সংবাদ

পাল রাজবাড়ি: বিয়ানীবাজারের প্রায় আটশ বছরের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী


সংগ্রাম দত্ত, শ্রীমঙ্গল
সংগ্রাম দত্ত, শ্রীমঙ্গল
প্রকাশ: ৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:২০ এএম

পাল রাজবাড়ি: বিয়ানীবাজারের প্রায় আটশ বছরের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী
খাসা গ্রামে লুকানো আটশ বছরের রহস্য। ছবি : সংবাদ

সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার খাসা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় আটশ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক নিদর্শন - পাল রাজবাড়ি। ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই পাহাড়-টিলাবেষ্টিত অঞ্চল একসময় পরিচিত ছিল ‘চন্দ্রপুর নামে। পরে পাল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠার পর অঞ্চলটির নাম হয় ‘পঞ্চখণ্ড, যার সীমানা বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

পাল শাসনামলে এখানে গড়ে ওঠে প্রশাসনিক কেন্দ্র, আবাসিক প্রাসাদ ও জলব্যবস্থাপনার জন্য খনন করা হয় বারোপালের দীঘির মতো বড় জলাধার, যা আজও টিকে আছে। ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট বিজয়ের পর পাল শাসনব্যবস্থা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে রূপ নেয় জমিদারি প্রথায়, আর রাজবাড়িটি পরিচিতি পায় ‘পাল জমিদার বাড়ি নামে।

সময়ের সঙ্গে চন্দ্রপুর-পঞ্চখণ্ড নাম হারিয়ে এই এলাকা পরিচিত হয় ‘বিয়ানীবাজার নামে - যার উৎপত্তি স্থানীয় ভোরবেলার এক বাজার থেকে, যাকে বলা হতো ‘বিহানী বাজার

বর্তমানে রাজবাড়ির মূল স্থাপত্যের অধিকাংশই বিলুপ্ত; টিকে আছে কেবল একটি মন্দির অংশ ও কিছু ভগ্নাবশেষ, যা অনেকাংশে গাছপালায় ঢাকা। পাশের বারোপালের দীঘি এখন স্থানীয় ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। তবে স্থাপনাটি এখনো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে সংরক্ষণ উদ্যোগ সীমিত। স্থানীয়ভাবে এটিকে ঐতিহ্য ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৭ আগস্ট ২০২৬


পাল রাজবাড়ি: বিয়ানীবাজারের প্রায় আটশ বছরের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী

প্রকাশের তারিখ : ০৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার খাসা গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় আটশ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক নিদর্শন - পাল রাজবাড়ি। ভারতের আসাম ও মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এই পাহাড়-টিলাবেষ্টিত অঞ্চল একসময় পরিচিত ছিল ‘চন্দ্রপুর নামে। পরে পাল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠার পর অঞ্চলটির নাম হয় ‘পঞ্চখণ্ড, যার সীমানা বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

পাল শাসনামলে এখানে গড়ে ওঠে প্রশাসনিক কেন্দ্র, আবাসিক প্রাসাদ ও জলব্যবস্থাপনার জন্য খনন করা হয় বারোপালের দীঘির মতো বড় জলাধার, যা আজও টিকে আছে। ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে সিলেট বিজয়ের পর পাল শাসনব্যবস্থা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে রূপ নেয় জমিদারি প্রথায়, আর রাজবাড়িটি পরিচিতি পায় ‘পাল জমিদার বাড়ি নামে।

সময়ের সঙ্গে চন্দ্রপুর-পঞ্চখণ্ড নাম হারিয়ে এই এলাকা পরিচিত হয় ‘বিয়ানীবাজার নামে - যার উৎপত্তি স্থানীয় ভোরবেলার এক বাজার থেকে, যাকে বলা হতো ‘বিহানী বাজার

বর্তমানে রাজবাড়ির মূল স্থাপত্যের অধিকাংশই বিলুপ্ত; টিকে আছে কেবল একটি মন্দির অংশ ও কিছু ভগ্নাবশেষ, যা অনেকাংশে গাছপালায় ঢাকা। পাশের বারোপালের দীঘি এখন স্থানীয় ও ভ্রমণপিপাসুদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। তবে স্থাপনাটি এখনো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়, ফলে সংরক্ষণ উদ্যোগ সীমিত। স্থানীয়ভাবে এটিকে ঐতিহ্য ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত