সংবাদ

এআইয়ে এক দশকেই শত বছরের উন্নয়নের সম্ভাবনা


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

এআইয়ে এক দশকেই শত বছরের উন্নয়নের সম্ভাবনা

মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৈশ্বিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষতা ও নীতিগত প্রস্তুতি এখনই নিশ্চিত করা গেলে যে উন্নয়ন অর্জনে প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রায় এক শতাব্দী সময় লাগতে পারে, এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারে তা এক দশকের মধ্যেই সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬: দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে এমন মূল্যায়ন উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যু, ইন্টারনেট, নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠান-এই ভিত্তিগুলো শক্তিশালী করতে পারলে এআই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বিচারিক সেবা ও সরকারি কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

কর্মসংস্থানে ঝুঁকি কম, উপাদনশীলতায় বড় সম্ভাবনা

এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় উচ্চ আয়ের দেশগুলোতেই বেশি। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে জেনারেটিভ এআইয়ের অটোমেশনের কারণে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, এআই ব্যবহারে উন্নয়নশীল অর্থনীতির ১৬ দশমিক ২ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে উপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এ হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআইয়ের বড় সুযোগ কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং বিদ্যমান কর্মীদের সক্ষমতা ও কাজের কার্যকারিতা বাড়ানো।

বড় এআই মডেল নয়, স্থানীয় সমাধানেই গুরুত্ব

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিলের মতে, উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য এআই একটি নতুন ‘লাইফলাইন’। এর সুফল পেতে প্রতিটি দেশকে বিশাল ডাটা সেন্টার বা অত্যাধুনিক ভাষা মডেল তৈরি করতে হবে-এমন নয়।

স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলক কম ব্যয়ের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেও স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিচারিক সেবা ও কৃষি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। আগের অনেক প্রযুক্তির তুলনায় এআই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে সুযোগটি কাজে লাগানোর সময়ও সীমিত বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

এআই সার্বভৌমত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ

এআইয়ের বিস্তারের সঙ্গে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আসছে। এ ক্ষেত্রে ‘এআই সার্বভৌমত্ব’কে তিনটি স্তরে দেখা যায়-ডাটা সার্বভৌমত্ব, কম্পিউট সার্বভৌমত্ব এবং গভর্ন্যান্স বা শাসন সার্বভৌমত্ব।

শুধু নাগরিকদের তথ্য দেশের ভেতরে সংরক্ষণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেই তথ্য কোথায়, কার মালিকানাধীন অবকাঠামোতে এবং কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে-তার পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার নিয়ম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো কে নির্ধারণ করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ডাটা ও কম্পিউটিং অবকাঠামো তাই আর কেবল প্রযুক্তিগত সম্পদ নয়; জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও এগুলো সরাসরি যুক্ত। উপসাগরীয় অঞ্চলে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের ডাটা সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনাও দেখিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ডাটা অবকাঠামো এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বন্দরের মতোই কৌশলগত সম্পদ।

জাতীয় ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

এআই অবকাঠামোয় বিভিন্ন দেশ বিপুল বিনিয়োগ করলেও বিচ্ছিন্ন জাতীয় ব্যবস্থা ভবিষ্যতে সহযোগিতার পরিবর্তে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন এআই গবেষক বিজান বার্নার্ড।

তার মতে, এআই অবকাঠামোকে বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আন্তঃপরিচালনযোগ্য মানদণ্ড, কঠোর অডিট, দুর্ঘটনা বা ত্রুটি প্রতিবেদনের ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী এআই মডেলের সীমিত লাইসেন্সিংয়ের মতো উদ্যোগও দরকার।

একই সঙ্গে এআই অবকাঠামো যেন কেবল ধনী দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আঞ্চলিকভাবে যৌথ মালিকানা ও পরিচালনায় কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে ছোট দেশগুলোও এআই সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাবে। এ জন্য নতুন কোনো বৈশ্বিক চুক্তির চেয়ে বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বেশি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

তিন ধাপে এআই সক্ষমতা তৈরির পরামর্শ

বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই গ্রহণের একটি তিন ধাপের কৌশলও তুলে ধরেছে। প্রথম ধাপে বর্তমানে সহজলভ্য এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে এসব প্রযুক্তিকে স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে হবে। আর তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের পর উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই প্রযুক্তি তৈরির দিকে এগোতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকদের রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা, কৃষকদের ফসল ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর প্রশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষিত জনবল, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার বা সরকারি সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে-এমন ক্ষেত্রেও এআই গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে।

সুযোগের পাশাপাশি বৈষম্যের আশঙ্কা

তবে এআইয়ের সুফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবার কাছে পৌঁছাবে না। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, যথাযথ নীতিমালা ও অবকাঠামো ছাড়া এআই দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আয়বৈষম্য, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে বাজারের আধিপত্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৬-এর পরিচালক গৌরব নায়ারের মতে, এআই এমন একটি সুযোগ তৈরি করেছে, যা বহু প্রজন্ম ধরে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে। তবে এর সুফল পেতে যেসব দেশ দ্রুত বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, দক্ষ মানবসম্পদ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে, তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


এআইয়ে এক দশকেই শত বছরের উন্নয়নের সম্ভাবনা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বৈশ্বিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, দক্ষতা ও নীতিগত প্রস্তুতি এখনই নিশ্চিত করা গেলে যে উন্নয়ন অর্জনে প্রচলিত ব্যবস্থায় প্রায় এক শতাব্দী সময় লাগতে পারে, এআইয়ের কার্যকর ব্যবহারে তা এক দশকের মধ্যেই সম্ভব হতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬: দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে এমন মূল্যায়ন উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যু, ইন্টারনেট, নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত, দক্ষ জনবল এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠান-এই ভিত্তিগুলো শক্তিশালী করতে পারলে এআই স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, বিচারিক সেবা ও সরকারি কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

কর্মসংস্থানে ঝুঁকি কম, উপাদনশীলতায় বড় সম্ভাবনা

এআইয়ের কারণে চাকরি হারানোর আশঙ্কা উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় উচ্চ আয়ের দেশগুলোতেই বেশি। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে জেনারেটিভ এআইয়ের অটোমেশনের কারণে ১৪ দশমিক ২ শতাংশ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে রয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ হার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, এআই ব্যবহারে উন্নয়নশীল অর্থনীতির ১৬ দশমিক ২ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে উপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এ হার ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআইয়ের বড় সুযোগ কর্মীদের সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং বিদ্যমান কর্মীদের সক্ষমতা ও কাজের কার্যকারিতা বাড়ানো।

বড় এআই মডেল নয়, স্থানীয় সমাধানেই গুরুত্ব

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিলের মতে, উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য এআই একটি নতুন ‘লাইফলাইন’। এর সুফল পেতে প্রতিটি দেশকে বিশাল ডাটা সেন্টার বা অত্যাধুনিক ভাষা মডেল তৈরি করতে হবে-এমন নয়।

স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী তুলনামূলক কম ব্যয়ের এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেও স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিচারিক সেবা ও কৃষি সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। আগের অনেক প্রযুক্তির তুলনায় এআই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে সুযোগটি কাজে লাগানোর সময়ও সীমিত বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

এআই সার্বভৌমত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ

এআইয়ের বিস্তারের সঙ্গে অবকাঠামোগত নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আসছে। এ ক্ষেত্রে ‘এআই সার্বভৌমত্ব’কে তিনটি স্তরে দেখা যায়-ডাটা সার্বভৌমত্ব, কম্পিউট সার্বভৌমত্ব এবং গভর্ন্যান্স বা শাসন সার্বভৌমত্ব।

শুধু নাগরিকদের তথ্য দেশের ভেতরে সংরক্ষণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। সেই তথ্য কোথায়, কার মালিকানাধীন অবকাঠামোতে এবং কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে-তার পাশাপাশি এআই ব্যবস্থার নিয়ম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো কে নির্ধারণ করছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ডাটা ও কম্পিউটিং অবকাঠামো তাই আর কেবল প্রযুক্তিগত সম্পদ নয়; জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের সঙ্গেও এগুলো সরাসরি যুক্ত। উপসাগরীয় অঞ্চলে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের ডাটা সেন্টারে ইরানি ড্রোন হামলার ঘটনাও দেখিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ডাটা অবকাঠামো এখন বিদ্যুৎকেন্দ্র বা বন্দরের মতোই কৌশলগত সম্পদ।

জাতীয় ব্যবস্থা নয়, প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

এআই অবকাঠামোয় বিভিন্ন দেশ বিপুল বিনিয়োগ করলেও বিচ্ছিন্ন জাতীয় ব্যবস্থা ভবিষ্যতে সহযোগিতার পরিবর্তে নতুন বিভাজন তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন এআই গবেষক বিজান বার্নার্ড।

তার মতে, এআই অবকাঠামোকে বিদ্যুৎ গ্রিডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি আন্তঃপরিচালনযোগ্য মানদণ্ড, কঠোর অডিট, দুর্ঘটনা বা ত্রুটি প্রতিবেদনের ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী এআই মডেলের সীমিত লাইসেন্সিংয়ের মতো উদ্যোগও দরকার।

একই সঙ্গে এআই অবকাঠামো যেন কেবল ধনী দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে না থাকে, সেদিকেও নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আঞ্চলিকভাবে যৌথ মালিকানা ও পরিচালনায় কম্পিউটিং অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে ছোট দেশগুলোও এআই সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ পাবে। এ জন্য নতুন কোনো বৈশ্বিক চুক্তির চেয়ে বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বেশি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

তিন ধাপে এআই সক্ষমতা তৈরির পরামর্শ

বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআই গ্রহণের একটি তিন ধাপের কৌশলও তুলে ধরেছে। প্রথম ধাপে বর্তমানে সহজলভ্য এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। দ্বিতীয় ধাপে এসব প্রযুক্তিকে স্থানীয় ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তুলতে হবে। আর তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জনের পর উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই প্রযুক্তি তৈরির দিকে এগোতে হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসকদের রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা, কৃষকদের ফসল ব্যবস্থাপনা, ব্যবসায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, কর প্রশাসন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষিত জনবল, নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার বা সরকারি সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে-এমন ক্ষেত্রেও এআই গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রযুক্তি হয়ে উঠতে পারে।

সুযোগের পাশাপাশি বৈষম্যের আশঙ্কা

তবে এআইয়ের সুফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবার কাছে পৌঁছাবে না। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, যথাযথ নীতিমালা ও অবকাঠামো ছাড়া এআই দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়ন বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ আয়বৈষম্য, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে বাজারের আধিপত্য, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থাহীনতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৬-এর পরিচালক গৌরব নায়ারের মতে, এআই এমন একটি সুযোগ তৈরি করেছে, যা বহু প্রজন্ম ধরে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানে সহায়ক হতে পারে। তবে এর সুফল পেতে যেসব দেশ দ্রুত বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, দক্ষ মানবসম্পদ ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারবে, তারাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত