সংবাদ

কারা বন্যপ্রাণী ও পাখি পাচারের পেছনে


বাকী বিল্লাহ
বাকী বিল্লাহ
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১১:২০ পিএম

কারা বন্যপ্রাণী ও পাখি পাচারের পেছনে

  • দেশজুড়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বন্যপ্রাণী ব্যবসায়ী আছে
  • গাজীপুরে ফাঁদ পেতে পাখি আটক, বিক্রয়কারি চক্রের সন্ধান
  • ১৫টি ময়না ও ১টি টিয়া পাখি উদ্ধার, ২জন গ্রেপ্তার
  • খাঁচাবন্দি বন্যতা: গাজীপুরের অরণ্য থেকে ইন্টারপোলের লাল নোটিশ
  • ডানা ভাঙা কান্নায় কাটছে বন্দি পাখিদের দিন
  • সীমান্ত পেরিয়ে গুজরাটের খাঁচায় বন্দি বিপন্ন লেমুর ছানা

সবুজ পাতার আড়াল থেকে হঠাৎ এক ঝাঁক ডানা মেলার আনন্দ স্তব্ধ হয়ে যায় কিছু নির্মম লোভের জাঁতাকলে। যে পাখির কণ্ঠে ভোরের আলো ফোটে, যারা বনের বুক চিরে গেয়ে ওঠে মুক্তির গান, তারা আজ কতিপয় মানুষের টাকার নেশায় বন্দি হচ্ছে লোহার খাঁচায়। কখনো গাজীপুরের গহীন বন থেকে মায়াবী ময়না-টিয়া শিকার করে তোলা হচ্ছে অনলাইনের হাটে, আবার কখনো বা বনের সবচেয়ে দুর্লভ, সবচেয়ে মায়াবী প্রাণীটিকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে ভিনদেশের কোনো ধনকুবেরের ব্যক্তিগত প্রমোদশালায়।

বন্যপ্রাণী পাখি পাচারের এই আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের অমানবিক রোমহর্ষক গল্প এখন গাজীপুরের অরণ্য ছাড়িয়ে দেশের সীমান্ত পার হয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের টেবিলে। খাঁচায় একা পড়ে থাকা এক লেমুরের দীর্ঘশ্বাস আর উদ্ধার হওয়া ১৫টি ময়না পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ যেন এখন এক অভিন্ন সুরে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্মমতার সাক্ষ্য দিচ্ছে।

অপারেশন টঙ্গী

সম্প্রতি গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার আরিচপুর রোড এলাকায় এক ছমছমে অভিযানের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় বন্যপ্রাণী শিকার বিক্রির এক অন্ধকার দুনিয়া। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে খবর ছিল, আধুনিক প্রযুক্তির আড়ালে ফেসবুক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বনের মুক্ত পাখিদের চড়া দামে বিক্রি করছে একটি চক্র। গাজীপুরের বিভিন্ন জঙ্গল থেকে ফাঁদ পেতে ধরা ময়না টিয়া পাখিদের এক নির্জন বাড়িতে এনে জড়ো করা হয়েছে বিক্রির উদ্দেশ্যে।

অভিযান চালানোর আগে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্যপ্রাণী অধিদপ্তর যোগাযোগ করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ। সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হলে পুলিশের একটি চৌকস দল বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আরিচপুর রোডের সেই গোপন আস্তানায় হানা দেয়। আচমকা এই অভিযানে বন্যপ্রাণী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে খাঁচাবন্দি করে রাখা ১৫টি চমৎকার কথা বলা ময়না পাখি এবং ১টি সবুজ টিয়া পাখি উদ্ধার করা হয়।

পাখিগুলোকে আলো-বাতাসহীন খাঁচায় আটকে রাখার অপরাধে এবং এই চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইব্রাহিম মাহিদুল ইসলাম নামের দুই পাখিবাজকে। পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বলেন, "বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে আরও কারা জড়িত আছে, তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

মিনি চিড়িয়াখানার আড়ালে কোটি টাকার আন্তর্জাতিক চোরাকারবার

এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে সিআইডির একজন দায়িত্বশীল ইন্সপেক্টর বিস্ফোরক সব তথ্য দেন। তার মতে, রাজধানী এর আশেপাশে গড়ে ওঠা অনেক পাখি ব্যবসা এবং নামসর্বস্বমিনি চিড়িয়াখানা আড়ালে মূলত চলছে আন্তর্জাতিক চোরাকারবার।

তিনি জানান, "অনেকে পাখি ব্যবসা মিনি চিড়িয়াখানার আড়ালে বিরল প্রজাতির পাখি বন্যপ্রাণী বেশি দামে বিক্রি করছে। এই চক্র ময়না, টিয়া, হরিণ, ময়ূরসহ অন্যান্য পাখি বন্যপ্রাণী গোপনে বিক্রি করছে।"

জানা যায়, টঙ্গী বাজারের কাছে একটি বড় পাখির হাট রয়েছে, যেখানে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট মাঝে মধ্যেই বড় ধরনের অভিযান চালায়। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এরা বিচ্ছিন্নভাবে বনের গহীন থেকে বিরল প্রজাতির প্রাণী পাখি ধরে এনে বিত্তবান বিদেশিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে। শুধু দেশেই নয়, সীমান্ত পেরিয়ে এই সব বোবা প্রাণী পাখি পাচারের বহু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

মা শিশুর বুকফাটা আর্তনাদ

বন্যপ্রাণী পাচারের সবচেয়ে নিষ্ঠুর হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের ২৩ মার্চ গভীর রাতে, গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। রাতের অন্ধকারে পার্কের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী কেটে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয় অত্যন্ত দুর্লভ প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরকে। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে এই প্রজাতির লেমুর মাত্র ১২০ থেকে ১৩০টি জীবিত আছে।

আইইউসিএন-এর লাল তালিকায় এটিঅত্যন্ত বিপন্নপ্রাণী হিসেবে চিহ্নিত। সাউথ আফ্রিকার মাদাগাস্কারের এই মায়াবী প্রাণীদের বাংলাদেশ এনে পরম যত্নে রাখা হয়েছিল। কিন্তু চোরাকারবারিদের লোভের হাত থেকে রেহাই পায়নি তারা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরবর্তীতে একটি পুরুষ লেমুরকে দেশের ভেতর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, মা লেমুর তার দুধের শিশুকে রক্ষা করা যায়নি। তাদেরকে সীমান্ত পার করে পাচার করে দেওয়া হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। এই নিষ্ঠুর বিরহ আর আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের অবিশ্বাস্য নেপথ্য কাহিনী উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)

ঘরের শত্রু বিভীষণ ৪১ লাখ টাকার চালবাজি

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, সাফারি পার্কের এই চুরির নেপথ্যে ছিল ভেতরেরই একঘরের শত্রু বিভীষণ আউটসোর্সিংয়ে কাজ করা নিপেল মাহমুদ নামের এক কর্মচারীই ছিল এই সর্বনাশা পরিকল্পনার মূল হোতা। নিপেল পার্কের ভেতরে থাকা দুর্লভ বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের ছবি ভিডিও ধারণ করত। এরপর ফেসবুকের বিভিন্ন গোপন গ্রুপ পেজে সেসব পোস্ট করে দেশি-বিদেশি চোরাকারবারিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। লেমুরগুলোর ছবি সে প্রথমে দেখায় প্রতিবেশী পাখি ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়াকে। জুয়েল আবার যোগাযোগ করে আরেক ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন হৃদয়ের সাথে। হৃদয় এই চুরির জাল ছড়াতে যুক্ত করে দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ পাখি আমদানিকারক মোঃ সাব্বির হোসেন তপনকে।

২৩ মার্চ দিবাগত রাতে নিপেল তার সহযোগীরা খাঁচা কেটে তিনটি লেমুরকেই চুরি করে জুয়েলের বাড়িতে নিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি লেমুর তারা জনৈক এক দেশীয় ব্যবসায়ীর কাছে লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে হৃদয় পায় ১০ হাজার টাকা। বাকি দুটি অর্থাৎ মা লেমুর তার সন্তানকে বিক্রি করার জন্য দেলোয়ার সাব্বির যোগাযোগ করে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সাথে।

প্রতিটি লেমুরের দাম নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় ভারতীয় ক্রেতাদের গাড়িতে যখন কার্টনবন্দি করে অবুঝ প্রাণী দুটিকে তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন নিপেলকে ৭০ হাজার টাকা কমিশন গুনে দেয় জুয়েলের আপন চাচা মজনু মিয়া। মজনু চোরাই লেমুর দুটি প্যাকেট হস্তান্তরের মূল কাজ তদারকি করেছিল। কিন্তু ট্রানজিট সীমান্ত পার হওয়ার পর ভারতীয় কালোবাজারে এই দুটি লেমুরের দাম গিয়ে দাঁড়ায় আকাশচুম্বী ৪১ লাখ টাকায়! অথচ পার্কের এজাহারে তিনটি লেমুরের আনুমানিক সরকারি মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র লাখ টাকা।

গুজরাটের খাঁচায় বন্দি বাংলার লেমুর: ইন্টারপোলের কড়া নাড়ছে সিআইডি

নিজেদের চেনা পরিবেশ, চেনা জলহাওয়া আর একমাত্র পুরুষ সঙ্গীকে হারিয়ে খাঁচায় বন্দি মা শিশু প্রাণী দুটির করুণ আর্তি হয়তো কেউ শুনছে না, কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ তাদের ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পাচার হওয়া মা শিশু লেমুরটি বর্তমানে ভারতের গুজরাটের একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানায় বন্দি রয়েছে বলে তীব্র সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্ত লেমুর দুটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর সুনীল কুমার দাস মুঠোফোনে জানান, "পাচার হওয়া লেমুর উদ্ধারে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। আর যে লেমুরটি উদ্ধার করা হয়েছে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

তিনি আরও জানান, ইন্টারপোল থেকে পাচার হওয়া লেমুর দুটির সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ তথ্য চাওয়ায়, বাংলাদেশে উদ্ধার হওয়া একমাত্র লেমুরটির ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কারণ, ডিএনএ প্রোফাইল মিললেই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ হবে যে গুজরাটে থাকা লেমুর দুটি এই উদ্ধার হওয়া লেমুরটিরই হারিয়ে যাওয়া মা সন্তান। প্রয়োজনে তদন্তকারী দল ভারতে গিয়ে তল্লাশি চালাবে এবং ইন্টারপোল তাদের পূর্ণ সহায়তা দেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বিমানবন্দর, আত্মগোপনে ৫০০ ব্যবসায়ী

বন্যপ্রাণী চুরির এই আন্তর্জাতিক চক্রটি ঢাকাকে মূল ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। ইন্সপেক্টর সুনীল কুমার দাস জানান, "আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্র শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এরপরও বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য সিআইডির পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে শুল্ক কর্মকর্তার ( deputy commissioner) কাছে তথ্য জানার জন্য লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে।"

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই বন্যপ্রাণী পাখি পাচারের পেছনে দেশ-বিদেশ জুড়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট জড়িত। সিআইডি যখন এই মামলার গভীরে প্রবেশ করে, তখন দেশজুড়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বন্যপ্রাণী পাখি ব্যবসায়ীর জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সিআইডির এই অভূতপূর্ব সাঁড়াশি অভিযানের মুখে তাদের অনেকেই এখন অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে ল্যাজ গুটিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। এই চক্রটি এর আগেও একাধিকবার বিমানবন্দর স্থলবন্দর ব্যবহার করে দেশের বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিদেশে পাচার করেছে বলে প্রমাণ মিলছে।

গাজীপুর সাফারি পার্কের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাধ্যমে চুরির বিষয়টি প্রথম জানাজানি হওয়ার পর শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি মনিটরিং নিখুঁত পরিকল্পনায় তদন্ত শুরু হয়। গত বছরের নভেম্বর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের কলাইপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় মজনু মিয়াকে গ্রেফতারের মাধ্যমে প্রথম সাফল্যের মুখ দেখে সিআইডি। পর্যন্ত এই মামলায় মোট জন সন্দেহভাজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ টিম চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে।

গ্রেফতার জনের মধ্যে মজনু মিয়াসহ জনই আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বন্যপ্রাণী বিক্রি পাচারের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে সিআইডি জানিয়েছে, এই চক্রের মূল হোতা বাগডফাদারএখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে এই আন্তর্জাতিক পাচার সিন্ডিকেটের নেপথ্যের আরও বহু রোমহর্ষক কাহিনী এবং অন্ধকার দিক উন্মোচিত হবে।

একটি মানবিক অপেক্ষার গল্প

আপাতত গাজীপুরের সাফারি পার্কের খাঁচায় একা পড়ে থাকা রিংটেইল লেমুরটি হয়তো তার চিরচেনা সঙ্গীদের পথ চেয়ে অবুঝ চোখে দিন গুনছে। বনের যে ময়নাগুলো উদ্ধার হলো, তারাও যেন খুঁজে ফিরছে তাদের হারানো আকাশ। অডিও রেকর্ড, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট আর ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট হাতে পেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সীমান্ত জয় করে একদিন মা, সন্তান আর তার ছানা আবার স্বদেশে ফিরবে, আবার বনের পাখিরা বনেই গাইবে গান; এই মানবিক আশাতেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সিআইডি বন্যপ্রাণী অধিদপ্তরের অনুসন্ধানী দল। মানুষের লোভের কাছে হেরে যাওয়া প্রকৃতি যেন আইনি লড়াইয়ের হাত ধরে আবার তার হারানো সন্তানদের ফিরে পায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


কারা বন্যপ্রাণী ও পাখি পাচারের পেছনে

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

  • দেশজুড়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বন্যপ্রাণী ব্যবসায়ী আছে
  • গাজীপুরে ফাঁদ পেতে পাখি আটক, বিক্রয়কারি চক্রের সন্ধান
  • ১৫টি ময়না ও ১টি টিয়া পাখি উদ্ধার, ২জন গ্রেপ্তার
  • খাঁচাবন্দি বন্যতা: গাজীপুরের অরণ্য থেকে ইন্টারপোলের লাল নোটিশ
  • ডানা ভাঙা কান্নায় কাটছে বন্দি পাখিদের দিন
  • সীমান্ত পেরিয়ে গুজরাটের খাঁচায় বন্দি বিপন্ন লেমুর ছানা

সবুজ পাতার আড়াল থেকে হঠাৎ এক ঝাঁক ডানা মেলার আনন্দ স্তব্ধ হয়ে যায় কিছু নির্মম লোভের জাঁতাকলে। যে পাখির কণ্ঠে ভোরের আলো ফোটে, যারা বনের বুক চিরে গেয়ে ওঠে মুক্তির গান, তারা আজ কতিপয় মানুষের টাকার নেশায় বন্দি হচ্ছে লোহার খাঁচায়। কখনো গাজীপুরের গহীন বন থেকে মায়াবী ময়না-টিয়া শিকার করে তোলা হচ্ছে অনলাইনের হাটে, আবার কখনো বা বনের সবচেয়ে দুর্লভ, সবচেয়ে মায়াবী প্রাণীটিকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে ভিনদেশের কোনো ধনকুবেরের ব্যক্তিগত প্রমোদশালায়।

বন্যপ্রাণী পাখি পাচারের এই আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের অমানবিক রোমহর্ষক গল্প এখন গাজীপুরের অরণ্য ছাড়িয়ে দেশের সীমান্ত পার হয়ে পৌঁছে গেছে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের টেবিলে। খাঁচায় একা পড়ে থাকা এক লেমুরের দীর্ঘশ্বাস আর উদ্ধার হওয়া ১৫টি ময়না পাখির ডানা ঝাপটানোর শব্দ যেন এখন এক অভিন্ন সুরে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্মমতার সাক্ষ্য দিচ্ছে।

অপারেশন টঙ্গী

সম্প্রতি গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার আরিচপুর রোড এলাকায় এক ছমছমে অভিযানের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হয় বন্যপ্রাণী শিকার বিক্রির এক অন্ধকার দুনিয়া। বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কাছে খবর ছিল, আধুনিক প্রযুক্তির আড়ালে ফেসবুক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বনের মুক্ত পাখিদের চড়া দামে বিক্রি করছে একটি চক্র। গাজীপুরের বিভিন্ন জঙ্গল থেকে ফাঁদ পেতে ধরা ময়না টিয়া পাখিদের এক নির্জন বাড়িতে এনে জড়ো করা হয়েছে বিক্রির উদ্দেশ্যে।

অভিযান চালানোর আগে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্যপ্রাণী অধিদপ্তর যোগাযোগ করে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ। সেখান থেকে তাৎক্ষণিকভাবে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হলে পুলিশের একটি চৌকস দল বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে আরিচপুর রোডের সেই গোপন আস্তানায় হানা দেয়। আচমকা এই অভিযানে বন্যপ্রাণী আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে খাঁচাবন্দি করে রাখা ১৫টি চমৎকার কথা বলা ময়না পাখি এবং ১টি সবুজ টিয়া পাখি উদ্ধার করা হয়।

পাখিগুলোকে আলো-বাতাসহীন খাঁচায় আটকে রাখার অপরাধে এবং এই চক্রের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার দায়ে ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় মো. ইব্রাহিম মাহিদুল ইসলাম নামের দুই পাখিবাজকে। পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বলেন, "বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের পেছনে আরও কারা জড়িত আছে, তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"

মিনি চিড়িয়াখানার আড়ালে কোটি টাকার আন্তর্জাতিক চোরাকারবার

এই চক্রের শিকড় কতটা গভীরে, তা অনুসন্ধান করতে গিয়ে সিআইডির একজন দায়িত্বশীল ইন্সপেক্টর বিস্ফোরক সব তথ্য দেন। তার মতে, রাজধানী এর আশেপাশে গড়ে ওঠা অনেক পাখি ব্যবসা এবং নামসর্বস্বমিনি চিড়িয়াখানা আড়ালে মূলত চলছে আন্তর্জাতিক চোরাকারবার।

তিনি জানান, "অনেকে পাখি ব্যবসা মিনি চিড়িয়াখানার আড়ালে বিরল প্রজাতির পাখি বন্যপ্রাণী বেশি দামে বিক্রি করছে। এই চক্র ময়না, টিয়া, হরিণ, ময়ূরসহ অন্যান্য পাখি বন্যপ্রাণী গোপনে বিক্রি করছে।"

জানা যায়, টঙ্গী বাজারের কাছে একটি বড় পাখির হাট রয়েছে, যেখানে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট মাঝে মধ্যেই বড় ধরনের অভিযান চালায়। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এরা বিচ্ছিন্নভাবে বনের গহীন থেকে বিরল প্রজাতির প্রাণী পাখি ধরে এনে বিত্তবান বিদেশিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে। শুধু দেশেই নয়, সীমান্ত পেরিয়ে এই সব বোবা প্রাণী পাখি পাচারের বহু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।

মা শিশুর বুকফাটা আর্তনাদ

বন্যপ্রাণী পাচারের সবচেয়ে নিষ্ঠুর হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের ২৩ মার্চ গভীর রাতে, গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। রাতের অন্ধকারে পার্কের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী কেটে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হয় অত্যন্ত দুর্লভ প্রজাতির তিনটি রিংটেইল লেমুরকে। বিশ্বজুড়ে বর্তমানে এই প্রজাতির লেমুর মাত্র ১২০ থেকে ১৩০টি জীবিত আছে।

আইইউসিএন-এর লাল তালিকায় এটিঅত্যন্ত বিপন্নপ্রাণী হিসেবে চিহ্নিত। সাউথ আফ্রিকার মাদাগাস্কারের এই মায়াবী প্রাণীদের বাংলাদেশ এনে পরম যত্নে রাখা হয়েছিল। কিন্তু চোরাকারবারিদের লোভের হাত থেকে রেহাই পায়নি তারা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরবর্তীতে একটি পুরুষ লেমুরকে দেশের ভেতর থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, মা লেমুর তার দুধের শিশুকে রক্ষা করা যায়নি। তাদেরকে সীমান্ত পার করে পাচার করে দেওয়া হয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। এই নিষ্ঠুর বিরহ আর আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের অবিশ্বাস্য নেপথ্য কাহিনী উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)

ঘরের শত্রু বিভীষণ ৪১ লাখ টাকার চালবাজি

সিআইডির অনুসন্ধানে জানা যায়, সাফারি পার্কের এই চুরির নেপথ্যে ছিল ভেতরেরই একঘরের শত্রু বিভীষণ আউটসোর্সিংয়ে কাজ করা নিপেল মাহমুদ নামের এক কর্মচারীই ছিল এই সর্বনাশা পরিকল্পনার মূল হোতা। নিপেল পার্কের ভেতরে থাকা দুর্লভ বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের ছবি ভিডিও ধারণ করত। এরপর ফেসবুকের বিভিন্ন গোপন গ্রুপ পেজে সেসব পোস্ট করে দেশি-বিদেশি চোরাকারবারিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করত। লেমুরগুলোর ছবি সে প্রথমে দেখায় প্রতিবেশী পাখি ব্যবসায়ী জুয়েল মিয়াকে। জুয়েল আবার যোগাযোগ করে আরেক ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন হৃদয়ের সাথে। হৃদয় এই চুরির জাল ছড়াতে যুক্ত করে দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ পাখি আমদানিকারক মোঃ সাব্বির হোসেন তপনকে।

২৩ মার্চ দিবাগত রাতে নিপেল তার সহযোগীরা খাঁচা কেটে তিনটি লেমুরকেই চুরি করে জুয়েলের বাড়িতে নিয়ে যায়। এর মধ্যে একটি লেমুর তারা জনৈক এক দেশীয় ব্যবসায়ীর কাছে লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে হৃদয় পায় ১০ হাজার টাকা। বাকি দুটি অর্থাৎ মা লেমুর তার সন্তানকে বিক্রি করার জন্য দেলোয়ার সাব্বির যোগাযোগ করে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সাথে।

প্রতিটি লেমুরের দাম নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা। ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় ভারতীয় ক্রেতাদের গাড়িতে যখন কার্টনবন্দি করে অবুঝ প্রাণী দুটিকে তুলে দেওয়া হচ্ছিল, তখন নিপেলকে ৭০ হাজার টাকা কমিশন গুনে দেয় জুয়েলের আপন চাচা মজনু মিয়া। মজনু চোরাই লেমুর দুটি প্যাকেট হস্তান্তরের মূল কাজ তদারকি করেছিল। কিন্তু ট্রানজিট সীমান্ত পার হওয়ার পর ভারতীয় কালোবাজারে এই দুটি লেমুরের দাম গিয়ে দাঁড়ায় আকাশচুম্বী ৪১ লাখ টাকায়! অথচ পার্কের এজাহারে তিনটি লেমুরের আনুমানিক সরকারি মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র লাখ টাকা।

গুজরাটের খাঁচায় বন্দি বাংলার লেমুর: ইন্টারপোলের কড়া নাড়ছে সিআইডি

নিজেদের চেনা পরিবেশ, চেনা জলহাওয়া আর একমাত্র পুরুষ সঙ্গীকে হারিয়ে খাঁচায় বন্দি মা শিশু প্রাণী দুটির করুণ আর্তি হয়তো কেউ শুনছে না, কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ তাদের ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পাচার হওয়া মা শিশু লেমুরটি বর্তমানে ভারতের গুজরাটের একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানায় বন্দি রয়েছে বলে তীব্র সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্ত লেমুর দুটিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ইন্সপেক্টর সুনীল কুমার দাস মুঠোফোনে জানান, "পাচার হওয়া লেমুর উদ্ধারে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। আর যে লেমুরটি উদ্ধার করা হয়েছে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

তিনি আরও জানান, ইন্টারপোল থেকে পাচার হওয়া লেমুর দুটির সুনির্দিষ্ট শনাক্তকরণ তথ্য চাওয়ায়, বাংলাদেশে উদ্ধার হওয়া একমাত্র লেমুরটির ডিএনএ পরীক্ষা করা হচ্ছে। কারণ, ডিএনএ প্রোফাইল মিললেই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ হবে যে গুজরাটে থাকা লেমুর দুটি এই উদ্ধার হওয়া লেমুরটিরই হারিয়ে যাওয়া মা সন্তান। প্রয়োজনে তদন্তকারী দল ভারতে গিয়ে তল্লাশি চালাবে এবং ইন্টারপোল তাদের পূর্ণ সহায়তা দেবে বলে আশ্বস্ত করেছে।

রুট হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বিমানবন্দর, আত্মগোপনে ৫০০ ব্যবসায়ী

বন্যপ্রাণী চুরির এই আন্তর্জাতিক চক্রটি ঢাকাকে মূল ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। ইন্সপেক্টর সুনীল কুমার দাস জানান, "আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারকারী চক্র শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পাচারের রুট হিসেবে ব্যবহার করছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এরপরও বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য সিআইডির পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে শুল্ক কর্মকর্তার ( deputy commissioner) কাছে তথ্য জানার জন্য লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে।"

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এই বন্যপ্রাণী পাখি পাচারের পেছনে দেশ-বিদেশ জুড়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট জড়িত। সিআইডি যখন এই মামলার গভীরে প্রবেশ করে, তখন দেশজুড়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ বন্যপ্রাণী পাখি ব্যবসায়ীর জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সিআইডির এই অভূতপূর্ব সাঁড়াশি অভিযানের মুখে তাদের অনেকেই এখন অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে ল্যাজ গুটিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। এই চক্রটি এর আগেও একাধিকবার বিমানবন্দর স্থলবন্দর ব্যবহার করে দেশের বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিদেশে পাচার করেছে বলে প্রমাণ মিলছে।

গাজীপুর সাফারি পার্কের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাধ্যমে চুরির বিষয়টি প্রথম জানাজানি হওয়ার পর শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি মনিটরিং নিখুঁত পরিকল্পনায় তদন্ত শুরু হয়। গত বছরের নভেম্বর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের কলাইপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় মজনু মিয়াকে গ্রেফতারের মাধ্যমে প্রথম সাফল্যের মুখ দেখে সিআইডি। পর্যন্ত এই মামলায় মোট জন সন্দেহভাজন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সিআইডির বিশেষ টিম চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে।

গ্রেফতার জনের মধ্যে মজনু মিয়াসহ জনই আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বন্যপ্রাণী বিক্রি পাচারের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে সিআইডি জানিয়েছে, এই চক্রের মূল হোতা বাগডফাদারএখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলে এই আন্তর্জাতিক পাচার সিন্ডিকেটের নেপথ্যের আরও বহু রোমহর্ষক কাহিনী এবং অন্ধকার দিক উন্মোচিত হবে।

একটি মানবিক অপেক্ষার গল্প

আপাতত গাজীপুরের সাফারি পার্কের খাঁচায় একা পড়ে থাকা রিংটেইল লেমুরটি হয়তো তার চিরচেনা সঙ্গীদের পথ চেয়ে অবুঝ চোখে দিন গুনছে। বনের যে ময়নাগুলো উদ্ধার হলো, তারাও যেন খুঁজে ফিরছে তাদের হারানো আকাশ। অডিও রেকর্ড, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট আর ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট হাতে পেলে ইন্টারপোলের মাধ্যমে সীমান্ত জয় করে একদিন মা, সন্তান আর তার ছানা আবার স্বদেশে ফিরবে, আবার বনের পাখিরা বনেই গাইবে গান; এই মানবিক আশাতেই দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে সিআইডি বন্যপ্রাণী অধিদপ্তরের অনুসন্ধানী দল। মানুষের লোভের কাছে হেরে যাওয়া প্রকৃতি যেন আইনি লড়াইয়ের হাত ধরে আবার তার হারানো সন্তানদের ফিরে পায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত