দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিশ্বমঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির চিলড্রেনস মার্সি পার্ক স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।
কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের তেতো স্মৃতি মাথায় রেখে এবার পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে মুখিয়ে আছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অবশ্য প্রথম ম্যাচের চাপ নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, "গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। তাই প্রথম ম্যাচটি অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। মানে, এটি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রথম ম্যাচেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না।"
তবে এবারের টুর্নামেন্টে সতর্ক স্কালোনি আরও যোগ করেন, "বিশ্বকাপে কোনো দলই সহজ নয়। প্রতিটি দলই এখানে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং আমরা আলজেরিয়াকে নিয়ে বেশ সতর্ক।"
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৬২ সালে ব্রাজিল ছাড়া আর কোনো দেশ বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। আর্জেন্টিনা তৃতীয় দল হিসেবে এই গৌরব অর্জন করতে পারবে কি না তা সময়ই বলে দেবে, তবে স্কালোনি তার দল নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, "আমরা সুনিশ্চিত ও আত্মবিশ্বাসী। আমরা এখানে আছি এবং খুব ভালো একটি মুহূর্তে রয়েছি।"
শিরোপা ধরে রাখার এই মিশনে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। আগামী সপ্তাহে ৩৯ বছরে পা রাখতে চলা মেসি এই ম্যাচে মাঠে নামলে টানা ৬টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার হবেন এবং আকাশী-সাদা জার্সিতে এটি হবে তাঁর ২০০তম ম্যাচ। মেসিকে নিয়ে কোচের মন্তব্য, "শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্বের মানুষ তাকে মাঠে দেখতে চায়। তার প্রভাব শুধু আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ওপরই নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের ওপরই রয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের জন্য শক্তিশালী একাদশ চূড়ান্ত করেছেন কোচ স্কালোনি। আলবিসেলেস্তে শিবিরে স্বস্তির খবর হলো, আঙুলের চোট কাটিয়ে গোলপোস্টের নিচে চেনা রূপেই ফিরছেন 'বাজপাখি' খ্যাত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
তবে রক্ষণভাগে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে; মাংসপেশির চোটের কারণে লেফট-ব্যাক নিকোলাস টাগলিয়াফিকো ছিটকে যাওয়ায় তাঁর পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন ফাকুন্দো মেদিনা। তাঁর সঙ্গে রক্ষণ দুর্গ সামলাবেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং গঞ্জালো মন্তিয়েল।
মাঝমাঠে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই থাকছেন রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্টিনেজের সঙ্গে চমক হিসেবে থাকছেন তরুণ ফরোয়ার্ড থিয়াগো আলমাদা, যার ফলে বেঞ্চে বসতে হচ্ছে হুলিয়ান আলভারেজকে।
এদিকে প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াও সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের রামি বেনসেবাইনি চোটে পড়ায় তাদের রক্ষণভাগ কিছুটা দুর্বল হলেও ভ্লাদিমির পেতকোভিচের দলের আসল শক্তি আক্রমণভাগের গতি। ম্যাচে স্পটলাইট থাকবে ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রিয়াদ মাহরেজের ওপর। শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকলেও অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন দেখছে আফ্রিকার দলটি।
ম্যাচের আগে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ বলেন, "অবশ্যই আমরা এই ম্যাচে ফেভারিট নই। তবে বিশ্বকাপে আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি যে অঘটন ঘটতে পারে এবং আমরাও তেমন একটি অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করব।"
একই সাথে আর্জেন্টিনার একটি অতীত ইতিহাস দলটিকে কিছুটা চিন্তায় রাখছে; ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের আসরের প্রথম ম্যাচেই হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এবার মেসি বাহিনী সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রুখে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বিশ্বমঞ্চে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটির চিলড্রেনস মার্সি পার্ক স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।
কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের তেতো স্মৃতি মাথায় রেখে এবার পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে মুখিয়ে আছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। অবশ্য প্রথম ম্যাচের চাপ নিয়ে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেন, "গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। তাই প্রথম ম্যাচটি অতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। মানে, এটি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রথম ম্যাচেই সবকিছু শেষ হয়ে যায় না।"
তবে এবারের টুর্নামেন্টে সতর্ক স্কালোনি আরও যোগ করেন, "বিশ্বকাপে কোনো দলই সহজ নয়। প্রতিটি দলই এখানে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং আমরা আলজেরিয়াকে নিয়ে বেশ সতর্ক।"
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৬২ সালে ব্রাজিল ছাড়া আর কোনো দেশ বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। আর্জেন্টিনা তৃতীয় দল হিসেবে এই গৌরব অর্জন করতে পারবে কি না তা সময়ই বলে দেবে, তবে স্কালোনি তার দল নিয়ে আশাবাদী। তিনি বলেন, "আমরা সুনিশ্চিত ও আত্মবিশ্বাসী। আমরা এখানে আছি এবং খুব ভালো একটি মুহূর্তে রয়েছি।"
শিরোপা ধরে রাখার এই মিশনে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা লিওনেল মেসি। আগামী সপ্তাহে ৩৯ বছরে পা রাখতে চলা মেসি এই ম্যাচে মাঠে নামলে টানা ৬টি বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলার হবেন এবং আকাশী-সাদা জার্সিতে এটি হবে তাঁর ২০০তম ম্যাচ। মেসিকে নিয়ে কোচের মন্তব্য, "শুধু আর্জেন্টিনা নয়, পুরো বিশ্বের মানুষ তাকে মাঠে দেখতে চায়। তার প্রভাব শুধু আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ওপরই নয়, বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের ওপরই রয়েছে।"
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের জন্য শক্তিশালী একাদশ চূড়ান্ত করেছেন কোচ স্কালোনি। আলবিসেলেস্তে শিবিরে স্বস্তির খবর হলো, আঙুলের চোট কাটিয়ে গোলপোস্টের নিচে চেনা রূপেই ফিরছেন 'বাজপাখি' খ্যাত এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
তবে রক্ষণভাগে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে; মাংসপেশির চোটের কারণে লেফট-ব্যাক নিকোলাস টাগলিয়াফিকো ছিটকে যাওয়ায় তাঁর পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন ফাকুন্দো মেদিনা। তাঁর সঙ্গে রক্ষণ দুর্গ সামলাবেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ এবং গঞ্জালো মন্তিয়েল।
মাঝমাঠে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই থাকছেন রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার। আক্রমণভাগে লিওনেল মেসি ও লাউতারো মার্টিনেজের সঙ্গে চমক হিসেবে থাকছেন তরুণ ফরোয়ার্ড থিয়াগো আলমাদা, যার ফলে বেঞ্চে বসতে হচ্ছে হুলিয়ান আলভারেজকে।
এদিকে প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াও সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের রামি বেনসেবাইনি চোটে পড়ায় তাদের রক্ষণভাগ কিছুটা দুর্বল হলেও ভ্লাদিমির পেতকোভিচের দলের আসল শক্তি আক্রমণভাগের গতি। ম্যাচে স্পটলাইট থাকবে ৩৫ বছর বয়সী অভিজ্ঞ রিয়াদ মাহরেজের ওপর। শক্তির বিচারে পিছিয়ে থাকলেও অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন দেখছে আফ্রিকার দলটি।
ম্যাচের আগে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ বলেন, "অবশ্যই আমরা এই ম্যাচে ফেভারিট নই। তবে বিশ্বকাপে আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি যে অঘটন ঘটতে পারে এবং আমরাও তেমন একটি অঘটন ঘটানোর চেষ্টা করব।"
একই সাথে আর্জেন্টিনার একটি অতীত ইতিহাস দলটিকে কিছুটা চিন্তায় রাখছে; ১৯৭৮ ও ১৯৮৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরের আসরের প্রথম ম্যাচেই হেরেছিল আর্জেন্টিনা। এবার মেসি বাহিনী সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি রুখে দিতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন