারে। হেসে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এটার কোনো গুরুত্বই ছিল না। কাজেই আমি মনে করি যে এখানে গোড়াতেই গলদ ছিল এক ধরণের সদিচ্ছার কাছে এক ধরণের এমন একটা ভাব ছিল যে আমাদের আমরা যে অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের ওপর যে রাষ্ট্র যে জনগণ যে দায়িত্বটা দিয়েছে এটিই যেন যথেষ্ট। আমরা যে ডেলিভার করতে হবে ডেলিভার করে এবং ইফেক্টিভলি ডেলিভার করে দেখাতে হবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে ভিত্তিটা তৈরি করতে হবে পরবর্তীতে নির্বাচিত সরকারের জন্য সেই সুযোগটা যে ছিল সেটার যথাযথ প্রয়োগ করা সম্ভব হয়নি আনফরচুনেটলি। আপনাদের সময় দুইটি তো অর্ডিন্যান্স হয়েছিল আপনাদের আমাদের মানে আপনাদের যেটি রিপোর্ট দুর্নীতি দমন সংস্কার রিলেটেড একটি একটি হয়েছে। সেটি কি অবস্থা? ওটা তো হয় নাই ওটা আইন হিসেবে পরিণত হয়নি। এটা এক অর্থে সাবেকি কারণ ওটা কিন্তু যথেষ্ট ছিল না যেটা আমি আগে বললাম। দুর্বলতা অনেক আছে এখন হয়তো এটাকে আমরা চেষ্টা করব সরকারের সাথে কাজ করে যথাকানি সম্ভব এটাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আপনি কি নতুন নির্বাচিত সরকার যেহেতু নির্বাচিত এদের কথাই বলছি তাদের সঙ্গে কি আলোচনায় যাবেন? আলোচনা ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে আমরা নতুন সরকারের কাছে আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫ ই মার্চ আমরা আমাদের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ প্রস্তাবনা দিয়েছি সেটা শুধু দুদক সংস্কার নিয়ে নয় সামগ্রিকভাবে সরকারের যে নির্বাচনী ইশতেহার তার আগে যে ৩১ দফা এবং জুলাই সনদ এই তিনটা বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে আমরা দেখেছি যে যেহেতু দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সুশাসন সরকারের অন্যতম প্রধান্যর জায়গা এই বিবেচনায় কি ধরনের কৌশল অবলম্বন করা দরকার কি ধরনের ঝুঁকি অ্যানালাইসিস এর দরকার এগুলো বিষয়ে নিয়ে সামগ্রিকভাবে আমরা সুপারিশ মালা সরকারের হাতে দিয়েছি। এবং আপনারা সংবাদ মাধ্যমে দেখবেন ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার বৈঠকের সুযোগ হয়েছে বিষয়গুলি নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়েছে যথেষ্ট আলোচনা হয়েছে এবং আমি যে বার্তাটা পেয়েছি যে তার দিক থেকে সরকারের পক্ষ যেটা অবস্থানটা তিনি বলেছেন যে ইচ্ছা আছে এবং তারা উপলব্ধি করছেন আমাকে বলেছেন যে এই কথাগুলো আপনি বলছেন সেগুলোর সাথে দ্বিমত করার কোনো সুযোগ নাই আমরা চেষ্টা করছি চট করে পারব না আমি অবশ্যই বলেছি যে জঞ্জালের ওপর বর্তমান সরকার দাঁড়িয়ে আছে এটা চট করে অপসারণ করা সম্ভব নয় আমরা জানি কিন্তু কৌশলটা যদি নির্ধারণ করা না হয় এবং প্রতিটা পদে যদি বার্তাটা না নেওয়া হয় যে দুর্নীতি যখন সরকার যখন বিশেষ করে আমলাতন্ত্র এবং তাদের দল ক্ষমতাসীন দলকে যখন হ্যান্ডেল করবেন তখন যদি এই দুর্নীতি বিরোধী বার্তাটা যদি পরিষ্কারভাবে প্রচার না হয় তাহলে ঝুঁকিটা কিন্তু অনেক বৃদ্ধি পাবে এই বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে সরকার প্রধান একমত হয়েছেন আমরা আশা করব যে ধারাবাহিকতায় কিছু ভালো কাজ হয়তো হবে।
রাশেদ আহমেদ: আপনার কমিশনের যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন সেই রিপোর্টটি কি প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেননি। দেবেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: দুদক সংস্কার রিলেটেড রিপোর্ট না এটা হস্তান্তর করা হয় নাই। ভালো হলো আপনি কোশ্চেনটা করেছেন। কারণ হচ্ছে যে দুদক সংস্কার কমিশনে যে ৪৭ টা সুপারিশ প্রায় শতভাগ সুপারিশ কিন্তু বিএনপি সহ সকল রাজনৈতিক দল মেনে নিয়েছে। খুব দুই একটা জায়গায় বিএনপির তো রিজার্ভেশন নেই বললেই চলে দুই একটা জায়গায় ছিল শুধু একটা বিষয় ছিল যে নির্বাচনের পর নির্বাচিত সরকার এটা সিদ্ধান্ত নিবে। উইচ ইজ দ্য টাইম নাউ। বাকি কোনো ক্ষেত্রে কিন্তু বিএনপির সেটা ও রকম নোট অব ডিসেন্ট বলা হয় সেটা ছিল না জামায়াতের ছিল একটা দুইটার বিষয়ে স্পেশালি ওজিপি নামে একটা সুপারিশ আছে ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ সেটার ক্ষেত্রে জামায়াতের অযৌক্তিকভাবেই ইয়ে ছিল নোট অব ডিসেন্ট আছে কিন্তু সেটাকে যদি আমি ফর এ মোমেন্ট ধরে নেই যে যেহেতু সরকার দলের সরকারের দুই তৃতীয়াংশ রায় আছে কাজেই তারা চাইলে জামায়াত না চাইলেও বা বিরোধী দল না চাইলেও সেটাকে যদি সদিচ্ছা থাকে পুশ করতে পারে কাজেই এই বিষয়গুলো তো বিএনপি ওই যে একটু ডিটেইল এ আসা যাক জামায়াতের ওই অংশটুকু যারা বিরোধিতা করল ডিটেইল এ ওরা বিরোধিতা করেছে ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপ নামে একটা বৈশ্বিক প্লাটফর্ম আছে সেটাতে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করতে পারছে না অংশগ্রহণ করে নাই। তো আমরা চাই ওইটাতে হলে যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বচ্ছ গভর্নেন্স মানে উন্মুক্ত শাসন পদ্ধতি নিশ্চিত করা যেটা দুর্নীতি প্রতিরোধের অন্যতম একটা মাধ্যম সেটিতে যে প্লাটফর্মে গ্লোবাল অভিজ্ঞতা আছে সেই অভিজ্ঞতার বিনিময় এবং তাদের পরামর্শ সাপেক্ষে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার এবং পরিবর্তনের সুযোগ নেয়া। এটা গ্লোবাল ইন্টারন্যাশনাল একটা গুড প্র্যাকটিসের অংশ হিসেবে ওইটাতে আমরা সুপারিশ করেছি যে বাংলাদেশ অনতিবিলম্বে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত। তো এই জায়গাটা জামায়াতের আপত্তি ছিল আমি জানতে চাইলাম যখন বাইলেটারাল আলোচনা করলাম কমিশনে বসে জামায়াতের সাথে তখন ওনারা বলেন যে না আমাদের তো দেশীয় সংস্কৃতি আছে দেশীয় কি বলব যে ধর্মীয় অনুভূতি আছে ইত্যাদি। তো আমি বললাম যে এটার সাথে ধর্মীয় অনুভূতি বা দেশীয় সংস্কৃতির সম্পর্কটা কোথায়? তো ওনারা জামায়াতের একটা জিনিস হচ্ছে জামায়াত খুব পড়াশুনা করে। তাদের ইনডকট্রিনেশন টা খুব স্ট্রং তো ওরা বলল যে না এখানে ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপে গেলে বাংলাদেশে যে যারা বিভিন্ন লিঙ্গের মানুষ আছে বিশেষ করে এলজিবিটিকিউ তাদের অধিকার সমঅধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে। তো আই ওয়াজ ইনিশিয়ালি শকড মানে এরকম একটা জিনিস তারা কিভাবে এটাকে এতটা গুরুত্ব মানে এটা তো বরং আরও স্বাগত জানানোর কথা মানুষের লিঙ্গীয় পরিচয় যাই থাকুক না কেন বা তার তার যে সেক্সুয়াল বিহেভিয়ার যে ধরনেরই হোক না কেন সে তো মানুষ। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি তারা তো জামায়াত তো বলছে যে সকল মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি তো সেই জায়গায় একটা বিহেভিয়ারাল কারণে সে মানুষ হিসেবে গণ্য করা যাবে না সম অধিকার গণ্য করা যাবে এটা আমার কাছে বোধগম্য হচ্ছিল না তারা তারা বারে বারে বলছে না এটা আমাদের কি বলবো যে পার্টি পজিশনের বিরুদ্ধে কাজেই আমরা এটাকে একমত হতে পারছি না। ইট ওয়াজ ডিসাপয়েন্টিং কিন্তু আমি সেটাকে সেজন্য তারা নোট অফ ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছে আর কি। সম্পূর্ণভাবে অবান্তর।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তো কবেকার কথা বলছেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: এটা যখন কনসেনসাস কমিশনে ঐক্যমত কমিশনের কাজ হচ্ছিল তখন। মানে এটা কি জামায়াতের আমীর সহ তারা ছিলেন সবাই? আমীর ছিলেন না তবে তাদের পক্ষের তাদের পক্ষের যারা নেগোসিয়েশনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা সবাই ছিল।
রাশেদ আহমেদ: আপনি যেটি বললেন আমার কাছে অবাক লেগেছে যে ছয়জন উপদেষ্টা আপনাদের যে সংস্কার রিপোর্ট সেই রিপোর্ট বাস্তবায়নে তারা বিরোধিতা করেছিলেন। তো সেই সঙ্গে যদি আমি একটি বিষয় সেটির সঙ্গে যদি হিসেব মেলাতে যাই যে ১৮ মাসে ১৮ মাসে আমি কিন্তু নানা দিক থেকে দুর্নীতির খবর বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন জায়গায় পত্রপত্রিকায় মিডিয়ায় যে দুর্নীতি হয়েছে অনেকের নামও শোনা গেছে উপদেষ্টাদের । দুর্নীতি তো তাদের সময়েও হয়েছে তাহলে সংস্কার এবং জনগণের এই যে একটা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি সরকার হলো তাদেরও তো একটা বদনাম হলো।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: ডেফিনেটলি এটা এটা শুনেছেন এবং তখনো শুনেছি এবং আমরা আমাদের কাছে তথ্য এসেছে আমরা দুদকের কাছে সরাসরি জানতে চেয়েছি দুদক বলেছে হ্যাঁ আমাদের কাছে ওদের কাছে ইনফরমেশন এসেছে আমরা ইনভেস্টিগেট করছি আমরা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছি কিন্তু খুব একটা মানে কোনো সবসময় যে উত্তরটি আসে হ্যাঁ আমরা দেখছি খতিয়ে দেখছি এই পর্যন্তই কার্যকর কিছু হয় নাই দু একটা ক্ষেত্রে বোধহয় কিছু প্রাথমিক অনুসন্ধান হয়েছে কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্থবির থেকেছে। এটাও কিন্তু দৃষ্টান্ত যে আসলে ক্ষমতায় থাকাটা যে প্রেক্ষিতেই হোক যার হাতে ক্ষমতা যখন যায় তখন মানুষ কিন্তু ওই একটা অপব্যবহারের সুযোগটা মানে খুব সহজেই নিতে চায় একটা প্রবণতা আছে। আর আপনি যে ধরনের দুর্নীতির কথা বলেছেন তার চেয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হয়েছে দুর্নীতিটাকে শুধু আর্থিক লেনদেন অবৈধ ঘুষ লেনদেন এর মধ্যে কিন্তু সীমাবদ্ধ নয়। যে ক্ষমতার অপব্যবহার স্বার্থের দ্বন্দ্ব পুষ্ট এবং অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ এটাও দুর্নীতি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থে সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশী বিদেশী চুক্তি হয়েছে ইনভেস্টমেন্ট কি বলে যে পোর্টের ইয়ে সহ ইনভেস্টমেন্ট সহ বিভিন্ন ধরণের বড় ধরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে যেগুলো কোনো প্রকার স্বচ্ছ প্রক্রিয়া যথাযথ ক্রয় প্রক্রিয়া বা যথাযথ আইনগত প্রসেস মেইনটেইন না করে সেটা করা হয়েছে। স্বার্থের দ্বন্দ্বের অনেকটি সিদ্ধান্ত ছিল অনেক সিদ্ধান্ত হয়েছে যেটি যে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা শীর্ষ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গ তাদের নিজেদের স্বার্থের কারণে সিদ্ধান্ত হয়েছে এরকম সিদ্ধান্ত হয়েছে এগুলো তো দুর্নীতি।
রাশেদ আহমেদ: এটা কি আপনি প্রধান উপদেষ্টার কথা বলছেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: ডেফিনেটলি কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে যেগুলো ওই সরকারের সময়ে এভাবে যে প্রক্রিয়া হয়েছে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।
রাশেদ আহমেদ: সেটা কি আপনি ট্যাক্স মওকুফের কথা বলছেন?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: এ ধরণের আছে তারপরে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন হয়েছে যেগুলো প্রশ্নবিদ্ধ।
রাশেদ আহমেদ: গ্রামীণ বিশ্ববদ্যালয়ের কথা যেটা বলা হচ্ছে অনুমোদন নেয়া হয়েছে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: হ্যাঁ ডেফিনেটলি যদি ন্যায্য যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয় তাহলে হতেই পারে। কিন্তু যেভাবে হয়েছে তার সেটার সম্পর্কে প্রশ্নবিদ্ধ। এটা একজন যখন আমি শীর্ষ পদে থাকি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকি তখন আমার ব্যক্তিগত সংশ্লিষ্ট স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে আমাকে বিরত থাকার কথা এই প্রক্রিয়ার ঊর্ধ্বে থাকার কথা। আমরা আমাদের তো প্রত্যাশা হচ্ছে যে এই বিষয়গুলো তড়িঘড়ি করে ওই সরকারের আমলে না করাটাই যৌক্তিক ছিল বলে আমরা মনে করি। সেগুলো হয়েছে।
রাশেদ আহমেদ: আরেকটি যেমন চুক্তির কথা বললেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে সেটি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরে চুক্তি হয়েছে এই বিষয়গুলো অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ কারণ চুক্তির যে শর্তাবলী সেগুলো কিন্তু তখন প্রকাশ করা হয়নি বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দরের। কিন্তু আপনারা তো তখন তাদের কাছে এক্সেস ছিল আপনাদের। আমাদের এক্সেস ছিল আমরা বলেছিলাম যে তিন দিন আগে এই চুক্তিটা করা ঠিক না। হ্যাঁ আমি বলেছি পাবলিকলি বলেছি পাবলিকলি বলেছি কিন্তু সেটার কোনো মানে সঠিক সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা তো আমরা পাইনি। ওটা তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছে সেই সিদ্ধান্ত হয়েছে আমরা তো আর সরকারের ভিতরে ছিলাম না আমি তো সরকারের অংশ ছিলাম না। এবং সেটা তো আমার সুযোগও ছিল না। ওই চুক্তির প্রভাব কী পড়তে পারে? প্রভাব কী হবে সেটা তো পরের আলোচনার বিষয়। আমার কথা হচ্ছে যে আমি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এমন প্রক্রিয়ায় নিব যেটি হচ্ছে স্বচ্ছ যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এবং জন এটা জনস্বার্থে। আমরা কি যে যাদের সাথে চুক্তি করছি তারা কি সুবিধা পাচ্ছে তার বিনিময়ে আমরা কি করছি এটা জনগণের জানার অধিকার আছে। ওপেন করবেন না কেন? আমি যে বন্দরের সংশ্লিষ্ট যে চুক্তির কথা বলছি সেখানে সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রদূতের সাথে আমি এটা নিয়ে কথা বলেছি। আমরা বলেছি যে তোমার এই এই কোম্পানির সাথে তোমার আমাদের এই সরকার চুক্তি করল সেই কোম্পানি দু বছর আগেও মাত্র দু বছর আগে ৪.৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিয়েছে। দুর্নীতির দায়ে। তাদের সাথে তুমি চুক্তিতে ফ্যাসিলিটেট করেছ সো ইউ হ্যাভ দ্য রেসপন্সিবিলিটি তোমারও দায়িত্ব আছে এটা প্রকাশ করা কি শর্তে যাতে করে আমরা সেই একই ধরণের ঝুঁকিতে না পড়ে যাই।
রাশেদ আহমেদ: চট্টগ্রাম বন্দরে যেটি করা হয়েছে? কেনো করলো কি মনে হয় আপনার কাছে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: কেন করল সেই প্রশ্নের জবাব সংশ্লিষ্ট তৎকালীন সরকারি নীতি নির্ধারক বা সরকারে যারা ছিল একজন উপদেষ্টা তৎকালীন উপদেষ্টা এখন বর্তমান সরকারে ও আছে। সেটা ওদের ব্যাখ্যা করার বিষয়। আমার কাছে ফান্ডামেন্টাল কোশ্চেন হলো আমি একজন দুর্নীতি বিরোধী কর্মী হিসেবে সুশাসনের কর্মী হিসেবে বেসিক জিনিসটা হচ্ছে ঠিক আছে আমরা এই চুক্তি করলাম এটা জন সাধারণ জনগণকে জানাব। এই জায়গাটা জনগণের জানার অধিকার আছে বিকজ ইট ইজ ইন পাবলিক ইন্টারেস্ট। না কিন্তু নির্বাচিত সরকার আসলো তারাও তো এটি পাবলিকলি ফ্ল্যাশ করল না তারা পার্লামেন্টে আলোচনা হলো না। করে নাই এখনো পর্যন্ত আমরা আশা করব যে বিষয়গুলো তারা উপলব্ধি করে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় একজন বোধ হয় মন্ত্রী বলেছেন সংসদ মন্ত্রী যে এটা প্রয়োজনে পর্যালোচনা করা যাবে এরকম একটা কিছু যদিও খুব ভ্যাগ। সংসদ সদস্যরাও কেউ কেউ কিন্তু পার্লামেন্টে এটি ওপেনে আলোচনা করতে বলেছেন। এটি প্রকাশের হ্যাঁ সংসদে আলোচনা কিছু টা এসেছে। কিন্তু আমরা আমরা মনে করি যে বর্তমান সরকার যেহেতু স্বচ্ছতার অঙ্গীকার আছে। এবং যে জন রায় টা হয়েছে সেই বলে কিন্তু এই বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে তারা আশা করব যে তারা সেগুলোকে খতিয়ে দেখবেন এবং বিফোর ইট ইজ টু লেট তারা এগুলো পর্যালোচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সরকার চাইলে সেটা পরিবর্তন সম্ভব যেমন একইভাবে সংশোধন সম্ভব এবং প্রয়োজনে এটা থেকে অনেক দেশ কিন্তু একই সময়ে মোর অর লেস সেইম টাইমে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই যে ট্যারিফ নিয়ে যে চুক্তিগুলো হয়েছে মালয়েশিয়া ফর এক্সাম্পল ওরা কিন্তু উইথড্র করেছে। আমাদেরকেও ওই শক্তি আছে ওটাই ত আমার প্রশ্ন কেন থাকবে না। কেন থাকবে না আমরা নিজেদেরকে কেন ছোট ভাবব আমাদের কেন এটা আমাদের স্বার্থ ফরেইন পলিসি বা ফরেইন রিলেশন টা হচ্ছে যে আমার নিজের স্বার্থ প্রমোট করার জন্য দেশীয় স্বার্থটাকে প্রমোট করার জন্য সেটাকে আমি নিজেদের অন আওয়ার পার্টনারের স্বার্থে আমি নিজেদের স্বার্থটাকে কেন কম্প্রোমাইজ করতে যাব। এটা উইন উইন গেম হতে হবে। বর্তমান যে সরকার ৩ থেকে সাড়ে ৩ মাস হলো মানে তাদের ই টা কেমন দেখছেন আপনার অবজারভেশন টা কি তারা যে পথে চলছে? ইট টু আরলি সাড়ে ৩ মাস। তারপরও আমি যেটা মনে করি যে একটা জিনিস অন্তত খুব পরিষ্কার সেটা হচ্ছে দুইটা জিনিস পরিষ্কার একটা হচ্ছে যে সংসদ হয়েছে সেটা কিন্তু আগের তুলনায় যদিও একটা দুই তৃতীয়াংশ হুইচ ইজ এ ভেরি রিস্ক ফর বাংলাদেশের পলিটিক্স বাংলাদেশের পলিটিক্সে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদে এটার ইতিহাস প্রমাণ করেছে এটা ঝুঁকিপূর্ণ। তা সত্ত্বেও যেটা হচ্ছে যে অপজিশন বলতে এর আগে যখন দুই তৃতীয়াংশ বা এরকম বিশাল মনোপলিস্টিক পার্লামেন্ট ছিল তখন কিন্তু অপজিশন বলতে যা বুঝে সেটা কিন্তু ছিল না। এই অর্থে এটা কিন্তু একটুখানি বেশ ব্যতিক্রমী। আমরা দেখছি যে অপজিশন যে কয়জন আছে যে দলগুলো আছে যদিও সেখানে অন্য আলোচনার বিষয় আছে যে জামায়াতের উত্থান এত ৩২ শতাংশ ভোট সেগুলো নিয়ে আমাদের শঙ্কার জায়গা তো অবশ্যই আছে। কিন্তু যেটা হচ্ছে যে তুলনামূলকভাবে প্রাণবন্ত আলোচনা বিতর্ক ইত্যাদি হচ্ছে। যেটি অন্তত সরকারকে একটা চাপের মধ্যে রাখার বা সরকার দলকে চাপের মধ্যে রাখার একটা পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এটা দেখার বিষয় যে এটা কতদিন কিভাবে স্থায়ী হয় আর কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যেটি এর আগে আমরা কখনো দেখি নাই। এটা দেশবাসী আপনার শ্রোতারা জানেন দর্শকরা জানেন যেমন শুল্কমুক্ত গাড়ি। এটা অনেকে বলবে ছোট একটা দৃষ্টান্ত একটা সুবিধা পেয়েছিল সেগুলো বাতিল করা হয়েছে এটার কি সো হোয়াট। বাট ইট ইস এন ইমপর্ট্যান্ট থিং এটা যদি না হতো তাহলে তো আমরা ঠিকই আক্ষেপ করতাম যে কেন একটা অযৌক্তিকভাবে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত মানে সুবিধা তারা কেন পাবেন। এটা ভালো দৃষ্টান্ত হয়েছে এবং পরবর্তীতে এটা আইন করে সংসদে এটা বাতিল করা হয়েছে ভবিষ্যতের জন্য। একইভাবে আরো কিছু যেমন পপুলার মানে সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী জনস্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ করে যারা সামাজিকভাবে অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ফার্মারস কার্ড এ ধরণের কিছু বলবো যে কার্যক্রম গৃহীত হচ্ছে। খাল খনন এর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুরু হয়েছে এই ধরণের বিষয়গুলো সরকার সরকার প্রধান হিসেবে কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন তিনি একটা মানে যেটা অফিস করছেন সচিবালয়ে এবং তার পিছনে যুক্তিটা যেটা বলল এটা আমি যদি এখানে অফিস করি তাহলে আমার মন্ত্রীদের এবং সচিবদের যাতায়াতে যে সময় টা যে পেট্রোল খরচ সেটা বাঁচবে। ইট মিন সামথিং এটা কিছু একটা দৃষ্টান্ত মূলক হতে পারে। অন্য দিক থেকে আশা যাওয়ার পাশাপাশি উদ্বেগের জায়গা যেমন আগে একটু যেটা বললাম একজন মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে দুর্নীতি বলা যাবে না বলছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এমন একজন ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলো যার একমাত্র ক্রেডেনশিয়াল ফর দ্য ইন ব্যাংকিং সেক্টর হিসেবে যে তিনি ঋণ খেলাপি এবং ঋণ কীভাবে রিসিডিউল করতে হয় সেটা তিনি খুব ভালো করে জানেন। অথবা সবচেয়ে বড় দেশের যেটা পাচারকারী সংস্থা প্রতিষ্ঠান তার একটা অঙ্গের তিনি কর্ণধার ছিলেন। এই হচ্ছে তার ক্রেডেনশিয়াল। সেই ব্যক্তি ব্যাংকিং সেক্টরের প্রধান হয়ে মানে গভর্নর হওয়া টা ভালো বার্তা ছিল না। দুদকের কমিশনের যে পদত্যাগ এটাও ভালো বার্তা ছিল না। সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢালাও ভাবে দলীয় ভাবে ভিসি নিয়োগ বা সিটি কর্পোরেশন গুলোকে চট করে প্রশাসক দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ। স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ এর কার্যালয়ে এমপিদের বসার অফিস তৈরি করে দেওয়া। যেটা লোকাল গভর্নমেন্ট কে ক্ষমতাহীন করার ইচ্ছা এর চেয়ে বেশি আর মানে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত কি হতে পারে। এগুলো সরকার করছে।
রাশেদ আহমেদ: টিআইবি এই মুহূর্তে কোন কাজটি করছে?
ড. ইফতেখারুজ্জামান: আমাদের হাতে একটা বড় গবেষণা শেষ হচ্ছে যেটা হচ্ছে জাতীয় খানা জরিপ দুর্নীতির বিষয়ে যেটা অভিজ্ঞতানির্ভর সেটি আমাদের ২০২৩ এ সর্বশেষ হয়েছিল ২০২৫ এর টা এবার প্রকাশ হচ্ছে এ ধরনের সেবা কাজগুলো আছে। আর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংস্কার কমিশনগুলো সেগুলো গভর্নেন্স এন্টি করাপশন এর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমরা ট্র্যাকিং করছি মানে পর্যবেক্ষণ করছি কিভাবে হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট এর ওপর একটা গবেষণা করেছি আমরা আবাসন খাতে সেটা আসবে শীঘ্রই আশা করছি। এই ধরনের কাজগুলো আছে আর কি।
রাশেদ আহমেদ: ইফতেখারুজ্জামান আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সময় দেওয়ার জন্য।
ড. ইফতেখারুজ্জামান: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আপনার মতামত লিখুন