সংবাদ

এআই দিয়ে নারীদের অনলাইন হয়রানি ঠেকাতে ঢাকায় সংলাপ


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

এআই দিয়ে নারীদের অনলাইন হয়রানি ঠেকাতে ঢাকায় সংলাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নারীদের অনলাইনে হয়রানি, মানহানি ও নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় ডিজিটাল ও এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত নারীবিরোধী সহিংসতা প্রতিরোধে আইন, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২০ এপ্রিল আফ্রিকার ১০ম ডাকার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ফোরামে ঘোষিত ‘ঢাকা ডায়ালগ’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য এআই-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে অভিন্ন সংজ্ঞা, নীতি ও আইনগত সক্ষমতা গড়ে তোলা। পাশাপাশি তথ্য বিনিময় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে।

যে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব

সংলাপে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, ‘ঢাকা ডায়ালগ’ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করবে।

এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ও এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত সহিংসতা প্রতিরোধ, তদন্ত ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে অভিন্ন ভাষা, মানদণ্ড ও স্বেচ্ছাসেবী নির্দেশিকা তৈরি। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার ধরন ও সংজ্ঞা নির্ধারণ, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সিনথেটিক মিডিয়া শনাক্ত ও এর উস প্রকাশের ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি আলোচনায় রাখতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন এবং সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক সমর্থনের নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের ডিজিটাল প্রমাণ এবং এআই ফরেনসিক বিষয়ে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আইনি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এআই-ভিত্তিক হয়রানির তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি ও প্রমাণগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে তা প্রমাণ করা অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ‘ঢাকা ডায়ালগ’কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে অনলাইনে নারীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তার বিষয়টিকে যুক্ত করছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, অনলাইন সহিংসতার শিকার নারীদের পাশে দাঁড়াতে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও ভুক্তভোগী সহায়তা কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী বলেন, ক্ষতি হওয়ার পর প্রতিকারের পাশাপাশি শুরু থেকেই প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সিনথেটিক মিডিয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

মায়ের ডাকের প্রতিষ্ঠাতা সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলীও ভুক্তভোগীদের জন্য সহজ ও কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, ডিজিটাল ও এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত সহিংসতার শিকার নারীদের অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে যেন এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার।

সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা আইনগত সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা, কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী ধাপে আগ্রহী সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য ডায়ালগ’ হিসেবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিন্ন সংজ্ঞা ও মানদণ্ড তৈরির জন্য একটি কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। পরে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মতৈক্যের ভিত্তিতে ওই গ্রুপ একটি রেফারেন্স ডকুমেন্ট প্রস্তুত করবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআই দিয়ে নারীদের অনলাইন হয়রানি ঠেকাতে ঢাকায় সংলাপ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নারীদের অনলাইনে হয়রানি, মানহানি ও নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি, সংসদ সদস্য ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় ডিজিটাল ও এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত নারীবিরোধী সহিংসতা প্রতিরোধে আইন, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২০ এপ্রিল আফ্রিকার ১০ম ডাকার আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা ফোরামে ঘোষিত ‘ঢাকা ডায়ালগ’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সংলাপ আয়োজন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য এআই-ভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে অভিন্ন সংজ্ঞা, নীতি ও আইনগত সক্ষমতা গড়ে তোলা। পাশাপাশি তথ্য বিনিময় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে।

যে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব

সংলাপে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, ‘ঢাকা ডায়ালগ’ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ করবে।

এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ও এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত সহিংসতা প্রতিরোধ, তদন্ত ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে অভিন্ন ভাষা, মানদণ্ড ও স্বেচ্ছাসেবী নির্দেশিকা তৈরি। পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনার ধরন ও সংজ্ঞা নির্ধারণ, প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সিনথেটিক মিডিয়া শনাক্ত ও এর উস প্রকাশের ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিষয়টি আলোচনায় রাখতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন এবং সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে রাজনৈতিক সমর্থনের নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রসিকিউটর ও বিচারকদের ডিজিটাল প্রমাণ এবং এআই ফরেনসিক বিষয়ে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আইনি চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এআই-ভিত্তিক হয়রানির তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনি ও প্রমাণগত সীমাবদ্ধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি বা কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হলে তা প্রমাণ করা অনেক সময় জটিল হয়ে পড়ে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ‘ঢাকা ডায়ালগ’কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে অনলাইনে নারীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তার বিষয়টিকে যুক্ত করছে।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, অনলাইন সহিংসতার শিকার নারীদের পাশে দাঁড়াতে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ও ভুক্তভোগী সহায়তা কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জাহরাত আদিব চৌধুরী বলেন, ক্ষতি হওয়ার পর প্রতিকারের পাশাপাশি শুরু থেকেই প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সিনথেটিক মিডিয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

মায়ের ডাকের প্রতিষ্ঠাতা সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলীও ভুক্তভোগীদের জন্য সহজ ও কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর মতে, ডিজিটাল ও এআই-সহায়তাপ্রাপ্ত সহিংসতার শিকার নারীদের অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে যেন এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে ঘুরতে না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা দরকার।

সংলাপে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা আইনগত সীমাবদ্ধতা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা, কৃত্রিমভাবে তৈরি কনটেন্ট মোকাবিলা এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরবর্তী ধাপে আগ্রহী সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ‘ফ্রেন্ডস অব দ্য ডায়ালগ’ হিসেবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অভিন্ন সংজ্ঞা ও মানদণ্ড তৈরির জন্য একটি কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে। পরে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মতৈক্যের ভিত্তিতে ওই গ্রুপ একটি রেফারেন্স ডকুমেন্ট প্রস্তুত করবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত