সংবাদ

কিম জং উনের সঙ্গে ফের বসতে চান ট্রাম্প, পিয়ংইয়ংয়ের সাড়া মেলেনি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ এএম

কিম জং উনের সঙ্গে ফের বসতে চান ট্রাম্প, পিয়ংইয়ংয়ের সাড়া মেলেনি
ছবি : রয়টার্স

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ং এই প্রস্তাবে খুব একটা গা দিচ্ছে না। ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘চমৎকার’ হলেও দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক বরফ গলার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উত্তর কোরিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে তারা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করবে না। 

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে ইতিবাচক বার্তা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি প্রকাশ্যে বলেন, এ বছরের শেষের দিকে তিনি কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার আশা করছেন। মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক সাফল্য পেতেই ট্রাম্পের এই তোড়জোড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা ও কিমের বোন কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনের এই তৎপরতাকে ‘ঠান্ডা’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া কমিয়ে আনাকে একটি নগণ্য পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতি এখনো অপরিবর্তিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প-কিম যে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক ভিন্ন। তৎকালীন সময়ে উত্তর কোরিয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য মরিয়া ছিল। কিন্তু বর্তমানে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে মিসাইল ও সৈন্য দিয়ে সহায়তা করার মাধ্যমে মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের এক নতুন কৌশলগত বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তোলার জন্য কিম জং উনের আগের মতো তাগিদ নেই।

এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রায় ছয় মাস পার হলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই এশিয়ায় নিজের প্রভাব পুনরুদ্ধারে ট্রাম্প মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) সম্মেলন চলাকালীন কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বৈঠক হতে পারে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি। যদিও কিম ইয়ো জং স্পষ্ট করেছেন যে পিয়ংইয়ং এখন অনেক বেশি শর্ত দেবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া অথবা তাদের নিরস্ত্রীকরণ এজেন্ডা থেকে সরে আসা।

সব মিলিয়ে ট্রাম্প ও কিম আবার কবে মুখোমুখি হবেন, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিয়ংইয়ং এখন ওয়াশিংটনকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আরও বড় কোনো ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬


কিম জং উনের সঙ্গে ফের বসতে চান ট্রাম্প, পিয়ংইয়ংয়ের সাড়া মেলেনি

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে আবারও বৈঠকে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পিয়ংইয়ং এই প্রস্তাবে খুব একটা গা দিচ্ছে না। ট্রাম্প ও কিমের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ‘চমৎকার’ হলেও দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক বরফ গলার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উত্তর কোরিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের খাতিরে তারা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো আপস করবে না। 

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে ইতিবাচক বার্তা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি প্রকাশ্যে বলেন, এ বছরের শেষের দিকে তিনি কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার আশা করছেন। মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের কোনো কূটনৈতিক সাফল্য পেতেই ট্রাম্পের এই তোড়জোড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না পিয়ংইয়ং। উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা ও কিমের বোন কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসনের এই তৎপরতাকে ‘ঠান্ডা’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি মার্কিন-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া কমিয়ে আনাকে একটি নগণ্য পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়ার প্রতি ওয়াশিংটনের বৈরী নীতি এখনো অপরিবর্তিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প-কিম যে ঐতিহাসিক বৈঠকে বসেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক ভিন্ন। তৎকালীন সময়ে উত্তর কোরিয়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য মরিয়া ছিল। কিন্তু বর্তমানে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে মিসাইল ও সৈন্য দিয়ে সহায়তা করার মাধ্যমে মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের এক নতুন কৌশলগত বন্ধুত্বের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তোলার জন্য কিম জং উনের আগের মতো তাগিদ নেই।

এদিকে ইরান যুদ্ধের প্রায় ছয় মাস পার হলেও সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ নেই। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই এশিয়ায় নিজের প্রভাব পুনরুদ্ধারে ট্রাম্প মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি বছরের শেষ দিকে চীনের শেনঝেনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কোঅপারেশন (এপেক) সম্মেলন চলাকালীন কিমের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বৈঠক হতে পারে।

তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি। যদিও কিম ইয়ো জং স্পষ্ট করেছেন যে পিয়ংইয়ং এখন অনেক বেশি শর্ত দেবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো উত্তর কোরিয়াকে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া অথবা তাদের নিরস্ত্রীকরণ এজেন্ডা থেকে সরে আসা।

সব মিলিয়ে ট্রাম্প ও কিম আবার কবে মুখোমুখি হবেন, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিয়ংইয়ং এখন ওয়াশিংটনকে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আরও বড় কোনো ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মনে করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষকরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত