সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেচে। গত দুই বছরে গোপনে অন্য এলাকায় নিয়ে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়েছে এবং মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বাল্যবিয়ের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বাল্যবিবাহের হারের দিক থেকে সাতক্ষীরা দেশের জেলাগুলোর মধ্যে অষ্টম। এ জেলায় হার ৬২ শতাংশের বেশি। জাতীয় পর্যায়েও হার ৫০ শতাংশ।
ইসলামকাটির ঘটনায় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, জেলার বাইরে নিয়ে গোপনে বাল্যবিয়ে হয়েছে। কয়েকজন ছাত্রী বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে অন্যত্র চলে গেছে। এতে বোঝা যায়, শুধু বিদ্যালয়ে সচেতনতা সভা করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গোপনে বিয়ে আয়োজনের সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ইউনিয়নে সরকারি বিবাহ নিবন্ধক থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে লোক এনে বিয়ে পড়ানো হলো কীভাবে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কোনো ছাত্রী হঠাৎ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হলে তার কারণ খুঁজে দেখা দরকার। এজন্য পরিবার, বিদ্যালয় ও প্রশাসনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা জরুরি। দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকট অনেক ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের কারণ। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষাসহায়তার আওতায় আনতে হবে।
প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে হয়। তবে মুচলেকা নেওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নয়, বিয়ে হওয়ার আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে হবে। ইসলামকাটি বিদ্যালয়ের ঘটনাকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে তালাসহ সাতক্ষীরায় বিদ্যালয়ভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। একটি কিশোরীর বাল্যবিয়ে মানে শুধু তার শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি নয়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনারও বড় ক্ষতি।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ ছাত্রীর বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেচে। গত দুই বছরে গোপনে অন্য এলাকায় নিয়ে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নিয়েছে এবং মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বাল্যবিয়ের এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের বাল্যবিবাহের হারের দিক থেকে সাতক্ষীরা দেশের জেলাগুলোর মধ্যে অষ্টম। এ জেলায় হার ৬২ শতাংশের বেশি। জাতীয় পর্যায়েও হার ৫০ শতাংশ।
ইসলামকাটির ঘটনায় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, জেলার বাইরে নিয়ে গোপনে বাল্যবিয়ে হয়েছে। কয়েকজন ছাত্রী বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে অন্যত্র চলে গেছে। এতে বোঝা যায়, শুধু বিদ্যালয়ে সচেতনতা সভা করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গোপনে বিয়ে আয়োজনের সঙ্গে কারা যুক্ত, তা তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। ইউনিয়নে সরকারি বিবাহ নিবন্ধক থাকা সত্ত্বেও বাইরে থেকে লোক এনে বিয়ে পড়ানো হলো কীভাবে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কোনো ছাত্রী হঠাৎ বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত হলে তার কারণ খুঁজে দেখা দরকার। এজন্য পরিবার, বিদ্যালয় ও প্রশাসনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা জরুরি। দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকট অনেক ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের কারণ। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষাসহায়তার আওতায় আনতে হবে।
প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাতে হয়। তবে মুচলেকা নেওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নয়, বিয়ে হওয়ার আগেই তা শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে হবে। ইসলামকাটি বিদ্যালয়ের ঘটনাকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে তালাসহ সাতক্ষীরায় বিদ্যালয়ভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা জরুরি। একটি কিশোরীর বাল্যবিয়ে মানে শুধু তার শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি নয়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনারও বড় ক্ষতি।

আপনার মতামত লিখুন