সংবাদ

ভারতে কোটা আন্দোলন জাতীয় রাজনীতি হয়ে উঠছে


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

ভারতে কোটা আন্দোলন জাতীয় রাজনীতি হয়ে উঠছে

রাজস্থানের কোটাতে শুরু হওয়া ছাত্র-যুব বিক্ষোভ এখন আর শুধুই স্থানীয় অসন্তোষ নয়—এটি দ্রুত জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসা এক বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এক্সাম পেপার লিক, বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা ঘিরে জমে ওঠা ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সারাদেশের তরুণ প্রজন্মের হতাশা ও ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই Rahul Gandhi-র সরাসরি হস্তক্ষেপ আন্দোলনটিকে রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে। অন্যদিকে, CJP এই ইস্যুকে সামনে রেখে দেশজুড়ে আন্দোলন বিস্তার করার পাশাপাশি নিজেদের পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের প্রচেষ্টাও জোরদার করেছে। দিল্লির Jantar Mantar-এ তাদের ধারাবাহিক বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই আন্দোলন ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজস্থানের Kota-তে এই ছাত্র-যুব বিক্ষোভ ক্রমশ নতুন ও অভিনব চরিত্র নিচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এই আন্দোলন দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। Kota-কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ক্ষোভ এখন জাতীয় স্তরে ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই Kota-য় পৌঁছে গিয়ে রাহুল গান্ধী এই আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, যার ফলে বিষয়টি এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, একই ইস্যুকে সামনে রেখে ককরোচ জনতা Party বা CJP এখন নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করার পথে এগোচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তারা সংগঠনকে দ্রুত বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে।

দিল্লি, পুনে, জয়পুর, বেঙ্গালুরু সহ দেশের নয়টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ধারাবাহিক কর্মসূচি সম্পন্ন করার পর এখন আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে দিল্লি। যন্তর মান্তার-এ শুরু হয়েছে লাগাতার অবস্থান। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তাদের দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন তারা কোনোভাবেই প্রত্যাহার করবে না।

এই মুহূর্তে দিল্লির Jantar Mantar-এ CJP-র আন্দোলন এক নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারের কৌশল এখন পরিষ্কার—সরাসরি বলপ্রয়োগে না গিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর পরোক্ষ চাপ তৈরি করা। এলাকায় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে, এমনকি অস্থায়ী বাথরুম ব্যবস্থাও তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে আন্দোলনকারীদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিও সীমিত হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের ধারণা ছিল, এই ধরনের চাপের ফলে আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। Cockroach যুবকদের আন্দোলন থামার বদলে আরও তীব্র হয়ে উঠছে। শুধু তাই নয়, আন্দোলনস্থলে বাইরে থেকে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না—ফলে পরিস্থিতি আরও বন্ধ ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে যন্তর মান্তার এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের কার্যত মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। উত্তেজনা চরমে এবং যে কোনো সময় পরিস্থিতি বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে Kota-র ছাত্র বিক্ষোভ, রাহুল গান্ধী-র রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দিল্লিতে CJP-র লাগাতার ও ক্রমশ তীব্রতর আন্দোলন—এই তিনটি ঘটনাপ্রবাহ এখন একসঙ্গে মিলে ভারতের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—চাপের মুখে এই আন্দোলন ভেঙে পড়বে, নাকি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দেবে?

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


ভারতে কোটা আন্দোলন জাতীয় রাজনীতি হয়ে উঠছে

প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬

featured Image

রাজস্থানের কোটাতে শুরু হওয়া ছাত্র-যুব বিক্ষোভ এখন আর শুধুই স্থানীয় অসন্তোষ নয়—এটি দ্রুত জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসা এক বড় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এক্সাম পেপার লিক, বেকারত্ব এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা ঘিরে জমে ওঠা ক্ষোভ থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা, যা অল্প সময়ের মধ্যেই সারাদেশের তরুণ প্রজন্মের হতাশা ও ক্ষোভের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই Rahul Gandhi-র সরাসরি হস্তক্ষেপ আন্দোলনটিকে রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে। অন্যদিকে, CJP এই ইস্যুকে সামনে রেখে দেশজুড়ে আন্দোলন বিস্তার করার পাশাপাশি নিজেদের পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের প্রচেষ্টাও জোরদার করেছে। দিল্লির Jantar Mantar-এ তাদের ধারাবাহিক বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই আন্দোলন ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজস্থানের Kota-তে এই ছাত্র-যুব বিক্ষোভ ক্রমশ নতুন ও অভিনব চরিত্র নিচ্ছে। শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এই আন্দোলন দিন দিন আরও তীব্র হয়ে উঠছে। Kota-কে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই ক্ষোভ এখন জাতীয় স্তরে ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই Kota-য় পৌঁছে গিয়ে রাহুল গান্ধী এই আন্দোলনকে রাজনৈতিকভাবে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, যার ফলে বিষয়টি এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, একই ইস্যুকে সামনে রেখে ককরোচ জনতা Party বা CJP এখন নিজেদের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করার পথে এগোচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং তারা সংগঠনকে দ্রুত বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে।

দিল্লি, পুনে, জয়পুর, বেঙ্গালুরু সহ দেশের নয়টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ধারাবাহিক কর্মসূচি সম্পন্ন করার পর এখন আন্দোলনের মূল কেন্দ্র হয়ে উঠেছে দিল্লি। যন্তর মান্তার-এ শুরু হয়েছে লাগাতার অবস্থান। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—তাদের দাবিদাওয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন তারা কোনোভাবেই প্রত্যাহার করবে না।

এই মুহূর্তে দিল্লির Jantar Mantar-এ CJP-র আন্দোলন এক নতুন মোড় নিয়েছে। সরকারের কৌশল এখন পরিষ্কার—সরাসরি বলপ্রয়োগে না গিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর পরোক্ষ চাপ তৈরি করা। এলাকায় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে, এমনকি অস্থায়ী বাথরুম ব্যবস্থাও তুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে আন্দোলনকারীদের ন্যূনতম প্রয়োজনীয় পরিষেবাগুলিও সীমিত হয়ে পড়েছে।

প্রশাসনের ধারণা ছিল, এই ধরনের চাপের ফলে আন্দোলনকারীরা পিছিয়ে আসবে। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। Cockroach যুবকদের আন্দোলন থামার বদলে আরও তীব্র হয়ে উঠছে। শুধু তাই নয়, আন্দোলনস্থলে বাইরে থেকে কাউকেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না—ফলে পরিস্থিতি আরও বন্ধ ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে যন্তর মান্তার এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের কার্যত মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয়েছে। উত্তেজনা চরমে এবং যে কোনো সময় পরিস্থিতি বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে Kota-র ছাত্র বিক্ষোভ, রাহুল গান্ধী-র রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দিল্লিতে CJP-র লাগাতার ও ক্রমশ তীব্রতর আন্দোলন—এই তিনটি ঘটনাপ্রবাহ এখন একসঙ্গে মিলে ভারতের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এখন প্রশ্ন একটাই—চাপের মুখে এই আন্দোলন ভেঙে পড়বে, নাকি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠে নতুন রাজনৈতিক শক্তির জন্ম দেবে?

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত