লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-র তথ্যমতে, দক্ষিণ লেবাননের আত-তাইরি শহরে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি সেনারা। এতে প্রথমে দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। সেই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা। সাংবাদিক আমাল খলিল ঘটনাস্থলেই মারা যান। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধারের সময় দ্বিতীয় দফায় হামলায় জয়নাব ফারাজ নামে আরেক নারী সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৪ জন গণমাধ্যমকর্মী প্রাণ হারালেন। লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মোরকোস এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
ইসরাইলি হামলার জবাবে বুধবারই পাল্টা আঘাত হেনেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কানতারা এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া হয়েছে। তবে এতে ইসরাইলি পক্ষের হতাহতের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় লেবাননে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে বৈরুতের মার্কিন দূতাবাস। বুধবার এক নিরাপত্তা বার্তায় মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইটে লেবানন ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শান্তিরক্ষীদের মৃত্যু: গত ১৮ এপ্রিল হামলায় আহত দুই ফরাসি শান্তিরক্ষী বুধবার ফ্রান্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্যারিস এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
প্রাণহানি: লেবানন কর্তৃপক্ষের মতে, চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২,২৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭৭ জন শিশু এবং ১০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত।
বাধাগ্রস্ত যুদ্ধবিরতি: ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরাইল তাদের 'ইয়েলো লাইন'-এর কাছে কাউকে ঘেঁষতে দিচ্ছে না। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষরা নিজ ঘরে ফিরতে পারছেন না।
জাতিসংঘের মুখপাত্র এই সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, কেবল কূটনীতিই এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ-র তথ্যমতে, দক্ষিণ লেবাননের আত-তাইরি শহরে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইলি সেনারা। এতে প্রথমে দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। সেই ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিকরা। সাংবাদিক আমাল খলিল ঘটনাস্থলেই মারা যান। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাকে উদ্ধারের সময় দ্বিতীয় দফায় হামলায় জয়নাব ফারাজ নামে আরেক নারী সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৪ জন গণমাধ্যমকর্মী প্রাণ হারালেন। লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মোরকোস এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
ইসরাইলি হামলার জবাবে বুধবারই পাল্টা আঘাত হেনেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের কানতারা এলাকায় ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে রকেট ছোড়া হয়েছে। তবে এতে ইসরাইলি পক্ষের হতাহতের কোনো সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় লেবাননে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে বৈরুতের মার্কিন দূতাবাস। বুধবার এক নিরাপত্তা বার্তায় মার্কিন নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইটে লেবানন ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শান্তিরক্ষীদের মৃত্যু: গত ১৮ এপ্রিল হামলায় আহত দুই ফরাসি শান্তিরক্ষী বুধবার ফ্রান্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। প্যারিস এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
প্রাণহানি: লেবানন কর্তৃপক্ষের মতে, চলমান এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২,২৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭৭ জন শিশু এবং ১০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত।
বাধাগ্রস্ত যুদ্ধবিরতি: ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরাইল তাদের 'ইয়েলো লাইন'-এর কাছে কাউকে ঘেঁষতে দিচ্ছে না। ফলে বাস্তুচ্যুত মানুষরা নিজ ঘরে ফিরতে পারছেন না।
জাতিসংঘের মুখপাত্র এই সংকট নিরসনে সামরিক শক্তি নয়, বরং কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়েছেন। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, কেবল কূটনীতিই এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন