সংবাদ

মৃত তারার ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি গ্রহের সন্ধান বিজ্ঞানীদের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম

মৃত তারার ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি গ্রহের সন্ধান বিজ্ঞানীদের

মৃত একটি তারার ধ্বংসাবশেষ থেকেই নতুন করে একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে - এমন সম্ভাবনার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। শ্বেত বামনকে ঘিরে থাকা এই গ্রহটি বৃহস্পতি-আকারের বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এটি কোনো শ্বেত বামনের চারপাশে পাওয়া প্রথম সম্ভাব্য ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের’ গ্রহ।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের পিএইচডি শিক্ষার্থী জ্যামি উইলিয়ামস। তাঁর ব্যাখ্যায়, কোনো তারার মৃত্যুর সময় ছিটকে বেরিয়ে আসা উপাদান থেকে যে গ্রহ তৈরি হয়, তাকে দ্বিতীয় প্রজন্মের গ্রহ বলা যায়। এমন গ্রহকে অনেকটা তারার নিজের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন করে গড়ে ওঠা জগতের সঙ্গে তুলনা করা যায়।

শ্বেত বামনকে ঘিরে নতুন রহস্য

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘এইচএস ০২০৯+০৮৩২’ নামের একটি শ্বেত বামন পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে তারা অস্বাভাবিক রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য দেখতে পান। বিশেষ করে, ‘নিওবিয়াম’ নামের একটি উপাদানের পরিমাণ ছিল বেশি।

নিওবিয়াম তারার মৃত্যুর সময় তৈরি হয় বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। এর আগে কোনো শ্বেত বামনে এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যায়নি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, শ্বেত বামনটির কাছাকাছি থাকা একটি বড় গ্রহ থেকে সেটি উপাদান টেনে নিচ্ছে। গ্রহটির নিজস্ব গঠনও নাকি তারার মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়া উপাদান এবং শ্বেত বামনে পরিণত হওয়ার সময় অবশিষ্ট থাকা পদার্থ থেকে হয়েছে।

চার দশমিক চার দিনে মিলছে সংকেত

নাসার টেস টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করার পর গ্রহটির অস্তিত্বের ধারণাটি আরও জোরালো হয়। তথ্যটিতে গ্রহটি থেকে আসা ক্ষীণ একটি সংকেত ধরা পড়ে, যা প্রতি চার দশমিক চার দিনে পুনরায় দেখা যায়।

গবেষকদের মতে, শ্বেত বামনের কাছাকাছি থাকা বৃহস্পতি-আকারের কোনো গ্রহের প্রদক্ষিণের সঙ্গে এই সংকেতের মিল রয়েছে।

তাদের ধারণা, শ্বেত বামনের তীব্র বিকিরণের কারণে গ্রহটির বাইরের বায়ুমণ্ডলের উপাদান ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হচ্ছে। পরে সেই ছিটকে যাওয়া পদার্থ শ্বেত বামনের পৃষ্ঠে গিয়ে পড়ছে। এর ফলেই অস্বাভাবিক রাসায়নিক সংকেত তৈরি হতে পারে।

মৃত তারাকে ঘিরে ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের’ গ্রহ

এর আগে পালসারকে ঘিরে সম্ভাব্য পুনর্গঠিত গ্রহের সন্ধান পেয়েছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে কোনো শ্বেত বামনের চারপাশে এমন গ্রহ পাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্বেত বামন মহাবিশ্বে তুলনামূলকভাবে সাধারণ। তাই গবেষকদের ধারণা, এ ধরনের পুনরায় তৈরি হওয়া গ্রহের সংখ্যা আগের ধারণার চেয়ে বেশি হতে পারে।

এই ধরনের গ্রহ শনাক্ত করার একটি সম্ভাব্য পদ্ধতিও এই গবেষণার মাধ্যমে সামনে এসেছে। অন্যান্য মৃত তারার আলোতে একই ধরনের রাসায়নিক উপাদান খুঁজে দেখা গেলে ভবিষ্যতে আরও গ্রহের সন্ধান মিলতে পারে।

বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধানেও নতুন সম্ভাবনা

গবেষকদের মতে, এসব গ্রহ কীভাবে তৈরি হয় সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেলে শ্বেত বামনকে ঘিরে থাকা গ্রহগুলোর বাসযোগ্যতার বিষয়টিও বোঝা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে সেখানে প্রাণের সম্ভাবনা অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শ্বেত বামনের চারপাশে থাকা গ্রহগুলো তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’তে।

বাদামী ও লাল বামন নিয়েও নতুন পর্যবেক্ষণ

একই সংখ্যায় প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণায় ভিন্ন ধরনের বামন তারাকে নিয়ে কাজ করেছেন গবেষকেরা। সেখানে এমন একটি বাইনারি সিস্টেমের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে একটি বাদামী বামন ও একটি লাল বামন পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করছে।

পর্যবেক্ষণ ও মডেলিংয়ের মাধ্যমে গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, বাদামী বামন থেকে লাল বামনের দিকে উপাদান প্রবাহিত হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এমন প্রক্রিয়া আগে দেখা যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


মৃত তারার ধ্বংসাবশেষ থেকে তৈরি গ্রহের সন্ধান বিজ্ঞানীদের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মৃত একটি তারার ধ্বংসাবশেষ থেকেই নতুন করে একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে - এমন সম্ভাবনার পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। শ্বেত বামনকে ঘিরে থাকা এই গ্রহটি বৃহস্পতি-আকারের বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এটি কোনো শ্বেত বামনের চারপাশে পাওয়া প্রথম সম্ভাব্য ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের’ গ্রহ।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের পিএইচডি শিক্ষার্থী জ্যামি উইলিয়ামস। তাঁর ব্যাখ্যায়, কোনো তারার মৃত্যুর সময় ছিটকে বেরিয়ে আসা উপাদান থেকে যে গ্রহ তৈরি হয়, তাকে দ্বিতীয় প্রজন্মের গ্রহ বলা যায়। এমন গ্রহকে অনেকটা তারার নিজের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন করে গড়ে ওঠা জগতের সঙ্গে তুলনা করা যায়।

শ্বেত বামনকে ঘিরে নতুন রহস্য

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘এইচএস ০২০৯+০৮৩২’ নামের একটি শ্বেত বামন পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে তারা অস্বাভাবিক রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য দেখতে পান। বিশেষ করে, ‘নিওবিয়াম’ নামের একটি উপাদানের পরিমাণ ছিল বেশি।

নিওবিয়াম তারার মৃত্যুর সময় তৈরি হয় বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। এর আগে কোনো শ্বেত বামনে এমন বৈশিষ্ট্য দেখা যায়নি।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, শ্বেত বামনটির কাছাকাছি থাকা একটি বড় গ্রহ থেকে সেটি উপাদান টেনে নিচ্ছে। গ্রহটির নিজস্ব গঠনও নাকি তারার মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়া উপাদান এবং শ্বেত বামনে পরিণত হওয়ার সময় অবশিষ্ট থাকা পদার্থ থেকে হয়েছে।

চার দশমিক চার দিনে মিলছে সংকেত

নাসার টেস টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করার পর গ্রহটির অস্তিত্বের ধারণাটি আরও জোরালো হয়। তথ্যটিতে গ্রহটি থেকে আসা ক্ষীণ একটি সংকেত ধরা পড়ে, যা প্রতি চার দশমিক চার দিনে পুনরায় দেখা যায়।

গবেষকদের মতে, শ্বেত বামনের কাছাকাছি থাকা বৃহস্পতি-আকারের কোনো গ্রহের প্রদক্ষিণের সঙ্গে এই সংকেতের মিল রয়েছে।

তাদের ধারণা, শ্বেত বামনের তীব্র বিকিরণের কারণে গ্রহটির বাইরের বায়ুমণ্ডলের উপাদান ধীরে ধীরে বাষ্পীভূত হচ্ছে। পরে সেই ছিটকে যাওয়া পদার্থ শ্বেত বামনের পৃষ্ঠে গিয়ে পড়ছে। এর ফলেই অস্বাভাবিক রাসায়নিক সংকেত তৈরি হতে পারে।

মৃত তারাকে ঘিরে ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের’ গ্রহ

এর আগে পালসারকে ঘিরে সম্ভাব্য পুনর্গঠিত গ্রহের সন্ধান পেয়েছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে কোনো শ্বেত বামনের চারপাশে এমন গ্রহ পাওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শ্বেত বামন মহাবিশ্বে তুলনামূলকভাবে সাধারণ। তাই গবেষকদের ধারণা, এ ধরনের পুনরায় তৈরি হওয়া গ্রহের সংখ্যা আগের ধারণার চেয়ে বেশি হতে পারে।

এই ধরনের গ্রহ শনাক্ত করার একটি সম্ভাব্য পদ্ধতিও এই গবেষণার মাধ্যমে সামনে এসেছে। অন্যান্য মৃত তারার আলোতে একই ধরনের রাসায়নিক উপাদান খুঁজে দেখা গেলে ভবিষ্যতে আরও গ্রহের সন্ধান মিলতে পারে।

বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধানেও নতুন সম্ভাবনা

গবেষকদের মতে, এসব গ্রহ কীভাবে তৈরি হয় সে বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেলে শ্বেত বামনকে ঘিরে থাকা গ্রহগুলোর বাসযোগ্যতার বিষয়টিও বোঝা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে সেখানে প্রাণের সম্ভাবনা অনুসন্ধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

শ্বেত বামনের চারপাশে থাকা গ্রহগুলো তুলনামূলকভাবে সহজে শনাক্ত করার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’তে।

বাদামী ও লাল বামন নিয়েও নতুন পর্যবেক্ষণ

একই সংখ্যায় প্রকাশিত অন্য একটি গবেষণায় ভিন্ন ধরনের বামন তারাকে নিয়ে কাজ করেছেন গবেষকেরা। সেখানে এমন একটি বাইনারি সিস্টেমের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে একটি বাদামী বামন ও একটি লাল বামন পরস্পরকে প্রদক্ষিণ করছে।

পর্যবেক্ষণ ও মডেলিংয়ের মাধ্যমে গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, বাদামী বামন থেকে লাল বামনের দিকে উপাদান প্রবাহিত হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এমন প্রক্রিয়া আগে দেখা যায়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত