যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গত অক্টোবরে একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি সই হলেও গাজায় থামেনি ইসরায়েলি নৃশংসতা। চুক্তির পর থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো।
মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনস-এর গাজা পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, গাজা আরও একটি মর্মান্তিক মাইলফলকে পৌঁছানোয় আমরা শোকাহত। যে হাজার হাজার মানুষকে বলা হয়েছিল সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি শেষ হয়ে গেছে, তারা এখনো তাদের প্রিয়জনকে দাফন করছেন। এই ‘যুদ্ধবিরতি’ বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধ করলেও, চুক্তির দ্বিতীয় ও অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়টি বাস্তবায়নের জন্য কোনো সমঝোতা হয়নি। এই পর্যায়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্যদের প্রত্যাহার এবং হামাসের অস্ত্র সমর্পণের কথা ছিল।
অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। চুক্তির আওতায় গাজা উপত্যকার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে তারা ৬৪ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। জাতিসংঘ মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী অফিস (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গত শুক্রবার পূর্ব গাজা সিটির ডজনখানেক পরিবারকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। কারণ, ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে হলুদ রঙের সিমেন্টের ব্লক স্থাপন করেছে, যা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাকে পশ্চিম দিকে আরও সম্প্রসারিত করার ইঙ্গিত দেয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আলজাজিরাকে বলেন, গোষ্ঠীটি এখনই তাদের অস্ত্র হস্তান্তরে রাজি নয়। তিনি জানান, অন্যান্য ফিলিস্তিনি উপদলের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার পরই তাদের সামরিক অস্ত্রের ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে। এই ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির মাধ্যমে গাজা এবং সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু করার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ উপত্যকার ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিকভাবে সচল রয়েছে এবং পুরোপুরি কার্যকর একটি হাসপাতালও সেখানে অবশিষ্ট নেই।
ফিকর শালতুত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বোমা বর্ষণ অব্যাহত থাকা এবং গাজা প্রায় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকার পরও বিশ্ব নেতারা নিজেদের বুঝিয়েছেন যে, একটি কাগজের টুকরোই জবাবদিহিতা, অবরোধ প্রত্যাহার বা অভাবী মানুষের কাছে ওষুধ পৌঁছানোর বিকল্প হতে পারে। এমনকি এখনো, যখন গাজায় প্রবেশাধিকার ব্যাপকভাবে সীমিত এবং অনাহারী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ত্রাণকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখনো তাদের নীরবতা ভাঙেনি।’

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে গত অক্টোবরে একটি ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি সই হলেও গাজায় থামেনি ইসরায়েলি নৃশংসতা। চুক্তির পর থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ জুন) ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলো।
মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনস-এর গাজা পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, গাজা আরও একটি মর্মান্তিক মাইলফলকে পৌঁছানোয় আমরা শোকাহত। যে হাজার হাজার মানুষকে বলা হয়েছিল সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি শেষ হয়ে গেছে, তারা এখনো তাদের প্রিয়জনকে দাফন করছেন। এই ‘যুদ্ধবিরতি’ বড় ধরনের যুদ্ধ বন্ধ করলেও, চুক্তির দ্বিতীয় ও অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়টি বাস্তবায়নের জন্য কোনো সমঝোতা হয়নি। এই পর্যায়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্যদের প্রত্যাহার এবং হামাসের অস্ত্র সমর্পণের কথা ছিল।
অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। চুক্তির আওতায় গাজা উপত্যকার ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা থাকলেও, বর্তমানে তারা ৬৪ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। জাতিসংঘ মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী অফিস (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, গত শুক্রবার পূর্ব গাজা সিটির ডজনখানেক পরিবারকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। কারণ, ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে হলুদ রঙের সিমেন্টের ব্লক স্থাপন করেছে, যা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাকে পশ্চিম দিকে আরও সম্প্রসারিত করার ইঙ্গিত দেয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আলজাজিরাকে বলেন, গোষ্ঠীটি এখনই তাদের অস্ত্র হস্তান্তরে রাজি নয়। তিনি জানান, অন্যান্য ফিলিস্তিনি উপদলের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার পরই তাদের সামরিক অস্ত্রের ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে। এই ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তির মাধ্যমে গাজা এবং সেখানকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু করার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ উপত্যকার ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিকভাবে সচল রয়েছে এবং পুরোপুরি কার্যকর একটি হাসপাতালও সেখানে অবশিষ্ট নেই।
ফিকর শালতুত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বোমা বর্ষণ অব্যাহত থাকা এবং গাজা প্রায় সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকার পরও বিশ্ব নেতারা নিজেদের বুঝিয়েছেন যে, একটি কাগজের টুকরোই জবাবদিহিতা, অবরোধ প্রত্যাহার বা অভাবী মানুষের কাছে ওষুধ পৌঁছানোর বিকল্প হতে পারে। এমনকি এখনো, যখন গাজায় প্রবেশাধিকার ব্যাপকভাবে সীমিত এবং অনাহারী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ত্রাণকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তখনো তাদের নীরবতা ভাঙেনি।’

আপনার মতামত লিখুন