রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শাইলবাড়ীসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা চার দশক আগে নির্মিত একটি পুরোনো সেতু। সরমংলা নদীর ওপর নির্মিত এই জরাজীর্ণ সেতুটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পথচারীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ চার দশক আগের নির্মিত সেতুটির রেলিং ভেঙে পড়েছে, কোথাও কোথাও উধাও হয়ে গেছে। মাত্র সাড়ে তিন ফুট চওড়া সেতুটির দুই পাশে সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। পিলারের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। সেতুর ঢালাই ফেটে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নড়বড়ে এই সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল ও সাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরমংলা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতু দিয়ে শাইলবাড়ী, ভীমপুর, ডাঙাপাড়াসহ আশপাশের ১০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। কিন্তু সেতুটি অত্যন্ত সরু ও জরাজীর্ণ হওয়ায় কোনো জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল করায় প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়।
সেতুটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও শিক্ষার্থীরা। বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করে কৃষিপণ্য হাটে নিয়ে যেতে হওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ। শাইলবাড়ী এলাকার মাদরাসা শিক্ষক এশরামুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেতুটি দিয়ে চলাচল করাই দায়। রিকশা, ভ্যান বা কোনো গাড়ি চলতে পারে না। এত চিকন করে সেতু কেন বানানো হয়েছিল বুঝি না।’
ডাঙাপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেন জানান, সেতুর ওপর উঠলেই কাঁপতে থাকে। কখন যে ভেঙে নিচে পড়ে যায়, সেই ভয়ে থাকতে হয়। একই এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, ‘ভোটের সময় সবাই এসে দেখে যায়। গত ১৫-১৬ বছর ধরে এমপি, চেয়ারম্যানদের কাছে অনেক ধর্ণা দিয়েছি, সবাই শুধু আশ্বাসই দিয়েছে, কাজ কিছু হয়নি।’
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, ‘সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট ও প্রকল্প অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।’ তবে নতুন সেতু নির্মাণ কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শাইলবাড়ীসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা চার দশক আগে নির্মিত একটি পুরোনো সেতু। সরমংলা নদীর ওপর নির্মিত এই জরাজীর্ণ সেতুটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পথচারীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘ চার দশক আগের নির্মিত সেতুটির রেলিং ভেঙে পড়েছে, কোথাও কোথাও উধাও হয়ে গেছে। মাত্র সাড়ে তিন ফুট চওড়া সেতুটির দুই পাশে সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। পিলারের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে পড়েছে। সেতুর ঢালাই ফেটে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নড়বড়ে এই সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল ও সাইকেল ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরমংলা নদীর ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতু দিয়ে শাইলবাড়ী, ভীমপুর, ডাঙাপাড়াসহ আশপাশের ১০টি গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। কিন্তু সেতুটি অত্যন্ত সরু ও জরাজীর্ণ হওয়ায় কোনো জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স বা মাইক্রোবাস গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অটোরিকশা ও ভ্যান চলাচল করায় প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকতে হয়।
সেতুটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও শিক্ষার্থীরা। বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করে কৃষিপণ্য হাটে নিয়ে যেতে হওয়ায় পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ। শাইলবাড়ী এলাকার মাদরাসা শিক্ষক এশরামুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সেতুটি দিয়ে চলাচল করাই দায়। রিকশা, ভ্যান বা কোনো গাড়ি চলতে পারে না। এত চিকন করে সেতু কেন বানানো হয়েছিল বুঝি না।’
ডাঙাপাড়া গ্রামের লোকমান হোসেন জানান, সেতুর ওপর উঠলেই কাঁপতে থাকে। কখন যে ভেঙে নিচে পড়ে যায়, সেই ভয়ে থাকতে হয়। একই এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আমিনুর রহমান বলেন, ‘ভোটের সময় সবাই এসে দেখে যায়। গত ১৫-১৬ বছর ধরে এমপি, চেয়ারম্যানদের কাছে অনেক ধর্ণা দিয়েছি, সবাই শুধু আশ্বাসই দিয়েছে, কাজ কিছু হয়নি।’
এ বিষয়ে তারাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী নাফিউর রহমান বলেন, ‘সেতুটির জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে পুনর্নির্মাণের জন্য জেলা কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট ও প্রকল্প অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।’ তবে নতুন সেতু নির্মাণ কবে নাগাদ শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

আপনার মতামত লিখুন