সংবাদ

টিফিনের পর স্কুল ছাত্রশূন্য কেন? ইউএনওর উদ্বেগ


প্রতিনিধি, মনোহরদী (নরসিংদী)
প্রতিনিধি, মনোহরদী (নরসিংদী)
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৪ এএম

টিফিনের পর স্কুল ছাত্রশূন্য কেন? ইউএনওর উদ্বেগ
মনোহরদীর স্কুল পরিদর্শনে ইউএনও মাহামুদুল হাসান। ছবি : সংবাদ

স্কুলে পড়াশোনার পরিবেশ ও মানসম্মত পাঠদান পরখ করতে ঝটিকা সফরে গিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। কিন্তু সেখানে গিয়ে তার চোখে পড়ল এক ভিন্ন চিত্র। টিফিনের বিরতি শেষ হতে না হতেই বিদ্যালয়গুলো প্রায় ছাত্রশূন্য হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের এমন ‘উধাও’ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি নরসিংদীর মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় ও চন্দনবাড়ী এস এ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ইউএনও মাহামুদুল হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম দেখতে পান। বিশেষ করে বিরতির পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী আর ক্লাসে ফিরে আসেনি।

পরিদর্শন শেষে ইউএনও মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসই শিক্ষার্থীদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। টিফিনের পর শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে গেলে তারা পাঠের ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে বিজ্ঞানসহ ব্যবহারিক বিষয়গুলো বুঝতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের পরীক্ষার ফলাফলে।’

শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের এই স্কুল পালানোর প্রবণতার পেছনে অভিভাবকদের অসচেতনতাও অনেকটা দায়ী। অনেক সময় সন্তানরা স্কুল ফাঁকি দিয়ে কোথায় যাচ্ছে, তা অভিভাবকেরা জানেন না।

এ পরিস্থিতি উত্তরণে নিয়মিত উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করার ওপর জোর দেন ইউএনও। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে নিয়মিত উপস্থিতি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম শর্ত।’

মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রশাসনের এই তদারকি অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি সুশিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে সাহায্য করবে।

ইউএনও মাহামুদুল হাসান জানান, মানসম্মত শিক্ষা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসনের এমন তদারকি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


টিফিনের পর স্কুল ছাত্রশূন্য কেন? ইউএনওর উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

স্কুলে পড়াশোনার পরিবেশ ও মানসম্মত পাঠদান পরখ করতে ঝটিকা সফরে গিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। কিন্তু সেখানে গিয়ে তার চোখে পড়ল এক ভিন্ন চিত্র। টিফিনের বিরতি শেষ হতে না হতেই বিদ্যালয়গুলো প্রায় ছাত্রশূন্য হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের এমন ‘উধাও’ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি নরসিংদীর মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় ও চন্দনবাড়ী এস এ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনে যান ইউএনও মাহামুদুল হাসান। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কম দেখতে পান। বিশেষ করে বিরতির পর অধিকাংশ শিক্ষার্থী আর ক্লাসে ফিরে আসেনি।

পরিদর্শন শেষে ইউএনও মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাসই শিক্ষার্থীদের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। টিফিনের পর শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে গেলে তারা পাঠের ধারাবাহিকতা হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে বিজ্ঞানসহ ব্যবহারিক বিষয়গুলো বুঝতে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তাদের পরীক্ষার ফলাফলে।’

শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের এই স্কুল পালানোর প্রবণতার পেছনে অভিভাবকদের অসচেতনতাও অনেকটা দায়ী। অনেক সময় সন্তানরা স্কুল ফাঁকি দিয়ে কোথায় যাচ্ছে, তা অভিভাবকেরা জানেন না।

এ পরিস্থিতি উত্তরণে নিয়মিত উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিয়মিত অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করার ওপর জোর দেন ইউএনও। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে নিয়মিত উপস্থিতি কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম শর্ত।’

মনোহরদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান, প্রশাসনের এই তদারকি অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি সুশিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে সাহায্য করবে।

ইউএনও মাহামুদুল হাসান জানান, মানসম্মত শিক্ষা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতে উপজেলা প্রশাসনের এমন তদারকি আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত