কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগত এখন আর কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রাহক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এর চাহিদা এতই দ্রুত বাড়ছে যে, গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টেরও বর্তমান সক্ষমতায় কুলিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের এই তীব্র প্রতিযোগিতায় নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করতে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। এআই অবকাঠামো এবং বিশ্বব্যাপী কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে বাজার থেকে ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের নতুন শেয়ার মূলধন সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ তহবিল সংগ্রহের ঘটনা।
গুগলের মতো
একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সিদ্ধান্তটি বেশ চমকপ্রদ। কারণ, বর্তমানে অ্যালফাবেট বিশ্বের অন্যতম লাভজনক
একটি প্রতিষ্ঠান। অ্যালফাবেট জানিয়েছে,
বিশাল এই তহবিলের অর্থ তিনটি ভিন্ন ধাপে সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ৩ হাজার
কোটি ডলার আসবে সরাসরি পাবলিক অফারিং থেকে এবং ৪ হাজার কোটি ডলারের শেয়ার ধীরে
ধীরে সাধারণ বাজারে ছাড়া হবে। আর বাকি ১ হাজার কোটি ডলার আসবে বেসরকারি বিনিয়োগ
হিসেবে, যা প্রদান
করবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে।
এই চুক্তির
সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো ওয়ারেন বাফেটের প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের যুক্ত
হওয়া। প্রতিষ্ঠানটি ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্লাস 'এ' শেয়ার এবং ৫
বিলিয়ন ডলারের ক্লাস 'সি' শেয়ার কেনার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ২০২৫ সাল
থেকেই অ্যালফাবেটে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে বার্কশায়ার। নতুন এই লেনদেনের পর
অ্যালফাবেটে তাদের মোট শেয়ারের পরিমাণ ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা
হচ্ছে। বার্কশায়ার সাধারণত স্থিতিশীল আয়ের ব্যবসাগুলোতে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করে।
তাই প্রযুক্তি খাতে তাদের এত বড় অংকের বিনিয়োগ গুগলের এআই নীতির প্রতি একটি বিশাল
আস্থার প্রতীক হিসেবেই দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনাটি
স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তার অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। অত্যাধুনিক এআই সিস্টেম তৈরির জন্য
এখন ডেটা সেন্টার, কাস্টম চিপ, নেটওয়ার্কিং হার্ডওয়্যার এবং বিশাল বিদ্যুৎ
অবকাঠামোর পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালতে হচ্ছে। মাইক্রোসফট, ওপেনএআই, অ্যামাজন এবং মেটার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে টিকে
থাকতে অ্যালফাবেট তাদের নিজস্ব টেনসর প্রসেসিং ইউনিট বা টিপিইউ, ক্লাউড সক্ষমতা এবং জেমিনি এআই ইকোসিস্টেমের
পেছনে বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই কোম্পানিটি তাদের
২০২৬ সালের মূলধনি ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১৮০ থেকে ১৯০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ
করেছে।
অ্যালফাবেট
গত এক বছরে ঋণ বাজার থেকে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এর ফলে তাদের মোট
ঋণের পরিমাণ এখন ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একসময় যারা নিজেদের আয় দিয়েই ব্যবসা
সম্প্রসারণ ও অন্যান্য খরচ মেটাতে পারত, তাদের এই বিপুল পরিমাণ শেয়ার মূলধন ও ঋণ সংগ্রহ
প্রযুক্তি বিশ্বের একটি বড় পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগত এখন আর কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রাহক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এর চাহিদা এতই দ্রুত বাড়ছে যে, গুগলের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টেরও বর্তমান সক্ষমতায় কুলিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের এই তীব্র প্রতিযোগিতায় নিজেদের আধিপত্য আরও মজবুত করতে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। এআই অবকাঠামো এবং বিশ্বব্যাপী কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে বাজার থেকে ৮০ বিলিয়ন বা ৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের নতুন শেয়ার মূলধন সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহৎ তহবিল সংগ্রহের ঘটনা।
গুগলের মতো
একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য এই সিদ্ধান্তটি বেশ চমকপ্রদ। কারণ, বর্তমানে অ্যালফাবেট বিশ্বের অন্যতম লাভজনক
একটি প্রতিষ্ঠান। অ্যালফাবেট জানিয়েছে,
বিশাল এই তহবিলের অর্থ তিনটি ভিন্ন ধাপে সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ৩ হাজার
কোটি ডলার আসবে সরাসরি পাবলিক অফারিং থেকে এবং ৪ হাজার কোটি ডলারের শেয়ার ধীরে
ধীরে সাধারণ বাজারে ছাড়া হবে। আর বাকি ১ হাজার কোটি ডলার আসবে বেসরকারি বিনিয়োগ
হিসেবে, যা প্রদান
করবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে।
এই চুক্তির
সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি হলো ওয়ারেন বাফেটের প্রতিষ্ঠান বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের যুক্ত
হওয়া। প্রতিষ্ঠানটি ৫ বিলিয়ন ডলারের ক্লাস 'এ' শেয়ার এবং ৫
বিলিয়ন ডলারের ক্লাস 'সি' শেয়ার কেনার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে। ২০২৫ সাল
থেকেই অ্যালফাবেটে বিনিয়োগ বাড়িয়ে চলেছে বার্কশায়ার। নতুন এই লেনদেনের পর
অ্যালফাবেটে তাদের মোট শেয়ারের পরিমাণ ২৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা
হচ্ছে। বার্কশায়ার সাধারণত স্থিতিশীল আয়ের ব্যবসাগুলোতে বিনিয়োগ করতে পছন্দ করে।
তাই প্রযুক্তি খাতে তাদের এত বড় অংকের বিনিয়োগ গুগলের এআই নীতির প্রতি একটি বিশাল
আস্থার প্রতীক হিসেবেই দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনাটি
স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তার অর্থনীতি এখন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। অত্যাধুনিক এআই সিস্টেম তৈরির জন্য
এখন ডেটা সেন্টার, কাস্টম চিপ, নেটওয়ার্কিং হার্ডওয়্যার এবং বিশাল বিদ্যুৎ
অবকাঠামোর পেছনে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ ঢালতে হচ্ছে। মাইক্রোসফট, ওপেনএআই, অ্যামাজন এবং মেটার মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে টিকে
থাকতে অ্যালফাবেট তাদের নিজস্ব টেনসর প্রসেসিং ইউনিট বা টিপিইউ, ক্লাউড সক্ষমতা এবং জেমিনি এআই ইকোসিস্টেমের
পেছনে বিনিয়োগ ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই কোম্পানিটি তাদের
২০২৬ সালের মূলধনি ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১৮০ থেকে ১৯০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ
করেছে।
অ্যালফাবেট
গত এক বছরে ঋণ বাজার থেকে প্রায় ৮৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। এর ফলে তাদের মোট
ঋণের পরিমাণ এখন ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একসময় যারা নিজেদের আয় দিয়েই ব্যবসা
সম্প্রসারণ ও অন্যান্য খরচ মেটাতে পারত, তাদের এই বিপুল পরিমাণ শেয়ার মূলধন ও ঋণ সংগ্রহ
প্রযুক্তি বিশ্বের একটি বড় পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন