সংবাদ

ত্রাণ দিতে গিয়ে এক বছরে ৩৫০ মৃত্যু


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:১৮ পিএম

ত্রাণ দিতে গিয়ে এক বছরে ৩৫০ মৃত্যু
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সহিংসতা বাড়ার মধ্যে মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে গত এক বছরে অন্তত ৩৫০ জন দাতব্যকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ প্রাণ হারিয়েছেন গাজা ও সুদানে। বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ) সোমবার এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামসের জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৭৭ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই তুলনায় গত বছর প্রাণহানির সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছে জাতিসংঘ। টানা তৃতীয় বছরের মতো ত্রাণকর্মীদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছে গাজা। গত এক বছরে সেখানে প্রায় ১৮৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এরপরই রয়েছে সুদান, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ জন ত্রাণকর্মী।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, মাত্র তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ বলেছে, শুধু নিন্দা জানিয়ে এই প্রাণহানি বন্ধ করা যাবে না। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষ ও ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৯৭ জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন। সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে সশস্ত্র ড্রোনের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ওসিএইচএ। সংস্থাটির মতে, এসব ড্রোনের বিস্তার সাধারণ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং শহর ও জনবসতিতে ধ্বংসাত্মক হামলার আশঙ্কা তৈরি করছে।

সুদানের পরিস্থিতিও বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে দেশটিতে ড্রোন হামলার কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব হামলার মধ্যে বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রও আক্রান্ত হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও ড্রোন হামলায় প্রাণহানির বিষয়টি তুলে ধরেছে ওসিএইচএ।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থার মতে, সশস্ত্র ড্রোন যুদ্ধ ও সহিংসতার পুরোনো ঝুঁকিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষ ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


ত্রাণ দিতে গিয়ে এক বছরে ৩৫০ মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও সহিংসতা বাড়ার মধ্যে মানুষের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে গত এক বছরে অন্তত ৩৫০ জন দাতব্যকর্মী নিহত হয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ প্রাণ হারিয়েছেন গাজা ও সুদানে। বিশ্ব মানবতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় বিষয়ক সংস্থা (ওসিএইচএ) সোমবার এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামসের জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব দিয়েছে সংস্থাটি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৭৭ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছিলেন। সেই তুলনায় গত বছর প্রাণহানির সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছে জাতিসংঘ। টানা তৃতীয় বছরের মতো ত্রাণকর্মীদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান হয়ে উঠেছে গাজা। গত এক বছরে সেখানে প্রায় ১৮৬ জন মানবিক সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এরপরই রয়েছে সুদান, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ জন ত্রাণকর্মী।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, মাত্র তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘ বলেছে, শুধু নিন্দা জানিয়ে এই প্রাণহানি বন্ধ করা যাবে না। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি বেসামরিক মানুষ ও ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এ সময়ে আহত হয়েছেন ৯৭ জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন। সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতে সশস্ত্র ড্রোনের ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে ওসিএইচএ। সংস্থাটির মতে, এসব ড্রোনের বিস্তার সাধারণ মানুষের জন্য প্রাণঘাতী ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং শহর ও জনবসতিতে ধ্বংসাত্মক হামলার আশঙ্কা তৈরি করছে।

সুদানের পরিস্থিতিও বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে দেশটিতে ড্রোন হামলার কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এসব হামলার মধ্যে বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রও আক্রান্ত হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও ড্রোন হামলায় প্রাণহানির বিষয়টি তুলে ধরেছে ওসিএইচএ।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সংস্থার মতে, সশস্ত্র ড্রোন যুদ্ধ ও সহিংসতার পুরোনো ঝুঁকিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সাধারণ মানুষ ও মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত