হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আলু চাষিরা। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে আলু ফেলে দিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। দাবি আদায়ে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে চাষিরা জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে লাগাতার অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দেড়টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশের অনুরোধে কৃষকরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে রংপুর জেলা আলু চাষি সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, হিমাগার মালিকরা একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে বস্তাপ্রতি আলুর ভাড়া ২৬০-২৮০ টাকার স্থলে ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, “এ বছর অসময়ে বৃষ্টির কারণে চাষিরা এমনিতেই ক্ষতির মুখে আছেন। তার ওপর প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ খরচ ৭ টাকা পড়লে উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ২৪ টাকার উপরে। অথচ বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬-১৭ টাকায়। আমরা বস্তাপ্রতি ভাড়া সর্বোচ্চ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে রাখার দাবি জানাচ্ছি।”
চাষিদের অভিযোগ, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সিন্ডিকেটের কারণে রংপুরে ভাড়ার এই চিত্র দেখা দিচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া মাত্র ২৮০ টাকা। আলু চাষি নেতারা অভিযোগের আঙুল তোলেন বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর দিকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, “কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া রেট অনুযায়ী আমরা সংরক্ষণ মূল্য নিচ্ছি। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। যারা আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।”
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আলু চাষিরা তাদের দাবির সপক্ষে কিছু সময় মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে তারা অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে যান চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
/

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আলু চাষিরা। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে রংপুর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে আলু ফেলে দিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। দাবি আদায়ে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে চাষিরা জানিয়েছেন, দাবি মানা না হলে লাগাতার অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা দেড়টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশের অনুরোধে কৃষকরা সড়ক ছেড়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে রংপুর জেলা আলু চাষি সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান অভিযোগ করেন, হিমাগার মালিকরা একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়ে বস্তাপ্রতি আলুর ভাড়া ২৬০-২৮০ টাকার স্থলে ৪৩০ থেকে ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেন, “এ বছর অসময়ে বৃষ্টির কারণে চাষিরা এমনিতেই ক্ষতির মুখে আছেন। তার ওপর প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ খরচ ৭ টাকা পড়লে উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ২৪ টাকার উপরে। অথচ বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬-১৭ টাকায়। আমরা বস্তাপ্রতি ভাড়া সর্বোচ্চ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে রাখার দাবি জানাচ্ছি।”
চাষিদের অভিযোগ, হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সিন্ডিকেটের কারণে রংপুরে ভাড়ার এই চিত্র দেখা দিচ্ছে। অথচ মুন্সীগঞ্জে একই পরিমাণ আলুর ভাড়া মাত্র ২৮০ টাকা। আলু চাষি নেতারা অভিযোগের আঙুল তোলেন বাংলাদেশ হিমাগার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর দিকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, “কৃষি মন্ত্রণালয়ের বেঁধে দেওয়া রেট অনুযায়ী আমরা সংরক্ষণ মূল্য নিচ্ছি। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নেই। যারা আন্দোলনের নামে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা উচিত।”
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, আলু চাষিরা তাদের দাবির সপক্ষে কিছু সময় মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে তারা অবরোধ তুলে নেন। বর্তমানে যান চলাচল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
/

আপনার মতামত লিখুন