ফরহাদ মজহার একজন লেখক, তাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি নানা সংগঠন করেন, সংগঠিত করেন নানা মত। তার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন সংবাদ-এর বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ। তা হুবহু তুলে ধরা হলো।
রাশেদ আহমেদ: প্রথমেই শুরু করি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটি আন্দোলন হয়েছিল বাংলাদেশে। এই আন্দোলনে নানাভাবে আপনার সংশ্লিষ্টতাও ছিল।
ফরহাদ মজহার: গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল।
রাশেদ আহমেদ: ওই আন্দোলনের সাথে ভূ-রাজনীতির যোগাযোগ, সংশ্লিষ্টতা নানাভাবে আমরা দেখেছি।
ফরহাদ মজহার: এটার অনেকগুলো ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তো আছেই, কিন্তু আরও বড় ছিল যে সারাবিশ্বে তরুণদের যে আকাঙ্ক্ষা, তরুণদের নতুন ধরনের বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার যে আকাঙ্ক্ষা, তারই একটা স্ফুরণ আমাদের এখানে ছিল। আরেকটা যেটা ছিল সেটা হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যে দীর্ঘ ব্যবস্থাপনা তার ফলে রাষ্ট্র কিন্তু দুর্নীতির ক্ষেত্র। রাষ্ট্রই দুর্নীতি করে। এটা ব্যক্তির নীতিহীনতা মাত্র নয়। ফলে রাষ্ট্রটাই যেমন গড়ে উঠেছে এই লুটেরা মাফিয়া শ্রেণির দ্বারা। ফলে এর মধ্যে তরুণরা তাদের কিন্তু ভবিষ্যৎ দেখছে না। তাদের বেকারত্ব, তাদের নানারকম ক্ষোভ, এই ক্ষোভের ভিত্তিতে তারা যে আন্দোলনটা করছিল সে সময়ে, এটা পরবর্তীতে বৈষম্যহীনতার একটা জাতীয় প্রশ্ন আকারে হাজির হয়েছে। এবং তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যে ফ্যাসিবাদ, ফ্যাসিস্ট শক্তি, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সমাজের বিভিন্ন স্তরে জনগণের ক্ষোভ। এটাই একটা গণঅভ্যুত্থানের রূপ নিয়েছে। এবং এই গণঅভ্যুত্থানের মানেটা হলো এই যে পুরনো ব্যবস্থা আর চলছে না, আমাদের এখন নতুন ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। তো যেটা ঘটনা ঘটেছে যে ৫ জুলাই একটা গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে কিন্তু পুরনো ব্যবস্থাটা কিন্তু আবার রয়ে গেল। যেহেতু আমরা ৮ তারিখে আবার পুরনো সংবিধান, পুরনো রাষ্ট্র, পুরনো আমলাতন্ত্র, পুরনো অর্থনৈতিক নীতি সবকিছু আগের মতো রেখে দিলাম।
রাশেদ আহমেদ: এই প্রশ্নে আমি আসবো পরে। আমরা যেখানে ছিলাম শুরুতে, জুলাই আন্দোলন। ইদানিং নানাভাবে নানা কথা আসে এটার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফান্ডিং-এর বিষয় ছিল।
ফরহাদ মজহার: প্রথমত এটা তো আমি গণঅভ্যুত্থানের আগেই বলেছি। যারা এখন এটা বলছে এরা তো মূলত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের একটা আকাঙ্ক্ষা থেকে কথাটা বলছে। এটা তো ১৮ আগস্ট জেফ্রি স্যাকসও বলেছে। আমি আগেও বলেছি যে বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আছে তাদের সরাবার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৎপর। ফলে সরকার বদলটা আমাদের লক্ষ্য না। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে রাষ্ট্র কীভাবে আমরা গঠন করবো। তো এখন যারা বিরোধিতা করছে আরও অনেক কথা শুনতেছি যে গণঅভ্যুত্থান ছিল একটা মব, একটা ভিড়। এটা রাইট উইং জামায়াতিরা করেছে। এটা দক্ষিণপন্থীদের উত্থান ঘটেছে এগুলো ননসেন্স, পিউর ননসেন্স। এটা একান্তই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করার একটা তত্ত্ব আকারে আসছে। আর এটা আসছে প্রথমত হলো যে এর আগের উপদেষ্টা সরকারের ব্যর্থতা এবং তার যে ধারাবাহিকতা যেভাবে এখন এই সরকার এসেছে তার যে দুর্বলতা, এর কারণে এরা এই ধরনের কথা বলতে পারছে। আপনি দেখেন কারা এই কথাটা বলছে তাদের তো খুব পরিষ্কার আমি ধরতে পারি। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলুন, কি চীন বলুন, কি ভারত বলুন, আমাদের মতো দেশে প্রত্যেকটা পরাশক্তিরই তো প্রভাব থাকবে। আপনি এই সমীকরণের মধ্যেই তো গণঅভ্যুত্থানটা আপনাকে ঘটাতে হবে। আপনি তো এর বাইরে কিছু পাবেন না। প্রশ্নটা হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান তো ঘটেছে। এই কথাটা বলার মুশকিলটা কোথায় খেয়াল করেন, বিপদটা হচ্ছে আপনি জনগণকে অস্বীকার করছেন। মানে জনগণকে জনগণ যে পুরনো ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা চায় না তারা যে নতুন ধরনের ব্যবস্থা চায় এই বাস্তবতাটাকে আপনি কী করতে চাচ্ছেন? আপনি অস্বীকার করছেন। হ্যাঁ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো এখানে একটা হস্তক্ষেপ ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছিল কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিপক্ষেই গণঅভ্যুত্থানটা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টাকার কথা আমি জানি না। সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে কাজ করেছে মার্কিন অ্যাম্বাসির মাধ্যমে করেছে। এটা তো শাহবাগের সময়ও করেছে। আপনি যখন শাহবাগটা হয় এটা কারা করেছে? যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে ইয়থদের ট্রেনিং দেওয়া, তরুণদের ট্রেনিং দেওয়া এবং ওয়ার অন টেরর যেটা হচ্ছে সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ সেই যুদ্ধের যে টাকা পয়সা এবং সেই সন্ত্রাসী বিরুদ্ধে যুদ্ধের...
রাশেদ আহমেদ: শাহবাগ মানে কখনকার কথা বলছেন?
ফরহাদ মজহার: ওই যে ২০১৩ সালে যে ঘটনাটা ঘটল। আপনি যখন বিচারের কথা বলে আপনি ফাঁসি চাইলেন। আপনি যখন বিচার ব্যবস্থাকে বদলে দিলেন। একটা রায় হয়েছে রায়কে বদলিয়ে আপনি যেহেতু ফাঁসি দেবেন। আপনি এটা করেছেন আপনি হোল বাংলাদেশের জনগণের যে অনুভূতি, তার যে ধর্মের প্রতি একটা আকুতি, তার যে একটা সম্পৃক্ততা এটাকে অস্বীকার করে আপনি কী বলতেছেন? আপনি ফাঁসি চেয়েছেন, বিচারও চাননি, আপনি ফাঁসি দিয়েছেন। এবং সেই সময় এবং শুধু তাই নয়, আপনি ফাঁসি দেওয়ার সময় সেখানে কারা সমর্থন করেছিল? দিল্লি পরিষ্কার সেখানে হস্তক্ষেপ করছিল। আপনার মনে আছে কি না, সে সময়ের তাদের যে আপনার পররাষ্ট্র আপনার যিনি উপদেষ্টা ছিলেন, নাম ভুলে গেছি এখন। তারা এমনকি ভারত থেকে সরাসরি সেখানে হস্তক্ষেপ ছিল। ঘোষণা দিয়ে হস্তক্ষেপ ছিল। আপনি তো, এটা থাকবেই ভূ-রাজনীতিতে। প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের এখানে গণঅভ্যুত্থানটা ডেফিনেটলি জনগণ একটা পরিবর্তন চেয়েছে। এই পরিবর্তনটা চেয়েছিল এই ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের বিপরীতেই তারা করতে পেরেছিল। দেখিয়েছিল যে জনগণের একটা রাজনৈতিক কর্তা শক্তি আছে এবং এটা জেনুইন। এখন এটাকে আমরা নতুন রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারিনি কেন, সেটা হচ্ছে প্রশ্ন। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ইন্টারভিন করা শুরু করেছে।
রাশেদ আহমেদ: কবে থেকে এটা?
ফরহাদ মজহার: আন্দোলনের শেষের দিকে আপনি দেখবেন যে সেফ হাউস করা হয়েছিল বাংলাদেশে। এটা মার্কিন অ্যাম্বাসি করেছিল। যেসব ছেলে তাদের জীবন বিপন্ন বা যেকোনো কারণে তাদের পিছনে ডিজিএফআই অথবা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বলুন তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন অনেক ছেলেদের তারা সেফ হাউসে রেখেছে। এখন বলবেন আমি কী করে জানি, কারণ সেফ হাউসে যারা ছিল তারা শেষের দিকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তারা একটা কথা বারবার আমাকে বলছিল যে, ফরহাদ ভাই আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে? যে শেখ হাসিনার পদত্যাগ তোমরা চাও। আমরা চাচ্ছি ফ্যাসিবাদের বিলোপ, আমরা চাচ্ছি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিলোপ। আর তারা চাচ্ছে শুধু শেখ হাসিনা পদত্যাগ করুক, পুরনো ব্যবস্থা যেমন আছে তেমনি থাকুক এবং একটা ক্ষমতার ট্রানজিশন যেটাকে আপনি রেজিম চেঞ্জ বলেন। ফলে রেজিম চেঞ্জের ব্যাপারটা আগে থেকেই ছিল। তারা সুযোগটা নিয়েছে গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে যখন দমনপীড়নটা চলছিল তখন তরুণ ছাত্রদের একটা অংশকে তারা প্রভাবিত করতে পেরেছিল। এবং একই সঙ্গে গোয়েন্দারা এই তরুণ ছাত্রদের মধ্যে যারা একটু ভিন্ন কথা বলছে যেমন ধরুন তারা এই পুরো ফ্যাসিবাদের বিলোপ চাচ্ছে, তারা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিলোপ চাচ্ছে, তারা নতুন ধরনের রাষ্ট্র গঠন করতে চাচ্ছে, এদের চরিত্র হননের ক্যাম্পেইন তারা করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে ইন্টারভেনশনের প্রসেসটা ফলো করেন আপনি। আপনি দেখতে পারেন। আর আমরা পরবর্তীতে কী দেখলাম? ডক্টর ইউনুসকে যখন দেশে আনা হলো উনি প্রথম কী কাজ করলেন? উনি মাহফুজকে আমেরিকা নিয়ে গেলেন। মাহফুজ তো নেতৃত্বের মধ্যে ছিল না। এটা তো জনগণের ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ছিল, তার মধ্যে শিবির ছিল, বামপন্থীরা ছিল। কোনো একজন ব্যক্তি মাস্টারমাইন্ড, এটা তো কোনো রাজনীতিতে আলোচনার বিষয়ই না। কিন্তু ডক্টর ইউনুস কী করলেন?উনি এখান থেকে নিয়ে চলে গেলেন, তাকে পরিচয় কীভাবে করলেন? মাস্টারমাইন্ড। আর কোথায় করালেন? ক্লিনটন ফাউন্ডেশন। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনটা কী? ক্লিনটন ফাউন্ডেশন হচ্ছে যে ওই যে দুর্নীতিবাজ ক্লিনটন। হিলারি ক্লিনটন, যারা এই বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের জন্য দায়ী। এবং দুর্নীতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তারা নিন্দিত। আপনি ওখানে গিয়ে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। মানে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তখন রিপাবলিকানরা ক্ষমতায়, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, যে রাষ্ট্রের কোনো অনুষ্ঠান সেখানে নয়। একটা প্রাইভেট অনুষ্ঠানেই আপনি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন মাস্টারমাইন্ড। তো নানাভাবে ডক্টর ইউনুস যিনি করেছেন কী না উনি করেছেন সেটা তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। এটা আমি বাইরে থেকে যেটা দেখি তার ফলে আপনি কী বলছেন যে রেজিম চেঞ্জের যে প্রসেসটা এটাকে স্ট্রেনদেন করা। সেটা শক্তিশালী হয়ে গেছে এবং শক্তিশালী হওয়ার মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে আমরা দেখলাম যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমনটি চেয়েছে তেমনি হয়েছে। আপনি ইলেকশন চেয়েছেন তো ইলেকশন দিয়ে চলে গেছেন।
রাশেদ আহমেদ: জুলাই আন্দোলনের ফলাফল কী দাঁড়িয়েছে এখন?
ফরহাদ মাজহার: হাসিনা নাই ইতিবাচক তো বটেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নাই ইতিবাচক তো বটেই। ফলাফল তো খুবই ভালো। আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারছি। আমি তো ২০ বছর কথা বলতে পারিনি। এটা তো ফলাফল ইতিবাচকই। তবে রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করা যায়নি। না পারার কারণ কিন্তু বাইরের শক্তি ইন্টারভেন করেছে তা না। বাইরের শক্তির চেয়ে প্রথম যারা আমরা করতে পারিনি তার জন্য এক নম্বর হলো সাংবাদিকরা দায়ী। যেমন প্রথম প্রত্যেকটা সাংবাদিক যখন এই ডক্টর ইউনুসের যে সরকার সম্পর্কে কথা বলে তারা বলে এটা অন্তর্বর্তী সরকার। আমাদের তো কোনো অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আপনি হেন কোনো সাংবাদিক পাবেন না যে ভুলে যাচ্ছে যে আমরা এটা উপদেষ্টা সরকার গঠন করেছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয়।
রাশেদ আহমেদ: সরকারিভাবে কী বলা হয়েছে?
ফরহাদ মজহার: কী বলেছে, অন্তর্বর্তী বলেছে?
রাশেদ আহমেদ: অন্তর্বর্তী সরকার।
ফরহাদ মজহার: কেন? সরকার তো উপদেষ্টা আকারে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানেটা কী? এটা তো অন্তর্বর্তীকালীন ছিল না। এটা ছিল সেনাবাহিনী সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার। যেহেতু সেনাবাহিনী এ ধরনের সরকারকে সমর্থন করেছে ফলে এই সরকার টিকেছে। এবং সেনাবাহিনীর তরফে পরবর্তীতে কালের কণ্ঠে আপনার প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দীন চুপ্পু যে কথা বলেছেন, সেখানে পরিষ্কার তিনি বলেছেন যে কে কে এই ধরনের সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। ডক্টর ইউনুস নন, টিকিয়ে রেখেছেন যিনি প্রেসিডেন্ট তিনি, তিনজন জেনারেল এবং বিএনপি। তাহলে কেন আমি সাংবাদিকদের দায়ী করি সাংবাদিকদেরই উচিত ছিল এটা পরিষ্কার করা যে এটা অন্তর্বর্তী সরকার নয় এটা উপদেষ্টা সরকার। ডক্টর ইউনুসকে আমরা কী বলেছি? আমরা কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান বলতাম? তিনি লিগ্যালি কী ছিলেন? তিনি উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি কাকে উপদেশ দিতেন? প্রেসিডেন্টকে উপদেশ দিতেন লিগ্যালি।
রাশেদ আহমেদ: প্রেসিডেন্টের সাথে তো ইউনূসের কথাবার্তাই হতো না।
ফরহাদ মজহার: সেটা তো আপনি অন্য তর্কে চলে গেলেন। লিগ্যালি কনস্টিটিউশনালি ছিল উপদেষ্টা সরকার। কেন আমি সাংবাদিকদের দায়ী করছি আপনি যখনই এই বয়ানটা দেন এই ভাষাটা তৈরি করেন তখন স্বভাবতই আপনি বিভ্রান্ত করেন মানুষকে। কারণ ২৪-এর ৮ জুলাই তারিখে যে উপদেষ্টা সরকার গঠিত হয়েছিল সেজন্য প্রথম থেকে আমি সমালোচনা করছিলাম। কেন সমালোচনা করছিলাম? আমার দাবি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করাটা ছিল ডক্টর ইউনুসের কর্তব্য। কারণ তিনি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এসেছেন। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে আসেননি। ফলে তাকে পূর্ণ ক্ষমতা যদি দেওয়া হতো তাহলে এটা হতো একটা পূর্ণ ক্ষমতা সম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে একটা নতুন গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করতে পারত। এটা হচ্ছে লিগ্যাল পলিটিকাল কোয়েশ্চেন। তো এটা আমরা করতে পারিনি। ইউনূস স্বেচ্ছায় শেখ হাসিনার সংবিধান কায়েম করেছেন। এখন শেখ হাসিনার সংবিধানকে তিনি যদি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন তিনি নিজেকে নিজে কিন্তু অবৈধ করলেন আইনগতভাবে। কারণ এরকম কোনো সরকারের বিধান কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধানে নাই। দুই নম্বর হলো তিনি তো ইলেকশন দিতে পারেন না। কারণ ইলেকশন তো হবার কথা ২০২৯ সালে যদি আপনি সংবিধান মানেন। তাহলে আপনি ক্রমাগত সংবিধান বিরোধী কাজ করেছেন ইন দ্য নেম অব এই তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটা করতে পারত কেন? কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা আসে গণঅভ্যুত্থান থেকে। কিন্তু ডক্টর ইউনুস নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে বৈধতা তিনি নিবেন শেখ হাসিনার সংবিধান থেকে। ফলে এই কন্ট্রাডিকশনটা স্পষ্ট করার দায়িত্বটা আমার ছিল না এটা সাংবাদিকদের ছিল। সাংবাদিকরা এই কাজটা করেনি। ফলে এই রেজিম চেঞ্জের ক্ষেত্রে সবার আগে যদি কাউকে দোষী করতে হয় তারা হবেন সাংবাদিক মহল।
রাশেদ আহমেদ: একটি সরকারের একটা বৈধতার প্রশ্ন আসে। সেই বৈধতা তো আপনার সাংবিধানিকভাবেই আসতে হয়।
ফরহাদ মজহার: কে বলল আপনাকে? তাহলে পৃথিবীতে গণঅভ্যুত্থান হয়নি? তাহলে তো আপনার একাত্তরে সংবিধানকে পোস্টপোন করতে হতো সেটা তো করার। সংবিধানকে উৎখাত করতে হতো। এই যে আপনি ভুল করছেন এটা হচ্ছে এই ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ডেফিনেটলি বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের গঠন বা পৃথিবীতে গণঅভ্যুত্থানের পরে কী হয় এটা একটা প্রশিক্ষণ দরকার আছে তাদের। তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জটা কিন্তু আসে যে টাকা দিয়ে করেছি তা না কিন্তু অজ্ঞতার দ্বারা ঘটেছে। অজ্ঞতার দ্বারা কীভাবে ঘটেছে বলি, সরকার এবং রাষ্ট্রের পার্থক্য আমাদের সমাজে অস্পষ্ট। দ্বিতীয় যাদের আমি দায়ী করব বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক মহল এবং একাডেমিক মহল। কারণ তারা সরকার এবং রাষ্ট্রের ফারাকটা আমাদের করতে শেখাননি। ফলে তরুণরা বিভ্রান্ত হয়েছে। কারণ আমরা তো নতুন সরকার গঠন করতে যাইনি, নতুন রাষ্ট্র গঠন করবার জন্য গণঅভ্যুত্থান করেছি। ফলে দেখুন রেজিম চেঞ্জ যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আঙ্গুল তোলেন তখন আঙ্গুলটা সাংবাদিকদের প্রতি প্রথম তুলতে হবে নিজের প্রতি দেখাতে হবে যে আমাদের ত্রুটিটা কী ছিল। তখন যখন যে তর্কগুলো আমি করেছি বারবারই বলেছি যে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে উপদেষ্টা সরকার নয়। উপদেষ্টা সরকার তো আপনার শেখ হাসিনার সংবিধানের অধীনে আপনি একজন উপদেষ্টা বসিয়েছেন ডক্টর ইউনুসকে। দুই নম্বর তারা প্রথমে বলেছে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। আমি যখন প্রশ্ন তুললাম কাগজ কই। বলে এটা প্রেসিডেন্টের কাছে আছে। কিন্তু এরপরে যখন প্রেসিডেন্ট বলল তার কাছে নাই আপনি প্রেসিডেন্টকে সরালেন না কেন? তাহলে কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করছেন? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো এই দেশের অজ্ঞ বুদ্ধিজীবী অজ্ঞ সাংবাদিক তাদের ঘাড়ের ওপরে তো এই কাজটা করেছে।
রাশেদ আহমেদ: তরুণদের সঙ্গে আপনি ছিলেন। আপনি তো তাদের পরামর্শ দিতেন। তারা আপনার প্রক্রিয়ায় এলো না কেন?
ফরহাদ মজহার: তরুণদের কথা কেন বলেন? আমি কি সাংবাদিকের সাথে কথা বলিনি? বলেছি। তাহলে তরুণদের মানেটা কী? এটা তো অর্থ না আমি তো সমাজের সবস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তরুণরা আমার কথা শুনতে এসেছে এবং আমি তাদের অউন করি। আমি মনে করি তরুণরা যেটা করতে পেরেছে এটা বিরাট কাজ করেছে।
সাংবাদিক ছাড়া যাদের দায়ী করা যায় সেটা হলো বাংলাদেশের বাম মহল। কারণ বামরা প্রথম থেকে তরুণদের বিরোধিতা করেছে। শুধু তাই নয় আপনি দেখবেন যে এর আগে দ্রোহ যাত্রা করেছিল তারা। মনে আছে কি না এবং তারাই কিন্তু প্রথম বক্তব্য দেয় যে শেখ হাসিনার পদত্যাগ করতে হবে এটা কিন্তু তরুণদের বক্তব্য ছিল না কখনো। তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তারা ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমার বই ২০২৩ সালে গণঅভ্যুত্থান গঠন বেরিয়ে গেছে। কী করে একটা নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে হবে তার তাত্ত্বিক বক্তব্য তো আমি দিয়েছি। ফলে এই লড়াইটাকে আপনি খালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসে আপনাকে বদলে দিয়েছে এগুলো ননসেন্স তত্ত্ব। আপনি নিজে মানে আমরা আমাদের সোসাইটির মধ্যে যে মহলগুলো বিভিন্ন শ্রেণি যারা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করে তারা টাকা পেলেও করে টাকা না পেলেও করে। খালি টাকা দিয়ে করতে হয় একটা যুক্তি থাকতে পারত। কিন্তু বাংলাদেশে আপনি দেখবেন যে দিল্লির পক্ষে তারা কাজ করে। এটা যদি কোনো টাকা পায় তাও না বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যারা কাজ করে তারা কি টাকা পায় সব সময়? তারা তো সবসময় টাকা পায় না ,তাদের চিন্তাই তো এরকম। যেমন আমি একটা ছোট উদাহরণ দিই ইদানীং শুনি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র না হলে দিল্লিকে নাকি মোকাবেলা করা যাবে না। তো এটা কি টাকা দিয়ে মতকে তৈরি করছে? আপনি সমাজে বহু লোক পাবেন এমন টাকা ছাড়া পক্ষে মত দেয়। ওদের চিন্তাটা এরকম যে আমি নিজে কিছু করব না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসে আমাকে দিল্লিকে ঠেকিয়ে দিবে।
রাশেদ আহমেদ: জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখতে পেয়েছি দেশে একটি মৌলবাদী শক্তি উত্থান হয়েছে।
ফরহাদ মজহার: মৌলবাদী কী আমাকে বুঝিয়ে বলেন?
রাশেদ আহমেদ: ধর্মীয়ভাবে যারা...
ফরহাদ মজহার: জাতীয়তাবাদী মৌলবাদ না?
রাশেদ আহমেদ: উগ্রবাদী যেটি।
ফরহাদ মজহার: বাঙালি জাতীয়তাবাদ উগ্রবাদ না? ফ্যাসিবাদ না? আপনি এই পর্যন্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে ওয়ার অন টেরর করেছেন না? আপনি সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ করেছেন না? আপনি ইসলামিস্টদের হত্যা করেছেন না? আপনি ধরে নিয়ে গেছেন না অন্যায়ভাবে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে গাজা মাটিতে মিশিয়ে দিল, এই যে যুদ্ধ করছে ইরান বিরোধী এর বিরুদ্ধে কিছু বলছেন না কীসের মৌলবাদ? কাকে মৌলবাদ বলেন? মৌলবাদ কী?
রাশেদ আহমেদ: আমাদের এখানে একটি উগ্রপন্থীগোষ্ঠী মাজার ভাঙালো, মব করলো।
ফরহাদ মজহার: ভেরি গুড সেটা বলেন। মাজারটা কারা ভাঙতেছে? মাজারটা ভাঙতেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এবং ইসরায়েলের পক্ষে তারা বাংলাদেশে কাজ করছে। ওরাও করছে আর যারা তথাকথিত মৌলবাদ বলে উভয় কিন্তু একই। একই মুদ্রার এ পিঠ আর ও পিঠ। আপনি মাজার যারা ভাঙে তারা প্রমাণ করে ইন্টারন্যাশনালি যে বাংলাদেশে মাজারটা হলো মূল প্রবলেম। তাদের যে অথরিটি এই যে পেট্রো ডলার ভিত্তিক ইসলামের যে পরকালবাদী ব্যাখ্যা এই ব্যাখ্যাটাই তো এসেছে শেখ হাসিনার আমলেই বড় বড় মসজিদ হয়েছে। যেগুলোর এখন বলতেছে যে এগুলোর নাকি টাকা দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতির চেয়ে ভয়াবহ হলো আপনি বড় বড় মসজিদ করেছেন। কিন্তু ইসলামের কী ইন্টারপ্রিটেশন আপনি দিয়েছেন? ওই সৌদি আরবের ইন্টারপ্রিটেশন দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য ইন্টারপ্রিটেশন দিয়েছেন। তাহলে মধ্যপ্রাচ্য এবং সৌদি আরবের ইন্টারপ্রিটেশনটা কাদের ইন্টারপ্রিটেশন? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারপ্রিটেশন। তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং হিন্দুত্ববাদী শক্তি ইসলামের যে ব্যাখ্যা দেয় এই ব্যাখ্যাটাই তো হাজির করেন একে আপনি মৌলবাদ বলতেছেন। আর ইসলাম তো একটা ইগালিটারিয়ান এটা তো ইনসাফ চায়। একরীতি দরকার আছে দেশের মানুষের ধর্ম এবং ইসলামের তো একটা পলিটিকাল রোল আছে ঠিক আছে? ইসলাম তো একটা সিম্পল ধর্ম না এটা তো পরকালবাদী ধর্ম নয় এটা। রাসূল তো সেনাপতিও ছিলেন।
রাশেদ আহমেদ: মাজার ভাঙল কেন, কী কারণে?
ফরহাদ মজহার: সেটা তো আমি জানি না, সাংবাদিকরা জানেন। আমাদের এখানে যখনই এই যে মৌলবাদ বনাম মৌলবাদ বিরোধিতা সেকুলার বনাম মৌলবাদ বিরোধিতা পরাশক্তি এই গেমটোই তো খেলে। আমাদের বিভক্ত করে রাখে। আমরা মারামারি করব ইন দ্য মিন টাইমে আপনার ব্যাংক লুট হবে। ইন দ্য মিন টাইমে আপনার ক্যাপাসিটি পেমেন্টের নামে আপনার পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা তাদের হাতে চলে যাবে। সেন্ট মার্টিন তাদের হাতে চলে যাবে। এই যে ফেনী ওই দিল্লির অধীনে চলে যাবে এটাই তো গেম। আপনি এই গেম যদি এড়াতে চান তাহলে ওই যে প্রথমে যে কথাটা বলেছেন এই শব্দ পরিহার করতে হবে। শিখতে হবে এগুলো শব্দ নয়। আপনাকে সুনির্দিষ্টভাবে খুঁজে বের করতে হবে যে মৌলবাদ বলতে আমরা কাদের আইডেন্টিফাই করছি। এটা কি জামায়াত ছিল এটা কি হেফাজত ছিল চিহ্নিত করেন।
রাশেদ আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপরে আঘাত করা হলো ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে।
ফরহাদ মজহার: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আবার কী? ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা না তো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী বুঝিয়ে বলেন আমাকে?
রাশেদ আহমেদ: আমরা যে আদর্শ নিয়ে, লক্ষ্য নিয়ে একাত্তরে একটি রাষ্ট্র কায়েম করেছি। সেই আদর্শই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
ফরহাদ মজহার: আমরা মানে কারা? আপনারা মানে কারা?
রাশেদ আহমেদ: আমরা বাংলাদেশের বাঙালিরা।
ফরহাদ মজহার: বাঙালিটা কবে থেকে এসেছে? বাঙালি শব্দটা তো তৈরি হয়েছে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আমল থেকে। আর বাঙালি যদি বলেন তবে তো আপনার তিনটা বাংলা বিহার আসাম উড়িষ্যা মিলে কথা বলতে হবে। এই বাঙালিত্বের কনসেপ্টটাই তো রেসিস্ট কনসেপ্ট। এটা তো মন্দবাদী ধারণা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভাস্কর্য তো আমার চেতনার মধ্যে পড়ে না। যদি আপনি ইসলামের কথাই বলেন এটা আমার ধর্ম। একাত্তর সালের যুদ্ধটা আমার বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির জন্য লড়াই ছিলো। এই লড়াই তো শুধু বাঙালির লড়াই ছিল না এটা তো জালিম ইসলামের বিরুদ্ধে মজলুম মুসলিমের লড়াইও ছিল। তাহলে বাঙালি জাতীয়বাদের তত্ত্বটাই তো ভুল। বাঙালি জাতীয়বাদের ফ্যাসিবাদ তো এখানেই ধরা পড়ে। ফ্যাসিস্ট তো বেসিক্যালি এই তত্ত্বটাই তো ফ্যাসিবাদ। আপনি ১৯৭১ সালে কী ছিল আমাদের ধরুন এই স্বাধীনতার ঘোষণা? কী ছিল তার মধ্যে? সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক ন্যায়বিচার। তাহলে কী ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষা? এর ভিত্তিতে আমরা একটা রাষ্ট্র গড়ে তুলব। তাহলে আপনি যদি চেতনার কথা বলেন ওটা ছিল রাজনৈতিক চেতনা গণচেতনা। সেই গণচেতনার ভিত্তিতে একটা রাষ্ট্র গঠন করবার কথা। বাংলাদেশে ৭১ এর আগে আপনি কি দেখেছেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী কোনো আন্দোলন? সমাজতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটা ব্যবহার করা হচ্ছে কী জন্য? ব্যবহার করা হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আর তো কোনো কারণ ছিল না। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা ছিল ইসলাম নির্মূল রাজনীতির স্থানীয় বরকন্দাজ। ফলে তারই প্রতিক্রিয়ায় এখন ইসলামিক শক্তি আসছে।
রাশেদ আহমেদ: রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার যে ব্যাখ্যা সেটি তো যে যার ধর্ম সে পালন করবে।
ফরহাদ মজহার: তফাৎ তো নেই। আপনি কি গণতন্ত্র চান? গণতন্ত্র চাইলে আর ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে হয় না। আপনি তো ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যবহার করছেন অস্ত্র হিসেবে ইসলামের বিরুদ্ধে। আপনি যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই কায়েম করেন তবে তো ধর্মনিরপেক্ষতা বলার দরকার পড়ে না। গণতন্ত্র মাত্রই হলো যে ধর্মটা আপনার থাকবে কিন্তু এটা থাকবে রাজনীতিতেও থাকবে আর ব্যক্তিগত জীবনেও থাকবে। তবে গণতন্ত্র কায়েম করেন। আলাদা করে কেন ধর্মনিরপেক্ষতা আপনাকে ঢোকাতে হবে? আলাদা করে কেন বাঙালি জাতীয়তাবাদ ঢোকাতে হবে? কেন এ দেশে কি সাঁওতালরা থাকে না? এ দেশে কি চাকমারা নাই? এ দেশে কি ম্রোরা নাই এ দেশে কি আরও ২৯টা ছোট ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা নাই? এটা ফ্যাসিবাদ না? তাহলে বাংলাদেশের জনগণ তো এই ফ্যাসিবাদকে পরাস্ত করেছে এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। এটা তো ভালো জিনিস। ফলে বাঙালি চেতনা আবার কীসের? আমি তো মুসলমানও বটে। আপনি বলতেই পারেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী...
রাশেদ আহমেদ: আপনি মুসলমান বাঙালি, হিন্দু আছে বাঙালি, খ্রিস্টান আছে।
ফরহাদ মজহার: আমি আপনার কথাই বলতেছি। সেটা আমি ব্যাখ্যা দিচ্ছি আপনাকে। তাহলে বাঙালি, আপনি যার ইতিহাস বলতেছেন এটাকে বাঙালি বলেন না, একটা রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী। এই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্মৃতি চেতনা আছে। আপনি কি সিরাজুল আলম খানের নাম শুনেছেন? সিরাজুল আলম খানের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বই আছে। এ দেশে সত্যিকারের বাঙালির পক্ষে বাংলাদেশের পক্ষে যিনি লড়াই করেছেন তার নাম হলো সিরাজুল আলম খান। তো তার বিখ্যাত বইয়ের নাম হয়েছে বাঙালি জাগরণের তৃতীয় ধারা তিনি তার তিনটা ফ্রেজ করেছেন। তার মধ্যে প্রথম যে ধারায় তার যে স্ফুর্তি ঘটেছে আবির্ভাব ঘটেছে এটা হয়েছিল শ্রী চৈতন্যের আমলে হোসেন শাহের আমলে। তাহলে বাঙালির যদি আপনি ইতিহাস ধরতে চান তো ধরেন অসুবিধা নাই কোনো। কিন্তু বাঙালিত্ব বলে তো কিছু নাই। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি আমি মুসলিম। হিন্দু আছে। বাংলাদেশের সমস্যার ক্ষেত্রে এখন যারা রেজিম চেঞ্জ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান করছে এরা বাংলাদেশের জন্য মেইন প্রবলেম। কারণ এরা তো দিল্লির বিরুদ্ধেও কোনো দিন কোনো কথা বলেনি। কিন্তু যেখানে এ দেশের সনাতন ধর্মালম্বীরা যখন এখানে অত্যাচারিত হয় তাদের পক্ষে তো তাদের আমরা দেখি না। আমাকেই তো দাঁড়াতে হয়। তাহলে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে বাঙালি চেতনার এই যে ধারণাটা এই ধারণা বিকৃত একটা মানসিকতার ফল।
রাশেদ আহমেদ: বাঙালি তো আদি পরিচয়, ইসলাম তো এখানে পরে এসেছে।
ফরহাদ মজহার: বাঙালি শব্দটা তো তৈরি হয়েছে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আমল থেকে। আর বাঙালি যদি বলেন তবে তো আপনার তিনটা বাংলা বিহার আসাম উড়িষ্যা মিলে কথা বলতে হবে। এই বাঙালিত্বের কনসেপ্টটাই তো রেসিস্ট কনসেপ্ট। এটা তো মন্দবাদী ধারণা।
রাশেদ আহমেদ: আসামকে বলছেন যে আসামের ভাষা তো অহমিয়া।
ফরহাদ মজহার: সেটা জাতিগত নৃতাত্ত্বিক। আর বাঙালি তো নৃতাত্ত্বিক না আমরা তো মিশ্র জাতি আপনি কোত্থেকে বাঙালি পেয়েছেন? আমি তো মুন্ডাও আমি তো সাঁওতালও। আপনি কোথায় পাচ্ছেন বাঙালি? আমার ভাষা আছে ডেফিনেটলি বলতে পারেন। তো আমার ভাষার সাথে অহমের ভাষার কী পার্থক্য? আমার ভাষার সাথে মৈথিলির কী পার্থক্য? আমার ভাষার সাথে চট্টগ্রামের ভাষার যে পার্থক্য তার চেয়ে বেশি মিল আছে মৈথিলির সঙ্গে। বেশি মিল অহমিয়ার সঙ্গে। তাহলে আপনি বাংলা ভাষা বাংলা সংস্কৃতি বলেন অসুবিধা নাই। বাঙালি কোথায় পেলেন আপনি?
রাশেদ আহমেদ: তাহলে বাংলা ভাষাভাষীদের আমি কী বলব?
ফরহাদ মজহার: বাংলা ভাষাভাষীই বলবেন। আপনি যে বাংলা ভাষাভাষী সেই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে যে জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে তবে বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী বলবেন। কারণ ৭১ এ একটা নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে আপনাকে হাজির করেছে। এভাবে বলেন কথাটা। বাঙালিত্ব তো অন্য জিনিস। এই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হাজির হওয়ার মানে হলো এটা যে খালি এই ছোট ভূখণ্ডের মধ্যে থাকবে তা তো না। যদি আমি সত্যিকার অর্থে বাংলা ভাষা বাংলা সংস্কৃতি এবং বড় বাংলা বা বৃহৎ বঙ্গ নাম শুনেছেন বৃহৎ বঙ্গ?
রাশেদ আহমেদ: আপনিই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন।
ফরহাদ মজহার: বৃহৎ বঙ্গ হচ্ছে দিনেশ চন্দ্র সেনের। তাহলে আপনি বৃহৎ বঙ্গের চিন্তা করবেন বাঙালি আবার কীসের রে ভাই? আপনি তাহলে যদি মনে করেন যে বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি আছে সারা পৃথিবীতে তার পঞ্চম স্থান। তাহলে এই বাংলা ভাষা সংস্কৃতি নিয়ে বিশ্ব জয় করুন না, কে আপনাকে টিকিয়ে রাখছে? কিন্তু বাঙালি আবার কোথায় বলেন? কারণ বাঙালি বলা মাত্রই আপনি চাকমাদের মারবেন, যেটা করছেন এখন। বাঙালি বলা মাত্রই আপনি সমতলে সাঁওতালদের মারছেন। কারণ সাঁওতালরা কি তাদের গায়ে লাগে না? ওরা এ দেশের জনগোষ্ঠী না? তাহলে এটা তো কখনো এটা তো ইসলামও বরদাস্ত করবেন না। ফলে আপনি তো এখানে পুরো বাঙালি জাতীয়তাবাদটাই এসেছে ইসলাম নির্মূল রাজনীতির জন্য।
রাশেদ আহমেদ: লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই ২৪ কে ৭১ এর প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ফরহাদ মজহার: তা কেউ করেনি, আপনি বলেন, কে করেছে?
রাশেদ আহমেদ: এই যে বিভিন্ন ভাস্কর্য ভাঙা, মুক্তিযুদ্ধকে অপমান, অপদস্থ করা, এটা কে করেছে।
ফরহাদ মজহার: আরে ভাস্কর্য কে ভাঙছে! এজেন্সি তো ভাঙতে পারে। আমি আপনার সঙ্গে একমত ভাস্কর্য ভাঙা খারাপ কাজ। কিন্তু এই যে তরুণ যারা গণঅভ্যুত্থান করেছে এরা ভাস্কর্য ভাঙছে? প্রথমত আমি শেখ মুজিবের ভাস্কর্য-এর বিরোধী। আপনি যদি শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক অবদান রাখতে চান তাহলে শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক অবদানটি আলোচনা করে জিজ্ঞেস করেন আমাকে শেখ মুজিবের অবদানটা কী বাংলাদেশে? খুব খুশি হব আমি আলোচনা করতে।
রাশেদ আহমেদ: শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ফরহাদ মজহার: কে বলছে? মুক্তিযুদ্ধের সময় সে তো জেলে ছিল। সে তো যুদ্ধই করেনি, আপনি কী বলেন এটা? শেখ মুজিব তো না, মিথ্যা দিয়ে তো হবে না। জেলে বসে নেতৃত্ব তো দেয়া যায় না। আপনি বলতে পারেন শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানটা ভিন্ন। শেখ মুজিবুর রহমান এলএফও মানে ইয়াহিয়া খান লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যে নিয়ম ঠিক করে দিয়েছে। পাকিস্তানে ইসলামী সংবিধান প্রণয়ন করবেন। এলএফও ঠিক ঠিক পড়ে আসবেন আমার সাথে কথা বলতে হলে। মুজিব এলএফওর অধীনে নির্বাচন করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কথা বলেননি।আমার সাথে হিস্ট্রি দিয়ে কথা বলতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: ৭ই মার্চের ভাষণ?
ফরহাদ মজহার: নির্বাচনটা হয়েছে কীসের ভিত্তিতে? ৭ই মার্চের ভাষণ তো শেখ মুজিবের ভাষণ ছিল না। দাঁড়ান।আপনি তথ্য ঠিক করেন ওটা তো সিরাজুল আলম খানের ভাষণ।
রাশেদ আহমেদ: সিরাজুল আলম খান কি কখনো বলে গেছেন যে ৭ই মার্চের ভাষণটা লিখে দিয়েছিলেন?
ফরহাদ মজহার: আমার কাছে বলে গেছেন। আমি তো সাক্ষী। উনি আমার ভাই। শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি শিখিয়েছেন কী বলতে হবে। লিগ্যাল এবং একই সঙ্গে পলিটিক্যাল এই পার্থক্য বজায় রেখে কী করে কথা বলতে হবে তা শিখিয়েছেন। শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা করতে পারবে না, কারণ তখন তার ফাঁসি হয়ে যাবে। ফলে তাকে কী কথা বলতে হবে এটাও এক্সারসাইজ হয়ে গেছে। ফলে আপনি ইতিহাস জেনে আসেন, আমি আপনার সঙ্গে অবশ্যই বিনাশর্তে মেনে নিব যদি আপনার কোনো আলাদা তথ্য থাকে। সিরাজুল আলম খানকে আমি থরোলি পড়েছি, আমি জানি তিনি কী বলছেন।
রাশেদ আহমেদ: সিরাজুল আলম খানের উত্থানটা কবে থেকে, সেটাতো ৬৪-৬৫ সাল থেকে।
ফরহাদ মজহার: জাস্ট যখন শেখ মুজিব শেখ মুজিবও হয় নাই তখন সিরাজুল আলম খান ছিল। সিরাজুল আলম খান একা ছাত্রলীগ করেছে। আপনি ৬৫-৬৬ সালের কথা বলছেন? তার আগে শেখ মুজিবুর রহমান কী করতেছিলেন? তখন তো মুসলিম লীগ করতেছিলেন রে ভাই। কেন এই হিস্ট্রিগুলো মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রেজাল্ট যে সফল হয় তার নামই তো থাকে। কে বলছে আপনাকে? আমি তো ইতিহাসের ছাত্র। আপনি পারলে আমাকে ভুল প্রমাণ করেন। আপনি ভিন্ন তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন যে আমি ভুল বলছি, আমি মেনে নেব।
রাশেদ আহমেদ: তর্ক হতেই পারে। তবে ইতিহাসতো ব্যাক্তি তৈরি করে। শেখ মুজিব সফল হয়েছেন, তবে অবশ্যই মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক তাদের অবদান ছিল।
ফরহাদ মজহার: ব্যক্তি ইতিহাস তৈরি করে না আপনি ভুল ধারণা। আপনার সঙ্গে আমার প্রথম পার্থক্য হবে যে আপনি যে ধারণা থেকে কথা বলেন আপনি জনগণকে বাদ দিচ্ছেন। ফলে যখনই ব্যক্তিকে নিয়ে আসবেন, আইকন বানাবেন এটাকে ফ্যাসিজম বলে। একটু বিনয়ের সঙ্গে বলি একটু ভাববেন এই ফ্যাসিজম করেছে বলেই আজকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এত বড় অভ্যুত্থানটা হয়েছে। না হলে এটা হতো না। এটা বাম এবং আওয়ামী লীগ মিলে এই যে একটা প্রচার চালাচ্ছে এটার মারাত্মক ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে।
আমরা ইতিমধ্যে দিল্লিকে সুযোগ দিচ্ছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার। এবং এখানে একটা অস্থিরতা তৈরি করার। আর যারা মাজারটাজার ভেঙেছে তাদের পুঁজি করে বলছেন হ্যাঁ হ্যাঁ দেখো দেখো দেখো মৌলবাদ এসে গেছে এখন তো আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো উপায় নেই একমাত্র আওয়ামী লীগ হলো মৌলবাদ বিরোধী। এখন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনো এই হলো বয়ান। এই বয়ানটা তৈরি করার পরে এখন আপনার শুভেন্দু অধিকারী বলতেছে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে হাজির হোন। আমাদের ফুলের মালা নিয়ে তাকে বরণ করে নিতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: শেখ হাসিনা নিজেই তো রয়টার্স-এর সঙ্গে একটা ইন্টারভিউ দিয়ে বলেছেন ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে আসবেন।
ফরহাদ মজহার: ভেরি গুড, এই দেখেন তারা বলতে পারছে কারণ এই পরিস্থিতিটা তৈরি করছে বাংলাদেশে রেজিম চেঞ্জ হয়েছে বলে। যারা আপনার জুলাই গণঅভ্যুত্থান অস্বীকার করে তারা ১০০ ভাগ মার্কিন দালাল অথবা ভারতীয় দালাল। একই জিনিস। কারণ আজকে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি খাতির হয়েছে ইসরায়েলের। ফলে এই জায়োনিজম এবং একই সঙ্গে মার্কিন ইম্পেরিয়ালিজম এই দুইটা মিলে বাংলাদেশে তাদের প্রজেক্টটা হলো প্রথমত বাংলাদেশ থেকে ইসলাম নির্মূল করা। এবং যেহেতু তারা ইসলাম নির্মূল করতে চায় এবং সেজন্য আমরাও বারবার বলা সত্ত্বেও এই যে জামায়াতে ইসলামীর তারা নামটা বদল করে নাই এটাও ওই আওয়ামী লীগের পরিকল্পনারই অংশ। কারণ প্রত্যেকে জানে যে জামায়াতে ইসলামীর নাম যখন থাকবে তখন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পক্ষে একটা জনমত গড়ে উঠবে। এবং এক্সাক্টলি আজকে জামায়াতে ইসলামী ওই ভূমিকাটা পালন করছে। সে কিন্তু আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের জন্য একটিভ, অন বিহাফ অফ দ্য ইউএসএ। রেজিম চেঞ্জের জন্য আপনি কেন খালি আমেরিকাকে দোষ দিচ্ছেন, আপনি জামায়াতকে কেন বলছেন না? আপনি মৌলবাদী শক্তি বলে পার পেয়ে গেলেন কেন? জামায়াত তো এটা সজ্ঞানে করছে জামায়াতের মধ্যে অনেক ইতিবাচক দিক থাকতে পারে। আমি বারবারই বলি শফিকুর রহমান সাহেবকে আমি পছন্দ করি ভালো মানুষ। তার দলে প্রচুর লোকজন আছে। তাহলে এই যে মাজার যে ভাঙছে আমি তো বলেছি ওপেনলি এই মাজার ভাঙার সঙ্গে জামায়াতের ভূমিকা ছিল জামায়াত কোনো উত্তর এখনও দেয়নি। আমি বলছি অভিযোগ আছে আপনাদের বিরুদ্ধে উত্তর দিন। আপনাদের উত্তর দিতে হবে। আমি তো বলছি না আপনি করেছেন উত্তর দেন আপনারা করেছেন কি না এটা। যদি করে থাকেন তাহলে আপনারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবার জন্য কাজ করছেন। এবং আমি বারবার বলেছি জামায়াতে ইসলামী নামে যদি আপনার এই দলটি থাকে তাহলে অবশ্যই আজকে হোক কালকে হোক আওয়ামী লীগ আসবে রাজনীতিতে। এবং জামায়াতে ইসলামীর নামটা ধরে রাখার মানে হলো জামায়াতে ইসলামী সজ্ঞানে জেনে শুনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনছে এই নামটা রাখার মধ্য দিয়ে। আর জামায়াতে ইসলামী যদি ইসলামের রাজনীতি করতে চায় তবুও এই নামটা ক্ষতিকর।
কারণ ১৯৬৯ এ আমরা যে লড়াইটা করেছিলাম সে লড়াইটা ছিল এই যে আমরা মুসলমান বটে কিন্তু বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতিও আমাদের সংস্কৃতি। ফলে যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি জামায়াতে ইসলামী এই যে নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী গড়ে উঠছিল ঊনসত্তর থেকে ৭০ এবং ৭১-এ সে তার রূপ নিয়ে সামনে দাঁড়িয়েছিল, তার সে বিরোধিতা করেছিল।
৭১-এ আমরা যারা বাংলাদেশের জনগণ একটা নতুন রাজনৈতিক সত্তা নিয়ে হাজির হতে চাচ্ছি সেই রাজনৈতিক সত্তার মধ্যে বাংলা ভাষা আছে বাংলা সংস্কৃতি আছে ইসলাম আছে সনাতন ধর্ম আছে বৌদ্ধ ধর্ম আছে আস্তিক আছে নাস্তিক আছে এই সকলকে নিয়ে যে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী গড়তে চাচ্ছি তার সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনীতি করছে জামায়াতে ইসলামী। এর নামটা ভয়ংকর। এবং যতক্ষণ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর বিচক্ষণ যারা তারা এই নামটা না বদলাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তারা গ্রহণযোগ্য হবে না।
রাশেদ আহমেদ: বর্তমান আপনার প্রস্তাব?
ফরহাদ মজহার: আমি জানি না সেটা তারা করবে কিনা। আমি তো জামায়াতে ইসলামী করি না। এটা জামায়াতে ইসলামীর কাজ। আমি বলছি এই নামটা যে নাম দিয়ে যে ব্যানার দিয়ে আপনি ৭১ এ আমাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের বিরোধিতা করেছেন এটা তো আমি মেনে নেব না। সেজন্য আপনাকে একটা কথা বলতে চাই পরিষ্কার একাত্তর নেগোশিয়েবল না। জামায়াত যদি মনে করে যে ৭১ নেগোশিয়েবল এবং আমরা আবার ৭১ আগে ফিরে যাব। না এটা হবে না। এবং যেটা করছে জামায়াত এখন এটা আওয়ামী লীগকে ফেরত আনছে। আর কিছু করছে না।
ইসলামের ইতিবাচক রাজনীতি মানে কী? বাংলা ভাষা বাংলা সংস্কৃতি মুসলমানের ইতিহাস মজলুম হিসেবে মুসলমানের নিপীড়ন সেই আপনার ইংরেজ আসার পর থেকে। কারণ এই যে সুলতানরা চলে গেছেন, মুঘলরা চলে গেল এরপর যে দীর্ঘ নিপীড়িত হয়েছি যে মুসলমান নিপীড়িত হয়েছে ইসলাম যেভাবে উপেক্ষিত হয়েছে এটাকে যদি আমরা সামনে আনতে চাই এবং আমার ইতিহাসের অন্তর্গত করতে চাই সেই ইতিহাসের মধ্যে শুধু বাংলাদেশের জনগণ থাকবে আমি তা মনে করি না। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ জনগণও থাকবে। এর মধ্যে বিহারের জনগণও থাকবে। এর মধ্যে উড়িষ্যার জনগণও থাকবে। এই যে বৃহত্তর যে বাংলা এই বৃহত্তর বাংলার সমস্ত জনগণকে নিয়ে যে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী তাদের মধ্যে যে আন্তরিক সম্পর্ক তাদের মধ্যে যে আন্তরিক বন্ধন এটাকে যদি আমরা উদ্ধার করতে পারি তাহলে এই অঞ্চলটা অর্থনৈতিকভাবে সকল ক্ষেত্রে তারা দাঁড়িয়ে যাবে। ফলে কোনো বিদেশি শক্তি এখানে ইন্টারফেয়ার করতে পারবে না।
রাশেদ আহমেদ: কোনো জাতীয়তাবাদই থাকবে না। তাহলে আইডেন্টিটিটা কী হবে আমাদের?
ফরহাদ মজহার: আমাদের বিভিন্ন আইডেন্টিটি থাকবে। আমি বাঙালি বাঙালির কথা বলবো। আমি মুসলমান মুসলমানের কথা বলবো। সকলে মিলে একসঙ্গে বাস করবেন সমস্যাটা কোথায়? আমাদের মেইন প্রবলেম হলো ইকোনমি, মেইন প্রবলেম নদীকে রক্ষা করা, আপনার পানি রক্ষা করা, আপনার সাগর রক্ষা করা, আপনার অর্থনৈতিক বিকাশ সাধন। জাতীয়বাদ দিয়ে ধুয়ে খাবেন আপনি? জাতিকে ধুয়ে খাওয়া যায়? এটা খেতে পারবেন আপনি জাতীয়বাদ দিয়ে করবেন কী? আপনার তো দরকার ইকোনমি ডেভেলপ, গরিব মানুষ যেন খেতে পায়।
আমি পশ্চিমবঙ্গ গিয়েছি পশ্চিমবঙ্গ তো আপনার গরিব অবস্থা আরও খারাপ। ফলে আমাদের চিন্তা করতে হবে যে বৃহত্তর একটা জনগোষ্ঠীকে আমরা গড়ে তুলতে পারি কি না যেটাকে আমি বড় বাংলা বলি। বড় বাংলা মানে কোনো একটা রাষ্ট্র না বড় বাংলা মানে পরস্পর পরস্পর সঙ্গে বোঝাপড়া। যে দেখো তোমার স্বার্থ আমার স্বার্থে কিছু কমন দিক আছে। সেই কমন জায়গা যদি আমরা রক্ষা করতে চাই তুমি হিন্দু আকারে দাঁড়াবে না। এই আমি ইসলাম পরিচয় নিয়ে দাঁড়াচ্ছি ইসলাম আমার ধর্ম, হিন্দু আমার ধর্ম। আমাদের মধ্যে আদান প্রদান হতেই পারে। কিন্তু আমার আকিদা আর তোমার আকিদা এক না কিন্তু আমাদের ইকোনমিক ইন্টারেস্ট এই বৃহত্তর যে এই জগৎ এখানে যে পরাশক্তির যে প্রতিযোগিতা সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করার অনেকগুলো ক্ষেত্র আছে আমাদের একসঙ্গেই কাজ করতে হবে এটি হলো আমাদের পলিটিক্স।
রাশেদ আহমেদ: শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন, আপনি এটা মনে করেন কি না?
ফরহাদ মজহার: প্রথমত এটা দুঃখজনক যে ভারতের মতো একটা রাষ্ট্র একটা খুনিকে আশ্রয় দিয়েছে। তাকে আর কোনো দেশ আশ্রয় দেয় নাই এটা তো লজ্জার বিষয়। আপনি কেন একজন খুনির পক্ষে দাঁড়ালেন? আমি আজকে একাত্তর সালে জামায়াতের যারা আলবদর বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াই তো আপনি কী করে কোন মুখে কোন যুক্তিতে হাসিনার পক্ষে দাঁড়াবেন।
রাশেদ আহমেদ: ওরা তো বিচার ফেস করার জন্য আসতে চাচ্ছে?
ফরহাদ মজহার: সেটা যখন আসবে তখন দেখা যাবে আমি তো এখন জানি না। আমি তো এখন যেটা আমার বক্তব্য বলতে পারি। এতটুকু বলতে পারি কিন্তু আমি মনে করি যে এই তাকে আনার তো প্রস্তুতির জন্য যেটা শুরুতে আপনাকে বলেছিলাম যে আমরা ওই মৌলবাদী কথা বলি আমরা রেজিম চেঞ্জের কথা বলি এটা তো ঠিক নয় এর নীতিটা তো ভুল।
রাশেদ আহমেদ: আপনি বলছিলেন যে সংবিধান পরিবর্তন নতুন সংবিধানের কথা যেটা বলছিলেন বারবার। কিন্তু সেই জিনিসটা তো হলো না সংসদে। আপনি কি আশা দেখেন এখনও?
ফরহাদ মজহার: হ্যাঁ সেটা তো শেষ হয়ে যায়নি। অবশ্যই আশা দেখি।
রাশেদ আহমেদ: কীভাবে সেটা সম্ভব?
ফরহাদ মজহার: সেটা যখন দেখবেন তখন। আমি যখন ২০২৩ সালে সংবিধান সরি গণঅভ্যুত্থান গঠন লিখেছি তখন তো কেউ বিশ্বাস করেনি যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। তাহলে আমি এখন আপনাকে নিশ্চিত করছি যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে এটার আলো, এটার আগুন নিভবে না। নিশ্চিত থাকেন। ঊনসত্তরের প্রোডাক্ট আমরা। ফলে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এটা কিন্তু পরবর্তীতে একাত্তরে বাংলাদেশে রূপ নিয়েছে। ফলে এই যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এটা নিঃসন্দেহে একটা নতুন বড় বাংলা মানে সবগুলো রাষ্ট্র নিয়ে একটা রাষ্ট্র না একটা বৃহত্তর একটা ঐক্যের মধ্যে একটা নতুন আঞ্চলিক একটা মৈত্রী এবং একটা শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
রাশেদ আহমেদ: আঞ্চলিক শক্তিশালী একটা ভূখণ্ড অথবা যেটা বলছেন আপনি গড়ে তুলতে হয় সেই ক্ষেত্রে তো রাজনৈতিক একটা বোঝাপড়ার বিষয় আছে?
ফরহাদ মজহার: বোঝাপড়া তো আসবে আপনার অর্থনৈতিক সমস্যাটা যখন চেপে ধরবে আপনাকে। আপনি এখন জাতীয়বাদের জায়গায় আছেন আমি তো জাতীয়বাদের জায়গায় একবারও নেই। আমি দেখতেছি বাংলাদেশের নদী বাংলাদেশের সাগর বাংলাদেশের ইকোনমিক পসিবিলিটি বাংলাদেশ থেকে আমি আজকে যে বিদেশ থেকে টাকা আনছি টাকা কী করে শোধ দেব এটা তো আমার ইকোনমিক প্রবলেম প্রাক্টিক্যাল প্রবলেম। আপনি যখনই প্রাক্টিক্যাল প্রবলেমে চাপ পড়বে এবং যখন যারা এই তরুণরা যখন এটার নেতৃত্ব দিবে নতুন কথা বলবে তখন এসব জাতীয়বাদ টাতীয়বাদ সব উড়ে চলে যাবে।
রাশেদ আহমেদ: এই অবস্থায় সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে মুক্তি কীভাবে সম্ভব?
ফরহাদ মজহার: মুহূর্তে হবে। কী করে হিরোশিমা হলো? আপনার চোখের সামনে তো দেখছেন ওরা কী করে পালাল। ওরা কী করে শাহকে তাড়িয়ে দিল। আমরা পারব। আমাদের সাম্রাজ্যবাদ আপনার স্থানীয় দিল্লির আধিপত্য আরও অনেক কিছু আছে। যেকোনো জনগোষ্ঠী যখন সে নিজের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে তাকে দমন করা অসম্ভব। এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে ওই ঐতিহাসিক সচেতনতার একটা স্ফুলিঙ্গ। এই আগুন ছড়াবে।
রাশেদ আহমেদ: একটা জিনিস তো আমরা দেখি যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান যারা ঘটিয়েছে যারা এটার মূল নেতৃত্ব দিয়েছে। তারা এখন আপনি যে কিছুক্ষণ আগে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করলেন নানাভাবে তাদের সাথে তারা জোটবদ্ধ। একসাথে কাজ করছে। আপনি কি আশা করছেন নতুন আরেকটা নেতৃত্ব?
ফরহাদ মজহার: আমি তো জানি না। আপনি আমাকে এটা ভবিষ্যৎবাণী করার কথা বলছেন। আমার কাজ হচ্ছে পিপলকে এডুকেট করা। আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ যে আমাকে অনেক সম্মান দিচ্ছেন আপনি। আমার তো কাজ বলা। আমার কাজ ওয়াজ করা। ওয়াজ বুঝেন তো? আমার কাজ ওয়াজ করা। লোককে বোঝানো, জনগণকে বোঝানো। এখন এর মধ্যে যদি এরা না পারে, অন্য কেউ আসবে। এই তো আমি বুঝতে পারি। আপনি কি ঠেকাতে পারবেন এই বয়সে যে তরুণরা আছে তারা কি আপনাকে মেনে নিবে? আপনি কি মনে করেন যে হাসিনা এলে তারা মেনে নিবে যে ছেলেগুলো মারা গেছে রাস্তায়? তার পক্ষেও তো একটা গোষ্ঠী দেখা যাচ্ছে।
রাশেদ আহমেদ: মানে একটা সংকটময় অবস্থা তৈরি হচ্ছে?
ফরহাদ মজহার: সেটা পৃথিবীর সব জায়গাতেই আছে, আপনি এটাকে এড়াবেন কী করে? সংকট যখন থাকে এটাতে এড়াবার তো কোনো পথ নেই। সংকটটা এড়াতে পারতেন যদি আপনি ২৪ এর ৫ই আগস্টের পরে নতুন করে রাষ্ট্রটা গঠন করতেন। সংকট তৈরি করেছেন ডক্টর ইউনুস।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তো তখন সমর্থন দিয়েছেন।
ফরহাদ মজহার: না, সমর্থন দিই নাই সারাক্ষণ বলছি। আপনি আমার লেখা পড়ে আসেন। আমার বক্তব্য পড়ে আসেন, আমি সমর্থন তো দিই নাই। আমি ডেফিনেটলি মনে করি যে ডক্টর ইউনুসের বিরোধিতা করি কোনো অর্থে আমি তার পূর্ণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে এটাই আমি চেয়েছি। এটা আমার প্রচুর ভিডিও আছে। সেটি আছে ডক্টর ইউনুস নির্বাচনের তিনদিন আগে একটা চুক্তি করে গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। তার আগে চুক্তি তো হাসিনা করেছে চুক্তি বিএনপি করেছে। শোনেন এগুলো তো ইম্পর্ট্যান্ট আপনি এখন ডব্লিউটিও চুক্তি নিয়ে এসে তো আপনার গণঅভ্যুত্থানকে আন্ডারমাইন করতে পারেন না। হুবহু কাজ করেছে ইউনুসও। সেটা ইস্যু না আমাদের জন্য। আমি স্টেট নিয়ে কথা বলছি। রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী নিয়ে কথা বলছি।আজকে ডব্লিউটিওর চুক্তির বাইরে তো আপনি না। আপনি খালি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি করেছেন, তা না। তাহলে ইন্ডিয়ার সঙ্গে যে চুক্তি করেছেন ওটা কী হবে? ইন্ডিয়া যে বাজার এটার কী হবে? আমি খালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা কেন বলছি। বা যারা ইন্ডিয়া বিরোধী বলে এরা তো কয়দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলত না। এখন তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলতেছে কার বিরুদ্ধে? ওই ছাত্রদের বিরুদ্ধে ডক্টর ইউনুসের বিরুদ্ধে। কেন? তারা প্রমাণ করতে চায় যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানটা মিথ্যা। যে এটা একটা রেজিম চেঞ্জ এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউনুসকে বসায় দিয়ে একটা চুক্তি করে দিয়ে গেছে। না বামদের এসব ছেলেমানুষী এসব আত্মঘাতী রাজনীতি এটা বাংলাদেশের জনগণ মেনে নিবে না। নিঃসন্দেহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি অত্যন্ত খারাপ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে দিল্লির সঙ্গে যে চুক্তি করেছে এটা ভালো। খালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলেন জনগণ তো এটা মেনে নেবে না।
রাশেদ আহমেদ: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ফরহাদ মজহার: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
ফরহাদ মজহার একজন লেখক, তাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি নানা সংগঠন করেন, সংগঠিত করেন নানা মত। তার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন সংবাদ-এর বার্তা প্রধান রাশেদ আহমেদ। তা হুবহু তুলে ধরা হলো।
রাশেদ আহমেদ: প্রথমেই শুরু করি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে একটি আন্দোলন হয়েছিল বাংলাদেশে। এই আন্দোলনে নানাভাবে আপনার সংশ্লিষ্টতাও ছিল।
ফরহাদ মজহার: গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল।
রাশেদ আহমেদ: ওই আন্দোলনের সাথে ভূ-রাজনীতির যোগাযোগ, সংশ্লিষ্টতা নানাভাবে আমরা দেখেছি।
ফরহাদ মজহার: এটার অনেকগুলো ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তো আছেই, কিন্তু আরও বড় ছিল যে সারাবিশ্বে তরুণদের যে আকাঙ্ক্ষা, তরুণদের নতুন ধরনের বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার যে আকাঙ্ক্ষা, তারই একটা স্ফুরণ আমাদের এখানে ছিল। আরেকটা যেটা ছিল সেটা হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যে দীর্ঘ ব্যবস্থাপনা তার ফলে রাষ্ট্র কিন্তু দুর্নীতির ক্ষেত্র। রাষ্ট্রই দুর্নীতি করে। এটা ব্যক্তির নীতিহীনতা মাত্র নয়। ফলে রাষ্ট্রটাই যেমন গড়ে উঠেছে এই লুটেরা মাফিয়া শ্রেণির দ্বারা। ফলে এর মধ্যে তরুণরা তাদের কিন্তু ভবিষ্যৎ দেখছে না। তাদের বেকারত্ব, তাদের নানারকম ক্ষোভ, এই ক্ষোভের ভিত্তিতে তারা যে আন্দোলনটা করছিল সে সময়ে, এটা পরবর্তীতে বৈষম্যহীনতার একটা জাতীয় প্রশ্ন আকারে হাজির হয়েছে। এবং তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যে ফ্যাসিবাদ, ফ্যাসিস্ট শক্তি, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে সমাজের বিভিন্ন স্তরে জনগণের ক্ষোভ। এটাই একটা গণঅভ্যুত্থানের রূপ নিয়েছে। এবং এই গণঅভ্যুত্থানের মানেটা হলো এই যে পুরনো ব্যবস্থা আর চলছে না, আমাদের এখন নতুন ব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। তো যেটা ঘটনা ঘটেছে যে ৫ জুলাই একটা গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে কিন্তু পুরনো ব্যবস্থাটা কিন্তু আবার রয়ে গেল। যেহেতু আমরা ৮ তারিখে আবার পুরনো সংবিধান, পুরনো রাষ্ট্র, পুরনো আমলাতন্ত্র, পুরনো অর্থনৈতিক নীতি সবকিছু আগের মতো রেখে দিলাম।
রাশেদ আহমেদ: এই প্রশ্নে আমি আসবো পরে। আমরা যেখানে ছিলাম শুরুতে, জুলাই আন্দোলন। ইদানিং নানাভাবে নানা কথা আসে এটার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফান্ডিং-এর বিষয় ছিল।
ফরহাদ মজহার: প্রথমত এটা তো আমি গণঅভ্যুত্থানের আগেই বলেছি। যারা এখন এটা বলছে এরা তো মূলত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের একটা আকাঙ্ক্ষা থেকে কথাটা বলছে। এটা তো ১৮ আগস্ট জেফ্রি স্যাকসও বলেছে। আমি আগেও বলেছি যে বাংলাদেশে যারা ক্ষমতায় আছে তাদের সরাবার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তৎপর। ফলে সরকার বদলটা আমাদের লক্ষ্য না। আমাদের লক্ষ্য হতে হবে রাষ্ট্র কীভাবে আমরা গঠন করবো। তো এখন যারা বিরোধিতা করছে আরও অনেক কথা শুনতেছি যে গণঅভ্যুত্থান ছিল একটা মব, একটা ভিড়। এটা রাইট উইং জামায়াতিরা করেছে। এটা দক্ষিণপন্থীদের উত্থান ঘটেছে এগুলো ননসেন্স, পিউর ননসেন্স। এটা একান্তই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করার একটা তত্ত্ব আকারে আসছে। আর এটা আসছে প্রথমত হলো যে এর আগের উপদেষ্টা সরকারের ব্যর্থতা এবং তার যে ধারাবাহিকতা যেভাবে এখন এই সরকার এসেছে তার যে দুর্বলতা, এর কারণে এরা এই ধরনের কথা বলতে পারছে। আপনি দেখেন কারা এই কথাটা বলছে তাদের তো খুব পরিষ্কার আমি ধরতে পারি। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলুন, কি চীন বলুন, কি ভারত বলুন, আমাদের মতো দেশে প্রত্যেকটা পরাশক্তিরই তো প্রভাব থাকবে। আপনি এই সমীকরণের মধ্যেই তো গণঅভ্যুত্থানটা আপনাকে ঘটাতে হবে। আপনি তো এর বাইরে কিছু পাবেন না। প্রশ্নটা হচ্ছে গণঅভ্যুত্থান তো ঘটেছে। এই কথাটা বলার মুশকিলটা কোথায় খেয়াল করেন, বিপদটা হচ্ছে আপনি জনগণকে অস্বীকার করছেন। মানে জনগণকে জনগণ যে পুরনো ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থা চায় না তারা যে নতুন ধরনের ব্যবস্থা চায় এই বাস্তবতাটাকে আপনি কী করতে চাচ্ছেন? আপনি অস্বীকার করছেন। হ্যাঁ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো এখানে একটা হস্তক্ষেপ ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছিল কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিপক্ষেই গণঅভ্যুত্থানটা হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টাকার কথা আমি জানি না। সেটা ভিন্ন প্রশ্ন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে কাজ করেছে মার্কিন অ্যাম্বাসির মাধ্যমে করেছে। এটা তো শাহবাগের সময়ও করেছে। আপনি যখন শাহবাগটা হয় এটা কারা করেছে? যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে ইয়থদের ট্রেনিং দেওয়া, তরুণদের ট্রেনিং দেওয়া এবং ওয়ার অন টেরর যেটা হচ্ছে সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ সেই যুদ্ধের যে টাকা পয়সা এবং সেই সন্ত্রাসী বিরুদ্ধে যুদ্ধের...
রাশেদ আহমেদ: শাহবাগ মানে কখনকার কথা বলছেন?
ফরহাদ মজহার: ওই যে ২০১৩ সালে যে ঘটনাটা ঘটল। আপনি যখন বিচারের কথা বলে আপনি ফাঁসি চাইলেন। আপনি যখন বিচার ব্যবস্থাকে বদলে দিলেন। একটা রায় হয়েছে রায়কে বদলিয়ে আপনি যেহেতু ফাঁসি দেবেন। আপনি এটা করেছেন আপনি হোল বাংলাদেশের জনগণের যে অনুভূতি, তার যে ধর্মের প্রতি একটা আকুতি, তার যে একটা সম্পৃক্ততা এটাকে অস্বীকার করে আপনি কী বলতেছেন? আপনি ফাঁসি চেয়েছেন, বিচারও চাননি, আপনি ফাঁসি দিয়েছেন। এবং সেই সময় এবং শুধু তাই নয়, আপনি ফাঁসি দেওয়ার সময় সেখানে কারা সমর্থন করেছিল? দিল্লি পরিষ্কার সেখানে হস্তক্ষেপ করছিল। আপনার মনে আছে কি না, সে সময়ের তাদের যে আপনার পররাষ্ট্র আপনার যিনি উপদেষ্টা ছিলেন, নাম ভুলে গেছি এখন। তারা এমনকি ভারত থেকে সরাসরি সেখানে হস্তক্ষেপ ছিল। ঘোষণা দিয়ে হস্তক্ষেপ ছিল। আপনি তো, এটা থাকবেই ভূ-রাজনীতিতে। প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের এখানে গণঅভ্যুত্থানটা ডেফিনেটলি জনগণ একটা পরিবর্তন চেয়েছে। এই পরিবর্তনটা চেয়েছিল এই ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের বিপরীতেই তারা করতে পেরেছিল। দেখিয়েছিল যে জনগণের একটা রাজনৈতিক কর্তা শক্তি আছে এবং এটা জেনুইন। এখন এটাকে আমরা নতুন রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারিনি কেন, সেটা হচ্ছে প্রশ্ন। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ইন্টারভিন করা শুরু করেছে।
রাশেদ আহমেদ: কবে থেকে এটা?
ফরহাদ মজহার: আন্দোলনের শেষের দিকে আপনি দেখবেন যে সেফ হাউস করা হয়েছিল বাংলাদেশে। এটা মার্কিন অ্যাম্বাসি করেছিল। যেসব ছেলে তাদের জীবন বিপন্ন বা যেকোনো কারণে তাদের পিছনে ডিজিএফআই অথবা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বলুন তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন অনেক ছেলেদের তারা সেফ হাউসে রেখেছে। এখন বলবেন আমি কী করে জানি, কারণ সেফ হাউসে যারা ছিল তারা শেষের দিকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তারা একটা কথা বারবার আমাকে বলছিল যে, ফরহাদ ভাই আমাদের ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে? যে শেখ হাসিনার পদত্যাগ তোমরা চাও। আমরা চাচ্ছি ফ্যাসিবাদের বিলোপ, আমরা চাচ্ছি ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিলোপ। আর তারা চাচ্ছে শুধু শেখ হাসিনা পদত্যাগ করুক, পুরনো ব্যবস্থা যেমন আছে তেমনি থাকুক এবং একটা ক্ষমতার ট্রানজিশন যেটাকে আপনি রেজিম চেঞ্জ বলেন। ফলে রেজিম চেঞ্জের ব্যাপারটা আগে থেকেই ছিল। তারা সুযোগটা নিয়েছে গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে যখন দমনপীড়নটা চলছিল তখন তরুণ ছাত্রদের একটা অংশকে তারা প্রভাবিত করতে পেরেছিল। এবং একই সঙ্গে গোয়েন্দারা এই তরুণ ছাত্রদের মধ্যে যারা একটু ভিন্ন কথা বলছে যেমন ধরুন তারা এই পুরো ফ্যাসিবাদের বিলোপ চাচ্ছে, তারা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থার বিলোপ চাচ্ছে, তারা নতুন ধরনের রাষ্ট্র গঠন করতে চাচ্ছে, এদের চরিত্র হননের ক্যাম্পেইন তারা করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে ইন্টারভেনশনের প্রসেসটা ফলো করেন আপনি। আপনি দেখতে পারেন। আর আমরা পরবর্তীতে কী দেখলাম? ডক্টর ইউনুসকে যখন দেশে আনা হলো উনি প্রথম কী কাজ করলেন? উনি মাহফুজকে আমেরিকা নিয়ে গেলেন। মাহফুজ তো নেতৃত্বের মধ্যে ছিল না। এটা তো জনগণের ছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ছিল, তার মধ্যে শিবির ছিল, বামপন্থীরা ছিল। কোনো একজন ব্যক্তি মাস্টারমাইন্ড, এটা তো কোনো রাজনীতিতে আলোচনার বিষয়ই না। কিন্তু ডক্টর ইউনুস কী করলেন?উনি এখান থেকে নিয়ে চলে গেলেন, তাকে পরিচয় কীভাবে করলেন? মাস্টারমাইন্ড। আর কোথায় করালেন? ক্লিনটন ফাউন্ডেশন। ক্লিনটন ফাউন্ডেশনটা কী? ক্লিনটন ফাউন্ডেশন হচ্ছে যে ওই যে দুর্নীতিবাজ ক্লিনটন। হিলারি ক্লিনটন, যারা এই বিভিন্ন দেশে যুদ্ধের জন্য দায়ী। এবং দুর্নীতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তারা নিন্দিত। আপনি ওখানে গিয়ে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন। মানে এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তখন রিপাবলিকানরা ক্ষমতায়, এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, যে রাষ্ট্রের কোনো অনুষ্ঠান সেখানে নয়। একটা প্রাইভেট অনুষ্ঠানেই আপনি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন মাস্টারমাইন্ড। তো নানাভাবে ডক্টর ইউনুস যিনি করেছেন কী না উনি করেছেন সেটা তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। এটা আমি বাইরে থেকে যেটা দেখি তার ফলে আপনি কী বলছেন যে রেজিম চেঞ্জের যে প্রসেসটা এটাকে স্ট্রেনদেন করা। সেটা শক্তিশালী হয়ে গেছে এবং শক্তিশালী হওয়ার মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে আমরা দেখলাম যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমনটি চেয়েছে তেমনি হয়েছে। আপনি ইলেকশন চেয়েছেন তো ইলেকশন দিয়ে চলে গেছেন।
রাশেদ আহমেদ: জুলাই আন্দোলনের ফলাফল কী দাঁড়িয়েছে এখন?
ফরহাদ মাজহার: হাসিনা নাই ইতিবাচক তো বটেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় নাই ইতিবাচক তো বটেই। ফলাফল তো খুবই ভালো। আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারছি। আমি তো ২০ বছর কথা বলতে পারিনি। এটা তো ফলাফল ইতিবাচকই। তবে রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তন করা যায়নি। না পারার কারণ কিন্তু বাইরের শক্তি ইন্টারভেন করেছে তা না। বাইরের শক্তির চেয়ে প্রথম যারা আমরা করতে পারিনি তার জন্য এক নম্বর হলো সাংবাদিকরা দায়ী। যেমন প্রথম প্রত্যেকটা সাংবাদিক যখন এই ডক্টর ইউনুসের যে সরকার সম্পর্কে কথা বলে তারা বলে এটা অন্তর্বর্তী সরকার। আমাদের তো কোনো অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আপনি হেন কোনো সাংবাদিক পাবেন না যে ভুলে যাচ্ছে যে আমরা এটা উপদেষ্টা সরকার গঠন করেছিলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয়।
রাশেদ আহমেদ: সরকারিভাবে কী বলা হয়েছে?
ফরহাদ মজহার: কী বলেছে, অন্তর্বর্তী বলেছে?
রাশেদ আহমেদ: অন্তর্বর্তী সরকার।
ফরহাদ মজহার: কেন? সরকার তো উপদেষ্টা আকারে এসেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মানেটা কী? এটা তো অন্তর্বর্তীকালীন ছিল না। এটা ছিল সেনাবাহিনী সমর্থিত উপদেষ্টা সরকার। যেহেতু সেনাবাহিনী এ ধরনের সরকারকে সমর্থন করেছে ফলে এই সরকার টিকেছে। এবং সেনাবাহিনীর তরফে পরবর্তীতে কালের কণ্ঠে আপনার প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দীন চুপ্পু যে কথা বলেছেন, সেখানে পরিষ্কার তিনি বলেছেন যে কে কে এই ধরনের সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। ডক্টর ইউনুস নন, টিকিয়ে রেখেছেন যিনি প্রেসিডেন্ট তিনি, তিনজন জেনারেল এবং বিএনপি। তাহলে কেন আমি সাংবাদিকদের দায়ী করি সাংবাদিকদেরই উচিত ছিল এটা পরিষ্কার করা যে এটা অন্তর্বর্তী সরকার নয় এটা উপদেষ্টা সরকার। ডক্টর ইউনুসকে আমরা কী বলেছি? আমরা কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান বলতাম? তিনি লিগ্যালি কী ছিলেন? তিনি উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি কাকে উপদেশ দিতেন? প্রেসিডেন্টকে উপদেশ দিতেন লিগ্যালি।
রাশেদ আহমেদ: প্রেসিডেন্টের সাথে তো ইউনূসের কথাবার্তাই হতো না।
ফরহাদ মজহার: সেটা তো আপনি অন্য তর্কে চলে গেলেন। লিগ্যালি কনস্টিটিউশনালি ছিল উপদেষ্টা সরকার। কেন আমি সাংবাদিকদের দায়ী করছি আপনি যখনই এই বয়ানটা দেন এই ভাষাটা তৈরি করেন তখন স্বভাবতই আপনি বিভ্রান্ত করেন মানুষকে। কারণ ২৪-এর ৮ জুলাই তারিখে যে উপদেষ্টা সরকার গঠিত হয়েছিল সেজন্য প্রথম থেকে আমি সমালোচনা করছিলাম। কেন সমালোচনা করছিলাম? আমার দাবি ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করাটা ছিল ডক্টর ইউনুসের কর্তব্য। কারণ তিনি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এসেছেন। তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে আসেননি। ফলে তাকে পূর্ণ ক্ষমতা যদি দেওয়া হতো তাহলে এটা হতো একটা পূর্ণ ক্ষমতা সম্পন্ন অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে একটা নতুন গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু করতে পারত। এটা হচ্ছে লিগ্যাল পলিটিকাল কোয়েশ্চেন। তো এটা আমরা করতে পারিনি। ইউনূস স্বেচ্ছায় শেখ হাসিনার সংবিধান কায়েম করেছেন। এখন শেখ হাসিনার সংবিধানকে তিনি যদি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন তিনি নিজেকে নিজে কিন্তু অবৈধ করলেন আইনগতভাবে। কারণ এরকম কোনো সরকারের বিধান কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধানে নাই। দুই নম্বর হলো তিনি তো ইলেকশন দিতে পারেন না। কারণ ইলেকশন তো হবার কথা ২০২৯ সালে যদি আপনি সংবিধান মানেন। তাহলে আপনি ক্রমাগত সংবিধান বিরোধী কাজ করেছেন ইন দ্য নেম অব এই তথাকথিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এটা করতে পারত কেন? কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা আসে গণঅভ্যুত্থান থেকে। কিন্তু ডক্টর ইউনুস নিজে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে বৈধতা তিনি নিবেন শেখ হাসিনার সংবিধান থেকে। ফলে এই কন্ট্রাডিকশনটা স্পষ্ট করার দায়িত্বটা আমার ছিল না এটা সাংবাদিকদের ছিল। সাংবাদিকরা এই কাজটা করেনি। ফলে এই রেজিম চেঞ্জের ক্ষেত্রে সবার আগে যদি কাউকে দোষী করতে হয় তারা হবেন সাংবাদিক মহল।
রাশেদ আহমেদ: একটি সরকারের একটা বৈধতার প্রশ্ন আসে। সেই বৈধতা তো আপনার সাংবিধানিকভাবেই আসতে হয়।
ফরহাদ মজহার: কে বলল আপনাকে? তাহলে পৃথিবীতে গণঅভ্যুত্থান হয়নি? তাহলে তো আপনার একাত্তরে সংবিধানকে পোস্টপোন করতে হতো সেটা তো করার। সংবিধানকে উৎখাত করতে হতো। এই যে আপনি ভুল করছেন এটা হচ্ছে এই ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ডেফিনেটলি বাংলাদেশের সংবিধান বাংলাদেশের গঠন বা পৃথিবীতে গণঅভ্যুত্থানের পরে কী হয় এটা একটা প্রশিক্ষণ দরকার আছে তাদের। তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রেজিম চেঞ্জটা কিন্তু আসে যে টাকা দিয়ে করেছি তা না কিন্তু অজ্ঞতার দ্বারা ঘটেছে। অজ্ঞতার দ্বারা কীভাবে ঘটেছে বলি, সরকার এবং রাষ্ট্রের পার্থক্য আমাদের সমাজে অস্পষ্ট। দ্বিতীয় যাদের আমি দায়ী করব বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক মহল এবং একাডেমিক মহল। কারণ তারা সরকার এবং রাষ্ট্রের ফারাকটা আমাদের করতে শেখাননি। ফলে তরুণরা বিভ্রান্ত হয়েছে। কারণ আমরা তো নতুন সরকার গঠন করতে যাইনি, নতুন রাষ্ট্র গঠন করবার জন্য গণঅভ্যুত্থান করেছি। ফলে দেখুন রেজিম চেঞ্জ যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে আঙ্গুল তোলেন তখন আঙ্গুলটা সাংবাদিকদের প্রতি প্রথম তুলতে হবে নিজের প্রতি দেখাতে হবে যে আমাদের ত্রুটিটা কী ছিল। তখন যখন যে তর্কগুলো আমি করেছি বারবারই বলেছি যে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতাসম্পন্ন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করতে হবে উপদেষ্টা সরকার নয়। উপদেষ্টা সরকার তো আপনার শেখ হাসিনার সংবিধানের অধীনে আপনি একজন উপদেষ্টা বসিয়েছেন ডক্টর ইউনুসকে। দুই নম্বর তারা প্রথমে বলেছে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন। আমি যখন প্রশ্ন তুললাম কাগজ কই। বলে এটা প্রেসিডেন্টের কাছে আছে। কিন্তু এরপরে যখন প্রেসিডেন্ট বলল তার কাছে নাই আপনি প্রেসিডেন্টকে সরালেন না কেন? তাহলে কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দোষারোপ করছেন? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তো এই দেশের অজ্ঞ বুদ্ধিজীবী অজ্ঞ সাংবাদিক তাদের ঘাড়ের ওপরে তো এই কাজটা করেছে।
রাশেদ আহমেদ: তরুণদের সঙ্গে আপনি ছিলেন। আপনি তো তাদের পরামর্শ দিতেন। তারা আপনার প্রক্রিয়ায় এলো না কেন?
ফরহাদ মজহার: তরুণদের কথা কেন বলেন? আমি কি সাংবাদিকের সাথে কথা বলিনি? বলেছি। তাহলে তরুণদের মানেটা কী? এটা তো অর্থ না আমি তো সমাজের সবস্তরের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। তরুণরা আমার কথা শুনতে এসেছে এবং আমি তাদের অউন করি। আমি মনে করি তরুণরা যেটা করতে পেরেছে এটা বিরাট কাজ করেছে।
সাংবাদিক ছাড়া যাদের দায়ী করা যায় সেটা হলো বাংলাদেশের বাম মহল। কারণ বামরা প্রথম থেকে তরুণদের বিরোধিতা করেছে। শুধু তাই নয় আপনি দেখবেন যে এর আগে দ্রোহ যাত্রা করেছিল তারা। মনে আছে কি না এবং তারাই কিন্তু প্রথম বক্তব্য দেয় যে শেখ হাসিনার পদত্যাগ করতে হবে এটা কিন্তু তরুণদের বক্তব্য ছিল না কখনো। তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তারা ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমার বই ২০২৩ সালে গণঅভ্যুত্থান গঠন বেরিয়ে গেছে। কী করে একটা নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে হবে তার তাত্ত্বিক বক্তব্য তো আমি দিয়েছি। ফলে এই লড়াইটাকে আপনি খালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসে আপনাকে বদলে দিয়েছে এগুলো ননসেন্স তত্ত্ব। আপনি নিজে মানে আমরা আমাদের সোসাইটির মধ্যে যে মহলগুলো বিভিন্ন শ্রেণি যারা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাজ করে তারা টাকা পেলেও করে টাকা না পেলেও করে। খালি টাকা দিয়ে করতে হয় একটা যুক্তি থাকতে পারত। কিন্তু বাংলাদেশে আপনি দেখবেন যে দিল্লির পক্ষে তারা কাজ করে। এটা যদি কোনো টাকা পায় তাও না বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে যারা কাজ করে তারা কি টাকা পায় সব সময়? তারা তো সবসময় টাকা পায় না ,তাদের চিন্তাই তো এরকম। যেমন আমি একটা ছোট উদাহরণ দিই ইদানীং শুনি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র না হলে দিল্লিকে নাকি মোকাবেলা করা যাবে না। তো এটা কি টাকা দিয়ে মতকে তৈরি করছে? আপনি সমাজে বহু লোক পাবেন এমন টাকা ছাড়া পক্ষে মত দেয়। ওদের চিন্তাটা এরকম যে আমি নিজে কিছু করব না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসে আমাকে দিল্লিকে ঠেকিয়ে দিবে।
রাশেদ আহমেদ: জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখতে পেয়েছি দেশে একটি মৌলবাদী শক্তি উত্থান হয়েছে।
ফরহাদ মজহার: মৌলবাদী কী আমাকে বুঝিয়ে বলেন?
রাশেদ আহমেদ: ধর্মীয়ভাবে যারা...
ফরহাদ মজহার: জাতীয়তাবাদী মৌলবাদ না?
রাশেদ আহমেদ: উগ্রবাদী যেটি।
ফরহাদ মজহার: বাঙালি জাতীয়তাবাদ উগ্রবাদ না? ফ্যাসিবাদ না? আপনি এই পর্যন্ত বাঙালি জাতীয়তাবাদের নামে ওয়ার অন টেরর করেছেন না? আপনি সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ করেছেন না? আপনি ইসলামিস্টদের হত্যা করেছেন না? আপনি ধরে নিয়ে গেছেন না অন্যায়ভাবে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে গাজা মাটিতে মিশিয়ে দিল, এই যে যুদ্ধ করছে ইরান বিরোধী এর বিরুদ্ধে কিছু বলছেন না কীসের মৌলবাদ? কাকে মৌলবাদ বলেন? মৌলবাদ কী?
রাশেদ আহমেদ: আমাদের এখানে একটি উগ্রপন্থীগোষ্ঠী মাজার ভাঙালো, মব করলো।
ফরহাদ মজহার: ভেরি গুড সেটা বলেন। মাজারটা কারা ভাঙতেছে? মাজারটা ভাঙতেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে এবং ইসরায়েলের পক্ষে তারা বাংলাদেশে কাজ করছে। ওরাও করছে আর যারা তথাকথিত মৌলবাদ বলে উভয় কিন্তু একই। একই মুদ্রার এ পিঠ আর ও পিঠ। আপনি মাজার যারা ভাঙে তারা প্রমাণ করে ইন্টারন্যাশনালি যে বাংলাদেশে মাজারটা হলো মূল প্রবলেম। তাদের যে অথরিটি এই যে পেট্রো ডলার ভিত্তিক ইসলামের যে পরকালবাদী ব্যাখ্যা এই ব্যাখ্যাটাই তো এসেছে শেখ হাসিনার আমলেই বড় বড় মসজিদ হয়েছে। যেগুলোর এখন বলতেছে যে এগুলোর নাকি টাকা দুর্নীতি করেছে। দুর্নীতির চেয়ে ভয়াবহ হলো আপনি বড় বড় মসজিদ করেছেন। কিন্তু ইসলামের কী ইন্টারপ্রিটেশন আপনি দিয়েছেন? ওই সৌদি আরবের ইন্টারপ্রিটেশন দিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য ইন্টারপ্রিটেশন দিয়েছেন। তাহলে মধ্যপ্রাচ্য এবং সৌদি আরবের ইন্টারপ্রিটেশনটা কাদের ইন্টারপ্রিটেশন? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারপ্রিটেশন। তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং হিন্দুত্ববাদী শক্তি ইসলামের যে ব্যাখ্যা দেয় এই ব্যাখ্যাটাই তো হাজির করেন একে আপনি মৌলবাদ বলতেছেন। আর ইসলাম তো একটা ইগালিটারিয়ান এটা তো ইনসাফ চায়। একরীতি দরকার আছে দেশের মানুষের ধর্ম এবং ইসলামের তো একটা পলিটিকাল রোল আছে ঠিক আছে? ইসলাম তো একটা সিম্পল ধর্ম না এটা তো পরকালবাদী ধর্ম নয় এটা। রাসূল তো সেনাপতিও ছিলেন।
রাশেদ আহমেদ: মাজার ভাঙল কেন, কী কারণে?
ফরহাদ মজহার: সেটা তো আমি জানি না, সাংবাদিকরা জানেন। আমাদের এখানে যখনই এই যে মৌলবাদ বনাম মৌলবাদ বিরোধিতা সেকুলার বনাম মৌলবাদ বিরোধিতা পরাশক্তি এই গেমটোই তো খেলে। আমাদের বিভক্ত করে রাখে। আমরা মারামারি করব ইন দ্য মিন টাইমে আপনার ব্যাংক লুট হবে। ইন দ্য মিন টাইমে আপনার ক্যাপাসিটি পেমেন্টের নামে আপনার পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা তাদের হাতে চলে যাবে। সেন্ট মার্টিন তাদের হাতে চলে যাবে। এই যে ফেনী ওই দিল্লির অধীনে চলে যাবে এটাই তো গেম। আপনি এই গেম যদি এড়াতে চান তাহলে ওই যে প্রথমে যে কথাটা বলেছেন এই শব্দ পরিহার করতে হবে। শিখতে হবে এগুলো শব্দ নয়। আপনাকে সুনির্দিষ্টভাবে খুঁজে বের করতে হবে যে মৌলবাদ বলতে আমরা কাদের আইডেন্টিফাই করছি। এটা কি জামায়াত ছিল এটা কি হেফাজত ছিল চিহ্নিত করেন।
রাশেদ আহমেদ: মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপরে আঘাত করা হলো ২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে।
ফরহাদ মজহার: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আবার কী? ভাস্কর্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনা না তো। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী বুঝিয়ে বলেন আমাকে?
রাশেদ আহমেদ: আমরা যে আদর্শ নিয়ে, লক্ষ্য নিয়ে একাত্তরে একটি রাষ্ট্র কায়েম করেছি। সেই আদর্শই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা।
ফরহাদ মজহার: আমরা মানে কারা? আপনারা মানে কারা?
রাশেদ আহমেদ: আমরা বাংলাদেশের বাঙালিরা।
ফরহাদ মজহার: বাঙালিটা কবে থেকে এসেছে? বাঙালি শব্দটা তো তৈরি হয়েছে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আমল থেকে। আর বাঙালি যদি বলেন তবে তো আপনার তিনটা বাংলা বিহার আসাম উড়িষ্যা মিলে কথা বলতে হবে। এই বাঙালিত্বের কনসেপ্টটাই তো রেসিস্ট কনসেপ্ট। এটা তো মন্দবাদী ধারণা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভাস্কর্য তো আমার চেতনার মধ্যে পড়ে না। যদি আপনি ইসলামের কথাই বলেন এটা আমার ধর্ম। একাত্তর সালের যুদ্ধটা আমার বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতির জন্য লড়াই ছিলো। এই লড়াই তো শুধু বাঙালির লড়াই ছিল না এটা তো জালিম ইসলামের বিরুদ্ধে মজলুম মুসলিমের লড়াইও ছিল। তাহলে বাঙালি জাতীয়বাদের তত্ত্বটাই তো ভুল। বাঙালি জাতীয়বাদের ফ্যাসিবাদ তো এখানেই ধরা পড়ে। ফ্যাসিস্ট তো বেসিক্যালি এই তত্ত্বটাই তো ফ্যাসিবাদ। আপনি ১৯৭১ সালে কী ছিল আমাদের ধরুন এই স্বাধীনতার ঘোষণা? কী ছিল তার মধ্যে? সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক ন্যায়বিচার। তাহলে কী ছিল জনগণের আকাঙ্ক্ষা? এর ভিত্তিতে আমরা একটা রাষ্ট্র গড়ে তুলব। তাহলে আপনি যদি চেতনার কথা বলেন ওটা ছিল রাজনৈতিক চেতনা গণচেতনা। সেই গণচেতনার ভিত্তিতে একটা রাষ্ট্র গঠন করবার কথা। বাংলাদেশে ৭১ এর আগে আপনি কি দেখেছেন বাঙালি জাতীয়তাবাদী কোনো আন্দোলন? সমাজতন্ত্র ধর্মনিরপেক্ষতা আর ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটা ব্যবহার করা হচ্ছে কী জন্য? ব্যবহার করা হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আর তো কোনো কারণ ছিল না। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদীরা ছিল ইসলাম নির্মূল রাজনীতির স্থানীয় বরকন্দাজ। ফলে তারই প্রতিক্রিয়ায় এখন ইসলামিক শক্তি আসছে।
রাশেদ আহমেদ: রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতার যে ব্যাখ্যা সেটি তো যে যার ধর্ম সে পালন করবে।
ফরহাদ মজহার: তফাৎ তো নেই। আপনি কি গণতন্ত্র চান? গণতন্ত্র চাইলে আর ধর্মনিরপেক্ষতা বলতে হয় না। আপনি তো ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যবহার করছেন অস্ত্র হিসেবে ইসলামের বিরুদ্ধে। আপনি যদি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই কায়েম করেন তবে তো ধর্মনিরপেক্ষতা বলার দরকার পড়ে না। গণতন্ত্র মাত্রই হলো যে ধর্মটা আপনার থাকবে কিন্তু এটা থাকবে রাজনীতিতেও থাকবে আর ব্যক্তিগত জীবনেও থাকবে। তবে গণতন্ত্র কায়েম করেন। আলাদা করে কেন ধর্মনিরপেক্ষতা আপনাকে ঢোকাতে হবে? আলাদা করে কেন বাঙালি জাতীয়তাবাদ ঢোকাতে হবে? কেন এ দেশে কি সাঁওতালরা থাকে না? এ দেশে কি চাকমারা নাই? এ দেশে কি ম্রোরা নাই এ দেশে কি আরও ২৯টা ছোট ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা নাই? এটা ফ্যাসিবাদ না? তাহলে বাংলাদেশের জনগণ তো এই ফ্যাসিবাদকে পরাস্ত করেছে এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। এটা তো ভালো জিনিস। ফলে বাঙালি চেতনা আবার কীসের? আমি তো মুসলমানও বটে। আপনি বলতেই পারেন যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী...
রাশেদ আহমেদ: আপনি মুসলমান বাঙালি, হিন্দু আছে বাঙালি, খ্রিস্টান আছে।
ফরহাদ মজহার: আমি আপনার কথাই বলতেছি। সেটা আমি ব্যাখ্যা দিচ্ছি আপনাকে। তাহলে বাঙালি, আপনি যার ইতিহাস বলতেছেন এটাকে বাঙালি বলেন না, একটা রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী। এই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্মৃতি চেতনা আছে। আপনি কি সিরাজুল আলম খানের নাম শুনেছেন? সিরাজুল আলম খানের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বই আছে। এ দেশে সত্যিকারের বাঙালির পক্ষে বাংলাদেশের পক্ষে যিনি লড়াই করেছেন তার নাম হলো সিরাজুল আলম খান। তো তার বিখ্যাত বইয়ের নাম হয়েছে বাঙালি জাগরণের তৃতীয় ধারা তিনি তার তিনটা ফ্রেজ করেছেন। তার মধ্যে প্রথম যে ধারায় তার যে স্ফুর্তি ঘটেছে আবির্ভাব ঘটেছে এটা হয়েছিল শ্রী চৈতন্যের আমলে হোসেন শাহের আমলে। তাহলে বাঙালির যদি আপনি ইতিহাস ধরতে চান তো ধরেন অসুবিধা নাই কোনো। কিন্তু বাঙালিত্ব বলে তো কিছু নাই। আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি আমি মুসলিম। হিন্দু আছে। বাংলাদেশের সমস্যার ক্ষেত্রে এখন যারা রেজিম চেঞ্জ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধান করছে এরা বাংলাদেশের জন্য মেইন প্রবলেম। কারণ এরা তো দিল্লির বিরুদ্ধেও কোনো দিন কোনো কথা বলেনি। কিন্তু যেখানে এ দেশের সনাতন ধর্মালম্বীরা যখন এখানে অত্যাচারিত হয় তাদের পক্ষে তো তাদের আমরা দেখি না। আমাকেই তো দাঁড়াতে হয়। তাহলে আপনি দেখতে পাচ্ছেন যে বাঙালি চেতনার এই যে ধারণাটা এই ধারণা বিকৃত একটা মানসিকতার ফল।
রাশেদ আহমেদ: বাঙালি তো আদি পরিচয়, ইসলাম তো এখানে পরে এসেছে।
ফরহাদ মজহার: বাঙালি শব্দটা তো তৈরি হয়েছে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আমল থেকে। আর বাঙালি যদি বলেন তবে তো আপনার তিনটা বাংলা বিহার আসাম উড়িষ্যা মিলে কথা বলতে হবে। এই বাঙালিত্বের কনসেপ্টটাই তো রেসিস্ট কনসেপ্ট। এটা তো মন্দবাদী ধারণা।
রাশেদ আহমেদ: আসামকে বলছেন যে আসামের ভাষা তো অহমিয়া।
ফরহাদ মজহার: সেটা জাতিগত নৃতাত্ত্বিক। আর বাঙালি তো নৃতাত্ত্বিক না আমরা তো মিশ্র জাতি আপনি কোত্থেকে বাঙালি পেয়েছেন? আমি তো মুন্ডাও আমি তো সাঁওতালও। আপনি কোথায় পাচ্ছেন বাঙালি? আমার ভাষা আছে ডেফিনেটলি বলতে পারেন। তো আমার ভাষার সাথে অহমের ভাষার কী পার্থক্য? আমার ভাষার সাথে মৈথিলির কী পার্থক্য? আমার ভাষার সাথে চট্টগ্রামের ভাষার যে পার্থক্য তার চেয়ে বেশি মিল আছে মৈথিলির সঙ্গে। বেশি মিল অহমিয়ার সঙ্গে। তাহলে আপনি বাংলা ভাষা বাংলা সংস্কৃতি বলেন অসুবিধা নাই। বাঙালি কোথায় পেলেন আপনি?
রাশেদ আহমেদ: তাহলে বাংলা ভাষাভাষীদের আমি কী বলব?
ফরহাদ মজহার: বাংলা ভাষাভাষীই বলবেন। আপনি যে বাংলা ভাষাভাষী সেই বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে যে জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠে তবে বাংলা ভাষাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী বলবেন। কারণ ৭১ এ একটা নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হিসেবে আপনাকে হাজির করেছে। এভাবে বলেন কথাটা। বাঙালিত্ব তো অন্য জিনিস। এই রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হাজির হওয়ার মানে হলো এটা যে খালি এই ছোট ভূখণ্ডের মধ্যে থাকবে তা তো না। যদি আমি সত্যিকার অর্থে বাংলা ভাষা বাংলা সংস্কৃতি এবং বড় বাংলা বা বৃহৎ বঙ্গ নাম শুনেছেন বৃহৎ বঙ্গ?
রাশেদ আহমেদ: আপনিই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন।
ফরহাদ মজহার: বৃহৎ বঙ্গ হচ্ছে দিনেশ চন্দ্র সেনের। তাহলে আপনি বৃহৎ বঙ্গের চিন্তা করবেন বাঙালি আবার কীসের রে ভাই? আপনি তাহলে যদি মনে করেন যে বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতি আছে সারা পৃথিবীতে তার পঞ্চম স্থান। তাহলে এই বাংলা ভাষা সংস্কৃতি নিয়ে বিশ্ব জয় করুন না, কে আপনাকে টিকিয়ে রাখছে? কিন্তু বাঙালি আবার কোথায় বলেন? কারণ বাঙালি বলা মাত্রই আপনি চাকমাদের মারবেন, যেটা করছেন এখন। বাঙালি বলা মাত্রই আপনি সমতলে সাঁওতালদের মারছেন। কারণ সাঁওতালরা কি তাদের গায়ে লাগে না? ওরা এ দেশের জনগোষ্ঠী না? তাহলে এটা তো কখনো এটা তো ইসলামও বরদাস্ত করবেন না। ফলে আপনি তো এখানে পুরো বাঙালি জাতীয়তাবাদটাই এসেছে ইসলাম নির্মূল রাজনীতির জন্য।
রাশেদ আহমেদ: লক্ষ্য করা যাচ্ছে এই ২৪ কে ৭১ এর প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
ফরহাদ মজহার: তা কেউ করেনি, আপনি বলেন, কে করেছে?
রাশেদ আহমেদ: এই যে বিভিন্ন ভাস্কর্য ভাঙা, মুক্তিযুদ্ধকে অপমান, অপদস্থ করা, এটা কে করেছে।
ফরহাদ মজহার: আরে ভাস্কর্য কে ভাঙছে! এজেন্সি তো ভাঙতে পারে। আমি আপনার সঙ্গে একমত ভাস্কর্য ভাঙা খারাপ কাজ। কিন্তু এই যে তরুণ যারা গণঅভ্যুত্থান করেছে এরা ভাস্কর্য ভাঙছে? প্রথমত আমি শেখ মুজিবের ভাস্কর্য-এর বিরোধী। আপনি যদি শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক অবদান রাখতে চান তাহলে শেখ মুজিবের ঐতিহাসিক অবদানটি আলোচনা করে জিজ্ঞেস করেন আমাকে শেখ মুজিবের অবদানটা কী বাংলাদেশে? খুব খুশি হব আমি আলোচনা করতে।
রাশেদ আহমেদ: শেখ মুজিব মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ফরহাদ মজহার: কে বলছে? মুক্তিযুদ্ধের সময় সে তো জেলে ছিল। সে তো যুদ্ধই করেনি, আপনি কী বলেন এটা? শেখ মুজিব তো না, মিথ্যা দিয়ে তো হবে না। জেলে বসে নেতৃত্ব তো দেয়া যায় না। আপনি বলতে পারেন শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানটা ভিন্ন। শেখ মুজিবুর রহমান এলএফও মানে ইয়াহিয়া খান লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যে নিয়ম ঠিক করে দিয়েছে। পাকিস্তানে ইসলামী সংবিধান প্রণয়ন করবেন। এলএফও ঠিক ঠিক পড়ে আসবেন আমার সাথে কথা বলতে হলে। মুজিব এলএফওর অধীনে নির্বাচন করেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কথা বলেননি।আমার সাথে হিস্ট্রি দিয়ে কথা বলতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: ৭ই মার্চের ভাষণ?
ফরহাদ মজহার: নির্বাচনটা হয়েছে কীসের ভিত্তিতে? ৭ই মার্চের ভাষণ তো শেখ মুজিবের ভাষণ ছিল না। দাঁড়ান।আপনি তথ্য ঠিক করেন ওটা তো সিরাজুল আলম খানের ভাষণ।
রাশেদ আহমেদ: সিরাজুল আলম খান কি কখনো বলে গেছেন যে ৭ই মার্চের ভাষণটা লিখে দিয়েছিলেন?
ফরহাদ মজহার: আমার কাছে বলে গেছেন। আমি তো সাক্ষী। উনি আমার ভাই। শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি শিখিয়েছেন কী বলতে হবে। লিগ্যাল এবং একই সঙ্গে পলিটিক্যাল এই পার্থক্য বজায় রেখে কী করে কথা বলতে হবে তা শিখিয়েছেন। শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা করতে পারবে না, কারণ তখন তার ফাঁসি হয়ে যাবে। ফলে তাকে কী কথা বলতে হবে এটাও এক্সারসাইজ হয়ে গেছে। ফলে আপনি ইতিহাস জেনে আসেন, আমি আপনার সঙ্গে অবশ্যই বিনাশর্তে মেনে নিব যদি আপনার কোনো আলাদা তথ্য থাকে। সিরাজুল আলম খানকে আমি থরোলি পড়েছি, আমি জানি তিনি কী বলছেন।
রাশেদ আহমেদ: সিরাজুল আলম খানের উত্থানটা কবে থেকে, সেটাতো ৬৪-৬৫ সাল থেকে।
ফরহাদ মজহার: জাস্ট যখন শেখ মুজিব শেখ মুজিবও হয় নাই তখন সিরাজুল আলম খান ছিল। সিরাজুল আলম খান একা ছাত্রলীগ করেছে। আপনি ৬৫-৬৬ সালের কথা বলছেন? তার আগে শেখ মুজিবুর রহমান কী করতেছিলেন? তখন তো মুসলিম লীগ করতেছিলেন রে ভাই। কেন এই হিস্ট্রিগুলো মুছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রেজাল্ট যে সফল হয় তার নামই তো থাকে। কে বলছে আপনাকে? আমি তো ইতিহাসের ছাত্র। আপনি পারলে আমাকে ভুল প্রমাণ করেন। আপনি ভিন্ন তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন যে আমি ভুল বলছি, আমি মেনে নেব।
রাশেদ আহমেদ: তর্ক হতেই পারে। তবে ইতিহাসতো ব্যাক্তি তৈরি করে। শেখ মুজিব সফল হয়েছেন, তবে অবশ্যই মাওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক তাদের অবদান ছিল।
ফরহাদ মজহার: ব্যক্তি ইতিহাস তৈরি করে না আপনি ভুল ধারণা। আপনার সঙ্গে আমার প্রথম পার্থক্য হবে যে আপনি যে ধারণা থেকে কথা বলেন আপনি জনগণকে বাদ দিচ্ছেন। ফলে যখনই ব্যক্তিকে নিয়ে আসবেন, আইকন বানাবেন এটাকে ফ্যাসিজম বলে। একটু বিনয়ের সঙ্গে বলি একটু ভাববেন এই ফ্যাসিজম করেছে বলেই আজকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এত বড় অভ্যুত্থানটা হয়েছে। না হলে এটা হতো না। এটা বাম এবং আওয়ামী লীগ মিলে এই যে একটা প্রচার চালাচ্ছে এটার মারাত্মক ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে বাংলাদেশকে।
আমরা ইতিমধ্যে দিল্লিকে সুযোগ দিচ্ছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার। এবং এখানে একটা অস্থিরতা তৈরি করার। আর যারা মাজারটাজার ভেঙেছে তাদের পুঁজি করে বলছেন হ্যাঁ হ্যাঁ দেখো দেখো দেখো মৌলবাদ এসে গেছে এখন তো আওয়ামী লীগ ছাড়া কোনো উপায় নেই একমাত্র আওয়ামী লীগ হলো মৌলবাদ বিরোধী। এখন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনো এই হলো বয়ান। এই বয়ানটা তৈরি করার পরে এখন আপনার শুভেন্দু অধিকারী বলতেছে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে হাজির হোন। আমাদের ফুলের মালা নিয়ে তাকে বরণ করে নিতে হবে।
রাশেদ আহমেদ: শেখ হাসিনা নিজেই তো রয়টার্স-এর সঙ্গে একটা ইন্টারভিউ দিয়ে বলেছেন ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে আসবেন।
ফরহাদ মজহার: ভেরি গুড, এই দেখেন তারা বলতে পারছে কারণ এই পরিস্থিতিটা তৈরি করছে বাংলাদেশে রেজিম চেঞ্জ হয়েছে বলে। যারা আপনার জুলাই গণঅভ্যুত্থান অস্বীকার করে তারা ১০০ ভাগ মার্কিন দালাল অথবা ভারতীয় দালাল। একই জিনিস। কারণ আজকে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি খাতির হয়েছে ইসরায়েলের। ফলে এই জায়োনিজম এবং একই সঙ্গে মার্কিন ইম্পেরিয়ালিজম এই দুইটা মিলে বাংলাদেশে তাদের প্রজেক্টটা হলো প্রথমত বাংলাদেশ থেকে ইসলাম নির্মূল করা। এবং যেহেতু তারা ইসলাম নির্মূল করতে চায় এবং সেজন্য আমরাও বারবার বলা সত্ত্বেও এই যে জামায়াতে ইসলামীর তারা নামটা বদল করে নাই এটাও ওই আওয়ামী লীগের পরিকল্পনারই অংশ। কারণ প্রত্যেকে জানে যে জামায়াতে ইসলামীর নাম যখন থাকবে তখন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পক্ষে একটা জনমত গড়ে উঠবে। এবং এক্সাক্টলি আজকে জামায়াতে ইসলামী ওই ভূমিকাটা পালন করছে। সে কিন্তু আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের জন্য একটিভ, অন বিহাফ অফ দ্য ইউএসএ। রেজিম চেঞ্জের জন্য আপনি কেন খালি আমেরিকাকে দোষ দিচ্ছেন, আপনি জামায়াতকে কেন বলছেন না? আপনি মৌলবাদী শক্তি বলে পার পেয়ে গেলেন কেন? জামায়াত তো এটা সজ্ঞানে করছে জামায়াতের মধ্যে অনেক ইতিবাচক দিক থাকতে পারে। আমি বারবারই বলি শফিকুর রহমান সাহেবকে আমি পছন্দ করি ভালো মানুষ। তার দলে প্রচুর লোকজন আছে। তাহলে এই যে মাজার যে ভাঙছে আমি তো বলেছি ওপেনলি এই মাজার ভাঙার সঙ্গে জামায়াতের ভূমিকা ছিল জামায়াত কোনো উত্তর এখনও দেয়নি। আমি বলছি অভিযোগ আছে আপনাদের বিরুদ্ধে উত্তর দিন। আপনাদের উত্তর দিতে হবে। আমি তো বলছি না আপনি করেছেন উত্তর দেন আপনারা করেছেন কি না এটা। যদি করে থাকেন তাহলে আপনারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনবার জন্য কাজ করছেন। এবং আমি বারবার বলেছি জামায়াতে ইসলামী নামে যদি আপনার এই দলটি থাকে তাহলে অবশ্যই আজকে হোক কালকে হোক আওয়ামী লীগ আসবে রাজনীতিতে। এবং জামায়াতে ইসলামীর নামটা ধরে রাখার মানে হলো জামায়াতে ইসলামী সজ্ঞানে জেনে শুনে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনছে এই নামটা রাখার মধ্য দিয়ে। আর জামায়াতে ইসলামী যদি ইসলামের রাজনীতি করতে চায় তবুও এই নামটা ক্ষতিকর।
কারণ ১৯৬৯ এ আমরা যে লড়াইটা করেছিলাম সে লড়াইটা ছিল এই যে আমরা মুসলমান বটে কিন্তু বাংলা ভাষা এবং সংস্কৃতিও আমাদের সংস্কৃতি। ফলে যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি জামায়াতে ইসলামী এই যে নতুন রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী গড়ে উঠছিল ঊনসত্তর থেকে ৭০ এবং ৭১-এ সে তার রূপ নিয়ে সামনে দাঁড়িয়েছিল, তার সে বিরোধিতা করেছিল।
৭১-এ আমরা যারা বাংলাদেশের জনগণ একটা নতুন রাজনৈতিক সত্তা নিয়ে হাজির হতে চাচ্ছি সেই রাজনৈতিক সত্তার মধ্যে বাংলা ভাষা আছে বাংলা সংস্কৃতি আছে ইসলাম আছে সনাতন ধর্ম আছে বৌদ্ধ ধর্ম আছে আস্তিক আছে নাস্তিক আছে এই সকলকে নিয়ে যে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী গড়তে চাচ্ছি তার সম্পূর্ণ বিপরীত রাজনীতি করছে জামায়াতে ইসলামী। এর নামটা ভয়ংকর। এবং যতক্ষণ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর বিচক্ষণ যারা তারা এই নামটা না বদলাবেন ততক্ষণ পর্যন্ত তারা গ্রহণযোগ্য হবে না।
রাশেদ আহমেদ: বর্তমান আপনার প্রস্তাব?
ফরহাদ মজহার: আমি জানি না সেটা তারা করবে কিনা। আমি তো জামায়াতে ইসলামী করি না। এটা জামায়াতে ইসলামীর কাজ। আমি বলছি এই নামটা যে নাম দিয়ে যে ব্যানার দিয়ে আপনি ৭১ এ আমাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের বিরোধিতা করেছেন এটা তো আমি মেনে নেব না। সেজন্য আপনাকে একটা কথা বলতে চাই পরিষ্কার একাত্তর নেগোশিয়েবল না। জামায়াত যদি মনে করে যে ৭১ নেগোশিয়েবল এবং আমরা আবার ৭১ আগে ফিরে যাব। না এটা হবে না। এবং যেটা করছে জামায়াত এখন এটা আওয়ামী লীগকে ফেরত আনছে। আর কিছু করছে না।
ইসলামের ইতিবাচক রাজনীতি মানে কী? বাংলা ভাষা বাংলা সংস্কৃতি মুসলমানের ইতিহাস মজলুম হিসেবে মুসলমানের নিপীড়ন সেই আপনার ইংরেজ আসার পর থেকে। কারণ এই যে সুলতানরা চলে গেছেন, মুঘলরা চলে গেল এরপর যে দীর্ঘ নিপীড়িত হয়েছি যে মুসলমান নিপীড়িত হয়েছে ইসলাম যেভাবে উপেক্ষিত হয়েছে এটাকে যদি আমরা সামনে আনতে চাই এবং আমার ইতিহাসের অন্তর্গত করতে চাই সেই ইতিহাসের মধ্যে শুধু বাংলাদেশের জনগণ থাকবে আমি তা মনে করি না। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ জনগণও থাকবে। এর মধ্যে বিহারের জনগণও থাকবে। এর মধ্যে উড়িষ্যার জনগণও থাকবে। এই যে বৃহত্তর যে বাংলা এই বৃহত্তর বাংলার সমস্ত জনগণকে নিয়ে যে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী তাদের মধ্যে যে আন্তরিক সম্পর্ক তাদের মধ্যে যে আন্তরিক বন্ধন এটাকে যদি আমরা উদ্ধার করতে পারি তাহলে এই অঞ্চলটা অর্থনৈতিকভাবে সকল ক্ষেত্রে তারা দাঁড়িয়ে যাবে। ফলে কোনো বিদেশি শক্তি এখানে ইন্টারফেয়ার করতে পারবে না।
রাশেদ আহমেদ: কোনো জাতীয়তাবাদই থাকবে না। তাহলে আইডেন্টিটিটা কী হবে আমাদের?
ফরহাদ মজহার: আমাদের বিভিন্ন আইডেন্টিটি থাকবে। আমি বাঙালি বাঙালির কথা বলবো। আমি মুসলমান মুসলমানের কথা বলবো। সকলে মিলে একসঙ্গে বাস করবেন সমস্যাটা কোথায়? আমাদের মেইন প্রবলেম হলো ইকোনমি, মেইন প্রবলেম নদীকে রক্ষা করা, আপনার পানি রক্ষা করা, আপনার সাগর রক্ষা করা, আপনার অর্থনৈতিক বিকাশ সাধন। জাতীয়বাদ দিয়ে ধুয়ে খাবেন আপনি? জাতিকে ধুয়ে খাওয়া যায়? এটা খেতে পারবেন আপনি জাতীয়বাদ দিয়ে করবেন কী? আপনার তো দরকার ইকোনমি ডেভেলপ, গরিব মানুষ যেন খেতে পায়।
আমি পশ্চিমবঙ্গ গিয়েছি পশ্চিমবঙ্গ তো আপনার গরিব অবস্থা আরও খারাপ। ফলে আমাদের চিন্তা করতে হবে যে বৃহত্তর একটা জনগোষ্ঠীকে আমরা গড়ে তুলতে পারি কি না যেটাকে আমি বড় বাংলা বলি। বড় বাংলা মানে কোনো একটা রাষ্ট্র না বড় বাংলা মানে পরস্পর পরস্পর সঙ্গে বোঝাপড়া। যে দেখো তোমার স্বার্থ আমার স্বার্থে কিছু কমন দিক আছে। সেই কমন জায়গা যদি আমরা রক্ষা করতে চাই তুমি হিন্দু আকারে দাঁড়াবে না। এই আমি ইসলাম পরিচয় নিয়ে দাঁড়াচ্ছি ইসলাম আমার ধর্ম, হিন্দু আমার ধর্ম। আমাদের মধ্যে আদান প্রদান হতেই পারে। কিন্তু আমার আকিদা আর তোমার আকিদা এক না কিন্তু আমাদের ইকোনমিক ইন্টারেস্ট এই বৃহত্তর যে এই জগৎ এখানে যে পরাশক্তির যে প্রতিযোগিতা সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করার অনেকগুলো ক্ষেত্র আছে আমাদের একসঙ্গেই কাজ করতে হবে এটি হলো আমাদের পলিটিক্স।
রাশেদ আহমেদ: শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন, আপনি এটা মনে করেন কি না?
ফরহাদ মজহার: প্রথমত এটা দুঃখজনক যে ভারতের মতো একটা রাষ্ট্র একটা খুনিকে আশ্রয় দিয়েছে। তাকে আর কোনো দেশ আশ্রয় দেয় নাই এটা তো লজ্জার বিষয়। আপনি কেন একজন খুনির পক্ষে দাঁড়ালেন? আমি আজকে একাত্তর সালে জামায়াতের যারা আলবদর বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াই তো আপনি কী করে কোন মুখে কোন যুক্তিতে হাসিনার পক্ষে দাঁড়াবেন।
রাশেদ আহমেদ: ওরা তো বিচার ফেস করার জন্য আসতে চাচ্ছে?
ফরহাদ মজহার: সেটা যখন আসবে তখন দেখা যাবে আমি তো এখন জানি না। আমি তো এখন যেটা আমার বক্তব্য বলতে পারি। এতটুকু বলতে পারি কিন্তু আমি মনে করি যে এই তাকে আনার তো প্রস্তুতির জন্য যেটা শুরুতে আপনাকে বলেছিলাম যে আমরা ওই মৌলবাদী কথা বলি আমরা রেজিম চেঞ্জের কথা বলি এটা তো ঠিক নয় এর নীতিটা তো ভুল।
রাশেদ আহমেদ: আপনি বলছিলেন যে সংবিধান পরিবর্তন নতুন সংবিধানের কথা যেটা বলছিলেন বারবার। কিন্তু সেই জিনিসটা তো হলো না সংসদে। আপনি কি আশা দেখেন এখনও?
ফরহাদ মজহার: হ্যাঁ সেটা তো শেষ হয়ে যায়নি। অবশ্যই আশা দেখি।
রাশেদ আহমেদ: কীভাবে সেটা সম্ভব?
ফরহাদ মজহার: সেটা যখন দেখবেন তখন। আমি যখন ২০২৩ সালে সংবিধান সরি গণঅভ্যুত্থান গঠন লিখেছি তখন তো কেউ বিশ্বাস করেনি যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। তাহলে আমি এখন আপনাকে নিশ্চিত করছি যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে এটার আলো, এটার আগুন নিভবে না। নিশ্চিত থাকেন। ঊনসত্তরের প্রোডাক্ট আমরা। ফলে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এটা কিন্তু পরবর্তীতে একাত্তরে বাংলাদেশে রূপ নিয়েছে। ফলে এই যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান এটা নিঃসন্দেহে একটা নতুন বড় বাংলা মানে সবগুলো রাষ্ট্র নিয়ে একটা রাষ্ট্র না একটা বৃহত্তর একটা ঐক্যের মধ্যে একটা নতুন আঞ্চলিক একটা মৈত্রী এবং একটা শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
রাশেদ আহমেদ: আঞ্চলিক শক্তিশালী একটা ভূখণ্ড অথবা যেটা বলছেন আপনি গড়ে তুলতে হয় সেই ক্ষেত্রে তো রাজনৈতিক একটা বোঝাপড়ার বিষয় আছে?
ফরহাদ মজহার: বোঝাপড়া তো আসবে আপনার অর্থনৈতিক সমস্যাটা যখন চেপে ধরবে আপনাকে। আপনি এখন জাতীয়বাদের জায়গায় আছেন আমি তো জাতীয়বাদের জায়গায় একবারও নেই। আমি দেখতেছি বাংলাদেশের নদী বাংলাদেশের সাগর বাংলাদেশের ইকোনমিক পসিবিলিটি বাংলাদেশ থেকে আমি আজকে যে বিদেশ থেকে টাকা আনছি টাকা কী করে শোধ দেব এটা তো আমার ইকোনমিক প্রবলেম প্রাক্টিক্যাল প্রবলেম। আপনি যখনই প্রাক্টিক্যাল প্রবলেমে চাপ পড়বে এবং যখন যারা এই তরুণরা যখন এটার নেতৃত্ব দিবে নতুন কথা বলবে তখন এসব জাতীয়বাদ টাতীয়বাদ সব উড়ে চলে যাবে।
রাশেদ আহমেদ: এই অবস্থায় সাম্রাজ্যবাদের হাত থেকে মুক্তি কীভাবে সম্ভব?
ফরহাদ মজহার: মুহূর্তে হবে। কী করে হিরোশিমা হলো? আপনার চোখের সামনে তো দেখছেন ওরা কী করে পালাল। ওরা কী করে শাহকে তাড়িয়ে দিল। আমরা পারব। আমাদের সাম্রাজ্যবাদ আপনার স্থানীয় দিল্লির আধিপত্য আরও অনেক কিছু আছে। যেকোনো জনগোষ্ঠী যখন সে নিজের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে তাকে দমন করা অসম্ভব। এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান হচ্ছে ওই ঐতিহাসিক সচেতনতার একটা স্ফুলিঙ্গ। এই আগুন ছড়াবে।
রাশেদ আহমেদ: একটা জিনিস তো আমরা দেখি যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান যারা ঘটিয়েছে যারা এটার মূল নেতৃত্ব দিয়েছে। তারা এখন আপনি যে কিছুক্ষণ আগে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করলেন নানাভাবে তাদের সাথে তারা জোটবদ্ধ। একসাথে কাজ করছে। আপনি কি আশা করছেন নতুন আরেকটা নেতৃত্ব?
ফরহাদ মজহার: আমি তো জানি না। আপনি আমাকে এটা ভবিষ্যৎবাণী করার কথা বলছেন। আমার কাজ হচ্ছে পিপলকে এডুকেট করা। আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ যে আমাকে অনেক সম্মান দিচ্ছেন আপনি। আমার তো কাজ বলা। আমার কাজ ওয়াজ করা। ওয়াজ বুঝেন তো? আমার কাজ ওয়াজ করা। লোককে বোঝানো, জনগণকে বোঝানো। এখন এর মধ্যে যদি এরা না পারে, অন্য কেউ আসবে। এই তো আমি বুঝতে পারি। আপনি কি ঠেকাতে পারবেন এই বয়সে যে তরুণরা আছে তারা কি আপনাকে মেনে নিবে? আপনি কি মনে করেন যে হাসিনা এলে তারা মেনে নিবে যে ছেলেগুলো মারা গেছে রাস্তায়? তার পক্ষেও তো একটা গোষ্ঠী দেখা যাচ্ছে।
রাশেদ আহমেদ: মানে একটা সংকটময় অবস্থা তৈরি হচ্ছে?
ফরহাদ মজহার: সেটা পৃথিবীর সব জায়গাতেই আছে, আপনি এটাকে এড়াবেন কী করে? সংকট যখন থাকে এটাতে এড়াবার তো কোনো পথ নেই। সংকটটা এড়াতে পারতেন যদি আপনি ২৪ এর ৫ই আগস্টের পরে নতুন করে রাষ্ট্রটা গঠন করতেন। সংকট তৈরি করেছেন ডক্টর ইউনুস।
রাশেদ আহমেদ: আপনি তো তখন সমর্থন দিয়েছেন।
ফরহাদ মজহার: না, সমর্থন দিই নাই সারাক্ষণ বলছি। আপনি আমার লেখা পড়ে আসেন। আমার বক্তব্য পড়ে আসেন, আমি সমর্থন তো দিই নাই। আমি ডেফিনেটলি মনে করি যে ডক্টর ইউনুসের বিরোধিতা করি কোনো অর্থে আমি তার পূর্ণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে এটাই আমি চেয়েছি। এটা আমার প্রচুর ভিডিও আছে। সেটি আছে ডক্টর ইউনুস নির্বাচনের তিনদিন আগে একটা চুক্তি করে গেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। তার আগে চুক্তি তো হাসিনা করেছে চুক্তি বিএনপি করেছে। শোনেন এগুলো তো ইম্পর্ট্যান্ট আপনি এখন ডব্লিউটিও চুক্তি নিয়ে এসে তো আপনার গণঅভ্যুত্থানকে আন্ডারমাইন করতে পারেন না। হুবহু কাজ করেছে ইউনুসও। সেটা ইস্যু না আমাদের জন্য। আমি স্টেট নিয়ে কথা বলছি। রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী নিয়ে কথা বলছি।আজকে ডব্লিউটিওর চুক্তির বাইরে তো আপনি না। আপনি খালি তো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি করেছেন, তা না। তাহলে ইন্ডিয়ার সঙ্গে যে চুক্তি করেছেন ওটা কী হবে? ইন্ডিয়া যে বাজার এটার কী হবে? আমি খালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা কেন বলছি। বা যারা ইন্ডিয়া বিরোধী বলে এরা তো কয়দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলত না। এখন তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলতেছে কার বিরুদ্ধে? ওই ছাত্রদের বিরুদ্ধে ডক্টর ইউনুসের বিরুদ্ধে। কেন? তারা প্রমাণ করতে চায় যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানটা মিথ্যা। যে এটা একটা রেজিম চেঞ্জ এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউনুসকে বসায় দিয়ে একটা চুক্তি করে দিয়ে গেছে। না বামদের এসব ছেলেমানুষী এসব আত্মঘাতী রাজনীতি এটা বাংলাদেশের জনগণ মেনে নিবে না। নিঃসন্দেহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি অত্যন্ত খারাপ। কিন্তু তার মানে এই নয় যে দিল্লির সঙ্গে যে চুক্তি করেছে এটা ভালো। খালি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলেন জনগণ তো এটা মেনে নেবে না।
রাশেদ আহমেদ: আমাদের সময় দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ফরহাদ মজহার: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আপনার মতামত লিখুন