স্মার্টফোনের ছোট্ট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমরা কি চারপাশের সুন্দর পৃথিবীটা ভুলতে বসেছি? এই একঘেয়েমি কাটাতে এবং প্রযুক্তিকে আরও মানবিক রূপ দিতে স্ন্যাপ ইনকর্পোরেটেড নিয়ে এসেছে তাদের নতুন অগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR) গ্লাস 'স্পেকস'। ২০২৬ সালের অগমেন্টেড ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইভান স্পিগেল এই ঘোষণা দেন। তবে চমকপ্রদ এই প্রযুক্তির দাম শুনলে অনেকেই হয়তো চমকে উঠবেন; এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২,১৯৫ মার্কিন ডলার!
স্ন্যাপের এই উদ্যোগটি মূলত স্মার্টফোন পরবর্তী যুগের
একটি সাহসী পদক্ষেপ। ইভান স্পিগেল মনে করেন, প্রযুক্তি
এমন হওয়া উচিত যা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে মিশে থাকবে এবং আমাদের ঘাড় গুঁজে
স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করবে না। 'স্পেকস'
সম্পূর্ণ তারবিহীন এবং স্বাধীন একটি যন্ত্র, যার জন্য
কোনো স্মার্টফোন বা তারের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
ওজনের দিক থেকে এটি বেশ আরামদায়ক; ফ্রেমের
আকারভেদে এর ওজন মাত্র ১৩২ থেকে ১৩৬ গ্রাম। চোখের সামনে ভাসমান ডিজিটাল জগতের
বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা দিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫১ ডিগ্রি ফিল্ড অব ভিউ এবং ১৬
মিলিয়ন রঙের নিজস্ব ডিসপ্লে প্রযুক্তি। স্ন্যাপের দাবি, এটি চোখে
পরলে মনে হবে আপনি কাজের জন্য একটি ২৪ ইঞ্চির ডেস্কটপ মনিটর অথবা সিনেমা দেখার
জন্য ১০ ফুট দূরের ১১৫ ইঞ্চির বড় স্ক্রিন দেখছেন। এর ইলেকট্রোক্রোমিক লেন্সগুলো
মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে একেবারে স্বচ্ছ অবস্থা থেকে রোদচশমার মতো গাঢ় রঙে বদলে
যেতে পারে।
গ্লাসটির ভেতরে রয়েছে দুটি স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর। একটি
প্রসেসর চারপাশের পরিবেশ ও হাতের ইশারা বোঝার কাজ করবে, আর অন্যটি
ডিজিটাল লেন্সের গ্রাফিক্স সামলাবে। মাত্র ৭ মিলি সেকেন্ড ল্যাটেন্সির কারণে
বাস্তবের সাথে ডিজিটাল বস্তুগুলোর কোনো অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়বে না। একবার চার্জ
দিলে এটি টানা ৪ ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে। সাথে থাকা চার্জিং কেস দিয়ে আরও চারবার
পূর্ণ চার্জ দেওয়া যাবে, ফলে ব্যবহারকারীরা মোট ২০ ঘণ্টার ব্যাকআপ পাবেন। এছাড়া
ডেভেলপারদের জন্য এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন টুল ব্যবহারের সুযোগ রাখা
হয়েছে।
আগামী শরৎকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সে এর সরবরাহ শুরু হবে। আগ্রহীরা বর্তমানে ২০০ ডলার জমা দিয়ে এটি প্রি অর্ডার করতে পারছেন। যেখানে স্ন্যাপের প্রথম প্রজন্মের ক্যামেরাযুক্ত চশমার দাম ছিল মাত্র ১৩০ ডলার, সেখানে নতুন 'স্পেকস' এর আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা। মেটা বা অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাথে পাল্লা দিতে স্ন্যাপের এই মহার্ঘ্য চশমা বাজারে কতটা সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র : techcrunch

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
স্মার্টফোনের ছোট্ট স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমরা কি চারপাশের সুন্দর পৃথিবীটা ভুলতে বসেছি? এই একঘেয়েমি কাটাতে এবং প্রযুক্তিকে আরও মানবিক রূপ দিতে স্ন্যাপ ইনকর্পোরেটেড নিয়ে এসেছে তাদের নতুন অগমেন্টেড রিয়ালিটি (AR) গ্লাস 'স্পেকস'। ২০২৬ সালের অগমেন্টেড ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইভান স্পিগেল এই ঘোষণা দেন। তবে চমকপ্রদ এই প্রযুক্তির দাম শুনলে অনেকেই হয়তো চমকে উঠবেন; এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২,১৯৫ মার্কিন ডলার!
স্ন্যাপের এই উদ্যোগটি মূলত স্মার্টফোন পরবর্তী যুগের
একটি সাহসী পদক্ষেপ। ইভান স্পিগেল মনে করেন, প্রযুক্তি
এমন হওয়া উচিত যা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে মিশে থাকবে এবং আমাদের ঘাড় গুঁজে
স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করবে না। 'স্পেকস'
সম্পূর্ণ তারবিহীন এবং স্বাধীন একটি যন্ত্র, যার জন্য
কোনো স্মার্টফোন বা তারের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
ওজনের দিক থেকে এটি বেশ আরামদায়ক; ফ্রেমের
আকারভেদে এর ওজন মাত্র ১৩২ থেকে ১৩৬ গ্রাম। চোখের সামনে ভাসমান ডিজিটাল জগতের
বাস্তবসম্মত অভিজ্ঞতা দিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৫১ ডিগ্রি ফিল্ড অব ভিউ এবং ১৬
মিলিয়ন রঙের নিজস্ব ডিসপ্লে প্রযুক্তি। স্ন্যাপের দাবি, এটি চোখে
পরলে মনে হবে আপনি কাজের জন্য একটি ২৪ ইঞ্চির ডেস্কটপ মনিটর অথবা সিনেমা দেখার
জন্য ১০ ফুট দূরের ১১৫ ইঞ্চির বড় স্ক্রিন দেখছেন। এর ইলেকট্রোক্রোমিক লেন্সগুলো
মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে একেবারে স্বচ্ছ অবস্থা থেকে রোদচশমার মতো গাঢ় রঙে বদলে
যেতে পারে।
গ্লাসটির ভেতরে রয়েছে দুটি স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর। একটি
প্রসেসর চারপাশের পরিবেশ ও হাতের ইশারা বোঝার কাজ করবে, আর অন্যটি
ডিজিটাল লেন্সের গ্রাফিক্স সামলাবে। মাত্র ৭ মিলি সেকেন্ড ল্যাটেন্সির কারণে
বাস্তবের সাথে ডিজিটাল বস্তুগুলোর কোনো অসামঞ্জস্যতা চোখে পড়বে না। একবার চার্জ
দিলে এটি টানা ৪ ঘণ্টা ব্যবহার করা যাবে। সাথে থাকা চার্জিং কেস দিয়ে আরও চারবার
পূর্ণ চার্জ দেওয়া যাবে, ফলে ব্যবহারকারীরা মোট ২০ ঘণ্টার ব্যাকআপ পাবেন। এছাড়া
ডেভেলপারদের জন্য এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিভিন্ন টুল ব্যবহারের সুযোগ রাখা
হয়েছে।
আগামী শরৎকাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সে এর সরবরাহ শুরু হবে। আগ্রহীরা বর্তমানে ২০০ ডলার জমা দিয়ে এটি প্রি অর্ডার করতে পারছেন। যেখানে স্ন্যাপের প্রথম প্রজন্মের ক্যামেরাযুক্ত চশমার দাম ছিল মাত্র ১৩০ ডলার, সেখানে নতুন 'স্পেকস' এর আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় ধাক্কা। মেটা বা অ্যাপলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের সাথে পাল্লা দিতে স্ন্যাপের এই মহার্ঘ্য চশমা বাজারে কতটা সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সূত্র : techcrunch

আপনার মতামত লিখুন