সংবাদ

কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৫ পুলিশের রায় ২৮ জুন


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ০২:৩০ পিএম

কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৫ পুলিশের রায় ২৮ জুন

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় 'কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি' এবং দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য ২৮ জুন দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই দিন ধার্য করে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আদালতে এদিন দ্বিতীয় দফার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। আসামিপক্ষে আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেল (রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মানবতাবিরোধী এই অপরাধের জন্য মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে কেবল এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। বাকি চারজন পলাতক। পলাতক আসামিরা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মামলার নথি অনুযায়ী,' ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৯ জুলাই বিকালে রামপুরায় হোটেলে কাজ শেষে ঢাকার ফুফুর বাসায় ফিরছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ আমির হোসেন। পথে বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের দুই পাশে পুলিশ ও বিজিবির গাড়ি দেখে আতঙ্কে তিনি একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন।

এ সময় পুলিশও তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে আমির ওই ভবনের ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন। কিন্তু পুলিশ তাকে দেখে ফেলে এবং তাক করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ আমির তিনতলায় পড়ে যান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বনশ্রীর একটি হাসপাতালে এবং ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফেরেন।'

কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করার পাশাপাশি এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আরও দুজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের ২৬ জানুয়ারি রাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাবেক এএসআই চঞ্চল সরকারকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা নেতৃত্বাধীন ডিএমপির একটি দল। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।

এর আগে গত ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রসিকিউশন নতুন করে ডিজিটাল প্রমাণ (অ্যাভিডেন্স) জমা দেওয়ার আবেদন করায় রায় পিছিয়ে যায়। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে ভুক্তভোগী আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়। সর্বশেষ গত ১০ জুন আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন এবং জবানবন্দিতে তিনি এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।

গত বছরের ১৪ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-১ দুই মাসের মধ্যে এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। এরপর ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থার কর্মকর্তারা।

গত বছরের ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন মামলাটি রায়ের অপেক্ষায়।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি: সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবসহ ৫ পুলিশের রায় ২৮ জুন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর রামপুরায় 'কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি' এবং দুজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়ের জন্য ২৮ জুন দিন রেখেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের এই দিন ধার্য করে। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আদালতে এদিন দ্বিতীয় দফার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। আসামিপক্ষে আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তার মক্কেল (রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মানবতাবিরোধী এই অপরাধের জন্য মামলার পাঁচ আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

মামলার পাঁচ আসামির মধ্যে কেবল এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। বাকি চারজন পলাতক। পলাতক আসামিরা হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মামলার নথি অনুযায়ী,' ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গত বছরের ১৯ জুলাই বিকালে রামপুরায় হোটেলে কাজ শেষে ঢাকার ফুফুর বাসায় ফিরছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ আমির হোসেন। পথে বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের দুই পাশে পুলিশ ও বিজিবির গাড়ি দেখে আতঙ্কে তিনি একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন।

এ সময় পুলিশও তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে প্রাণ বাঁচাতে আমির ওই ভবনের ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকেন। কিন্তু পুলিশ তাকে দেখে ফেলে এবং তাক করে গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ আমির তিনতলায় পড়ে যান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বনশ্রীর একটি হাসপাতালে এবং ওই রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি বাড়ি ফেরেন।'

কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গুলি করার পাশাপাশি এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আরও দুজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত বছরের ২৬ জানুয়ারি রাতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাবেক এএসআই চঞ্চল সরকারকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা নেতৃত্বাধীন ডিএমপির একটি দল। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে প্রথম ধাপে সাক্ষ্য দেন এই আসামি।

এর আগে গত ৪ মার্চ মামলাটির রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু প্রসিকিউশন নতুন করে ডিজিটাল প্রমাণ (অ্যাভিডেন্স) জমা দেওয়ার আবেদন করায় রায় পিছিয়ে যায়। এরপর প্রথম সাক্ষী হিসেবে ভুক্তভোগী আমির হোসেনকে পুনরায় সাক্ষ্য দিতে হয়। সর্বশেষ গত ১০ জুন আসামি চঞ্চল চন্দ্র সরকার পুনরায় সাফাই সাক্ষ্য দেন এবং জবানবন্দিতে তিনি এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।

গত বছরের ১৪ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-১ দুই মাসের মধ্যে এই ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। এরপর ৩১ জুলাই চিফ প্রসিকিউটরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থার কর্মকর্তারা।

গত বছরের ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে এবং ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এখন মামলাটি রায়ের অপেক্ষায়।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত