প্রতিবছর বর্ষা এলেই তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। গত কয়েক দিন ধরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি ও চিংড়িজানি এলাকায় আবারও ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালাসহ ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।
ভাঙনে সর্বস্ব হারানো স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার দুইটা ঘর নদীতে চলে গেছে, বাবা। আমি এখন কোথায় থাকব? থাকার জায়গা নেই, খাওয়ার কিছু নেই, পকেটে কোনো টাকা-পয়সাও নেই।’
একই এলাকার সমিরন বেওয়া বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর এই একটা ঘরই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। তাও তিস্তা খেয়ে ফেলল। আমি এখন কোথায় যাব, কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছি না।’
ত্রাণ বা সাময়িক উদ্যোগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে খাজা মিয়া নামের এক গ্রামবাসী বলেন, ‘আমরা আর ত্রাণ বা জিও ব্যাগ চাই না। আমরা সরকারের কাছে স্থায়ীভাবে নদী শাসনের দাবি জানাই। স্থায়ী কাজ হলে আমাদের এলাকা রক্ষা পাবে। তা না হলে পুরো এলাকা তিস্তার পেটে চলে যাবে।’
ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পর থেকেই আমি এলাকায় আছি। মানুষের কষ্ট দেখে চোখে পানি আসে। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, তিস্তা নদীকে স্থায়ীভাবে শাসন করা হোক। নইলে প্রতিবছর এভাবে মানুষ সর্বস্ব হারাবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বর্ষা এলেই তা ভেঙে যায়। ফলে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এলাকায় এখন বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অস্থায়ী কোনো আশ্বাস নয়, তিস্তাপাড়ের মানুষের এখন একটাই দাবি - স্থায়ী নদী শাসন।

বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রতিবছর বর্ষা এলেই তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। গত কয়েক দিন ধরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১৫ নম্বর কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি ও চিংড়িজানি এলাকায় আবারও ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে ভাঙনের কবলে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালাসহ ‘ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা নদীপাড়ের মানুষের দিন কাটছে চরম অনিশ্চয়তায়।
ভাঙনে সর্বস্ব হারানো স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার দুইটা ঘর নদীতে চলে গেছে, বাবা। আমি এখন কোথায় থাকব? থাকার জায়গা নেই, খাওয়ার কিছু নেই, পকেটে কোনো টাকা-পয়সাও নেই।’
একই এলাকার সমিরন বেওয়া বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর এই একটা ঘরই ছিল আমার একমাত্র ভরসা। তাও তিস্তা খেয়ে ফেলল। আমি এখন কোথায় যাব, কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছি না।’
ত্রাণ বা সাময়িক উদ্যোগের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে খাজা মিয়া নামের এক গ্রামবাসী বলেন, ‘আমরা আর ত্রাণ বা জিও ব্যাগ চাই না। আমরা সরকারের কাছে স্থায়ীভাবে নদী শাসনের দাবি জানাই। স্থায়ী কাজ হলে আমাদের এলাকা রক্ষা পাবে। তা না হলে পুরো এলাকা তিস্তার পেটে চলে যাবে।’
ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া বলেন, ভাঙন শুরু হওয়ার পর থেকেই আমি এলাকায় আছি। মানুষের কষ্ট দেখে চোখে পানি আসে। সরকারের কাছে আমার আকুল আবেদন, তিস্তা নদীকে স্থায়ীভাবে শাসন করা হোক। নইলে প্রতিবছর এভাবে মানুষ সর্বস্ব হারাবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু বর্ষা এলেই তা ভেঙে যায়। ফলে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এলাকায় এখন বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অস্থায়ী কোনো আশ্বাস নয়, তিস্তাপাড়ের মানুষের এখন একটাই দাবি - স্থায়ী নদী শাসন।

আপনার মতামত লিখুন