সংবাদ

৮ বছরের পুরোনো মামলায় ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ফের সমন


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

৮ বছরের পুরোনো মামলায় ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ফের সমন
ধ্রুব রাঠি

ভারতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ধ্রুব রাঠির সক্রিয়তা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে জনপ্রিয় এই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে আট বছরের পুরোনো একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় ফের সমন জারি করেছে দিল্লির সাকেত আদালত। আগামী ৩ নভেম্বর মামলাটির শুনানি। তবে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মামলাটি ২০১৮ সালের। অভিযোগকারী বিকাশ সংকৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পাণ্ডে। তার দাবি, ধ্রুব রাঠির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শীর্ষক একটি ভিডিওতে তাকে নিয়ে মিথ্যা ও অসম্মানজনক তথ্য প্রচার করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতে বিকাশকে বিজেপির আইটি সেলের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও করা হয় বলে দাবি মামলাকারীর।

বিকাশের অভিযোগ, এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। ভিডিওর মাধ্যমে তার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি নতুন নয়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসেই প্রথমবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল আদালত। কিন্তু তিনি জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় বসবাস করায় সেই সমন কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চললেও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

এবার সেই পুরোনো মামলাতেই নতুন করে সক্রিয়তা। সম্প্রতি ভারতে ফিরে বিরোধীদের আন্দোলনে যোগ দেন ধ্রুব রাঠি। বেঙ্গালুরুতে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতেও যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে কর্মসূচিতে পৌঁছনোর আগেই তাঁকে আটক করে পুলিশ।

ধ্রুবর ভারতে ফেরার খবর সামনে আসতেই মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জরুরি আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত বর্তমানে দেশে রয়েছেন, তাই পুরোনো মামলার সমন কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর বিশেষ সমন জারির অনুমতি দেয় আদালত।

এরপর আদালতের এক কর্মী সমন পৌঁছে দিতে গুরুগ্রামে ধ্রুব রাঠির বাড়িতে যান। কিন্তু ১৭ অক্টোবর সেখানে গিয়ে বাড়িতে তালা দেখতে পান তিনি। শনিবার ফের সমন জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি জামিনযোগ্য পরোয়ানাও জারি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর সেই পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন পেশ করা হবে।

এই আইনি পদক্ষেপের মধ্যেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী জোট। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সেই আন্দোলনেরই বড় সমাবেশ হওয়ার কথা।

তার আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘গণ-অভিশংসন’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিদেশ থেকে এক ভিডিও বার্তায় ধ্রুব রাঠিও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার আবেদন, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে মানুষের রামলীলা ময়দানের সমাবেশে যোগ দেওয়া উচিত।

পুরোনো মানহানির মামলা, নতুন করে সমন এবং বিরোধীদের আন্দোলনে ধ্রুব রাঠির প্রকাশ্য সমর্থন—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিজিৎ দিপকে বলেন, অহিংস আন্দোলনেও এই প্রতিহিংসা পরায়নতা কেন?

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


৮ বছরের পুরোনো মামলায় ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ফের সমন

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ভারতে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ধ্রুব রাঠির সক্রিয়তা ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে জনপ্রিয় এই ইউটিউবারের বিরুদ্ধে আট বছরের পুরোনো একটি ফৌজদারি মানহানির মামলায় ফের সমন জারি করেছে দিল্লির সাকেত আদালত। আগামী ৩ নভেম্বর মামলাটির শুনানি। তবে ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

মামলাটি ২০১৮ সালের। অভিযোগকারী বিকাশ সংকৃত্যায়ন ওরফে বিকাশ পাণ্ডে। তার দাবি, ধ্রুব রাঠির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ‘বিজেপি আইটি সেল পার্ট ২’ শীর্ষক একটি ভিডিওতে তাকে নিয়ে মিথ্যা ও অসম্মানজনক তথ্য প্রচার করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতে বিকাশকে বিজেপির আইটি সেলের দ্বিতীয় শীর্ষ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও করা হয় বলে দাবি মামলাকারীর।

বিকাশের অভিযোগ, এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই। ভিডিওর মাধ্যমে তার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

মামলাটি নতুন নয়। ২০১৯ সালের জুলাই মাসেই প্রথমবার ধ্রুব রাঠির বিরুদ্ধে সমন জারি করেছিল আদালত। কিন্তু তিনি জার্মানি ও অস্ট্রিয়ায় বসবাস করায় সেই সমন কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়া চললেও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।

এবার সেই পুরোনো মামলাতেই নতুন করে সক্রিয়তা। সম্প্রতি ভারতে ফিরে বিরোধীদের আন্দোলনে যোগ দেন ধ্রুব রাঠি। বেঙ্গালুরুতে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর দিল্লিতে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতেও যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। তবে কর্মসূচিতে পৌঁছনোর আগেই তাঁকে আটক করে পুলিশ।

ধ্রুবর ভারতে ফেরার খবর সামনে আসতেই মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে জরুরি আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত বর্তমানে দেশে রয়েছেন, তাই পুরোনো মামলার সমন কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর বিশেষ সমন জারির অনুমতি দেয় আদালত।

এরপর আদালতের এক কর্মী সমন পৌঁছে দিতে গুরুগ্রামে ধ্রুব রাঠির বাড়িতে যান। কিন্তু ১৭ অক্টোবর সেখানে গিয়ে বাড়িতে তালা দেখতে পান তিনি। শনিবার ফের সমন জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি জামিনযোগ্য পরোয়ানাও জারি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বর সেই পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন পেশ করা হবে।

এই আইনি পদক্ষেপের মধ্যেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী জোট। রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সেই আন্দোলনেরই বড় সমাবেশ হওয়ার কথা।

তার আগে শনিবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘গণ-অভিশংসন’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিদেশ থেকে এক ভিডিও বার্তায় ধ্রুব রাঠিও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার আবেদন, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে মানুষের রামলীলা ময়দানের সমাবেশে যোগ দেওয়া উচিত।

পুরোনো মানহানির মামলা, নতুন করে সমন এবং বিরোধীদের আন্দোলনে ধ্রুব রাঠির প্রকাশ্য সমর্থন—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে তাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিজিৎ দিপকে বলেন, অহিংস আন্দোলনেও এই প্রতিহিংসা পরায়নতা কেন?


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত