ঝিনাইদহে বহুল আলোচিত শিশু সাইমা আক্তার (সাবা) হত্যা মামলায় প্রতিবেশী শান্তনা খাতুন নামের এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ওই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের ভেতর থেকে সাইমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই জড়িত থাকার সন্দেহে মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শান্তনা দাবি করেন, ঘটনার দিন তার ছেলে আবু জুবায়েরের সঙ্গে খেলাধুলার সময় সাইমার মারামারি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শান্তনা শিশুটির মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি গোপন করতে নিজের ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখেন তিনি।
মামলার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোজ কুমার ঘোষ গত বছর ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি চলাকালে আদালত মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিউকিটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক উপাদান পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে এ রায়ে ভুক্তভোগী পরিবার পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেব।’

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঝিনাইদহে বহুল আলোচিত শিশু সাইমা আক্তার (সাবা) হত্যা মামলায় প্রতিবেশী শান্তনা খাতুন নামের এক নারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মো. হেলাল উদ্দীন এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর সকালে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি গ্রামের সাইদুল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাইমা আক্তার বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ওই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে একই গ্রামের প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুমের ঘরের ভেতর থেকে সাইমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই জড়িত থাকার সন্দেহে মাসুমের স্ত্রী শান্তনা খাতুনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।
আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে শান্তনা দাবি করেন, ঘটনার দিন তার ছেলে আবু জুবায়েরের সঙ্গে খেলাধুলার সময় সাইমার মারামারি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শান্তনা শিশুটির মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহটি গোপন করতে নিজের ঘরের ভেতর লুকিয়ে রাখেন তিনি।
মামলার তদন্ত শেষে ঝিনাইদহ সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোজ কুমার ঘোষ গত বছর ৩০ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি চলাকালে আদালত মোট ২৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিউকিটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট কাজী একরামুল হক রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক উপাদান পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে এ রায়ে ভুক্তভোগী পরিবার পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নেব।’

আপনার মতামত লিখুন