সংবাদ

১০ শতক জমিতে ‘সুপার হট’ মরিচে দেখছেন সাফল্যের মুখ


প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রতিনিধি, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯ এএম

১০ শতক জমিতে ‘সুপার হট’ মরিচে দেখছেন সাফল্যের মুখ
‘সুপার হট’ জাতের মরিচ। ছবি : সংবাদ

সাফল্যের জন্য সবসময় বিশাল জমির প্রয়োজন হয় না–লাগে সঠিক পরিকল্পনা, শ্রম আর নতুন কিছু করার সাহস। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক কামাল শেখ যেন সেই সত্যটিই প্রমাণ করলেন। মাত্র ১০ শতক জমিতে ‘সুপার হট’ জাতের মরিচ চাষ করে তিনি এখন সাফল্যের চূড়ায়। প্রতিদিন জমি থেকে মরিচ তুলছেন, স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন এবং হাতে পাচ্ছেন নগদ টাকা। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই ছোট্ট উদ্যোগটিই বদলে দিয়েছে তার জীবনের হিসাব।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদি গ্রামের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী কামাল শেখ। পেশায় আজন্ম কৃষক। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জ্ঞান আর অভিজ্ঞতায় বছরের পর বছর নানা ফসল ফলিয়ে চলছিলেন তিনি। তবে এবারের গল্পটা ভিন্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় তিনি ‘সুপার হট’ জাতের মরিচ চাষের প্রদর্শনী প্লট পান। আর তাতেই খুলে যায় তার ভাগ্যের চাকা।

শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১০ শতক জমি দিয়ে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক প্রযুক্তি আর সঠিক পরিচর্যায় বড় হতে থাকে গাছগুলো। ফলন আসার পর দেখা যায় অভাবনীয় সাফল্য। কামাল শেখ বলেন, 'শুরুতে কৃষি অফিস থেকে চারা আর পরামর্শ নিয়ে যখন চাষ শুরু করি, তখন ভাবিনি এত ভালো ফলন পাব। এখন প্রতিদিন মরিচ তুলছি আর বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি। এই ১০ শতক জমিই আমাকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।'

কামালের এই অভাবনীয় সাফল্য দেখতে এখন আশপাশের কৃষকরাও তার ভিড় করছেন। অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এই আধুনিক চাষ পদ্ধতিতে। উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান নিয়মিত কামালকে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, 'সুপার হট জাতের মরিচ চাষে আমরা তাকে রোগবালাই দমন ও আধুনিক পদ্ধতির বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছি। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন।'

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, 'কামাল শেখের সাফল্য আমাদের জন্য আনন্দের। প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ করলে যে অল্প জমিতেও আয় বাড়ানো সম্ভব, তিনি তার প্রমাণ। আমরা কৃষকদের এভাবেই নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।'

কামাল শেখের গল্পে বড় কোনো জমির দাপট নেই; আছে মাত্র ১০ শতক জমি, কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনা আর একজন কৃষকের অদম্য জেদ। আজ তিনি হাসিমুখে বাজার থেকে টাকা নিয়ে ঘরে ফেরেন। আগামীর স্বপ্নটা তার আরও বড়–সামনের মৌসুমে আরও বড় পরিসরে করবেন ‘সুপার হট’ মরিচের আবাদ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬


১০ শতক জমিতে ‘সুপার হট’ মরিচে দেখছেন সাফল্যের মুখ

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাফল্যের জন্য সবসময় বিশাল জমির প্রয়োজন হয় না–লাগে সঠিক পরিকল্পনা, শ্রম আর নতুন কিছু করার সাহস। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষক কামাল শেখ যেন সেই সত্যটিই প্রমাণ করলেন। মাত্র ১০ শতক জমিতে ‘সুপার হট’ জাতের মরিচ চাষ করে তিনি এখন সাফল্যের চূড়ায়। প্রতিদিন জমি থেকে মরিচ তুলছেন, স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন এবং হাতে পাচ্ছেন নগদ টাকা। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় শুরু হওয়া এই ছোট্ট উদ্যোগটিই বদলে দিয়েছে তার জীবনের হিসাব।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ছৈলাদি গ্রামের বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী কামাল শেখ। পেশায় আজন্ম কৃষক। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জ্ঞান আর অভিজ্ঞতায় বছরের পর বছর নানা ফসল ফলিয়ে চলছিলেন তিনি। তবে এবারের গল্পটা ভিন্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় তিনি ‘সুপার হট’ জাতের মরিচ চাষের প্রদর্শনী প্লট পান। আর তাতেই খুলে যায় তার ভাগ্যের চাকা।

শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১০ শতক জমি দিয়ে। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আধুনিক প্রযুক্তি আর সঠিক পরিচর্যায় বড় হতে থাকে গাছগুলো। ফলন আসার পর দেখা যায় অভাবনীয় সাফল্য। কামাল শেখ বলেন, 'শুরুতে কৃষি অফিস থেকে চারা আর পরামর্শ নিয়ে যখন চাষ শুরু করি, তখন ভাবিনি এত ভালো ফলন পাব। এখন প্রতিদিন মরিচ তুলছি আর বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি। এই ১০ শতক জমিই আমাকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখাচ্ছে।'

কামালের এই অভাবনীয় সাফল্য দেখতে এখন আশপাশের কৃষকরাও তার ভিড় করছেন। অনেকেই উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন এই আধুনিক চাষ পদ্ধতিতে। উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান নিয়মিত কামালকে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, 'সুপার হট জাতের মরিচ চাষে আমরা তাকে রোগবালাই দমন ও আধুনিক পদ্ধতির বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়েছি। তার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন।'

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহরিয়ার মোরসালিন মেহেদী বলেন, 'কামাল শেখের সাফল্য আমাদের জন্য আনন্দের। প্রযুক্তির সঠিক প্রয়োগ করলে যে অল্প জমিতেও আয় বাড়ানো সম্ভব, তিনি তার প্রমাণ। আমরা কৃষকদের এভাবেই নতুন নতুন জাত ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।'

কামাল শেখের গল্পে বড় কোনো জমির দাপট নেই; আছে মাত্র ১০ শতক জমি, কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনা আর একজন কৃষকের অদম্য জেদ। আজ তিনি হাসিমুখে বাজার থেকে টাকা নিয়ে ঘরে ফেরেন। আগামীর স্বপ্নটা তার আরও বড়–সামনের মৌসুমে আরও বড় পরিসরে করবেন ‘সুপার হট’ মরিচের আবাদ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত