দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন রোধে কঠোর ও নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। গত বুধবার (১ জুলাই) আইনটি জারি করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হয়েছে। এই নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হলো।
নতুন এই আইনে
প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি
বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট,
ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং
এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে
এসব কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ
হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী,
ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার,
ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো কিংবা ভিপিএন ব্যবহার করে জুয়া বা বেটিং পরিচালনা করা, অ্যাকাউন্ট
খোলা, জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি বিদেশি
অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, এজেন্ট বা সহযোগী হিসেবে কাজ করাও নিষিদ্ধ।
অপরাধভেদে আইনে
যে সব শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে:
জুয়ার অর্থ
ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর
বা গোপন করার চেষ্টাকে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এর সম্পৃক্ত অপরাধ (প্রেডিকেট
অফেন্স) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনেও বিচার
করা হবে।
আদালতকে অপরাধে
ব্যবহৃত বা অপরাধলব্ধ ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন,
সিম, মোবাইল, কম্পিউটারসহ জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ভবন, অফিস বা কল সেন্টার বাজেয়াপ্ত
করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা পেমেন্ট গেটওয়ে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তাদের দায়ী করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা
বাতিল করতে পারবেন আদালত।
নতুন আইনে বলা
হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেসের অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং অন্যান্য
অপরাধের বিচার হবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য
এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন, এমন
পুলিশ কর্মকর্তা এগুলো তদন্ত করবেন এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্ট
বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট ফ্রিজ করতে পারবেন।
অনলাইন জুয়া
শনাক্ত ও প্রতিরোধে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন
(DPI), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া
হয়েছে। চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ ও ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক
যাচাই ব্যবস্থা।
আইনটি বাস্তবায়নে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ
ব্যাংক, বিএফআইইউ, নির্বাচন কমিশন, সিআইডি এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ বিভিন্ন
সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী (১৮৬৭ সালের) আইনের অধীনে চলমান মামলা
ও কার্যক্রম নতুন আইনের বিধান অনুযায়ীই অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ জুলাই ২০২৬
দেশে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন রোধে কঠোর ও নতুন আইন প্রণয়ন করেছে সরকার। গত বুধবার (১ জুলাই) আইনটি জারি করে বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হয়েছে। এই নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে ঔপনিবেশিক আমলে প্রণীত ‘পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হলো।
নতুন এই আইনে
প্রথমবারের মতো অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল বেটিং, ফ্যান্টাসি
বেটিং, ই-স্পোর্টস বেটিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট,
ক্রিপ্টোকারেন্সি, ডিজিটাল ওয়ালেট, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ম্যাচ ফিক্সিং
এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো ডিজিটাল অপরাধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে
এসব কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থাকাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ
হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী,
ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার,
ক্লাউডভিত্তিক অবকাঠামো কিংবা ভিপিএন ব্যবহার করে জুয়া বা বেটিং পরিচালনা করা, অ্যাকাউন্ট
খোলা, জুয়ার অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর করা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি বিদেশি
অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি, এজেন্ট বা সহযোগী হিসেবে কাজ করাও নিষিদ্ধ।
অপরাধভেদে আইনে
যে সব শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে:
জুয়ার অর্থ
ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে স্থানান্তর
বা গোপন করার চেষ্টাকে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এর সম্পৃক্ত অপরাধ (প্রেডিকেট
অফেন্স) হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এই অপরাধে সংশ্লিষ্ট আইনের অধীনেও বিচার
করা হবে।
আদালতকে অপরাধে
ব্যবহৃত বা অপরাধলব্ধ ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন,
সিম, মোবাইল, কম্পিউটারসহ জুয়ার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত ভবন, অফিস বা কল সেন্টার বাজেয়াপ্ত
করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা পেমেন্ট গেটওয়ে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তাদের দায়ী করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত কিংবা
বাতিল করতে পারবেন আদালত।
নতুন আইনে বলা
হয়েছে, অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেসের অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং অন্যান্য
অপরাধের বিচার হবে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী। এসব অপরাধকে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য
এবং আপস অযোগ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন, এমন
পুলিশ কর্মকর্তা এগুলো তদন্ত করবেন এবং আদালতের অনুমতি নিয়ে সাময়িকভাবে অ্যাকাউন্ট
বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট ফ্রিজ করতে পারবেন।
অনলাইন জুয়া
শনাক্ত ও প্রতিরোধে সরকারকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন
(DPI), ট্রানজ্যাকশন মনিটরিং সিস্টেম ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের ক্ষমতা দেওয়া
হয়েছে। চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ ও ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক
যাচাই ব্যবস্থা।
আইনটি বাস্তবায়নে
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, বাংলাদেশ
ব্যাংক, বিএফআইইউ, নির্বাচন কমিশন, সিআইডি এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সিসহ বিভিন্ন
সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী (১৮৬৭ সালের) আইনের অধীনে চলমান মামলা
ও কার্যক্রম নতুন আইনের বিধান অনুযায়ীই অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন