সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা প্রতাহারের দাবি সিইউজের


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা প্রতাহারের দাবি সিইউজের
ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনা সুরক্ষার অজুহাতে অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, স্কেচ ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নির্দেশনা জারির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বন্দরের নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষিত এলাকা, অপারেশনাল তথ্য, অবকাঠামোর ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ বা প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সিইউজের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও প্রকাশের অধিকারকে নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার স্বীকৃত এবং ৬ ধারায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য করার নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে সিইউজে নেতারা বলেন, সাংবাদিকেরা দেশের প্রচলিত আইন, পেশাগত নীতিমালা ও জনস্বার্থের বিষয় বিবেচনা করেই সংবাদ প্রকাশ করেন। কী তথ্য প্রকাশ করা যাবে আর কী যাবে না—এমন নির্দেশনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিশেষ করে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে যখন জনমনে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও আন্দোলন চলছে; ঠিক সেই সময়ে এ ধরনের নির্দেশনা নানা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। বন্দরঘনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত, পরিচালনা, চুক্তি, ইজারা, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, শ্রমিকস্বার্থ ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া বন্ধ করে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে না। বরং জনস্বার্থের তথ্য যত বেশি গোপন করার চেষ্টা করা হবে, তত বেশি সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি হবে। নিরাপত্তার নামে সংবাদ প্রকাশ বন্ধের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংবাদমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ না ভেবে বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আরও সমন্বিত ও স্বচ্ছ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা। অবিলম্বে গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন অস্পষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


চট্টগ্রাম বন্দরে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা প্রতাহারের দাবি সিইউজের

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল স্থাপনা সুরক্ষার অজুহাতে অনুমতি ছাড়া ছবি, ভিডিও, স্কেচ ও অপারেশনাল তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর নির্দেশনা জারির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত সচিব সৈয়দ রিফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বন্দরের নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, জাহাজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষিত এলাকা, অপারেশনাল তথ্য, অবকাঠামোর ছবি ও ভিডিও অনুমতি ছাড়া প্রকাশ বা প্রচার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও গণমাধ্যমে এসব তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সিইউজের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ শুভ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বন্দরের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্নকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধান ও প্রকাশের অধিকারকে নিয়ন্ত্রণ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে বাক ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ৪ ধারায় নাগরিকের তথ্য লাভের অধিকার স্বীকৃত এবং ৬ ধারায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের তথ্য জনগণের জন্য সহজলভ্য করার নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে সিইউজে নেতারা বলেন, সাংবাদিকেরা দেশের প্রচলিত আইন, পেশাগত নীতিমালা ও জনস্বার্থের বিষয় বিবেচনা করেই সংবাদ প্রকাশ করেন। কী তথ্য প্রকাশ করা যাবে আর কী যাবে না—এমন নির্দেশনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য চরম উদ্বেগজনক।

বিশেষ করে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশী প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে যখন জনমনে ব্যাপক আলোচনা, প্রশ্ন ও আন্দোলন চলছে; ঠিক সেই সময়ে এ ধরনের নির্দেশনা নানা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। বন্দরঘনিষ্ঠ সিদ্ধান্ত, পরিচালনা, চুক্তি, ইজারা, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, শ্রমিকস্বার্থ ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন সাংবাদিক নেতারা।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া বন্ধ করে কোনো প্রতিষ্ঠান স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে না। বরং জনস্বার্থের তথ্য যত বেশি গোপন করার চেষ্টা করা হবে, তত বেশি সন্দেহ ও বিভ্রান্তি তৈরি হবে। নিরাপত্তার নামে সংবাদ প্রকাশ বন্ধের সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সংবাদমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ না ভেবে বন্দর কর্তৃপক্ষের উচিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আরও সমন্বিত ও স্বচ্ছ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা। অবিলম্বে গণমাধ্যমের সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন অস্পষ্ট নির্দেশনা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত