প্রযুক্তির
জোয়ারে যখন গোটা বিশ্ব ভাসছে, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিল নরওয়ে।
শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং মৌলিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে দেশটির প্রাথমিক
বিদ্যালয়গুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে প্রায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
আরোপ করতে যাচ্ছে নরওয়ে সরকার। আগামী আগস্টে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষ
থেকেই এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর হবে।
শুক্রবার এক
সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গাহর স্তোরে এই নতুন নির্দেশনার কথা
আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের
মৌলিক শিক্ষা যেমন পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোতে এআই
নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নতুন সরকারি
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির অর্থাৎ ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী
শিক্ষার্থীরা স্কুলে সাধারণ নিয়ম হিসেবে কোনোভাবেই এআই ব্যবহার করতে পারবে না।
তবে নিম্ন মাধ্যমিকের ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সরাসরি
তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। অন্যদিকে
১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ
কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতির জন্য যথাযথভাবে এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
নরওয়ের এই
সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল
পিছিয়ে পড়ার কারণে ২০২৪ সালেই স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল দেশটি।
নব্বইয়ের দশক থেকে স্কুলে কম্পিউটার এবং ২০১০ সালের পর থেকে আইপ্যাড বা
ট্যাবলেটের ওপর যে প্রবল নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছিল, মূলত তা
থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে নরওয়ে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী
স্তোরে জোর দিয়ে বলেন, "স্কুলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের সন্তানদের
পড়তে, লিখতে এবং অঙ্ক করতে শেখা। এআই এর ওপর নির্ভরশীলতা
শিশুদের শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে
দেয়।"
ডিজিটাল
স্ক্রিনের আসক্তি কমিয়ে আবারও ছাপা বইয়ের পাতায় শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে
নতুন আইন করার ও তহবিল জোগানোর পরিকল্পনাও করছে নরওয়ে সরকার।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
প্রযুক্তির
জোয়ারে যখন গোটা বিশ্ব ভাসছে, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিল নরওয়ে।
শিশুদের মনোযোগ ধরে রাখতে এবং মৌলিক শিক্ষার ভিত মজবুত করতে দেশটির প্রাথমিক
বিদ্যালয়গুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারে প্রায় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা
আরোপ করতে যাচ্ছে নরওয়ে সরকার। আগামী আগস্টে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষ
থেকেই এই নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর হবে।
শুক্রবার এক
সংবাদ সম্মেলনে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গাহর স্তোরে এই নতুন নির্দেশনার কথা
আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শিশুদের
মৌলিক শিক্ষা যেমন পড়া, লেখা এবং অঙ্ক শেখার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোতে এআই
নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
নতুন সরকারি
নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির অর্থাৎ ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী
শিক্ষার্থীরা স্কুলে সাধারণ নিয়ম হিসেবে কোনোভাবেই এআই ব্যবহার করতে পারবে না।
তবে নিম্ন মাধ্যমিকের ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সরাসরি
তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে। অন্যদিকে
১৭ থেকে ১৯ বছর বয়সী উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ
কর্মক্ষেত্রের প্রস্তুতির জন্য যথাযথভাবে এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
নরওয়ের এই
সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল
পিছিয়ে পড়ার কারণে ২০২৪ সালেই স্কুলে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছিল দেশটি।
নব্বইয়ের দশক থেকে স্কুলে কম্পিউটার এবং ২০১০ সালের পর থেকে আইপ্যাড বা
ট্যাবলেটের ওপর যে প্রবল নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছিল, মূলত তা
থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে নরওয়ে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী
স্তোরে জোর দিয়ে বলেন, "স্কুলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের সন্তানদের
পড়তে, লিখতে এবং অঙ্ক করতে শেখা। এআই এর ওপর নির্ভরশীলতা
শিশুদের শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে
দেয়।"
ডিজিটাল
স্ক্রিনের আসক্তি কমিয়ে আবারও ছাপা বইয়ের পাতায় শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে
নতুন আইন করার ও তহবিল জোগানোর পরিকল্পনাও করছে নরওয়ে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন