জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। তার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন।
জামিন সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আগামী ২৬ এপ্রিল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংবাদকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী আহমেদ খোকন।
তিনি জানান, এর আগে ২০২৫ সালের ৮ মে তার জামিন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
জামিনের আবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৯(৫) ধারায় বলা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে আদালত চাইলে আসামিকে জামিন দিতে পারবেন।
আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন জানান, দেড় বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা।
তিনি বলেন, ‘আইনের ৩৭ ধারায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তকে আদালত উপস্থিত করার পর তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ, দলিল, সাক্ষ্য, ঘটনা এবং প্রাইমা ফেসি কেস (প্রাথমিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য) উপস্থাপন করতে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হলে আদালত তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। ’
আইনজীবী আলী আহমেদ খোকন জানান, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তার বয়স ৮৪ বছর। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার প্রাক্কালে মেহেরপুরে মহকুমা প্রশাসক হিসেবে মুজিবনগর সরকার গঠন ও মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং সেক্টর ৪-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার সাহসিকতার জন্য তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করা হয়। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। তিনি সচিব, রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের জামাতা।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে মামলাটিতে বর্তমানে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে চারটি অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর জামিন চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। তার পক্ষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন।
জামিন সংক্রান্ত আবেদনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আগামী ২৬ এপ্রিল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সংবাদকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী আহমেদ খোকন।
তিনি জানান, এর আগে ২০২৫ সালের ৮ মে তার জামিন চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
জামিনের আবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৯(৫) ধারায় বলা হয়েছে, এক বছরের মধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ করতে হবে। এ সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ না হলে আদালত চাইলে আসামিকে জামিন দিতে পারবেন।
আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন জানান, দেড় বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা।
তিনি বলেন, ‘আইনের ৩৭ ধারায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তকে আদালত উপস্থিত করার পর তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ, দলিল, সাক্ষ্য, ঘটনা এবং প্রাইমা ফেসি কেস (প্রাথমিকভাবে বিশ্বাসযোগ্য) উপস্থাপন করতে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হলে আদালত তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে। ’
আইনজীবী আলী আহমেদ খোকন জানান, তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তার বয়স ৮৪ বছর। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার প্রাক্কালে মেহেরপুরে মহকুমা প্রশাসক হিসেবে মুজিবনগর সরকার গঠন ও মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং সেক্টর ৪-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তার সাহসিকতার জন্য তাকে বীর বিক্রম খেতাব প্রদান করা হয়। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। তিনি সচিব, রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী পল্লিকবি জসীমউদ্দীনের জামাতা।
এর আগে, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর পর একই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে মামলাটিতে বর্তমানে তদন্ত চলছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে চারটি অভিযোগ রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন